সোমবার, ৭ মে, ২০১২

রেকর্ড সাফল্য পাসের হার ৮৬.৩৭ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেল ৮২,২১২


এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এ বছর পাসের হার ৮৬.৩৭ শতাংশ। এবারের পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮২ হাজার ২১২ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বিগত বছরগুলোর সকল রেকর্ড ভেঙ্গে এবার নতুন রেকর্ড হয়েছে। গতবছর ২০১১ সালে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৩১ শতাংশ। এবার গতবারের তুলনায় পাসের হার ৪ দশমিক ০৬ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১০ সালে এ হার ছিল ৭৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও রেকর্ড
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও হয়েছে রেকর্ড। গতবছরের চেয়ে এবার ৫ হাজার ৪৬৩ জন বেশি শিক্ষার্থী  জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০১১ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭৬ হাজার ৭৪৯ জন। ২০১০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ১৩৪ জন।
প্রধানমন্ত্রীর ‍কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর
সোমবার সকাল ১০টায় গণভবনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
এরপর দুপুরে ৮টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডসহ মোট ১০টি বোর্ডের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এ ফল ঘোষণা করা হয়।বিভিন্ন বোর্ডে এরই মধ্যে ফল পাঠানো হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সিলেট বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে বেশি। এই বোর্ডে পাস করেছে ৯১.৭৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী।  এছাড়া ঢাকা বোর্ড ৮৫.৯৫ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ড ৭৮.৯৬ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৮৮.৩৩ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে  ৮৬.৯৬ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৮৫.৬৪ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৮৭.১৬ শতাংশ ও দিনাজপুর বোর্ডে ৮৭.১৬ পাস করেছে।৮ টি সাধারণ বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি মিলিয়ে মোট ১০ টি বোর্ডের অধীনে সারাদেশে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ১২ হাজার ৩৭৯ জন। এদের মধ্যে পাশ করেছে ১২ লাখ ১৯ হাজার ৮৯৪ জন। সকল বোর্ড মিলিয়ে সারাদেশে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮২ হাজার ২১২ জন।৮ টি সাধারণ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল ১০ লাখ ৪৮ হাজার ১৪৪ জন। যার মধ্যে পাস করেছে ৯ লাখ ৪ হাজার ৭৫৬ জন। সাধারণ এ বোর্ড গুলোতে পাসের হার ৮৬.৩২ শতাংশ। এ বোর্ডগুলোতে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৫ হাজার ২৫২ জন। আটটি বোর্ডে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৮ জন।সব বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ হাজার ৬২৯ জন। আর সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ পেয়েছে সিলেট বোর্ড। এ বোর্ডটিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬১১ জন।মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৫৭২ জন এবং অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩১ হাজার ৪৯৩ জন। পাসের হার ৮৮.৪৭ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৪৩৬ জন। গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ২০৫ জন বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী অংশ নেয় ৯১ হাজার ১৭০ জন। যার মধ্যে পাস করেছে ৭৩ হাজার ৫৬৬ জন। যেখানে পাসের হার ৮০.৬৯ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৫২৪ জন। এখানে অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১৭ হাজার ৬০৪ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৩১৯ জন বেশি।

ওই রাতে আইনজীবীকে বার বার ফোন করেও পাননি ইলিয়াস

নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই রাতে প্রায় একঘণ্টা রাজধানীর হোটেল রূপসীবাংলায় অবস্থান করছিলেন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। সেখানে তার অনুসারী ৫ জন দলীয় কর্মী সঙ্গে ছিলেন।ওই রাতে ইলিয়াস আলী তার আইনজীবীর সঙ্গে বার বার মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। আইনজীবী আহসান হাবিব তার ফোন রিসিভ করেননি।পুলিশের তদন্তে এতথ্য রেরিয়ে এসেছে।  আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায়  ৪৮ ঘণ্টা পরপর তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার অংশ হিসেবে সোমবার দেওয়া অষ্টম প্রতিবেদন থেকে এতথ্য জানা গেছে।সোমবার বনানী থানাপুলিশের পরিদর্শক কাজী মাইনুল ইসলাম আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের সংশ্লিষ্ট নন জিআর শাখার কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ এপ্রিল রাতে নিখোঁজ হওয়ার আগে ইলিয়াস আলী তার ৫ কর্মীসহ প্রায় ১ ঘণ্টা হোটের রূপসী বাংলায় অবস্থান করেন। এসময় কর্মীদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলাপ ছাড়াও ইলিয়াস তার আইনজীবী খন্দকার আহসান হাবিবের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। এসময় ইলিয়াস তার আইনজীবীকে বারবার ফোন করেন। কিন্তু আইনজীবী তার ফোনকল রিসিভ করেননি।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, হোটেলে অবস্থানকালে ইলিয়াসের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় হাউজিং ব্যবসায়ী সজল ও তার পরিবারের লোকদের সঙ্গেও দেখা হয়। এরপর তারা রাত ১২টায় বের হয়ে হোটেলের গেটের কাছে এসে দাঁড়ান। প্রথমে সজল তার পরিবারের লোকদের নিয়ে হোটেল ত্যাগ করেন। এরপর ইলিয়াস তার ড্রাইভারকে  নিয়ে গাড়িযোগে চলে যান। অন্যরা যে যার মতো হোটেল ত্যাগ করেন।উল্লেখ্য, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী তাহ্সীনা রুশদীর লুনা গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ এপ্রিল ঢাকার একটি আদালত ইলিয়াস আলীর বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে ও  তদন্ত’র অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পরপর আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গুঁড়িয়ে দেয়া হলো ওয়ান্ডারল্যান্ড

