মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১১

সাইবার হামলা ঠেকাতে নতুন প্রতিরক্ষা মডেল উদ্ভাবন করেছে ইরান

ইরানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম-রেজা জালালি বলেছেন, সম্ভাব্য যে কোনো সাইবার হামলা ঠেকানোর উপযোগী নতুন প্রতিরক্ষা মডেল উদ্ভাবন করেছে ইরান। ইরানের সাইবার প্রতিরক্ষার কথা ভেবেই এ মডেল উদ্ভাবন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। ইরানে সাইবার কমান্ড প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরির পরিকল্পনাও নিয়েছে ইরান। এ ছাড়া, ‘স্টুক্সনেট’ এবং ‘ডোকু’ ভাইরাস ইরানের পরমাণু স্থাপনার ক্ষতি করেছে বলে কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তাও নাকচ করে দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম-রেজা জালালি। তিনি জানান, এ জাতীয় নতুন ভাইরাস বিশ্লেষণের জন্য গবেষণাগার স্থাপন করেছে ইরান। এদিকে, ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য আভাজ হায়দারপুর বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো সাইবার হামলা ঠেকানো এবং প্রয়োজনে তার পাল্টা জবাব দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে ইরানের। অবশ্য চলতি মাসের ২০ তারিখে ইরানের যোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপমন্ত্রী আলী হাকিম জাভেদ বলেছেন, সম্ভাব্য সাইবার হামলা ঠেকানোর লক্ষ্যে ইরানের ৯০ শতাংশ সরকারি ওয়েবসাইটকে বিদেশি হোস্টিং এজেন্সি থেকে সরিয়ে দেশে স্থাপিত নতুন কম্পিউটার স্থাপনার নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, ইরান সরকারের ডাটা সংরক্ষণের জন্য এ পদক্ষেপ একান্ত জরুরি ছিল।

আবার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে নামছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো

দেশের পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে আবার পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগে আসছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। ইতিমধ্যে অল্প অল্প করে বিনিয়োগ শুরু করেছে বেশ কিছু ব্যাংক। তবে আগামী বছরের মধ্য জানুয়ারির পর থেকে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিরা। ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, ২০০৯ সালে বাণিজিক ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে। যার প্রভাবে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে মূল্য সূচকে বড় ধরনের উত্থান ঘটে। ওই সময় দেশের অন্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগের তেমন সুযোগ না থাকায় ব্যাংকগুলো অতিমাত্রায় শেয়ারবাজার মূখী হয়েছিলো বলে জানায় তারা। এরপর বিনিয়োগে বেশ কিছু ক্ষেত্র সৃষ্টি হওয়া ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী বিনিয়োগ আইনী সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রত্যাহারে বাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে পতনের ধারায় পতিত হয় শেয়ারবাজার। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বেশ কিছু সমস্যার কারণে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সুযোগ আবারও কমে আসছে বলে মনে করছে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা। ফলে ব্যাংকগুলো আবার তাদের অর্থ বিনিয়োগের জন্য শেয়ারবাজার মূখী হবে বলে জানান তারা। তাছাড়া সম্প্রতি শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কিছু ছাড় দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে। একাধিক ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বর মাস ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব ক্লোজিং এর সময়। এ সময় ব্যাংকগুলো সাধারণত বিনিয়োগ না করে বিনিয়োগ উঠিয়ে নেই। ক্লোজিং শেষে আবার বিনিয়োগে ফিরে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত জানুয়ারির শেষের দিক থেকে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে সংক্রিয় হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে দেশের বিনিয়োগ অবস্থা বেশ নাজুক। যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। যার ফলে ব্যাংকগুলো অর্থ বিনিয়োগের জন্য শেয়ারবাজারকে বেছে নেবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ব্যাংকের কাজ হলো একজনের কাছ থেকে অর্থ এনে অন্য জনের কাছে ঋণের বিনিময়ে বিনিয়োগ করা। ব্যাংক অন্যের কাছ থেকে ধার করে নেয়া টাকা নিশ্চয় বসিয়ে রাখবে না। তাছাড়া ডিসেম্বরের ক্লোজিং শেষে ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তারল্য জমা হয়। এ তারল্য জানুয়ারি থেকেই শেয়ারবাজারে প্রবেশ করবে বলে তিনি ধারণা করছেন। বেসরকারি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেন, শেয়ারবাজারে বর্তমানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের যে মূল্য তাতে অধিকাংশ ব্যাংকই চায় বিনিয়োগে আসতে। তবে ডিসেম্বর মাস ক্লোজিং এর সময় হওয়ায় ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও বিনিয়োগ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট বলে কিছু নেই। মূলত ২০১০ সালে বিনিয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্র সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংকগুলো অনেকটা শেয়ারবাজার বিমুখ ছিলো। তবে ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আবারও কমে আসছে যা ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজার মূখী করতে বাধ্য করবে।

বিএনপিকে সংলাপের আমন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির

নতুন নির্বাচন কমিশন(ইসি) গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান সংলাপে বসার উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকেআমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান। আগামী ১১ জানুয়ারি বিএনপি সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এসম্পর্কে বিকালে সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিকাল তিনটায় ফ্যাক্সযোগে এবং এর এক ঘণ্টা পর বিশেষ ডাক যোগে রাষ্ট্রপতির সংলাপের চিঠি আমাদের কার্যালয়ে এসেছে। চিঠিতে আগামী ১১ জানুয়ারি সংলাপে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি জানান, দলের মহাসচিব বরাবর পাঠনো চিঠিটি আজই গুলশানের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হবে। দলের নীতিনির্ধারকরা বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে মতামত জানতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের অংশ হিসেবে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান এ সংলাপ শুরু করেন। প্রথমদিন তিনি জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ও জাসদ (ইনু) এবং সোমবার ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পাটি’র (জেপি) সংলাপ করেছেন।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিকালে এ সংবাদ ব্রিফিং হয়। জেলায় জেলায় সোমবারের বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচির বিষয়ে জানাতে এই সংবাদ ব্রিফিং হয়।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল ৯৭.২৬ ও ৯১.২৮

পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল সোমবার প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৯৭.২৬ এবং ইবতেদায়ীতে গড় পাসের হার ৯১.২৮।প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার ৬৭৩ শিক্ষার্থী। ইবতেদায়িতে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ১৫০ শিক্ষার্থী।সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল হস্তান্তর করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফসারুল আমিন।এরপর ওয়েবসাইট ও সারা দেশে ফল একযোগে প্রকাশ করা হয়। বিকেলে মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের কাছে ফলাফলের তথ্য তুলে ধরা হবে।সারা দেশে স্কুলগুলোতে এ ফল পাওয়া যাবে। পরীক্ষার ফল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd অথবা http://dpe.teletalk.com.bd -এ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া টেলিটক মোবাইল ফোন থেকে নিম্নরূপে ফল জানা যাবে :
১. প্রাথমিক শিক্ষাসমাপনী পরীক্ষার ফল জানার জন্য-
DPE THANA/UPZILA CODE ROLL
Example- DPE 12345 23458 Send to 16222
Reply – DPE ROLL : 23458, GPA: …….
২. ইবতেদায়ি শিক্ষাসমাপনী পরীক্ষার ফল জানার জন্য-
EBT THANA/UPZILA CODE ROLL
Example- EBT 12345 23458 Send to 16222
Reply – EBT ROLL : 23458, GPA: …….
প্রথমবারের মতো গ্রেড পদ্ধতিতে ফল প্রকাশ হয়। এই পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে প্রাথমিকের বৃত্তি দেয়া হবে। ২৩ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিদেশের আটটি কেন্দ্রসহ মোট ছয় হাজার ১৭৬টি কেন্দ্রে এই দুই পরীক্ষায় এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৬ লাখ ৩৭ হাজার ২৩৫ জন।

মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১১

ইতিহাস বিকৃতিকারী হাইব্রিড নেতাদের বিচার হবে: মোশাররাফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দাকর মোশাররাফ হোসেন বলেছেন, স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা বীর বিক্রম জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটুক্তি করে ইতিহাস বিকৃত করেছেন। আওয়ামী লীগের কিছু হাইব্রিড নেতা জিয়া মুক্তিযুদ্ধেই ছিলেন না বলেও বক্তব্য দিয়েছেন। আগামীতে এসব ইতিহাস বিকৃতিকারীদের বিচার করা হবে। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতাদের অশালীন বক্তবের প্রতিবাদে আয়োজতি মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যর্থতার শীর্ষে অবস্থান করছে। তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। সে জন্যই জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘুরাতে তারা শহীদ জিয়াকে নিয়ে বিকৃত বক্তব্য দিচ্ছে এবং জিয়া পরিবারকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। দুর্নীতির কারণে বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুতে সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি হাজী আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এসএম শফিউজ্জামান খোকন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালিউল্লা বাবলু প্রমুখ।

লোকমানের হত্যাকারী নাজমুল ৩ সহযোগিসহ গ্রেপ্তার

নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের হত্যকারী নাজমুল হাসান শরীফকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আজ সোমবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নন্দিপাড়া থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র, ২২ রাউন্ড গুলি ও তিন সহযোগিসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নরসিংদী ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের খবর সাংবাদিকদের জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাজমুলই লোকমানকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের দৃষ্টিতেই লোকমান হত্যা মামলায় নাজমুলই প্রধান আসামী।

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার অধিকার পেল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার অধিকার দেয়া হয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীকে। পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা নীতির আওতায় গতকাল রোববার এ ঘোষণা দেয়া হয়। পাকিস্তানের এনবিসি নিউজের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এনবিসি নিউজ জানায়, তিনি বলেছেন, ‘আমাদের আকাশসীমায় যাই প্রবেশ করুক না কেন, এমনকি মার্কিন ড্রোনসহ সবকিছুকেই শত্রুপক্ষের বলে মনে করা হবে এবং সেটাকে ভূপাতিত করা হবে।’ ২৬ নভেম্বর ন্যাটোর বিমান হামলায় পাকিস্তানের ২৪ জন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা নীতি পরিবর্তন করে। দেশটির সেনাপ্রধান আশফাক কায়ানি স্বাক্ষরিত পরিবর্তিত এ নীতির আওতায় সেনাসদস্যদের যে কোনো হামলার জবাব দেয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। এমনকি এ ক্ষেত্রে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেও আলোচনার প্রয়োজন হবে না বলে তাতে উল্লেখ করা হয়। ওই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে আরো কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে পাকিস্তান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে ন্যাটোর রসদ পরিবহন বন্ধ করে দেয়া এবং ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের শামসি ঘাঁটি খালি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নির্দেশ। ন্যাটোর রসদ পরিবহন এখনও চালু হয়নি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র শামসি ঘাঁটি থেকে তাদের সৈন্য ও অন্য জিনিসপত্র আফগানিস্তানে সরিয়ে নিয়েছে। পাকিস্তান এরই মধ্যে এ ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে। এদিকে গতকাল বিবিসি’র সাথে এক সাক্ষাতকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তান সম্পর্কে একই মনোভাব পোষণ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মওলানা ভাসানীর জন্মবার্ষিকী পালিত

নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে আজ সোমবার মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৩১ তম জন্ম বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল মওলানা ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ এবং মাজার জিয়ারত, আলোচনা সভা ও তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত। মাজার প্রাঙ্গনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডীন ড. এ. কে. এম মহিউদ্দিন, রেজিস্ট্রার মোঃ শাহাদত হোসেন, সৈয়দ ইরফানুল বারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী মোঃ আবু তালেব, সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল নাসির, বিজিই বিভাগের চেয়ারম্যান মোঃ ইমাম হোসেন, ও লাইব্রেরীর কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের ইমাম মোঃ ওয়ালিউল্লাহ প্রমুখ।

মানবপাচার প্রতিরোধে আইন, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

মন্ত্রীসভায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১১ এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এ আইনে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। মন্ত্রীসভায় ২০১২ সালে নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার খসড়া অনুমোদন হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১১ এর খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। স্কুল, কলেজে পড়া ছেলে মেয়েদের বৃত্তি দেওয়ার জন্য এ আইনটির অনুমোদন করা হয়। গত বছর পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) এ কে খন্দকারের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের কমিটি হয়েছিল। এই কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আইনের খসড়া প্রণয়ন হল।

শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১১

খালেদা জিয়ার ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে অনিয়মের মামলায় দুই মাসের আগাম জামিন পেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁর এ জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। একটি গাড়িতে করে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে খালেদা হাইকোর্ট চত্বরে পৌঁছেন। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে ছিলো বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের ভিড়। অনেকে স্লোগানও দিচ্ছিলো। ২টা ৩৫ মিনিটে ওই বেঞ্চেই শুনানি শুরু হয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে জামিনের আদেশ হয়। হাইকোর্টে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। জামিনের বিরোধিতা করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজউদ্দিন ফকির। আদেশ হওয়ার পরপরই হাইকোর্ট চত্বর ছেড়ে বাড়ির পথে রওনা হন খালেদা। চলতি বছরের ৮ আগস্ট দুদক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলাটি করেন। এছাড়া, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা বাতিলে খালেদা ও তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মির্জা আব্বাস, মঈন খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আলতাফ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়েই আদালতে গিয়েছিলেন খালেদা। আদালতে ছিলেন টিএইচ খান, মওদুদ আহমেদ, খোন্দকার মাহবুব হোসেন, মাহবুবউদ্দিন খোকনসহ বিএনপির আইনজীবী নেতারাও। প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া এবারই প্রথম হাইকোর্টে কোনো বেঞ্চের সামনে হাজির হলেন। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বিচারিক আদালতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। একবার এভিডেভিট করতে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে গিয়েছিলেন বলে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

সংরক্ষিত আসনের ৫ নারী এমপির নাম ঘোষণা

আওয়ামী লীগ মনোনীত ৫ নারী প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দুপুরে কমিশন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। ৫ নতুন নারী সংসদ সদস্য হলেন- সাংবাদিক এ এন মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ, আওয়ামী লীগের নারী বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিনু খান, মহিলা আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম শাখার নেত্রী হাসিনা মান্নান এবং সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল এডভোকেট ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী।

টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙ্গে শেবাগের সংগ্রহ ২১৯

ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়লেন বীরেন্দর সেওয়াগ। ১৯৭ থেকে চার মেরে ওয়ানডে তে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন সেওয়াগ। ভারতের পক্ষে টেস্টে একমাত্র ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ানও তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান ম্যাচে ওয়ানডেতে শচীনের গড়া সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন বীরেন্দ্র শেবাগ। ক্যারিবীয় বোলারদের হতাশায় ডুবিয়ে শেষ পর্যন্ত ২১৯ রানে করেন।

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা ইরানের সামরিক বাহিনীর জন্য বড় সাফল্য :বুরুজারদি

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান আলাউদ্দিন বুরুজারদি তার দেশের সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করে বলেছেন,অত্যাধুনিক মার্কিন পাইলটবিহীন বিমান বা ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা দেশের ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ ইউনিটের জন্য বড় ধরনের সাফল্য। তিনি বলেছেন, অত্যন্ত দক্ষতার সামরিক বাহিনী ড্রোনটি নামিয়ে আনতে পেরেছে এবং যে কোনো গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে ইরান নিজেকে রক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। শত্রুদের গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে ইরান আরো জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। আলাউদ্দিন বুরুজারদি বলেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী সফলভাবে মার্কিন ড্রোন কব্জা করার মধ্যদিয়ে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এ ধরনের গুপ্তচরবৃত্তি বন্ধে তিনি শত্রুদের সতর্ক করে দেন। এ ছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক আচরণ বন্ধের জন্যও তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য শত্রু দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত ৪ ডিসেম্বর ইরানের সামরিক বাহিনীর ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট একটি মার্কিন আর কিউ-১৭০ স্টিলথ ড্রোন ভূপাতিত করে। আফগানিস্তান থেকে গোয়েন্দা মিশনে বের হয়ে ইরানের আকাশসীমা লংঘন করার পর ইরানের সামরিক বাহিনী বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং সফলভাবে মাটিতে নামিয়ে আনে। ইরানের একজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুব সামান্য ক্ষয়ক্ষতির মধ্যদিয়ে ড্রোনটি নামানো হয়েছে। তিনিও নিশ্চিত করেছেন,আকাশসীমা লংঘনের পরই ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন বিমানটি নামিয়ে আনে।

বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১১

পরমাণু অস্ত্রের সন্ধানে সৌদি আরবও

সৌদি আরবও পরমাণু অস্ত্র লাভের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ তুর্কি আল-ফয়সাল। সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনকারী এই যুবরাজ সোমবার রিয়াদে উপসারগীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ফোরামে এই মন্তব্য করেন।ইরানের হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে ভারত মহাসাগরে সরাসরি জাহাজ চলাচল রুটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশের কর্মকর্তারা ওই বৈঠকে বসেন।যুবরাজ তুর্কি বৈঠকে বলেন, ইরানের পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের চেষ্টা এবং ইসরাইল ইতোমধ্যেই সেগুলোর অধিকারী হওয়ায় সৌদি আরবেরও সেদিকে নজর দেয়া উচিত।তিনি বলেন, আমাদের দেশ ও জাতির উচিত ওইসব অস্ত্র লাভসহ সম্ভব সব বিকল্প খতিয়ে দেখা।

৯০ দিনের মধ্যে ডিসিসি নির্বাচনের বিপক্ষে ইসি

নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত বৈঠকের অপেক্ষায় আছি আমরা। আমরা দুই নির্বাচন কমিশনার এখনো ৯০ দিনে ডিসিসি নির্বাচনে যাওয়ার বিপক্ষে।বুধবার ইসি সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন।তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ১০ ডিসেম্বর দেশে ফিরলে পরদিন কমিশন বৈঠকে বসবে। পূর্ণ কমিশন বৈঠকের পর সরকারকে ডিসিসি নির্বাচনের বিষয়ে চিঠি দেয়া হবে।সাখাওয়াত হোসেন আরো বলেন, সরকার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের জন্য আমাদের কোনো যুক্তি দেবেন, তা আমরা বুঝতে পারছি না। ৯০ দিনে নির্বাচন করার ফ্লেক্সিবিলিটি থাকলে তো আমরা করতাম।তিনি বলেন, ডিসিসি নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিপুল পরিমাণ ইভিএম তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইভিএমকে প্রকল্প আকারে দেখতে হবে। ইভিএম প্রজেক্ট তৈরি করে তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) পাঠাতে হবে। এনইসিতে প্রকল্প পাস হলে তারপর ব্যবস্থা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দল: ফিরেছেন আশরাফুল, নতুন মুখ নাজিমউদ্দিন

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য বুধবার ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।এতে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে দলে থাকা ইমরুল কায়েস, অলোক কাপালি, আবদুর রাজ্জাক, ফরহাদ রেজা এবং শফিউল ইসলাম বাদ পড়েছেন।টেস্ট দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন নাজিমউদ্দিন।২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশের হয়ে খেলেননি নাজিম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করা বাংলাদেশ ‘এ' দলেও ছিলেন না তিনি। জাতীয় লিগে ৭* ম্যাচে ১ শতক ও চার অর্ধশতকের সুবাদে ৪১.৮৪ গড়ে ৫৪৪ রান করেছেন তিনি।এদিকে, দলে ফেরা মোহাম্মদ আশরাফুল ওয়ানডেতে ব্যর্থতার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন। তবে মধ্যসারির ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ও জাতীয় লিগে তার ভালো ব্যাটিংয়ের সুবাদে আবারো দলে ফিরেছেন তিনি।বাংলাদেশ দল: মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ (সহ-অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফীস, তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন, শাহদাত হোসেন, নাঈম ইসলাম, রুবেল হোসেন, নাসির হোসেন, রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী, মোহাম্মদ ইলিয়াস এবং নাজিমউদ্দিন।আগামী ৯ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম প্রথম টেস্ট শুরু হবে।

জানুয়ারিতে রাজধানীতে চালু হচ্ছে ই-ট্রাফিক

আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা শহরে চালু হচ্ছে ‘ই-ট্রাফিক’। এর ফলে মোটরযান আইনে মামলা হলে জরিমানা দিয়ে তা নিষ্পত্তির জন্য আর ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে যেতে হবে না। ই-ট্রাফিকব্যবস্থায় মোবাইল ফোনের ফ্লেক্সিলোডের মাধ্যমে বা বেসরকারি ব্যাংকে জরিমানা পরিশোধ করলে জব্দ করা কাগজ ঠিকানা অনুযায়ী গাড়ির মালিক বা চালকের কাছে পৌঁছে যাবে। বুধবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে ই-ট্রাফিক কার্যক্রম চালু প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সঙ্গে বেসরকারি ডাক সেবাদান প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন কুরিয়ারের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। পুলিশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে উপকমিশনার (সদর দপ্তর) হবিবুর রহমান ও আর সুন্দরবন কুরিয়ারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমামুল কবীর।চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এখনই সময় আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার। আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা দেশকে নিরাপদ করতে চাই। দয়া করে কেউ এটাতে বাধা দেবেন না।’চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মহানগর পুলিশ ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ই-ট্রাফিক: নতুন এই বব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ অনেক সেবা পাবে।  মোবাইলের একটি খুদে বার্তার মাধ্যমেই পাওয়া যাবে যানবাহনের নিবন্ধন নম্বর, চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর, ট্যাক্স টোকেন ও ট্রাফিক মামলা, রুট পারমিট ও চালকের লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই-সংক্রান্ত তথ্য। এগুলো জানতে যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে ৮৭৮৭ নম্বরে একটি খুদে বার্তা পাঠাতে হবে। ফিরতি খুদে বার্তায় ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী তথ্য চলে আসবে।  ট্রাফিক পুলিশ এখন যেভাবে একটি ছকবাঁধা কাগজে মামলা লিখে দেন। ই-ট্রাফিকে আর তা হবে না। ট্রাফিকের হাতে থাকবে বিশেষ ধরনের ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইস। যাতে কাগজের মতোই ছক করা থাকবে। ট্রাফিক কর্মকর্তা শুধু আইন অমান্যকারী গাড়ি বা চালকের তথ্য, জব্দ করা দলিলের তথ্য লিখে অপরাধের ধারা বাছাই করবেন। এরপর ওই যন্ত্র থেকে একটি কাগজের স্লিপ বেরিয়ে আসবে। সেই স্লিপ সংরক্ষণ করবেন গাড়ির চালক বা মালিক। এরপর তিনি মোবাইল ফোনের ফ্লেক্সিলোড বা বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে নির্ধারিত জরিমানার টাকা পরিশোধ করবেন। টাকা পরিশোধের পর তাঁর হাতে ট্রাফিক কর্মকর্তার জব্দ করা দলিলগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছে যাবে। চাইলে গাড়ির চালক বা মালিক চলতি ব্যবস্থায় ট্রাফিকের কার্যালয় থেকেও জরিমানা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন। আর কুরিয়ার সার্ভিস যদি কারও কাগজপত্র হারিয়ে ফেলে, তার জন্য বিমার ব্যবস্থা রয়েছে। ওইসব কাগজ পুনরায় তুলতে যা খরচ হবে, তা বহন করবে বিমা কোম্পানি। জরিমানা দেওয়ার পর কাগজপত্র পেতে বিলম্ব হলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বা মুঠোফোনের খুদের বার্তার মাধ্যমে কাগজপত্রের অবস্থান জানা যাবে।ই-ট্রাফিকব্যবস্থা চালুর অংশ হিসেবে আগামী ১৭ ডিসেম্বর একটি  মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালু হবে। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সবার জন্য এ সেবা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১১

জুডিশিয়াল তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র : ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ২৫ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ২৬ হাজার ৩৫২ জন নেতা-কর্মীকে নির্যাতনকারী চিহ্ণিত করে জুডিশিয়াল কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। রাজধানীর নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ (মঙ্গলবার) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী ‘সহিংসতা’ তদন্তে গঠিত জুডিশিয়াল কমিশন গত পাঁচ দিন আগে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করে। তিনি বলেন, “এ ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে এক হীন ও গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মির্জা ফখরুল জানান, জুডিশিয়াল কমিশনের প্রধান সাহাবুদ্দিন ছাত্রজীবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। গত জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীও ছিলেন। এ কমিশনের কাছ থেকে নিরপেক্ষতা আশা করা যায় না। কমিশন অনেক ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে না গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ও সমমনা দলগুলো যখন জাতীয় স্বার্থে বড় ধরনের আন্দোলনে ব্যস্ত ঠিক তখন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এটা যে একেবারে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।
তিনি বলেন, গডফাদারদের সংস্কৃতি আওয়ামী লীগই চালু করেছে। আওয়ামী শাসন আমলেই ভয়াল গডফাদারদের উত্থানে এদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা ও তাদের দোসররা দেশে-বিদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কল্পকাহিনী প্রচার করতে থাকে। এই অপপ্রচারের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ইচ্ছা করে সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের চেতনাকে কালিমালিপ্ত করতে চেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ভয়াবহ খেলায় মেতে উঠেছে। এখন আইনের শাসনের বদলে দেশে আওয়ামী দুঃশাসন চলছে। দেশের অর্থনীতি আওয়ামী লুটপাটের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। সেজন্যই বিরোধী দলের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনকারী নেতাদের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সরিয়ে দেয়ার সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ হিসেবে তরিকুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আবদুস সোবহান এবং ডাক্তার সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ ২৬ হাজার ৩৫২ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
মির্জা আলমগীর বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে গত দশ বছরে কোনো থানায় কোনো জিডি হয়নি। যেসব নেতার নামে কাল্পনিক অভিযোগ আনা হয়েছে তারা নিজ নিজ ৪/৫ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তাদেরকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে আওয়ামী প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যেই এই অপতৎপরতা। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ইবলিশকে ফেরেশতা ও ফেরেশতাকে ইবলিশ বানাতে পারে- জুডিশিয়াল কমিশনের রিপোর্টই তার প্রমাণ। এগারো বছর জেল খেটেছি। জেলখানায় মুত্যু হলেও আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কাছে মাথা নত করব না। এছাড়া, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকার পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ইলিয়াস আলী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, হাফিজ ইব্রাহিম এবং শহিদুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দুটি বাণিজ্য চুক্তি সই

বাণিজ্য ও বিদ্যমান বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার দুটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এবং মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ ওয়ান্না মং লুইন ব্যবসা ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতার লক্ষে যৌথ কমিশন গঠনের জন্য একটি চুক্তিতে সই করেন। এদিকে এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ এবং ইউনিয়ন অব মিয়ানমার ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট উ উইন অং দুই দেশের মধ্যে যৌথ বাণিজ্য পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উ থিয়েন সেইনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে উভয়ের উপস্থিতিতে চুক্তি দু’টি সই হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছালে সেইন তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার করে। প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। বাসস।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দেশের মুসলমানেরা পালন করছেন শোকের এই দিনটি। এ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সারা দেশে আজ সরকারি ছুটি পালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম বেতার, টেলিভিশন ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গ্রহণ করেছে নানা কর্মসূচি।
সকালে হোসেনি দালানের ইমাম বাড়া মসজিদ থেকে বের হয় বিশাল তাজিয়া মিছিল। ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতমের মধ্য দিয়ে রাজধানীর নানা পথ ঘুরে বিকালে ধানমন্ডি লেকে শেষ হবে মিছিলটি। ভোরে আরেকটি তাজিয়া মিছিল ইমামবাড়া থেকে বের হয়ে বকশী বাজার, নাজিমুদ্দিন রোড, চক বাজার, রহমতগঞ্জ, চাঁদনী ঘাট, উর্দু রোড ও বকশীবাজার ঘুরে আবার ইমামবাড়ায় ফিরে আসে। এছাড়া আটকে পড়া পাকিস্তানিদের আবাস মোহাম্মদপুর ও মিরপুরেও বের হয় তাজিয়া মিছিল। এ ছাড়া দিনটি স্মরণে মিলাদ, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণের মতো কর্মসূচিও রয়েছে। আবার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ দিনের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে রোজাও রাখেন। দিনটি ইতিহাসে বিশাল জায়গা দখল করে আছে। সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহতায়ালা এ দিনেই আরশ, কুরছি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে তাকে বেহেশতে স্থান দিয়েছেন। এই দিনেই ঘটেছে ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম ও হূদয়বিদারক ঘটনা। তাই পবিত্র এ দিনটি মুসলমানদের কাছে একইসঙ্গে তাত্পর্যপূর্ণ ও বেদনাবিধুর। ১৩২৮ বছর আগের এই দিনে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে ঘটে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম ঘটনা। ৭২ সহযোগীসহ মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-কে নির্মমভাবে হত্যা করে এজিদ বাহিনী। মুসলিম জাহানের তত্কালীন স্বঘোষিত খলিফা এজিদ খলিফার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা বলে কুফা নগরীতে আমন্ত্রণ জানায় হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-কে। পথে কারবালা প্রান্তরে অবরুদ্ধ করা হয় ইমাম হোসেন (রা.) ও তার সহযোগীদের। অবরুদ্ধ অবস্থায় তাদের পানি পর্যন্ত পান করতে দেওয়া হয়নি। এ সময় এজিদ ঘোষিত পুরস্কারের লোভে সীমার ঘটায় ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ইমাম হোসেন (রা.)-কে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে তাঁদের এ আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে।

মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১১

শুভ জন্মদিন ইন্টারনেট

 ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা ডব্লিও৩ তার ২০তম বছরে পা রাখলো। ২০ বছর আগে আজকের দিনটিতে টিম বার্নস লি একটি প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছিলেন এবং এর ভিত্তিতেই শুরু হয়েছিলো ইন্টারনেট যুগের। শুভ জন্মদিন ইন্টারনেট। খবর বিবিসি-এর।সংবাদমাধ্যমটি মন্তব্য করেছে, এখন আর তেমন কেউ এ তারিখটাকে মনে রাখেন না। তবে, এটি নীরবেই আমাদের জীবনকে বদলে দিচ্ছে।টিম বার্নস লি তার এ প্রকল্পটির নাম দিয়েছিলেন ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’। ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট চালু হয়েছিলো ডব্লিও ডব্লিও ডব্লিও।

ইন্টারনেটের ওজন ১ ছটাকেরও কম

সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন ইন্টারনেটের মোট ওজন বড়জোর ৫০ গ্রাম যা বড়োজোর একটি স্ট্রবেরির সমান হতে পারে। ইউটিউবের সায়েন্স শো ভিসস- এ তথ্য জানিয়েছে। খবর টাইমস অফ ইন্ডিয়া-এর।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা জানিয়েছেন, ডাউনলোড করা ই-বুকেরও ওজন আছে। ই-রিডারে বই ডাউনলোড করা হলে ক্রমশ সে রিডারের ভর বাড়তে থাকে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করেই গবেষকরা মোট ইন্টারনেটের ওজন হিসেব করেছেন। আইনস্টাইনের E=mc²  সূত্র প্রয়োগ করে দেখেছেন মোট ইন্টারনেটের ওজন স্রেফ একটি স্ট্রবেরির সমান।৭৫ থেকে ১০০ মিলিয়ন সার্ভারে জমা হওয়া ইলেকট্রনের ওজন হতে পারে মাত্রই ৫০ গ্রাম। এ ওজনের সঙ্গে যদি কম্পিউটারে ব্যবহৃত ইন্টারনেটের তথ্য যোগ করা হয় তবে ওজন বেড়ে বড়জোর ৩টি স্ট্রবেরির সমান হতে পারে বলেই গবেষকদের মত।গুগলের সাবেক সিইও এরিক স্মিডের দেয়া তথ্যমতে পৃথিবীতে মোট ৫০ লাখ টেরাবাইট তথ্য জমা রয়েছে যার মধ্যে গুগলের রয়েছে ০.০৪ শতাংশ। স্মিডের এ তথ্যকে হিসেব ধরে ইন্টারনেটের ওজন হিসেবে করেছে ভিসস।ভিসস ০.০২ মিলিয়নকে এক আউন্স ধরে এ হিসেব করেছে। বৃটিশ এককে এক ছটাক হলো ৫৮.৩১ গ্রাম।

সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১১

খুলনায় দেশের প্রথম প্রাইভেট আইসিটি ইনকিউবেটর

নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে পরীক্ষামুলক ভাবে বেসরকারী পর্যায়ে দেশের প্রথম আইসিটি এন্ট্রারপ্রেনারশিপ ইনকিউবেটরের কাজ শুরু হয়েছে। বিজনেস ইনোভেশন এ্যন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার (বিআইআইসি) এবং প্রাণন লিমিটেড যৌথভাবে খুলনাতে বাংলাদেশের প্রথম ‘আইসিটি ইন্টারপ্রেনরশিপ ইনকিউবেটর’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে।গত ১৭ নভেম্বর খুলনার বিআইআইসি হলে এক অনুষ্ঠানে বিআইআইসি চেয়ারম্যান এম সাবির আহমেদ, প্রাণন লিমিটেডের সিইও নাহিদুল ইসলামের হাতে বিনিয়োগের সম্মতিপত্র হস্তান্তর করেন।অনুষ্ঠানে নাহিদুল ইসলাম বলেন ‘এখানে নতুন আইটি উদ্যোগক্তা তৈরি হবে। প্রতিবছর চল্লিশটির মতো নতুন কোম্পানি এখান থেকে তৈরি হবে। যদি মডেলটি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে, প্রতিবছর আমরা এই সংখ্যাকে তিন-গুন পর্যন্ত বড়াতে পারবো। আমরা মনে করি, এভাবে কাজ করলে খুলনা হয়ে উঠবে এশিয়ার সিলিকন ভ্যালি।এতে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে এই ইনকিউবেটরের যাত্রা শুরু হবে ৩৬ জন সম্ভাব্য উদ্যোক্তা নিয়ে।

শেষ হচ্ছে টায়ার পাংচারের যুগ

বিশ্বের বৃহত্তম টায়ার এবং রাবার কোম্পানি ব্রিজস্টোন সম্প্রতি নতুন টায়ার উদ্ভাবন করেছে যাতে কোনো বাতাস থাকবে না তাই টায়ার পাংচারের শঙ্কাও থাকবে না। খবর গিজম্যাগ-এর।জাপানে অনুষ্ঠিত ‘টোকিও অটো শো’তে ব্রিজস্টোন নতুন টায়ার দেখিয়েছে। এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও নতুন এ টায়ার তৈরিতে সাফল্যের দাবী করেছে ব্রিজস্টোন কর্তৃপক্ষ।ব্রিজস্টোন-এর তৈরি এ টায়ারে ব্যবহৃত হয়েছে থার্মোপ্লাস্টিক-রেজিন স্পোক যা রিম থেকে চাকার সঙ্গে ঘুরতে থাকে এবং বাঁ থেকে ডানে বেঁকে যায়। শক্ত কাঠামোতে তৈরি এ টায়ারে বাতাসের কোনো ব্যবহার নেই তাই ফ্ল্যাট টায়ারের যুগ সম্ভবত শেষ হয়ে যাবে বলেই ব্রিজস্টোন কর্তৃপক্ষ আশা পকাশ করেছে। নতুন প্রযুক্তির এ টায়ার বাজারে আনার আগে আরো পরীক্ষা করে দেখবে বলেই জানিয়েছেন ব্রিজস্টোনের প্রোকৌশলীরা।জানা গেছে, নতুন এ টায়ার এমন উপাদান দিয়ে তৈরি যা সহজেই পুরোপুরি রিসাইকেল করা যাবে।উল্লেখ্য, বায়ুবিহীন টায়ারের প্রযুক্তি ২০০৬ সাল থেকেই আলোচনায় আছে। অপর বিখ্যাত টায়ার নির্মাতা মিচলিন এর আগে ‘এয়ারলেস টুইল টায়ার’ উদ্ভাবন করে ২০০৬ সালে ইন্টারম্যাট গোল্ড মেডাল জিতেছিলো।

ঢাকায় পাঁচ দিন প্রতিবাদ জানাবে বিএনপি

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) ভাগের প্রতিবাদে হরতাল পালনের পর রাজধানীসহ সারাদেশে পাঁচ দিনের প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৮ থেকে ১২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরের সব থানায় প্রতিবাদ সমাবেশ করবে দলটি। এছাড়া পাঁচ দিনের কর্মসূচির শেষ দিনে সারাদেশেও বিক্ষোভ-সমাবেশ করবে বিএনপি। সোমবার বিকালে এক প্রতিবাদ সমাবেশে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিপুল জনসংখ্যার ঢাকা মহানগরীতে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ডিসিসিকে ভাগ করা হয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর এ যুক্তিকে ‘খোঁড়া’ অভিহিত করে তিনি বলেন, “আমি বলব, তাহলে ঢাকার মতো প্রধানমন্ত্রীর পদকেও দুই ভাগ করুন। দেশের জনসংখ্যা বেড়ে গেছে। সেইজন্য বলছি- প্রধানমন্ত্রীর এরকম যুক্তি অর্থহীন।” ডিসিসির সাবেক মেয়র ও বিএনপির মহানগর কমিটির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার ওপর রোববারের ‘হামলার’ প্রতিবাদে আয়োজিত এ সমাবেশে ডিসিসি ভাগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ডিসেম্বর মাসে আরো বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। ডিসিসিকে উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুই ভাগ করতে একটি বিল সংসদে পাস হয় গত ২৯ নভেম্বর। গত ১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর বিলটি আইনে পরিণত হয়। বিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই অংশে রোববার সরকারের দুইজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়াকে ‘অসাংবিধানিক’ অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “নির্বাচনী বৈতরণী অতিক্রম করতে সরকার ঢাকাকে দুই ভাগ করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবির পর তারা ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন না দিয়ে এই বিভক্তির পরিকল্পনা করেছে।” ডিসিসি ভাগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোববার রাজধানীতে বিএনপির হরতালের সময় দুপুরে পুরান ঢাকায় আদালতপাড়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর খোকাকে ভ্যানে করে বাসায় পৌঁছে দেয় পুলিশ। এরপর খোকা রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে ভর্তির কারণ হিসেবে বিএনপি নেতারা তখন ‘ছাত্রলীগকর্মীদের ছোড়া ইটে’ খোকার আঘাত পাওয়ার কথা বলেন। পরে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, “তাকে [খোকাকে] পুলিশ হেফাজতে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ছুরিকাঘাত করে।”

কারা হেফাজতে রুমানার স্বামী সাইদের মৃত্যু

স্ত্রী রুমানা মঞ্জুরকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাইদ হাসান কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সাইদ হাসান সোমবার ভোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে মারা যান বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কারা উপমহাপরিদর্শক গোলাম হায়দার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার মৃত্যু ‘কার্ডিয়াক ফেইলিয়রে’ বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। সাইদ কারাগারে থাকা অবস্থায় মানসিক অস্থিরতায় ছিলেন বলে হায়দার জানান। সাইদকে বাথরুমে পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানান তিনি। সাইদ আত্মহত্যা করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারা কর্মকর্তা হায়দার বলেন, “ময়না তদন্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।” এদিকে বিকালে সাইদের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যরা তার লাশ নিয়ে যায়। এর আগে লাশের সুরতহাল করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রশিদ। সুরতহাল প্রতিবেদনে সাইদের লাশের দুই হাতের কব্জির ওপরের অংশে দড়ি দিয়ে বাঁধার মতো চিহ্ন এবং ঘাড়ের দুইদিকে লালচে দাগ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শামীমা খন্দকার নামে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করেন ডা. এ কে এম শফিউজ্জামান। ময়না তদন্ত শেষে শফিউজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, লাশের শরীরের বিভিন্ন অংশের কিছু নমুনা নেওয়া হয়েছে। এগুলো পরীক্ষার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যাবে। সাইদের খালু রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার অনেক আত্মীয় দেশের বাইরে আছেন। তারা আসার পর বুধবার আজিমপুর গোরস্তানে দাফন করা হবে। সাইদকে হত্যা করা হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ আছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে রফিকুল বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক রুমানার ওপর নির্যাতন চালিয়ে চোখ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগে গত ১৫ জুন সাইদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৫ জুন তিনি রুমানার ওপর নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক রুমানা পরে কানাডায় চিকিৎসা নেন। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে।

রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১১

সামাজিক যোগাযোগ যেন নারীকে হেয় না করে

হঠাৎ রাস্তায় আপিস অঞ্চলে হারিয়ে যাওয়া মুখ চমকে দিয়ে বলে বন্ধু কী খবর বল! কতদিন দেখা হয়নি! একুশ শতকের এক দশক পেরিয়ে এই ‘কী খবর বল’ কথাটাই বলা হয় ফেসবুকে। পুরোনো বন্ধুকে নতুন করে পাওয়া। নতুন নতুন বন্ধু খুঁজে পাওয়া। ভালো-মন্দ, আনন্দ-বেদনার মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়া—আপাত এটাই তো ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগের এই ওয়েবসাইট তুমুল জনপ্রিয় গোটা দুনিয়ায়। বাংলাদেশেই এ মুহূর্তে ২১ লাখের বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। এত যে জনপ্রিয়তা, সে কারণেই ফেসবুক শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের গণ্ডিতে আর আবদ্ধ নেই। সামাজিক, রাজনৈতিন আন্দোলন বা জনমত গড়ে তোলার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে অনলাইনের এই মাধ্যমটি। ফেসবুকের এমন ব্যবহারই সবার কাম্য।আবার যে কথা খোলা ময়দানে বলা যাচ্ছে না, কিন্তু তা দেশ-সমাজ ও সংস্কৃতির সংস্কারে বা উন্নতিতে প্রয়োজন—সে বিষয়ে সহজেই ব্লগে একটি লেখা সম্ভব। চাইলেই নিজের স্বাধীন মত প্রকাশ করা সম্ভব। অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ, ব্লগ—এ বিষয়গুলো আমাদের দেশে নতুনই বলা যায়। তবে এসবের অপব্যবহারও ইদানীং দেখা যায়। সাম্প্রতিক কালে দেখা গেছে, একটি মেয়ের পারিবারিক অ্যালবাম থেকে ছবি সরিয়ে ফেসবুকে ও ব্লগে প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর তাতে নানা ধরনের অরুচিকর মন্তব্য লেখা হয়েছে। কয়েকজন ব্লগার এর ওপর ভিত্তি করে এমন সব ব্লগ লিখেছে, যা রীতিমতো তাদের বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ ঘটায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বললেন, ‘হঠাৎ একদিন দেখলাম, আমার ছবিতে অশ্লীল শব্দ ট্যাগ করা। লজ্জায় মাথা নুয়ে এল। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিলাম।’
নাদিয়া (ছদ্মনাম) বললেন, ‘অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও আমার ফেসবুকের ওয়ালে দেখা যায়। এসবের কারণে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। ব্লগগুলোতে মাঝেমধ্যে এমন সব ভাষা ব্যবহার করা হয়, যা রুচির পরিচয় দেয় না। এসব দেখলে মনে হয় না ভালো কিছু লিখি। আর স্বভাবতই মানুষের এসব পড়ার প্রতি আকর্ষণ বেশি। নারীসংক্রান্ত কিছু হলে তো কথাই নেই, অনেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। যেন এসব মন্তব্য করলেই সমাজ শুদ্ধ হবে। এতে যে আরেকজনকে হেয় করা হচ্ছে, সেটি তারা ভাবে না। তাৎক্ষণিক একটা বিকৃত উল্লাসে তারা মেতে ওঠে। ভাবে, এই নারীকে হেয় করতে পারলেই সমাজের নারীকুলকে উদ্ধার করা সম্ভব।’দেশের স্বনামধন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন সেরিন (ছদ্মনাম)। পাশাপাশি শখের মডেলিংও করেন। বললেন, ‘এক বন্ধুর কাছে ফটোসেশন করেছিলাম। ছবিগুলো তার ফেসবুকের অ্যালবামেই ছিল। সেখান থেকে কে বা কারা বেশ কয়েকটি পর্নোসাইটে আমার ছবি দিয়ে দেয়। এরপর কী হয়েছিল, সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এতে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হচ্ছে, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে তারা। শখের মডেলিং বন্ধ হয়ে গেল। বাসা থেকে সবকিছুতে নিষেধাজ্ঞা জারি হলো। মরে যেতে ইচ্ছে হলো আমার। এ কেমন সমাজে বাস করছি। ‘কিন্তু মেয়ে দেখলেই এমন করতে হবে কেন? এর কি সত্যিই কোনো সমাধান নেই?’এ বিষয়ে রায়ানস আর্কাইভস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আহমেদ হাসান বলেন, ‘ব্লগ, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে আমরা যা দেখি, তা আমাদের সমাজের প্রতিচ্ছবি। অনেক সময় মুখোশের আড়ালে আসল মানুষটা বেরিয়ে আসে। স্বচ্ছভাবে তাকে দেখতে পাওয়া যায়। সমাজের বৈকল্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। অনেকে মেয়েদের ছবি বিকৃত করে। বিভিন্ন পর্নোসাইটে তার অনুমতি ছাড়া ছবি দিয়ে দেয়। এসব বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ। আবার কোনো মেয়েকে কেন্দ্র করে কিছু ঘটলে সব পুরুষ সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে, মানুষ হিসেবে তাকে দেখে না। এটা নারীকে পণ্য হিসেবে দেখার যে প্রবণতা, এটি তার আরেকটি বহিঃপ্রকাশ। ওয়েব প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়াশীলদের মুক্ত বিচরণভূমি। ফলে যাঁরা শুদ্ধচিন্তা করেন এবং প্রগতিশীল, তাঁদের দায়িত্ব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠা। অনলাইনে তৈরি হওয়া এই সমাজকেও শুদ্ধ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে বিশিষ্টজনদের। তাঁদের ব্লগসাইটে অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই এই বিকৃত মানসিকতার লোকেরা অবদমিত হবে।‘মুক্তচিন্তার প্রকাশের মাধ্যম হলেও অন্যকে হেয় করবে, এমন কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না। কর্তৃপক্ষকে যথাযথ সঞ্চালক বা মডারেটরের মাধ্যমে এসব ব্লগ বিবেচনায় নিতে হবে। এ ছাড়া ফেসবুকে নিজের মডারেটর নিজেকেই হতে হবে। যাতে ওয়ালে কোনো আজেবাজে লেখা না থাকে। অন্যরা দেখতে না পায়। কারও এ ধরনের প্রবণতা থাকলে শুরুতে সতর্ক করে দিতে পারেন। তাতে কাজ না হলে বন্ধুতালিকা থেকে বাতিল করে দেন।’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, শুধু ভার্চুয়াল জগতে নয়, বাস্তব জীবনেও এসব পুরুষের বিকৃত মানসিকতার শিকার হন নারীরা। নারীর প্রতি পুরুষের আকর্ষণ থাকবে। এটি খুব স্বাভাবিক। কিন্তু সীমা ছাড়িয়ে গেলে তা নারীর জন্য লাঞ্ছনার শামিল হয়। যেসব পুরুষ প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে বা নিপীড়ক হিসেবে নারীকে হেনস্তা করে, তাদের কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। তবে পরিবার থেকেই এর শুরু হতে হবে। এর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। দেখতে হবে, এসব সামাজিক যোগাযোগের সাইটে কোন পর্যায়ে গেলে তা নারীর নির্যাতন হয়। যথাযথ আইন প্রণয়ন করতে হবে, সে সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে। অন্য কোনো নির্যাতন বা হুমকির সম্মুখীন হলে থানায় গিয়ে জিডি করা যায়। কিন্তু এসব মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হলে জিডি করার কোনো নিয়ম আছে কি না, তা জনগণকে জানাতে হবে। সাইবার ক্রাইম নিয়ে আইন থাকলেও সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষের তেমন সচেতনতা নেই। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, আইন হলেও এর যেন কোনো অপব্যবহার না হয়। নারীকে অপদস্থ করে তারা আনন্দ পায়। এটা কোনো কোনো পুরুষের নৈতিক অবক্ষয়ের আরেকটি প্রকাশ। মনে রাখতে হবে, এর মাধ্যমে কোনো কিছু অর্জন করা যায় না। তবে আইনের সঠিক ব্যবহার হলে শাস্তির ভয় থাকে।পাইল্যাবস বাংলাদেশ লিমিটেডের মাহমুদুল হাসান বলেন, এই সমস্যা এক দিনে সমাধান করা যাবে না। মানুষের মানসিকতা, মূল্যবোধ ও আচার আচরণ সংযত করতে হবে। পরিবার থেকে যদি এসব শিখে আসে, তাহলে তার পক্ষে এ ধরনের কাজ করা সম্ভব নয়। সেখানেই নারীকে সম্মান দিতে শেখাতে হবে। অন্যকে শ্রদ্ধা করার বিষয়টি শেখানো যাবে না। এ নিয়ে ফেসবুক ব্লগে ইতিবাচক পোস্ট লিখতে হবে। এ ধরনের জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। এ ছাড়া অনলাইন মানববন্ধন করা যেতে পারে। এতে সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটবে।

শীতকালটাও হোক স্বাস্থ্যকর

আমাদের দেশে শীতকাল বড় হ্রস্ব; তবু বাইরে ঠান্ডা পড়ে, মাঝেমধ্যে বেশ পড়ে, হিমশীতল। সে জন্য শীতকাল স্বাস্থ্যকর হবে না কেন? শরীর যখন লুকিয়ে ঢুকতে যায় ওম গরমে; আবহাওয়া যা-ই হোক, সুস্থ ও সবল থাকা চাই।ঘুম যেন হয় ঠিকমতো স্লিপ কাউন্সিলের মুখপাত্র জেসিকা আলেক্সান্ডার বলেন, সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ থাকলেও আমরা সাড়ে ছয় ঘণ্টার বেশি ঘুমাই না তেমন। শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য রাতে সুনিদ্রা বড় প্রয়োজন। শীতকালে আমরা স্বাভাবিকভাবে বেশি ঘুমাই—রাতও লম্বা। এ সময় নিদ্রাকাল বাড়লেই ভালো।দুধ খাবেন বেশি শীতের সময় ঠান্ডা-সর্দি লাগার আশঙ্কা অনেক বেশি। তাই দেহ প্রতিরোধব্যবস্থা যাতে টিপটপ থাকে, তা নিশ্চিত করা চাই। দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য যেমন—দই, পনির এসব খাওয়া ভালো। প্রোটিন, ভিটামিন ‘এ’ ও ‘বি১২’-এর ভালো উৎস। ক্যালসিয়ামেরও ভালো উৎস। হাড়ও থাকে মজবুত। ননি তোলা দুধ, লো-ফ্যাট দই বেছে নিতে হয়।বেশি বেশি খাবেন ফল-সবজি বাইরে বেশ ঠান্ডা ও অন্ধকার, তখন অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত ফাস্টফুড খেতে যেন মন চায়; কিন্তু মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাবার খেতেই হবে। প্রতিদিন প্রচুর ফল-সবজি খাওয়া চাই। খুব মিষ্টি কিছু খেতে যদি মন চায়, তাহলে মিষ্টি শুকনো ফলখেজুর নয় কেন? শীতের সবজি—ফুলকপি, বাঁধাকপি, স্কোয়াস, শিম, বরবটি, গাজর, ওলকপি ও মুলা কতভাবেই খাওয়া যায়—ভাপে সেদ্ধ, ঝোল, স্যুপ, নিরামিষ। বাহারি ফল খাবেন।পরিবারের জন্য নতুন সব আউটডোর কাজকর্ম শীতের দিন-রাত অলস জীবনযাপনের জন্য নয়। লেপমুড়ি দিয়ে বসে থাকা চলবে কেন? বরং পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন না—বেড়িয়ে আসুন দূরে কোথাও। শীতের সময় ভ্রমণেও মজা। নতুন কোনো খেলা বা সমুদ্রতীরে হাঁটুন, দৌড়ান। দড়িলাফ দিন। পাহাড় বেয়ে ওঠা। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের ওজন ঠিকঠাক থাকে। দেহ প্রতিরোধব্যবস্থা হয় উজ্জীবিত। ঘরের ভেতরে থাকতে থাকতে মন কেন হাঁপিয়ে উঠবে? বেরিয়ে পড়ি, টেনশন যাবে চলে।চাই স্বাস্থ্যকর প্রাতরাশ সকালে পরিজ বেশ মজা হবে খেতে। শীতের সকালে এক বাটি পরিজ। দুধ-মুড়ি, খই-দুধ, মুড়ির নাড়ু বেশ মজা। সঙ্গে ফল, ফলের রস। রুটি, ডিম, ভাজিও চলে মাঝেমধ্যে। প্রাতরাশে শর্করা ও প্রোটিন থাকা চাই। শ্বেতসার ও আঁশ। সবজিও পাওয়া যায়—পেট ভরা থাকে দীর্ঘক্ষণ। মধ্য সকালে ভরপেট নাশতার লোভ চলে যায় ভরপেট প্রাতরাশ খেলে। ওটমিলও বেশ ভালো প্রাতরাশ। ভিটামিন ও খনিজের ভালো উৎস।

ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে একঘরে হয়ে পড়ছে : লিওন প্যানেট্টা

