বুধবার, ২১ মার্চ, ২০১২

এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। এই অর্জনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদ অধিবেশন শেষে সপরিবারে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা উপভোগ করেন তিনি। মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯ ওভার ৫ বলে অলআউট হওয়ার আগে ২৩২ রান করে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি নামে। ৩০ মিনিটের বৃষ্টির কারণে ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট পরে খেলা শুরু হয়। তিন বার পিচ পরিদর্শন করে রাত ৮টায় খেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন দুই অস্ট্রেলীয় আম্পায়ার পল রাইফেল ও স্টিভ ডেভিস। ডাকওয়ার্থ/লুইস পদ্ধতিতে ৪০ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১২ রান। তবে বাংলাদেশের সামনে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ২৩তম জন্মদিন উদযাপন করা তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের অর্ধশতকের সুবাদে ১৭ বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম আর ৩০ ওয়ানডেতে তৃতীয় জয়। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিকদের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ৮ রানে নুয়ান কুলাসেকারার বলে বোল্ড হয়ে যান নাজিমউদ্দিন (৬)। এরপর জহুরুল ইসলাম (২) ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের (১) বিদায়ে চাপ বেড়ে যায় আরো। ৪০ রানে ৩ উইকেট হারানো স্বাগতিকরা খেলায় ফেরে চতুর্থ উইকেটে সাকিবের সঙ্গে তামিমের ৭৬ রানের জুটির সৌজন্যে। সচিত্র সেনানায়েকের বলে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে লাহিরু থিরিমান্নের হাতে ধরা পড়েন তামিম। ৫৭ বলে খেলা তামিমের ৫৯ রানের ইনিংসে ৯টি চার। এরপর নাসির হোসেনের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১৯ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন সাকিবও (৫৬)। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত সাকিবের ৪৬ বলের ইনিংসটি ৭টি চারে সাজানো। সাকিবের বিদায়ের পর জয় নিয়ে শঙ্কায় পড়ে গেলেও ষষ্ঠ উইকেটে সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্ল¬াহর সঙ্গে নাসিরের ৭৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটির সুবাদে শেষ পর্যন্ত সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
৬১ বলে খেলা নাসিরের অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংসে ৩টি চার। অন্যপ্রান্তে তখন ৩২ রানে অপরাজিত মাহমুদুল্ল¬াহ। নাসিরের ব্যাট থেকে জয় নিশ্চিত করা চার আসার সঙ্গে-সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাঠের ২৫ হাজার দর্শকও তখন উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা। শ্রীলঙ্কার পক্ষে নুয়ান কুলাসেকারা ও সেনানায়েকে দুটি করে উইকেট নেন। এর আগে নাজমুল হোসেনের তোপে শ্রীলঙ্কার শুরুটাও ভালো হয়নি। দলীয় ৩২ রানের মধ্যে শ্রীলঙ্কার তিন প্রধান ব্যাটিং স্তম্ভ মাহেলা জয়াবর্ধনে (৫), কুমার সাঙ্গাকারা (৬) ও তিলকরতেœ দিলশানকে ফিরিয়ে দেন নাজমুল। এই ডানহাতি পেসারের প্রথম স্পেলটি (৬-১-২২-৩) ছিলো দুর্দান্ত। অথচ আগের দুই ম্যাচে প্রথম একাদশেই সুযোগ পাননি নাজমুল। ভারতের বিপক্ষে কাঁধে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়া শফিউল ইসলামের জায়গায় মঙ্গলবার সুযোগ পান তিনি। উইকেট না পেলেও প্রথম স্পেলে নিখুঁত লাইন-লেন্থে বল করে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের বলতে গেলে রানই করতে দেননি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশের সেরা পেসারের প্রথম স্পেলেই (৬-১-১৩-০) তা প্রতিফলিত । চতুর্থ উইকেটে লাহিরু থিরিমান্নের সঙ্গে ৮৮ ও উপুল থারাঙ্গার সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে লড়াইয়ে ফেরান চামারা কাপুগেদারা। দলীয় ১৬৯ রানে আব্দুর রাজ্জাকের বলে এক্সট্রা কাভারে সাকিবের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে কাপুগেদারার ব্যাট থেকে আসে ৬২ রান। ৯২ বলের ইনিংসে ৪টি চার। কাপুগেদারার বিদায়ের পর ফারভিজ মাহারুফ (৩) ও নুয়ান কুলাসেকারা (১) দ্রুত আউট হয়ে গেলে চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। তবে তখনো থারাঙ্গা ছিলেন বলে তাদের বড় সংগ্রহ গড়ার আশা টিকেছিলো। কিন্তু দু শ পেরোনোর পর বিদায় নেন থারাঙ্গাও (৪৮)। ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নাজমুল বাংলাদেশের সফলতম বোলার। প্রতিপক্ষকে আড়াই শ’র কমে বেঁধে রাখতে রাজ্জাক (২/৪৪) ও সাকিবের (২/৫৬) অবদানও কম নয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ৪৯.৫ ওভারে ২৩২ (জয়াবর্ধনে ৫, দিলশান ১৯, সাঙ্গাকারা ৬, কাপুগেদারা ৬২, থিরিমান্নে ৪৮, থারাঙ্গা ৪৮, মাহারুফ ৩, কুলাসেকারা ১, সেনায়েকে ১৯*, মালিঙ্গা ১০, লাকমল ০; নাজমুল ৩/৩২, রাজ্জাক ২/৪৪, সাকিব ২/৫৬, মাশরাফি ১/৩০)
বাংলাদেশ: ৩৭.১ ওভারে ২১২/৫ (তামিম ৫৯, নাজিম ৬, জহুরুল ২, মুশফিক ১, সাকিব ৫৬, নাসির ৩৬*, মাহমুদুল্ল¬াহ ৩২*; কুলাসেকারা ২/৩০, সেনানায়েকে ২/৩৮, লাকমল ১/৪৪)
ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান।

শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১২

‘অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাচনে লড়বেন অ্যাসাঞ্জ’

সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস এক টুইটে বলেছে, এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে দাঁড়াবেন বলে ভাবছেন।
টুইটে শনিবার দেওয়া এ ‘ঘোষণা’ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কারো কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া অ্যাসাঞ্জ (৪০) বর্তমানে ব্রিটেনে গৃহবন্দি। যৌন নিপীড়নের একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুইডেনে হস্তান্তরের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। উইকিলিকসের টুইটে বলা হয়, “আটক অবস্থায় জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের পক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটের সদস্যপদের জন্য লড়াই করা সম্ভব বলে আমরা ‘আবিষ্কার’ করেছি। “জুলিয়ান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” ২০১৩ সালের শেষ দিকে এ সিনেট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ইরাক ও আফগান যুদ্ধ নিয়ে ২০১০ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীর গোপন নথি ও বিভিন্ন স্পর্শকাতর ভিডিওচিত্র প্রকাশ করে বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে আসে উইকিলিকস ও তার প্রতিষ্ঠাতা।
এরপর বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো গোপন বার্তা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের রোষানলে পড়ে তারা। ‘ছায়া সিআইএ’ নামে পরিচিত এক সংস্থার ইমেইল স¤প্রতি প্রকাশ করতে শুরু করেছে উইকিলিকস। উইকিলিকসকে সরবরাহ করা ওই ইমেইলের বরাত দিয়ে স¤প্রতি এমন খবর বেরোয় যে, গত মে মাসে নিহত আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের মৃতদেহ সমুদ্রে না ভাসিয়ে দাহ করা হয়েছিল। বিশেষ এক অভিযান চালিয়ে গত ২ মে পাকিস্তানে লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী। এরপর তার মৃতদেহ সমুদ্র ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছিল হোয়াইট হাউজ।

ভারত সমুদ্রসীমার দ্বিপাক্ষিক সমাধানে আগ্রহী

ঢাকায় ভারতের নতুন হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেছেন, ভারত দ্বিপাক্ষিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সমাধানে আগ্রহী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাতের পর শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন হাই কমিশনার। জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিরসনের তিন দিন পর দীপু মনির সঙ্গে পঙ্কজের এ সাক্ষাৎ প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। প্রতিবেশী দুই দেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ কি দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধান হতে পারে- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে হাই কমিশনার বলেন, এটা সম্ভব। চলতি মাসেই হাই কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়া পঙ্কজের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, ভারতের সঙ্গে সমাধান দ্বিপাক্ষিকভাবে হতে পারে কি না। জবাবে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমরা করব।”
“পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি বলেছি, এটা [আইএলটিওএস’র রায়] একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।” “এ ক্ষেত্রে আমরা ভারত বাংলাদেশকে একসঙ্গে নিয়ে দ্বিপাক্ষিকভাবে এগুতে চাই।” ৫৪ বছর বয়সী পঙ্কজ হাই কমিশনার হিসাবে গত ৯ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পেয়ে ঢাকা পৌঁছান গত ৭ মার্চ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এটি তার প্রথম সাক্ষাৎ। বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত হেগের স্থায়ী সালিশ আদালতে যায় ২০০৯ সালে। আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ২০১৪ সালের মধ্যে। মিয়ানমারের সঙ্গেও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ ছিল যা বুধবার জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অব দ্য সী’র (আইএলটিওএস) এক রায়ে দীর্ঘ ৩৮ বছর পর মীমাংসা হয়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ টেরিটরিয়াল ওয়াটার ও মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট করলে ভারত ও মিয়ানমার বাংলাদেশের ঘোষিত বেইজলাইন বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তিস্তার পানিবণ্টন গত সেপ্টেম্বরে ‘ঝুলে যাওয়া’ তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পঙ্কজ শরণ বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “আজকের সাক্ষাৎটি ছিল প্রথম সাক্ষাৎ। আমরা সব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি।” বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সম্পর্ক চায় জানিয়ে ভারতের হাই কমিশনার বলেন, “আরো অনেক কিছু যে করা সম্ভব তা আমরা বুঝতে পেরেছি।” ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের গত সেপ্টেম্বরের ঢাকা সফরে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল; তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তা আটকে যায়। অবশ্য গত মাসে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে নয়া দিল্লিতে ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, তিস্তার পানি বণ্টনে অন্তবর্তী একটি চুক্তির উদ্যোগ নেবে ভারত সরকার। স্থলসীমা চুক্তি ভারত ১৯৭৪ সালের স্থলসীমা চুক্তি অনুসমর্থন করবে কি না জানতে চাইলে দেশটির হাই কমিশনার সরাসরি জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তিনি বলেন, “আমি [কোনো বিষয়ে] বিস্তারিত প্রশ্নোত্তরে যাব না।” স্বাধীনতা লাভের তিন বছর পর (১৯৭৪ সালে) স্থলাসীমা নিয়ে ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি করে বাংলাদেশ যা ওই বছরই বাংলাদেশ অনুসমর্থন করে। তবে ভারত এখন পর্যন্ত অনুসমর্থন না করায় চুক্তিটি কার্যকর হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুসমর্থনের পর তা কার্যকর হওয়ার কথা। অবশ্য গত ফেব্রুয়ারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের নয়া দিল্লি সফরে এ চুক্তি অনুসমর্থনের বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফর শেষে দেশে ফিরে গত ৫ মার্চ সাংবাদিকদের এ কথা জানান সাহারা। ১৯৮২ সালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়া পঙ্কজ শরণের দেশের বাইরের প্রথম কর্মস্থল ছিল বাংলাদেশই। ঊনিশশ আশির দশকের শেষভাগে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২

