ফোক ও মরমী গানের এক কিংবদন্তি শিল্পী আবদুল আলীম। আজ তাঁর ৮০তম জন্মদিন। দেশ বিভাগের সময় তরুণ বয়সে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যোগ দেন ঢাকাস্থ পাকিস্তান রেডিওতে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার দুটি গানের রেকর্ড প্রকাশ করে গ্রামোফোন কোম্পানি। একই সময়ে তিনি গান শিক্ষার জন্য সংস্পর্শ পান মুমতাজ আলী খান এবং মোহাম্মদ হোসাইন খসরুর মতো উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতবিদদের। এরপর তিনি সুকণ্ঠের জন্য অল্প সময়ে খুব কাছাকাছি চলে যান পল্লী কবি জসীম উদদীন, কানাই লাল শীল, এম ওসমান খান, আবদুল লতিফ, সমশের আলীসহ প্রমুখ বিখ্যাত মানুষের। তার সংগীত জীবনে প্রায় ৩০০ গ্রামোফোন রেকর্ড এবং ১০০টি চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাতীয় পুরস্কার পান খান আতাউর রহমান পরিচালিত সুজন সখি চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাকের জন্য। এছাড়াও তিনি দেশ-বিদেশের অসংখ্য পুরস্কার এবং পাঁচটি গোল্ড মেডেল অর্জন করেন গানের জন্য। তাঁর গাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে প্রেমের মরা জলে ডুবে না, হলুদিয়া পাখি, আমারে সাজাইয়া দিও, মনে বড় আশা ছিল, সর্বনাশা পদ্মা নদী, বাবু সালাম বারে বার, সব সখিরে পার করিতে, উজান গাঙ্গের নাইয়া ।আবদুল আলীমের জন্ম ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই। তিনি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই আলীম সঙ্গীতের প্রবল অনুরাগী ছিলেন। অর্থনৈতিক অনটনের কারণে কোন শিক্ষকের কাছে গান শেখার সৌভাগ্য তাঁর হয়নি। তিনি অন্যের গাওয়া গান শুনে গান শিখতেন। আর বিভিন্ন পালা পার্বণে সেগুলো গাইতেন। এভাবে পালা পার্বণে গান গেয়ে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
পল্লী ও মরমী গানের এই কিংবদন্তি শিল্পী ১৯৭৪ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চলে গেলেও তাঁর গান এখনও অমলিন রয়ে গেছে। সমানভাবে সমাদৃত হচ্ছে বাংলা গানের মূল শ্রোতাদের কাছে।
পল্লী ও মরমী গানের এই কিংবদন্তি শিল্পী ১৯৭৪ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চলে গেলেও তাঁর গান এখনও অমলিন রয়ে গেছে। সমানভাবে সমাদৃত হচ্ছে বাংলা গানের মূল শ্রোতাদের কাছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন