প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খালেদা জিয়াকে পাকিস্তান চলে যাওয়ার জবাবে বিশিষ্ট সাংবাদিক জি-৯ এর উপদেষ্টা শফিক রেহমান বলেছেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তান যাবেন কেন? তিনিতো আগেই বলেছেন, বাংলাদেশই তার একমাত্র ঠিকানা। বরং প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো তিনি যেন ইনডিয়া অথবা আমেরিকা চলে যান। ওই দুই দেশে দীর্ঘকাল থাকার অভ্যাস তার আছে। শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে তার নিজের সম্পাদিত ও লেখা সাতটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। শফিক রেহমান বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটি করতে ক্ষমতাসীন সরকার আরোপিত বিভিন্ন বাধা পেরোতে হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের কথা ছিল গত ২৭ মার্চ। হোটেল রূপসী সোনার বাংলায় বুকিং দিয়ে এক হাজার অতিথিকে কার্ড দেয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের জন্য জি-৯ এর বুকিং বাতিল করা হয়। পরে হোটেল রূপসী বাংলা বুকিং দেয়া হয়। দিন ও সময় অপরিবর্তিত রেখে আবার কার্ড ছাপায় জি-৯। ২৬ মার্চ রাতে রূপসী বাংলা কর্তৃপক্ষ ফোনে জানতে চায় বইগুলোর বিষয়বস্তু কি? প্রকাশিত বই তাদের কাছে পরদিন সকাল দশটায় জমা দিতে হবে। বইগুলো পরীক্ষা করে তারা জানাবেন ওই হোটেলে প্রকাশনা অনুষ্ঠান করা যাবে কি না। আমি অবাক হয়ে বললাম সকাল দশটায় যদি বলা হয় এই হোটেলে অনুষ্ঠান করা যাবে না। তখন অতিথিদের কিভাবে জানাবো। এ অবস্থায় আমরা অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হই। তিনি বলেন, কিছু অকালকুষ্মাষ্ড, অর্বাচীন ও অভদ্র সরকারি কর্মচারিদের কাছে রূপসী বাংলা হোটেলটি হয়ে গেল কুরূপা, কুশ্রী ও কুচরিত্র। ঠিক ওই কর্মচারীদের পেছনে ক্ষমতাসীন লোকজনের মতোই। তিনি বলেন, আমরা বইগুলো প্রকাশনার তৃতীয় প্রচেষ্টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের শরণাপন্ন হই। প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ সদয় ও সাহসী অনুমতি দেন। জি-৯ তৃতীয়বার কার্ড ছাপে ও বিলি করে।
তিনি বলেন, কেউ কেউ আমাকে সমালোচনা করতে পারেন। আমি একটি বিশেষ দলের বা বিশেষ ব্যক্তির পক্ষে লিখেছি। অর্থাৎ আমি পক্ষপাতিত্ব করছি। অন্যভাবে তারা বলতে পারেন আমি নিরপেক্ষ নই। এই সমালোচনার উত্তরে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার একটি বাণী আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই। তিনি বলেছিলেন, পাগল ও শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। তার সেই কথা আমি একটু সম্প্রসারিত করে আজ বলতে চাই, পাগল, শিশু ও সুবিধাবাদী ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। আমি সমালোচিত হতে পারি জেনেও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য বিবেকের তাড়নায় এই বইগুলো লিখেছি। আমি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নিরপেক্ষ ছিলাম না। মুক্তির অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি স্বৈরাশাসক এরশাদের সময়ে নিরপেক্ষ ছিলাম না। আমি গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম। জার্মান কবি দান্তে বলেছিলেন, খুব বড় নৈতিক সংকটের সময়ে যারা তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন তাদের জন্য নরকের সবচেয়ে বেশি গরম জায়গা রিজার্ভ করা আছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জি-৯ উপদেষ্টা শফিক রেহমান, সদস্য মো. আসাদুজ্জামান, মোহসিন কবীর, জিএম রব্বানী নয়ন, মুজিবুল হক, সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ, ফয়সাল আলীম, হাবিবুর রহমান, আজমল হোসেন বাচ্চু, এমজে আবেদিন, রেজাউর রহমান, সাইদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খান, মাহমুদা হাবিবা, হায়দার আহমেদ খান, আনোয়ারা শিখা, আহাদ আহমেদ, ইব্রাহিম হোসেন, মুনজির ওবাযেদ সুজন, এম সারোয়ার হোসেন, আফরিন মৌসুমী, পারভেজ আহমেদ, সৈয়দ ওমর ফারুক, মো. মাহমুদুল হক প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান পটল, মীর মো. নাসির উদ্দিন, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, মো. শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাবির সাবেক ভিসি মনিরুজ্জামান মিয়া, তালুকদার মনিরুজ্জামান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।আরো ছিলেন-প্রেসক্লাব সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, রাশিয়ান এম্বেসীর কাউন্সিলর ভিয়াসেসলাভ এ আরমোলায়েভ, জাপান এম্বাসীর কাউন্সিলর কাজুমাসা সিবুতা, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান প্রমুখ।প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৭ মার্চ রাজধানীর ‘রূপসী বাংলা হোটেল’-এর উইন্টার গার্ডেনে খালেদা জিয়ার হাতে শফিক রেহমানের প্রথমোক্ত পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাত্র ১৮ ঘণ্টা আগে হোটেল কর্তৃপক্ষ সরকারি এক গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দিতে অপারগতা জানায়।ওই দিনই জাতীয় প্রেসক্লাবে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন শফিক রেহমান। পরে প্রকাশনা উৎসবের নতুন তারিখ ঠিক করা হয় ৮ এপ্রিল। এদিকে বাড়তি দশ দিন সময় পাওয়ায় ‘নেড়ী কুকুরের কাণ্ড’ ও ‘নেড়ী কুকুরের কীর্তি’ নামে আরো দু’টি বই রেডি করে ফেলেন শফিক রেহমান। প্রকাশনা উৎসবে এসে দেখা যায়, ‘বিদ্ধস্ত দেশ, বিপন্ন মানুষ‘ নামে আরো একটি পুরনো বই রাখা আছে নুতন বইয়ের তালিকায়। এছাড়া প্রথমোক্ত চারটি বই মুলত বাংলা ও ইংরেজী ভার্সনেরই দু’টি গ্রন্থ।