টেন্ডুলকারের ইতিহাস গড়ার ম্যাচে বাংলাদেশের জয়

 
শচীন টেন্ডুলকারের ইতিহাস গড়ার ম্যাচে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শেষ হাসি বাংলাদেশের। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এই জয়ের ফলে এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার আশাও বাঁচিয়ে রাখলো স্বাগতিকরা ২ ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। সমান ম্যাচ থেকে ভারতের পয়েন্টও ৪। ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে পাকিস্তান। দুই ম্যাচেই হেরে যাওয়া শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ০।
ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় জয়। এর আগে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে দেশের মাটিতে ১৫ রানে ও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ৫ উইকেটে ভারতকে হারিয়েছিলো তারা।
শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে টেন্ডুলকারের ৪৯তম ওয়ানডে এবং শততম আন্তর্জাতিক শতকের সুবাদে ৫ উইকেটে ২৮৯ রান করে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। জবাবে তামিম ইকবাল, জহুরুল ইসলাম ও নাসির হোসেনের অর্ধশতকের সুবাদে ৪৯ ওভার ২ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। তবে অর্ধশতক না পেলেও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম এবং টেস্ট ও ওয়ানডের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দুটো অসাধারণ ইনিংসে স্বাগতিকদের জয়ের সোপান রচিত। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ১৫ রানে বিদায় নেন নাজিমউদ্দিন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে জহুরুলের সঙ্গে তামিমের ১১৩ রানের জুটির সুবাদে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। নিজের প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতকে পৌঁছে জহুরুল (৫৩) আউট হয়ে গেলেও দেখেশুনে খেলতে থাকেন তামিম। জহুরুলের ৬৮ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও একটি ছক্কা। মুশফিকের বদলে চার নম্বরে খেলতে নামেন নাসির হোসেন। তৃতীয় উইকেটে তার সঙ্গে ২৮ রানের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তামিম। দলীয় ১৫৮ রানে প্রাভিন কুমারের বলে রবীন্দ্র জাদেজার দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ৭০ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস আসে তামিমের ব্যাট থেকে। ৯৯ বলের ইনিংসটিতে ৬টি চার। তামিমের বিদায়ের পর নাসিরের সঙ্গে মাত্র ৮ ওভারে ৬৮ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল করে তোলেন সাকিব আল হাসান। ৩১ বলে ৫টি চার ও দুটি ছক্কায় সাকিবের ৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি শেষ হয়েছে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে। অশ্বিনের বলে তৃতীয় আম্পায়ার রুচিরা পালিয়াগুরুগে সাকিবকে স্টাম্পড হওয়ার ঘোষণা করলেও টিভি রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গেছে ধোনি স্টাম্প ভেঙ্গে দেয়ার সময় তার পা লাইনের ওপরে ছিলো। সাকিবের বিদায়ও অবশ্য দমাতে পারেনি বাংলাদেশকে। এরপর নাসির হোসেনের সঙ্গে মাত্র ৭ ওভারে ৬৪ রানের আরেকটি দুর্দান্ত জুটি গড়ে স্বাগতিকদের জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান মুশফিক। জয় থেকে মাত্র ২ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন নাসির (৫৪)। সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্ল¬াহ রিয়াদকে নিয়ে বাকি কাজ সহজেই সারেন অধিনায়ক মুশফিক।
জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে ৩৩ রান প্রয়োজন ছিলো বাংলাদেশের। ইরফান পাঠানের করা ৪৮তম ওভারে দুটি ছক্কাসহ ১৭ রান নিয়ে মুশফিক বাংলাদেশকে নিয়ে যান লক্ষ্যের কাছাকাছি। প্রাভিন কুমারের পরের ওভারে ১৪ রান এলে জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। কারণ শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিলো মাত্র ২ রান। মুশফিকের ব্যাট থেকে ৩টি করে চার ও ছক্কাসহ ২৫ বলে অপরাজিত ৪৬ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস এলেও জয়সূচক রান আসে মাহমুদুল্ল¬ার ব্যাট থেকে। অশোক দিন্দাকে কাভার দিয়ে চার মেরে মাহমুদুল্লাহই মধুর এক জয় এনে দেন বাংলাদেশকে। ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে প্রাভিন কুমার ভারতের সেরা বোলার। এর আগে ভারতের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। দলীয় ২৫ রানে বিদায় নেন আগের ম্যাচে শতক করা গৌতম গম্ভীর (১১)। শফিউল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ঠিক পরের বলেই ফিরতে পারতেন বিরাট কোহলিও। কিন্তু আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডবি¬উর ফাঁদে পড়া থেকে রক্ষা পান তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে কোহলির সঙ্গে টেন্ডুলকারের ১৪৮ রানের জুটি ভারতের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। দলীয় ১৭৩ রানে আব্দুর রাজ্জাকের বলে বোল্ড হয়ে যান কোহলি। টেন্ডুলকারের ইতিহাস জন্ম দেয়া ম্যাচে ইতিহাসের অংশ হতে পারতেন কোহলিও। প্রথম ভারতীয় ও পঞ্চম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে টানা তিনটি ওয়ানডেতে শতক করার সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু আগের দুই ম্যাচে শতক করা কোহলি আউট হয়ে যান ৬৬ রান করে। ৮২ বলের ইনিংসটিতে ৫টি চার। সম্ভবত øায়ুর চাপের জন্যই শততম শতকের কাছাকাছি গিয়ে ভীষণ সতর্ক হয়ে পড়েন টেন্ডুলকার। তবে অন্য প্রান্তে রানের চাকা সচল রাখার কাজ ভালো ভাবেই করছিলেন সুরেশ রায়না। তৃতীয় উইকেটে টেন্ডুলকারের সঙ্গে ৮৬ রানের চমৎকার জুটি গড়েন তিনি। মাশরাফি বিন মর্তুজার করা ৪৭তম ওভারের চতুর্থ বলে তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে রায়না করেন ৫১ রান। ৩৮ বলের আক্রমণাত্মক ইনিংসটি ৫টি চার ও দুটি ছক্কায় সাজানো। পরের বলেই মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে রায়নাকে অনুসরণ করেন ১১৪ রান করা টেন্ডুলকার। তার ১৪৭ বলের ইনিংসে ১২টি চার ও একটি ছক্কা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেন্ডুলকারের এটাই প্রথম ওয়ানডে শতক। এত দিন ২০০৪ সালের জুলাইয়ে কলম্বোতে করা অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংসটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে সেরা ইনিংস ছিলো তার। টেন্ডুলকারের বিদায়ের পর অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ১১ বলে অপরাজিত ২১ রানের সুবাদে তিন শ রানের কাছাকাছি স্কোর গড়ে ভারত। ৪৪ রানে ২ উইকেট নিয়ে মাশরাফি বাংলাদেশের সেরা বোলার। 
সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ৫০ ওভারে ২৮৯/৫ (গম্ভীর ১১, টেন্ডুলকার ১১৪, কোহলি ৬৬, রায়না ৫১, ধোনি ২১*, রোহিত ৪, জাদেজা ৪*; মাশরাফি ২/৪৪, শফিউল ১/২৪, রাজ্জাক ১/৪১)

