বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০১১

আইরিন দুর্বল হয়েছে তবে এখনো বিপজ্জনকঃ ওবামা

হারিকেন আইরিন দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে রূপ নিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করলেও এটি এখনো বিপজ্জনক বলে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বন্যার ঝুঁকি এখনো রয়েছে। বিদ্যুৎও একটি সমস্যা। এ ঘূর্ণিঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, অবকাঠামোরও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পেনসিলভানিয়া রাজ্যের চারটি স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের কারণে সরতে বাধ্য হওয়া নিউ ইয়র্কের ৩ লাখ মানুষকে পুনরায় ঘরে ফিরতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।আইরিনের কারণে অবকাশ সংক্ষিপ্ত করে ওয়াশিংটনে ফিরেই দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবামা। আইরিন আঘাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে নর্থ ক্যারোলিনায় এবং পেনসিলভানিয়ায়। দুই জায়গাতেই চারজন করে মানুষ মারা যায়। নর্থ ক্যারোলিনায় ঝড়ের বেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার। এছাড়াও ভার্জিনিয়ায় মারা গেছে চার জন। নিউ জার্সিতে একজন এবং কেন্টাকি, ফ্লোরিডা ও ম্যারিল্যান্ডে একজন করে মানুষ মারা গেছে।দেশটির জরুরী মন্ত্রণালয় মুখপাত্র প্যাটি ম্যাক কুলিয়ান জানান, ভার্জিনিয়ার একটি অ্যাপার্টমেন্টের পাশে পড়ে যাওয়া গাছের চাপায় একজন বাচ্চা মারা যায়। প্রচন্ড ঝড়ের দাপটে ভার্জিনিয়ার বেশিরভাগ এলাকার অবস্থাই বিপন্ন। বেশিরভাগ এলাকাতেই পানি জমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র (এনএইচসি) জানিয়েছে, আইরিনের বাতাসের গতি কমে ঘণ্টায় ৫০ মাইল (৮০ কিলোমিটার) বেগে প্রবাহিত হওয়ায় এটি এখন ক্রান্তীয় ঝড়ে রূপ নিয়েছে। এদিকে আইরিন অতিক্রম করার সময় বন্যা হয়েছে ভারমন্ট রাজ্যে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নিউ জার্সিতেও।বৃহস্পতিবার বাহামায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইরিন। ঝড়টি এখন প্রবলবেগে ধেয়ে আসছে আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের দিকে। প্রায় ৬শ মাইল প্রশস্ত ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ১৩ মাইল বেগে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও ঘূর্ণিঝড় আইরিনের কেন্দ্রে বাতাসের বেগ প্রতি ঘণ্টায় ১শ মাইলেরও বেশি।

'বিবিএম' চালু করল রিম

নিজস্ব মিউজিক সেবা 'বিবিএম' চালু করেছে ব্ল্যাকবেরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ ইন মোশন (রিম)। এ সেবা চালুর ফলে ব্ল্যাকবেরি ব্যবহারকারীরা ১০ লাখেরও বেশি মিউজিক ট্র্যাক থেকে তাঁদের ব্যক্তিগত পছন্দের গানের তালিকা তৈরি করতে পারবেন। জানিয়েছেন, রিমের বিবিএম প্ল্যাটফর্ম এবং ইন্টিগ্রেটেড বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এলিস্টার মিচেল। এ ছাড়া ব্ল্যাকবেরি ব্যবহারকারীরা সহজেই তাঁদের বন্ধুদের সঙ্গে পছন্দের মিউজিক বিনিময় করতে পারবেন। এমনকি অফ লাইনেও এই সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন ব্ল্যাকবেরি ব্যবহারকারীরা। এ বিষয়ে রিমের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী মাইক লাজারিডিস বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগের সুবিধাসম্পন্ন মিউজিক সেবা বিবিএম চালু হওয়ায় এরই মধ্যে প্রায় চার কোটি ৫০ লাখ ব্ল্যাকবেরি ব্যবহারকারী পছন্দ করেছেন। আমরা এ সেবার পরিধি আরো বৃদ্ধি করব।'তবে নতুন চালু হওয়া বিবিএম সেবা ব্যবহার করতে হলে একজন ব্যক্তিকে প্রতি মাসে গুনতে হবে ৪.৯৯ মার্কিন ডলার।' প্রাথমিকভাবে কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে এ সেবা চালু করা হলেও রিম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বের আরো ১৮টি দেশে চালু হবে বিবিএম মিউজিক সেবা।

