শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১২

সাকিব জিতালেন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে

বল ও ব্যাট হাতে সাকিব আল হাসানের নৈপুণ্যে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৫ উইকেটে হারিয়েছে রাজস্থান রয়্যালসকে। সাকিব বোলিংয়ে ৪ ওভারে ১৭ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ১০ বলে করেছেন ১৬ রান। ১৭ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার সুবাদে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সেরা বোলার সাকিব।কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে রাজস্থান রয়্যালস। তারা ৫ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৩১ রান। জবাবে ১৩২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে জয়ের বন্দরে চলে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। সাকিব ছাড়াও গৌতম গম্ভীর (১১), জ্যাক ক্যালিস (৩১), বিসলা (২৯), তিওয়ারীও (২৪) রান করে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর আগে অজিঙ্কয়া রাহানে ও অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়ের উদ্বোধনী জুটি ৪৫ রান করলেও রাজস্থান রয়্যালস বড় স্কোর করতে পারেনি। ৭ম ওভারের প্রথম বলে রাহানেকে (১৯) আউট করে রাজস্থান রয়্যালসের প্রথম উইকেটের পতন ঘটান সাকিব আল হাসান।
এর পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে দ্রাবিড়কেও (২৮) সাজঘরে পাঠান সাকিব। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি করে রাজস্থান রয়্যালস। ১৭ তম ওভারে গোস্বামীকে সাজঘরে পাঠিয়ে সাকিব তুলে নেন নিজের তৃতীয় উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রাজস্থান রেয়্যালস-১৩১/৫ (২০/২০)
কলকাতা নাইট রাইডার্স- ১৩৭/৫(১৯.২/২০)

রবিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১২

মুখের ব্রন সমস্যা ও সমাধান

ব্রন যৌবনের অবাঞ্ছিত এক সমস্যা। সুন্দর মুখশ্রীর ওপর জাপটে বসে থাকে এক দৃষ্টিকটু যন্ত্রনা। ১৩ বছর থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত প্রায় ৯০%এর এ রোগটি কমবেশি হয়ে থাকে। ২০ বছর বয়সের পর নিজে থেকেই ভাল হয়ে যায়। ব্রনের মূলে যে জিনিস তার নাম কমেডো (চাপ দিলে তাতে ভাতের দানার মতো বের হয়), তবে কখনও কখনও শুধু দানা আকারে,পুজ সহকারে গহ্বরযুক্ত দানা বা বড় গোঁটার আকারে দেখা দিতে পারে। সাধারনত মুখমন্ডলেই (গাল,নাক,কপাল,থুতনি) বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা দেয়। তা ছাড়া ঘাড়, শরীরের উপরের অংশে, হাতের উপরের অংশে ইত্যাদি স্থানেও ব্রন হয়ে থাকে।কারনঃ প্রোপাইনি ব্যাকটিরিয়াম একনিস নামক এক ধরনের জীবানু স্বাভাবিকভাবেই লোমের গোড়ায় থাকে। এন্ড্রোজেন হরমোনের প্রভাবে সেবাম-এর নিঃসরণ (মাথা,মুখ ইত্যাদি জায়গায় তেলতেলে ভাব) বেড়ে যায় এবং লোমের গোড়াতে উপস্থিত জীবানু সেবাম থেকে মুক্ত ফ্যাটি এসিড তৈরি করে। এসিডের কারণে লোমের গোড়ায় প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং লোমের গোড়ায় কেরাটিন জমা হতে থাকে। বয়োঃসন্ধিকালে তরুন-তরুণীদের স্বাভাবিকভাবেই এন্ড্রোজেন হরমোন নিঃসরন বেড়ে যায় বিধায় এই বয়সে বেশী ব্রন দেখা যায়। প্রজেস্টেরন হরমোনও সিবাম নিঃসরন বাড়িয়ে দেয়। কোন কারনে সিবাসিয়াস গ্রন্থিতে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলেও ব্রন হয়।
প্রকারভেদঃ
১. ট্রপিকাল একনি-অতিরিক্ত গরম এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হলে পিঠে, উরুতে ব্রন হয়ে থাকে।
২. প্রিমিন্সট্রুয়াল একনি- কোনো কোনো মেয়েদের মাসিকের সপ্তাহখানেক আগে ৫-১০ টির মতো ব্রন মুখে দেখা দেয়।
৩. একনি কসমেটিকা- কোনো কোনো প্রসাধনি অনেকদিন ব্যবহারে মুখে অল্প পরিমানে ব্রন হয়ে থাকে।
৪. একনি ডিটারজিকেনস- মুখ অতিরিক্তভাবে সাবান দিয়ে ধুলেও (দৈনিক ১-২ বারের বেশি) ব্রনের পরিমান বেড়ে যায়।
৫. স্টেরয়েড একনি- স্টেরয়েড ওষুধ সেবনে হঠাৎ করে ব্রন দেখা দেয়।
৬. মুখে স্টেরয়েড ক্রিম, যেমন – ডেক্সামিথাসন,বিটামিথাসন প্রেডনিসোলন জাতীয় ক্রিম একাধারে অনেকদিন ব্যবহারে ব্রনের পরিমান বেড়ে যায়।
পরামর্শঃ
ফেসিয়াল, স্টিমবাথ এবং মুখের বাষ্পভাব দিলে সুফল পেতে পারেন। মিষ্টি ও গরম মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। অতিরিক্ত রাত্রিজাগরন করবেন না। প্রচুর পানি পান করুন, শাক-সবজি, টাটকা মৌসুমি ফল খান। বাজারে হাজারও ক্রিম/লোশন বাজারে আছে, টিভি অন করলেই মাথা খারাপ হবার অবস্থা। এই হারবাল ক্রিম, ওমুক ভাইয়ের এরোমা। সবাই বলে ব্রন থেকে চির মুক্তি পেতে তাদের পন্যই সেরা। আসল কথা হল ওই পন্য গুলো ক্ষতি ছাড়া, ব্রন ভাল করার কোনো ক্ষমতা রাখেনা। ব্রন থেকে বাঁচতে চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিন।
চিকিৎসাঃ
ক্যাপসুলঃ টেট্রাসাইক্লিন-২৫০সম প্রতি ৬ ঘন্টা পর পর ২১ দিন খেতে হবে। (এই ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা) সাথে ক্রিমঃ ‘রেটিন-এ’ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা যায়।
তবে সবচেয়ে নিরাপদ চিকিৎসা হল (নিজের চিকিৎসা নিজে করতে চাইলে)
সিরাপঃ মুছাফফী (প্রস্ততকারকঃ ফেনী দাওয়াখানা) অথবা
সিরাপঃ ছাফী (প্রস্ততকারকঃ হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ,www.hamdard.com.bd) অথবা
সিরাপঃ স্কিনোজেন (প্রস্ততকারকঃ নেপচুন ল্যাবরেটরীজ)
২/৩ চা চামচ করে রাতে খাবার পর সেব্য ২/৩ মাস।
এই ওষুধ ‘ইউনানী ট্রেডিশনাল (Unani Traditional) মেডিসিন’ তাই নিরাপদে ব্যবহার করা যায়। এলোপ্যাথিক ওষুধের মত এত পার্শ- প্রতিক্রিয়া নাই।