বাংলাদেশ: ৪৯.২ ওভারে ২৯৩/৫ (তামিম ৭০, নাজিম ৫, জহুরুল ৫৩, নাসির ৫৪, সাকিব ৪৯, মুশফিক ৪৬*, মাহমুদুল্ল¬াহ ৪*; প্রাভিন ৩/৫৬, জাদেজা ১/৩২, অশ্বিন ১/৫৬)

ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান। 


সাগরে আরো ৪-৫টি ব্লকে অনুসন্ধান হতে পারে

সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনালের রায়ের ফলে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে পাঁচটি ব্লকে অনুসন্ধান চালানো যাবে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. ইমাদুদ্দিন বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের সব ব্লক নিয়ে ভারত বা মিয়ানমারের সঙ্গে বিতর্ক রয়েছে। তবে এই রায়ের পরে আমরা আশা করছি যে, চার বা পাঁচটি ব্লক আমাদের সীমানার মধ্যে থাকবে।”
তিনি বলেন, এই এলাকা ১৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার হতে পারে। বিরোধ নিরসনের ফলে সেখানে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজও শুরু করা যাবে।
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সীমা নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দি ল অব দি সি (আইটিএলওএস) থেকে বুধবার প্রথমবারের মতো এক ঐতিহাসিক রায় পায় বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে সমুদ্র সীমা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে চলে আসা ৩৮ বছরের বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। বঙ্গোসাগরের অগভীর অঞ্চলে ১০টি ও গভীর সমুদ্রে ২০টি ব্লক রয়েছে বাংলাদেশের। ইমাদুদ্দিন বলেন, “আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সীমানা নির্দেশক রেখা বিষয়ে সমন্বিত নির্দেশনা পাইনি।
“তা পাওয়ার পর একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে কতগুলো ব্লক বিরোধের বাইরে এসেছে তা নির্ধারণ করা হবে।” প্রয়োজনীয় তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে আসার পর রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ এ বিষয়ে নিশ্চিত করে জানানো হবে। সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সালিশ নিষ্পত্তি করে জার্মানির হামবুর্গে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দি ল অব দি সির রায়ে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশকে এক লাখ ১১ হাজার ও মিয়ানমারকে এক লাখ ৭১ হাজার বর্গ কিলোমিটার দিয়ে সমুদ্রে সীমানা নির্দেশক রেখা ঠিক করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক বলেন, গভীর সমুদ্রের এসব ব্লকে গ্যাস ও তেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশে স্থলভাগে প্রতি তিনটি কূপ খননে একটিতে গ্যাস পাওয়া গেলেও ঊপকূলে এ সফলতার হার ১৬টিতে দুইটি বলে জানান তিনি। “এটা সব সময় একটা সম্ভাবনার দিক। তবে বাস্তবে এটা অর্জন হতে পারে বা নাও হতে পারে।” কনোকো-ফিলিপস পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তা বলেন, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ কনোকো-ফিলিপস তাদের ভূকম্পন জরিপ শেষ করতে পারে। “বহুজাতিক এ কোম্পানির জরিপের ফল পাওয়ার পর আমরা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেব।”
ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আংশিক বিরোধ থাকা বঙ্গোপসাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি কনোকো-ফিলিপসকে। ইমাদুদ্দিন বলেন, “১০ নম্বর ব্লক নিয়ে ভারতের এবং ১১ নম্বর ব্লক নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল এবং এ রায়ের পর মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ শেষ হবে।” ১১ নম্বর ব্লকে দুই হাজার চারশ’ ৫৪ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে বিরোধ না থাকলেও চারশ ৪৫ কিলোমিটার নিয়ে বিরোধ ছিল বলে জানান তিনি। গভীর সমুদ্রে জরিপ ও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত জুনে কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে উৎপাদন বিনিময় চুক্তি (পিএসসি) করে সরকার। গভীর সমুদ্রে ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে মোট পাঁচ হাজার একশ’ ৫৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ভূকম্পন জরিপ শুরু করেছে এ বহুজাতিক কোম্পানি। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় দুইশ ৮০ কিলোমিটার দূরের এ ব্লকগুলো পানির গভীরতা এক থেকে দেড় হাজার মিটার।

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