ম্যাচ আর মেসি নিশ্চিত

বঙ্গবন্ধু ও ফতুল্লা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সহকারী কোচ জুলিয়ান কামিনো দুটি নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। এক. ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া ম্যাচ হবে এবং ২. সে ম্যাচে খেলবেন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। এরপর আট দিন কেটে গেলেও এ দুটি বিষয়ের নিশ্চয়তা ছাড়া অন্য সবই ঝুলে আছে। সময় দ্রুত এগিয়ে আসার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের টেনশন। ম্যাচ ভেন্যু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে ইয়েস কার্ড দেওয়া হলেও অনুশীলন ভেন্যু ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সিদ্ধান্ত কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার ওপর ছেড়ে দিয়ে ২২ আগস্ট ভোরে ফিরে গেছেন কামিনো। গতকাল পর্যন্ত অনুশীলন ভেন্যুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই পায়নি বাফুফে। ম্যাচের আগে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে একাধিক সেশন অনুশীলন করা হলে মাঠ খেলার অনুপোযোগী হতে পারে_ এমন বাস্তবতার কথা চিন্তা করে বাফুফে কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত ফতুল্লাতেই অনুশীলন হতে পারে মেসিদের; কিন্তু কাগজপত্রে সবকিছু রীতিমতো অন্ধকারে। কেবল অনুশীলন ভেন্যুই নয়, অনেক কিছুই অনিশ্চিত হয়ে আছে। এর মধ্যে বাড়তি দুশ্চিন্তা যোগ হয়েছে মেসিরা কবে ঢাকায় আসছেন তার নির্ধারিত দিনক্ষণ নিয়ে। কলকাতার মিডিয়া খবর ছড়াচ্ছে, মেসিরা দু'দিন বেশি অবস্থান করে সেখানেই অনুশীলন সেরে নিতে পারেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে এমন মনোভাব প্রকাশ করে নাকি কলকাতার আয়োজকদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তাহলে বিলম্ব হবে তাদের ঢাকা আগমন। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন অবশ্য এমন খবরকে গুরুত্বই দিতে চাচ্ছেন না। 'আমাদের সঙ্গে চুক্তিই আছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ৩ সেপ্টেম্বর আসবে, পরের দু'দিন অনুশীলন করবে এবং ৬ সেপ্টেম্বর ম্যাচ খেলে ৭ সেপ্টেম্বর চলে যাবে। তাদের নির্ধারিত সময়ের পরে আসাটা তো আমরা মেনে নেব না'_ চুক্তির লাইন ধরে কথা বললেও বাফুফে সভাপতি চিন্তিত মেসিদের চূড়ান্ত সফরসূচি না পাঠানোয়। তিনি জোর দিয়ে শুধু একটি নিশ্চয়তাই দিলেন, তা হলো ম্যাচ আর মেসির। 'আমরা চুক্তির কোনো কিছু যদি ভঙ্গ করি, তাহলে আমাদের অতিরিক্ত এক মিলিয়ন ডলার দিতে হবে। মেসির ক্ষেত্রেও তেমন চুক্তি আছে। মেসি না এলে সিএমজি আমাদের ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে বাধ্য'_ বলেছেন বাফুফে সভাপতি।আর্জেন্টিনা ঢাকায় আসার মেসিদের বিচরণ কি শুধুই হোটেল আর মাঠে সীমাবদ্ধ থাকবে? নাকি তাদের কোনো ঐতিহাসিক স্থান দর্শনের ব্যবস্থাসহ আরও কর্মসূচি থাকবে? 'চাইলেই তাদের যেখানে খুশি নেওয়া যাবে না। তবে আমাদের ইচ্ছে আছে অন্তত সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে নিয়ে যাওয়া। সফরসূচি না পাওয়ায় কোনো কিছুরই নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। আমি এ বিষয়গুলো নিয়ে এখন চিন্তিত' জবাব বাফুফে সভাপতির। ভারতভিত্তিক এজেন্ট প্রতিষ্ঠান সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ (সিএমজি) ছাড়া আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিশনের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছে না বাফুফে। দু'একটি বিষয়ে সরাসরি আর্জেন্টিনায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল বাফুফে। সেখান থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সিএমজির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে।অনুশীলন ভেন্যু চূড়ান্ত না হওয়ায় বাফুফে বড় সমস্যায় পড়েছে টিকিট বিক্রি নিয়ে। একটি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি টাকায় অনুশীলনের টিকিট বিক্রির স্বত্ব কিনেছে। এখন তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। না করেনি, তবে ডিনার স্বত্বের মতো এটাও হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে বাফুফের। ৪ সেপ্টেম্বর অফিসিয়াল ডিনার হবে এবং তা বাফুফের নিজস্ব আয়োজনে। সব কিছুর নিশ্চয়তা দিতে সিএমজির এ গড়িমসি বাফুফের লোকসানের খাতাটা বড় করছে।দুই দলের খেলোয়াড়দের উপহার দেওয়া প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি বলেছেন, 'নিজের অভিজ্ঞতায় বলছি, অনেক উপহারই খেলোয়াড়রা হোটেলে ফেলে যান। তাই আমরা এমন কিছু দিতে চাই যা তারা নিয়ে যাবেন এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও কৃষ্টি দুটি দেশে পৌঁছায়। রুপার তৈরি নৌকা, নকশিকাঁথা, কার্পেটসহ হালকা দর্শনীয় কিছু উপহার তৈরি করা হচ্ছে মেসিদের জন্য।