স্মার্টফোন তৈরিতে কম খরচে প্রসেসর

কম দামে স্মার্টফোন তৈরি করতে নতুন প্রযুক্তির প্রসেসর তৈরি করছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এআরএম। হাইব্রিড এই প্রসেসরচালিত স্মার্টফোনে বিদ্যুৎ খরচও কম হবে। শিগগিরই কোরটেক্স এ৭ প্রসেসরচালিত স্মার্টফোন বাজারে আসবে বলে জানা গেছে। পরীক্ষামূলকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা স্মার্টফোন মটোরোলার ড্রয়েড রেজরে এটি ব্যবহার করা হয়েছে। ৪.৩ ইঞ্চি স্ক্রিন সাইজের এ ফোনটি সুপার অ্যামোলিড ডিসপ্লের ড্রয়েড রেজরে রয়েছে স্টেইনলেস স্টিল কোর, গরিলা গ্লাস স্ক্রিন এবং ন্যানোপ্রযুক্তির স্প্লর্স গার্ড, যা ভেতরের ইলেকট্রিক বোর্ডকে রক্ষা করে। এই সুপার প্রসেসর পেয়ে মটোরোলার ভবিষ্যতের প্রজেক্টটি আরও সমৃদ্ধ হল বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই স্মার্টফোনটি বিশেষ সহায়তা করবে বলে আশাবাদী এআরএম। সারা বিশ্বের স্মার্টফোনের ৯৫ শতাংশের ডিজাইনই এআরএমের করা। ইতোমধ্যে নতুন এ৭ প্রসেসর দিয়ে ফোন তৈরি করতে বিশ্বসেরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উদ্যোগী হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে ইনডিয়া যাওয়ার আহবান জানালেন শফিক রেহমান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খালেদা জিয়াকে পাকিস্তান চলে যাওয়ার জবাবে বিশিষ্ট সাংবাদিক জি-৯ এর উপদেষ্টা শফিক রেহমান বলেছেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তান যাবেন কেন? তিনিতো আগেই বলেছেন, বাংলাদেশই তার একমাত্র ঠিকানা। বরং প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো তিনি যেন ইনডিয়া অথবা আমেরিকা চলে যান। ওই দুই দেশে দীর্ঘকাল থাকার অভ্যাস তার আছে। শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে তার নিজের সম্পাদিত ও লেখা সাতটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। শফিক রেহমান বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটি করতে ক্ষমতাসীন সরকার আরোপিত বিভিন্ন বাধা পেরোতে হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের কথা ছিল গত ২৭ মার্চ। হোটেল রূপসী সোনার বাংলায় বুকিং দিয়ে এক হাজার অতিথিকে কার্ড দেয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের জন্য জি-৯ এর বুকিং বাতিল করা হয়। পরে হোটেল রূপসী বাংলা বুকিং দেয়া হয়। দিন ও সময় অপরিবর্তিত রেখে আবার কার্ড ছাপায় জি-৯। ২৬ মার্চ রাতে রূপসী বাংলা কর্তৃপক্ষ ফোনে জানতে চায় বইগুলোর বিষয়বস্তু কি? প্রকাশিত বই তাদের কাছে পরদিন সকাল দশটায় জমা দিতে হবে। বইগুলো পরীক্ষা করে তারা জানাবেন ওই হোটেলে প্রকাশনা অনুষ্ঠান করা যাবে কি না। আমি অবাক হয়ে বললাম সকাল দশটায় যদি বলা হয় এই হোটেলে অনুষ্ঠান করা যাবে না। তখন অতিথিদের কিভাবে জানাবো। এ অবস্থায় আমরা অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হই। তিনি বলেন, কিছু অকালকুষ্মাষ্ড, অর্বাচীন ও অভদ্র সরকারি কর্মচারিদের কাছে রূপসী বাংলা হোটেলটি হয়ে গেল কুরূপা, কুশ্রী ও কুচরিত্র। ঠিক ওই কর্মচারীদের পেছনে ক্ষমতাসীন লোকজনের মতোই। তিনি বলেন, আমরা বইগুলো প্রকাশনার তৃতীয় প্রচেষ্টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের শরণাপন্ন হই। প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ সদয় ও সাহসী অনুমতি দেন। জি-৯ তৃতীয়বার কার্ড ছাপে ও বিলি করে।
তিনি বলেন, কেউ কেউ আমাকে সমালোচনা করতে পারেন। আমি একটি বিশেষ দলের বা বিশেষ ব্যক্তির পক্ষে লিখেছি। অর্থাৎ আমি পক্ষপাতিত্ব করছি। অন্যভাবে তারা বলতে পারেন আমি নিরপেক্ষ নই। এই সমালোচনার উত্তরে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার একটি বাণী আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই। তিনি বলেছিলেন, পাগল ও শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। তার সেই কথা আমি একটু সম্প্রসারিত করে আজ বলতে চাই, পাগল, শিশু ও সুবিধাবাদী ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। আমি সমালোচিত হতে পারি জেনেও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য বিবেকের তাড়নায় এই বইগুলো লিখেছি। আমি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নিরপেক্ষ ছিলাম না। মুক্তির অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি স্বৈরাশাসক এরশাদের সময়ে নিরপেক্ষ ছিলাম না। আমি গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম। জার্মান কবি দান্তে বলেছিলেন, খুব বড় নৈতিক সংকটের সময়ে যারা তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন তাদের জন্য নরকের সবচেয়ে বেশি গরম জায়গা রিজার্ভ করা আছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জি-৯ উপদেষ্টা শফিক রেহমান, সদস্য মো. আসাদুজ্জামান, মোহসিন কবীর, জিএম রব্বানী নয়ন, মুজিবুল হক, সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ, ফয়সাল আলীম, হাবিবুর রহমান, আজমল হোসেন বাচ্চু, এমজে আবেদিন, রেজাউর রহমান, সাইদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খান, মাহমুদা হাবিবা, হায়দার আহমেদ খান, আনোয়ারা শিখা, আহাদ আহমেদ, ইব্রাহিম হোসেন, মুনজির ওবাযেদ সুজন, এম সারোয়ার হোসেন, আফরিন মৌসুমী, পারভেজ আহমেদ, সৈয়দ ওমর ফারুক, মো. মাহমুদুল হক প্রমুখ।অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান পটল, মীর মো. নাসির উদ্দিন, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, মো. শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাবির সাবেক ভিসি মনিরুজ্জামান মিয়া, তালুকদার মনিরুজ্জামান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।আরো ছিলেন-প্রেসক্লাব সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, রাশিয়ান এম্বেসীর কাউন্সিলর ভিয়াসেসলাভ এ আরমোলায়েভ, জাপান এম্বাসীর কাউন্সিলর কাজুমাসা সিবুতা, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান প্রমুখ।প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৭ মার্চ রাজধানীর ‘রূপসী বাংলা হোটেল’-এর উইন্টার গার্ডেনে খালেদা জিয়ার হাতে শফিক রেহমানের প্রথমোক্ত পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাত্র ১৮ ঘণ্টা আগে হোটেল কর্তৃপক্ষ সরকারি এক গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দিতে অপারগতা জানায়।ওই দিনই জাতীয় প্রেসক্লাবে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন শফিক রেহমান। পরে প্রকাশনা উৎসবের নতুন তারিখ ঠিক করা হয় ৮ এপ্রিল। এদিকে বাড়তি দশ দিন সময় পাওয়ায় ‘নেড়ী কুকুরের কাণ্ড’ ও ‘নেড়ী কুকুরের কীর্তি’ নামে আরো দু’টি বই রেডি করে ফেলেন শফিক রেহমান। প্রকাশনা উৎসবে এসে দেখা যায়, ‘বিদ্ধস্ত দেশ, বিপন্ন মানুষ‘ নামে আরো একটি পুরনো বই রাখা আছে নুতন বইয়ের তালিকায়। এছাড়া প্রথমোক্ত চারটি বই মুলত বাংলা ও ইংরেজী ভার্সনেরই দু’টি গ্রন্থ।

সমুদ্রসীমা জয়: সরকারকে দেওয়া ধন্যবাদ প্রত্যাহার বিএনপির

সমুদ্রসীমা জয়ের ঘটনায় সরকারকে দেওয়া ধন্যবাদ প্রত্যাহার করে নিলো বিএনপি। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা বিরোধের রায় ভালো করে না জেনে সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে ভুল করেছেন বলে দু:খ প্রকাশ করলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার সকালে ‘মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত রায়ে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি’ শীর্ষক দৈনিক আমার দেশ আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকে দেওয়া বক্তৃতায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা সবকিছুকে রাজনীতির দৃষ্টিতে দেখতে চাই না বলেই ধন্যবাদ দিয়েছিলাম। দলের চেয়ারপারসন একই কারণে জাতীয় সংসদে সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে আরো অংশ নেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমদ, কলামিস্ট ফরহাদ মজহার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, বর্ষীয়ান সাংবাদিক আতাউস সামাদ, সাবেক সচিব আ ন হ আখতার হোসেন, অধিকারের প্রধান নির্বাহী আদিলুর রহমান খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাপ্টেন মো. রেজাউল করিম চৌধুরী (মাস্টার মেরিনার)। মির্জা ফখরুল বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে রায়ের পর আমরা বুঝেছিলাম ঘটনা সত্য। আমরা সবকিছুকেই রাজনীতিকরণ করতে চাই না। ভালোকে ভালো বলতে চাই। কিন্তু পরে জানতে পারলাম পুরো বিষয়টিই একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। আমাদের নেত্রীও একই কারণে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, গত তিন বছরে এই সরকার এতটাই প্রতারণা করেছে যে, এখন তাদের কোনো কথাই আর বিশ্বাস হয় না। সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, দ্রব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা, সীমান্ত হত্যা, টিপাইমুখ বাঁধের মতো সমস্যাগুলো সমাধান না করতে পেরে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে চায়। সেজন্য সমুদ্র বিজয়ের ধুয়ো তুলেছে। সমুদ্র আইনের ব্যাপারে আমার ধারণা কম’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়ে আমি বেশি কিছু জানি না। তবে এতটুকু বুঝি এটা আমার অধিকার। এটা এমন না যে কেউ আমাকে এমনিতেই উজাড় করে অনেক কিছু দিয়ে দেবে। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপোস নেই। জনগণ এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেবে না। তারা শক্তি প্রয়োগ করে তাদের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখবে।

শনিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১২

বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা তিন দিন

ঢাকা: আবহাওয়ার পূর্বাভাষে বলা হয়েছে শুক্র, শনি ও রোববার এ তিন দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। অ্যাকুওয়েদারডটকম সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ২০ দশমিক ৮৩ থেকে ২২ দশমিক ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার প্রতিঘণ্টায় দক্ষিণ দিক থেকে ১৩ মাইল বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, সেই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৭১ শতাংশ। শনিবার বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে ২১ দশমিক ৩৪ মিলিমিটার। ঘণ্টায় ১০ মাইল বেগে দক্ষিণ দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং বাতাসের আর্দ্রতা থাকতে পারে ৭৩ শতাংশ। রোববার ৫ দশমিক ০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে ঘণ্টায় ১২ মাইল বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ থাকবে ৭৮ শতাংশ। এ সময় সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।এদিকে ৯ থেকে ১৪ এপ্রিল আবহাওয়ার পূর্বাভাষে বলা হয়েছে, এ সময় দেশে প্রচণ্ড বজ্রবৃষ্টি ও কালবৈশ‍াখী ঝড় হতে পারে। ১৪ এপ্রিল থেকেই শুরু হচ্ছে বাংলা নতুন বছর।এ ছাড়া ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন ২৭ দশমিক ৪৩ থেকে ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাষে বলা হয়েছে। এ সময় খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
ঢাকায় শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৫ দশমিক ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দৈনন্দিন কাজে সুন্নাতের চর্চা

আমাদের দৈনন্দিন কাজে ছোট কোনো সুন্নাতের চর্চা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আমরা অশেষ সওয়াব পেতে পারি। সে লক্ষ্যে-
১. খাওয়া ও অন্যান্য কাজ ডান হাতে বা ডানদিক থেকে শুরু করার ব্যাপারে হাদিস:

নবীপত্নী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত- মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সা.) ওজু করতে, জুতা পরতে ও চুল আচড়াতে হলে যতোদূর সম্ভব ডানদিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন।আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে, মহানবী (সা.) সব কাজই ডানদিক থেকে শুরু করতেন।নবীজীর সৎছেলে ওমর ইবনে আবু সালমাহ (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুল (সা.) আবু সালমাহকে সঙ্গে নিয়ে খাবার খেতেন। নবীজী তাকে (আবু সালমাহ) ডান হাতে বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু করতে বলেছেন। -(সহিহ বুখারী)

২. ভালো ও মন্দ কাজের প্রচলনকারী সম্পর্কে হাদিস:

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত- মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি মানুষের মধ্যে ভালো কিছুর প্রচলন করলে, পরবর্তীকালে যারা ওই ভালো কাজটি আমল (চর্চা) করবে তাদের সবার মতো প্রচলনকারীও একটি করে নেকি (সওয়াব) পাবেন। কিন্তু এতে পরবর্তী আমলকারীদের নেকির কোনো কমতি হবে না। একইভাবে কেউ যদি ইসলামে মন্দ কিছুর প্রচলন করে, আর তারপর যদি মানুষ ওই মন্দ কাজের ওপর আমল করে তাহলে পরবর্তী আমলকারী প্রত্যেকের মতো প্রচলনকারীও গুনাহের ভাগিদার হবে। তবে এতে পরবর্তী আমলকারীদের গুনাহের কোনো কমতি হবে না। - (সহিহ মুসলিম)
ঢাকা: কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমের পর বৃহস্পতিবার রাতে এবং  শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সারাদেশে বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ঝড়ে পড়া ঘরবাড়ি ও গাছপালা চাপা পড়ে আহত হয়েছে শতাধিক।ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতে পঞ্চগড়ে ৪ জন, নরসিংদীতে ১ জন, কুমিল্লায় ১ জন, রংপুরের পীরগঞ্জে ২ জন, নোয়াখালীতে ৩ জন, জামালপুরে ১ জন এবং নীলফামারীতে ১ জন মারা গেছেন।পঞ্চগড় থেকে জেলা প্রতিনিধি জানান, শিলাবৃষ্টি আর ঝড়ে ঘরচাপা পড়ে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পঞ্চগড়ে নারী-শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক।এছাড়া ঝড়-বৃষ্টিতে ঘরবাড়িসহ ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।স্থানীয়রা সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে আকাশ কালো প্রচণ্ড ঝড় ওঠে। এর পরপরই শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। এতে জেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে পড়ে, ছিঁড়ে যায় বিদ্যুতের তার।এ সময় জেলার বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের কুচিয়ারমোড় গ্রামের হযরত আলীর স্ত্রী মরিয়ম (৭০), সরকারপাড়া গ্রামের হাফিজুল ইসলামের পুত্র মিজানুর (৮) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং একই উপজেলার বোদা ইউনিয়নের মাঝগ্রাম এলাকার সোলায়মানের স্ত্রী গোলাপ (২৮) ও তার ৪ মাসের কন্যা সাদিয়া ঘরচাপা পড়ে মারা যায়।এদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মরিয়ম, মিজানুর ও সাদিয়ার।সাদিয়ার মা গোলাপকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় গোলাপ ও কুদ্দুসকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং মোজাম্মেলকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলার রহমান দু’জনের মৃত্যুর সত্যতা স্বীকার করেন।জেলা প্রশাসক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ঝড়ে ঘরচাপা ও বিদ্যুৎস্পৃস্ট হয়ে হতাহত ও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, সরকারি কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করছেন। এদিকে, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা উপড়ে পড়েছে। পাকা গম, ভুট্টা, আম, লিচু, টমেটো, মরিচ ও তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীতে শুক্রবারের বজ্রপাতে এক কন্যাশিশু নিহত এবং আরও ৩ জন আহত হয়েছে।জানা গেছে, নরসিংদীর পলাশে বজ্রপাতে সুইটি (৭) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।  এসময় তার ভাই আরমানসহ আরও ৩ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নিয়নের বালিয়া  ফৌজি চটকল মিল এলাকায় সুইটি তার ভাইসহ ৪ থেকে ৫ জন বাড়ির পাশে পুকুরে গোসল করছিল। এসময় বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সুইটির মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। সুইটি বালিয়া এলাকার নূরু মোহাম্মদের মেয়ে। সে স্থানীয় ফৌজি চটকল মিল স্কুলের ২য় শ্রেণির ছাত্রী। নোয়াখালী জেলা প্র্রতিনিধি জানান, নোয়াখালী সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বজ্রপাতে নার্গিস আক্তার (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ সময় নিহতের ভাই রাকিব হোসেন (১২) গুরুতর আহত হয়। আহত রাকিবকে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।নার্গিস স্থানীয় নোয়ান্নই ইউনিয়নের নোয়ান্নই উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী।নার্গিসের বাবা কামাল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, সকালে রাকিব ও নার্গিস বাড়ির পাশে বোরো ক্ষেতে ধান দেখতে যায়। হঠাৎ বজ্রপাতে নার্গিস আক্তার ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এ সময় রাকিব হোসেন গুরুতর আহত হয়। অপরদিকে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের চরমহিউদ্দিন গ্রামের কাউছার মিয়ার স্ত্রী সিমু আক্তার (৩০) বাড়ির আঙিনায় কাজ করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বজ্রপাতে পারভিন আক্তার (২৬) ও জরিনা বেগম (৪০) নামে ২ গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে তারা মারা যান। নিহত পারভিন আক্তার উপজেলার রেহানীয়া গ্রামের জসীম উদ্দিনের স্ত্রী ও জরিনা বেগম জাহাজমারা ইউনিয়নের ৫নং বিরবিরী গ্রামের কোরবার সরদারের স্ত্রী।হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। কেউ আমাদের জানায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি।’জামালপুর জেলা প্রতিনিধি জানান,  জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরচাপা পড়ে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়েছে। এ সময় গাছপালা ও ঘরচাপায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ৩০ জন।বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত স্থায়ী ঝড়ে হতাহতের পাশাপাশি প্রায় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। বেশকিছু পোল্ট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।নিহত মমিন (১০) শ্রীপুর ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে। সে স্থানীয় কেশবপুর দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।আহতদের নাম জানা যায়নি।ঝড়ে হতাহতের সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মইনুল হক দুদু জানান, ঝড়ে শ্রীপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া, কেশবপুর, ভাগড়া, বিষ্ণপুর, ভালুকা দক্ষিণ পাড়া, উত্তরপাড়া ও পশ্চিমপাড়া এলাকার শতাধিক কাঁচা ঘড়বাড়ি ধসে পড়ে। এ সময় প্রায় ৩ শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঝড়ের পর থেকে ওইসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক জাহাঙ্গীর আলম ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।শ্রীপুর ইউনিয়ন ছাড়াও সদর উপজোর রশিদপুর, ঘোড়াধাপসহ জেলার সব উপজেলার ওপর দিয়ে ঝড়ো বাতাস বয়ে যায়।যশোরের কেশবপুর থেকে সংবাদদাতা জানান, যশোরের কেশবপুর উপজেলায় শুক্রবার সকালে বজ্রপাতে সুরেন শীল (৬০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সুরেনের বাড়ি আড়ুয়া গ্রামে। এলাকাবাসী সূত্র বাংলানিউজকে জানায়, সকালে সুরেন শীল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিল খুকশিয়ায় টিআরএম প্রকল্পে বেড়িবাঁধে মাটি কাটার কাজে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে তিনি একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেন। এ সময় বজ্রপাত হলে সুরেন শীলের সমস্ত শরীর ঝলসে যায়। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কামরুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, বজ্রপাত ঘটার পরেই সুরেন শীলের মৃত্যু হয়েছে।কেশবপুর থানার ওসি মীর রেজাউল হোসেন রেজা বজ্রপাতে সুরেন শীলের মৃত্যুর খবর শোনেননি বলে বাংলানিউজকে জানান।রংপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর ও এর আশপাশের এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। এ সময় বজ্রপাতে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর গ্রামের এক দম্পতি মারা গেছেন।মৃতরা হলেন-বাবু মিয়া (৪০) ও তার স্ত্রী মিনারা বেগম (৩২)।মৃত বাবু মিয়ার ভাতিজা বিলু মিয়া বাংলানিউজকে জানান, রংপুর জেলায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে ঝড় হয়। ঝড়ের সময় পীরগঞ্জের ওই দম্পতি দাউদপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান। ঝড়ের কারণে এ সময় রংপুর শহরসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লায় বজ্রপাতে লিটন (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে জেলার বি-পাড়া উপজেলার জামতলী গ্রামে বজ্রপাত হলে লিটন মারা যান। তিনি বি-পাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের জামতলী গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জেলা বি-পাড়া উপজেলার জামতলী গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই লিটন মারা যান।নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জে বজ্রপাতে আমেনা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরীগঞ্জ উপজেলার রণচণ্ডি ইউনিয়নের বাপলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।আমেনা উপজেলার রণচণ্ডি ইউনিয়নের বাপলা গ্রামের মামুদের স্ত্রী। নিহতের স্বামী মামুদ বাংলানিউজকে জানান, বাইরে থেকে গোয়ালঘরে গরু আনার সময় ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়েন। এসময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। কিশোরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বাঙলানিউজকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বা

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