বুলডোজারের আঘাতে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো গুলশানের ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক। অভিজাত এলাকা গুলশানে শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মিত একমাত্র অ্যামিউজমেন্ট পার্কটি রাজউকের বুলডোজারে আঘাতে সোমবার সকালে ধ্বংসলীলায় পরিণত হয়। বিনা নোটিশে এবং কোন প্রকার আলাপ-আলোচনা ছাড়াই ধ্বংস করে দেয়া হলো শিশুদের আনন্দ বিনোদনের এই পার্কটি- এমনটাই দাবি পার্ক কর্তৃপক্ষের। পার্কটির মালিক মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, রাজউক কোন প্রকার লিগ্যাল নোটিশ ছাড়াই এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি দাবি করেন, রাজউক উচ্ছেদের নোটিশ না দেখিয়ে কেবল গায়ের জোরে পার্কটি ভেঙ্গে দিচ্ছে। বিনা নোটিশে কেন ভাঙ্গা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে রাজউক কর্তৃপক্ষ  ওপরের নির্দেশে ভাঙ্গা হচ্ছে বলে আমাকে জানায়। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, পার্কের বিষয়টি ডিসিসি‘র আওতাভুক্ত এবং আমরা পার্কের জায়গাটি লিজ নিয়েছিলাম ডিসিসি’র কাছ থেকে কিন্তু ডিসিসি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব। মোস্তাফিজ বলেন, বিনা নোটিশে শিশুদের পার্কটি যেভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিশুদের জন্য নির্মিত পার্কটি ধ্বংস না করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।তিনি বলেন, আমরা রাজউকের কাছে ৯০ দিনের সময় আবেদন করেছিলাম কিন্তু তারা আমাকে একটি দিনও সময় দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন,  হাতে তৈরি একটি কপি আমাকে দেখিয়ে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গত ৬ মাসে রাজউক পার্কের বিষয়ে কোন মামলা করেনি। আমার আইনজীবী রাজউককে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে কিন্তু তারও কোন জবাব তারা দেয়নি। অন্যদিকে উচ্ছেদের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট রোকনউদ্দৌলা জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি বলেন, মানবিক কারণে আমি তাদেরকে দু’দিনের সময় দিয়েছি- যাতে তারা তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে পারে। তবে এই সময় রাজউকের পক্ষ থেকে নয় বলেও তিনি জানান। পার্কটি উচ্ছেদ প্রসঙ্গে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, নোটিশের ব্যাপারে পার্ক কর্তৃপক্ষ যে অভিযোগ করেছে তা একান্তই তাদের নিজস্ব বক্তব্য। আমরা আইন অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।কেবল আইনের দোহাই দিয়ে শিশুদের নির্মল বিনোদনের পার্কটি ভেঙ্গে দেয়া ঠিক হলো কিনা নুরুল ইসলাম এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান।১৯৭২ সালে ডিআইটি গুলশান পৌরসভাকে এই জায়গাটি হস্তান্তর করে। নব্বই’র দশকে ডিসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড কর্তৃপক্ষকে জায়গাটি লিজ দেয়। কিন্তু লিজ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থাকায় পুনরায় লিজ নবায়ন করা হয়নি। ২০০৯ সালে রাজউক পার্কটি সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশ দেয়। নোটিশের বিরুদ্ধে ওয়ান্ডারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আদালত রাজউককে বর্তমান  পার্কটির সমপরিমাণ জায়গা ওয়ান্ডারল্যান্ড কর্তৃপক্ষকে প্রদানের আদেশ দেয়। কিন্তু রাজউক ঐ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যায়। এভাবে আদেশ পাল্টা আদেশের পর অবশেষে গত মাসের ১৮ তারিখ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হয়। আপিল বিভাগের রায় রাজউকের পক্ষে যায়।গত বুধবার রাজউক আদালতের রায়ের কপি হাতে পায়। অতপর সোমবার সকাল ১১টায় ম্যাজিস্ট্রেট রোকনউদ্দৌলা’র নেতৃত্বে সকাল উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়। চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এদিকে শিশুদের জন্য নির্মিত অ্যামিউজমেন্ট পার্কটিকে আইনের দোহাই দিয়ে ভেঙ্গে ফেলায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পার্কটি ভেঙ্গে দিয়ে শিশুদেরকে অবহেলা করেছে।

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