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টা বলেছেন, ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য তিনি ইসরাইলকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন। ব্রুকিংস ইন্সটিটিউশনের সাবান সেন্টার ফর দ্যা মিডল ইস্টে দেয়া ভাষণে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, গত বছর থেকে দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে তেলআবিবের নিরাপত্তা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক ক্রমেই শিথিল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তিনি মিশর ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ফিলিস্তিন-ইসরাইল আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানান। লিওন প্যানেট্টা আরো স্বীকার করেন, ইসরাইলকে একঘরে করার একটি আন্তর্জাতিক তৎপরতা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা সংক্রান্ত তৎপরতা যে কার্যত: বন্ধ হয়ে গেছে প্যানেট্টা তা স্বীকার করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি অর্জনের জন্য ইসরাইলকে আরো তৎপর হতে হবে। অবরুদ্ধ গাজার উদ্দেশ্যে প্রেরিত ত্রাণবাহী বহরের ওপর ইসরাইলি হামলায় তুরস্কের নয় ত্রাণ কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আংকারার সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটেছে। ওই ঘটনার জন্য ইসরাইল ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত তেল আবিবের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলে এর আগে আংকারা ঘোষণা করেছে। গত আগস্টে ইসরাইলি হামলায় মিশরীয় ছয় সীমান্ত প্রহরী নিহত হওয়ার পর কায়রো-তেলআবিবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অবশ্য ইসরাইল এ ঘটনার জন্য অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশরের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। ১৯৭৯ সালে ইসরাইল মিশরের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু গণআন্দোলনের মুখে হোসনি মুবারকের পতনের পর থেকে মিশরের পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। মিশরে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব ক্রমেই জোরদার হচ্ছে এবং দেশটির অনেক রাজনৈতিক দল ওই শান্তিচুক্তি বাতিলের দাবি করছে।

কেন্দ্রিয় ব্যাংকে মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৯২৮ কোটি ৫২ লাখ ডলার

নভেম্বর মাসের শেষ দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২৮ কোটি ৫২ লাখ ডলার। অক্টোবরের শেষ দিনে যা ছিল এক হাজার ৩৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। সে হিসেবে শুধু নভেম্বর মাসেই রিজার্ভ কমেছে ১০৫ কোটি ৩১ লাখ ডলার। রফতানি কমে যাওয়া আর আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় দেশের রিজার্ভ দিন দিন কমেছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২২ নভেম্বর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৯৪২ কোটি ২২ লাখ ডলার সে হিসেবে গত এক সপ্তাহেও রিজার্ভ কমেছে ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দেয়া প্রস্তাবগুলোও বাস্তবায়নের দাবি বিএনপির

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বাতিলের দাবি জানিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এই ট্রাইব্যুনালের আইনি কাঠামো ও বিচার কার্যক্রমের ওপর বিএনপির কোনো আস্থা নেই। তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে ট্রাইব্যুনাল একটি আজ্ঞাবহ রাবার স্ট্যাম্প ছাড়া আর কিছুই নয়।শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ সময় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লিখিত বক্তৃতায় বলেন, “যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত মার্কিন অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ স্টিফেন র‌্যাপ এই ট্রাইব্যুনাল ও এর বিশেষ আইনগুলো পর্যালোচনার জন্য সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফর করে গেছেন।তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “এই ট্রাইব্যুনালকে ন্যায়পরায়ন এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে তার দেয়া অনেক সুপারিশই সরকার ও ট্রাইব্যুনাল উপেক্ষা করেছে। স্টিফেন র‌্যাপ ছয়টি সুপারিশ করেছিলেন। সেগুলো হলো এক. মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলতে কী বুঝায় তা সঙ্গায়িত করতে হবে। দুই. অভিযুক্তরা যেন একই পরিমাণ সময় এবং সামর্থ্যের যোগান পায় তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। তিন. চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য অভিযুক্তরা যেন একই পরিমাণ সময় ও সামর্থ্যের যোগান পায়, যেমনটি অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা পেয়ে থাকে। চার. বিচারিক কার্যক্রম যেন টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচার করা হয়। পাঁচ. বিদেশী কৌঁসুলি বা আইনজীবীদের যেন বিচার প্রক্রিয়ায় পরামর্শক হিসেবে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। ছয়. অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত বাংলাদেশী নাগরিকরা যেসব অধিকার পেয়ে থাকেন সেসব অধিকারের নিশ্চয়তা যেন এই ট্রাইব্যুনালের অভিযুক্তরাও পান।এ প্রসঙ্গে সরকারের কাছে বিএনপির প্রশ্ন- যদি এই ট্রাইব্যুনাল অভ্যন্তরীণ আদালতই হবে তবে সরকার কেনো র‌্যাপকে পরামর্শ দেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। যদি অভ্যন্তরীণ আদলতই হবে তবে রোম বিধিমালা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন কেন? ওই স্বাক্ষর করার পর তা আবার জাতীয় সংসদে ভূতসাপেক্ষ অনুমোদনই বা করলেন কেন? যদি এই ট্রাইব্যুনাল অভ্যন্তরীণ আদালতই হবে তাহলে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ আইন ফৌজদারী পেনাল কোড এবং সাক্ষ্য আইনের প্রয়োগ করছেন না কেনো? স্টিফেন র‌্যাপের সঙ্গে একমত পোষণ করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, “তার সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা ছাড়া ট্রাইব্যুনাল মোটেও ন্যায়পরায়ণ স্বাধীন এবং স্বচ্ছ হতে পারবে না।ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া বহুবার বলেছেন, আমরাও সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। সে বিচার হতে হবে দেশের প্রচলিত আইনে। এই বিচার সার্বজনীন মৌলিক অধিকার সমুন্নত রেখে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে, যাতে জনমনে কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে।

চানখারপুলে আগুন আতঙ্কে দুই পোশাকশ্রমিক নিহত

রাজধানীর চানখারপুলে একটি পোশাক কারখানায় আগুন আতঙ্কে সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় পদপিষ্ট হয়ে দুইজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ৫০ জন। শনিবার দুপুর দেড়টায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন, জিয়াসমিন (২০) ও তাসলিমা (১৮)। জিয়াসমিনের বাসা রাজধানীর লালবাগের শহীদ নগরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ইউরো টেক্স নামে ওই পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় তৃতীয় তলায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। পরে সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করলে কারখানায় আগুন লেগেছে বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শ্রমিকেরা তাড়াহুড়া করে নিচে নামতে থাকেন। কারখানাটির অপ্রশস্ত সিঁড়ি দিয়ে একসঙ্গে নামতে গেলে পায়ের নিচে চাপা পড়ে ৫০ জন শ্রমিক আহত হন।এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার আফরুজুল হক টুকু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে তৃতীয় তলার ব্রয়লার মেশিনটি বিস্ফোরিত হয়েছে। ফলে বিস্ফোরণের শব্দে ও বাষ্পে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, নিহত শ্রমিকদের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, লাশগুলোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে অচেতন অবস্থায় আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিত্সকেরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পরে আহতদের মধ্যে দুজন মারা যান।লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ র‌্যাব ঘটনাস্থলে রয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়েছে।

ঢাকার ৯৮ শতাংশ মানুষ বিভক্তি চায় না : মির্জা ফখরুল

ঢাকার ৯৮ শতাংশ মানুষ বিভক্তি চায় না দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ করা নিয়ে গণভোট দিন। এতেই প্রমাণ হবে, জনগণ ঢাকা সিটির ভাগ চায় কি না। হরতালের সমর্থনে রাজধানীর পল্টনে লিফলেট বিতরণের পর আজ শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাহেব সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যে চ্যালেঞ্জ আমাদের দিয়েছেন, তার জবাবে বলতে চাই- নির্বাচন পরের কথা, আগে ঢাকা বিভক্তি নিয়ে গণভোট দিন। গণভোটেই প্রমাণ হবে জনমত কোন দিকে আছে। লিফলেট বিতরণের সময় অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল কবীর রিজভী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুল হক নান্নু, রফিক শিকদার, সাবেক সাংসদ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী পস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সংসদে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন সংশোধন বিল পাস হয়। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সই করার পর বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে। এর প্রতিবাদে কাল রোববার রাজধানীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি।

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