সোমবার, ৭ মে, ২০১২

গুঁড়িয়ে দেয়া হলো ওয়ান্ডারল্যান্ড

বুলডোজারের আঘাতে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো গুলশানের ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক। অভিজাত এলাকা গুলশানে শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মিত একমাত্র অ্যামিউজমেন্ট পার্কটি রাজউকের বুলডোজারে আঘাতে সোমবার সকালে ধ্বংসলীলায় পরিণত হয়। বিনা নোটিশে এবং কোন প্রকার আলাপ-আলোচনা ছাড়াই ধ্বংস করে দেয়া হলো শিশুদের আনন্দ বিনোদনের এই পার্কটি- এমনটাই দাবি পার্ক কর্তৃপক্ষের। পার্কটির মালিক মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, রাজউক কোন প্রকার লিগ্যাল নোটিশ ছাড়াই এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি দাবি করেন, রাজউক উচ্ছেদের নোটিশ না দেখিয়ে কেবল গায়ের জোরে পার্কটি ভেঙ্গে দিচ্ছে। বিনা নোটিশে কেন ভাঙ্গা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে রাজউক কর্তৃপক্ষ  ওপরের নির্দেশে ভাঙ্গা হচ্ছে বলে আমাকে জানায়। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, পার্কের বিষয়টি ডিসিসি‘র আওতাভুক্ত এবং আমরা পার্কের জায়গাটি লিজ নিয়েছিলাম ডিসিসি’র কাছ থেকে কিন্তু ডিসিসি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব। মোস্তাফিজ বলেন, বিনা নোটিশে শিশুদের পার্কটি যেভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিশুদের জন্য নির্মিত পার্কটি ধ্বংস না করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।তিনি বলেন, আমরা রাজউকের কাছে ৯০ দিনের সময় আবেদন করেছিলাম কিন্তু তারা আমাকে একটি দিনও সময় দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন,  হাতে তৈরি একটি কপি আমাকে দেখিয়ে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গত ৬ মাসে রাজউক পার্কের বিষয়ে কোন মামলা করেনি। আমার আইনজীবী রাজউককে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে কিন্তু তারও কোন জবাব তারা দেয়নি। অন্যদিকে উচ্ছেদের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট রোকনউদ্দৌলা জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি বলেন, মানবিক কারণে আমি তাদেরকে দু’দিনের সময় দিয়েছি- যাতে তারা তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে পারে। তবে এই সময় রাজউকের পক্ষ থেকে নয় বলেও তিনি জানান। পার্কটি উচ্ছেদ প্রসঙ্গে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, নোটিশের ব্যাপারে পার্ক কর্তৃপক্ষ যে অভিযোগ করেছে তা একান্তই তাদের নিজস্ব বক্তব্য। আমরা আইন অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।কেবল আইনের দোহাই দিয়ে শিশুদের নির্মল বিনোদনের পার্কটি ভেঙ্গে দেয়া ঠিক হলো কিনা নুরুল ইসলাম এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান।১৯৭২ সালে ডিআইটি গুলশান পৌরসভাকে এই জায়গাটি হস্তান্তর করে। নব্বই’র দশকে ডিসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড কর্তৃপক্ষকে জায়গাটি লিজ দেয়। কিন্তু লিজ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থাকায় পুনরায় লিজ নবায়ন করা হয়নি। ২০০৯ সালে রাজউক পার্কটি সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশ দেয়। নোটিশের বিরুদ্ধে ওয়ান্ডারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আদালত রাজউককে বর্তমান  পার্কটির সমপরিমাণ জায়গা ওয়ান্ডারল্যান্ড কর্তৃপক্ষকে প্রদানের আদেশ দেয়। কিন্তু রাজউক ঐ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যায়। এভাবে আদেশ পাল্টা আদেশের পর অবশেষে গত মাসের ১৮ তারিখ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হয়। আপিল বিভাগের রায় রাজউকের পক্ষে যায়।গত বুধবার রাজউক আদালতের রায়ের কপি হাতে পায়। অতপর সোমবার সকাল ১১টায় ম্যাজিস্ট্রেট রোকনউদ্দৌলা’র নেতৃত্বে সকাল উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়। চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এদিকে শিশুদের জন্য নির্মিত অ্যামিউজমেন্ট পার্কটিকে আইনের দোহাই দিয়ে ভেঙ্গে ফেলায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পার্কটি ভেঙ্গে দিয়ে শিশুদেরকে অবহেলা করেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