ঈদ উৎসব ও শিক্ষা

আমাদের ভাষায় ঈদ মানে আনন্দ হলেও শাব্দিক ও সার্বিক বিবেচনায় ঈদ অর্থ শুধুই আনন্দ বা আনন্দ-উচ্ছ্বাস নয়, খুশির বন্যা, ভোগাসক্তি বা অনিয়ন্ত্রিত উচ্ছলতাও নয়, বরং ঈদও একটি ইবাদত। ঈদুল আজহা যেমন হজ ও কোরবানির ঈদ, তেমনি ঈদুল ফিতর রোজা রাখা ও ফিতরা দানের ঈদ। উভয়টাই পৃথক এক একটা ইবাদত। তবে এই ইবাদতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আনন্দ।মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় পুরস্কারের আশা অন্তরে পোষণ করাই হলো রোজা রাখার আনন্দ। আল্লাহর রহমত, গুনাহের ক্ষমা, দোজখ থেকে মুক্তি, শবেকদরে হাজার বছরের পুণ্য ও তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্যলাভ—এ সবই রোজাদারের পুরস্কার। রোজাদার রোজা শেষে প্রত্যক্ষভাবে পুরস্কারগুলো না পেলেও তিনি বুঝতে পারেন, এগুলো তিনি পাবেন। তবে রোজা কবুল হওয়া-না হওয়া নিয়ে একটা সংশয় অবশ্যই থাকে। একবার হজরত আবু বকর (রা.) ঈদের দিন সকালে ঘরের দরজা বন্ধ করে কাঁদছিলেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার রোজা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে কিনা আমি তো নিশ্চিত নই, তাহলে খুশি হব কিসের ভিত্তিতে? পক্ষান্তরে গরিব-দুঃখীর মুখে হাসি ফোটাতে, তাদের ভালো খাওয়াতে ও পরাতে, তাদের সন্তানদের মুখে মিষ্টান্ন, ঈদের দিনে দু’মুঠো খাবার আর গায়ে নতুন জামা তুলে দিতে ধনীদের ফিতরাদান হলো রোজার আরেকটি আনন্দ।আর ঈদের সূচনা হয় এভাবে—বায়হাকি শরিফের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় উপস্থিত হলেন তখন তিনি তাদের দুটি উত্সব পালন করতে দেখেন। আর এ উপলক্ষে তারা বিভিন্ন আনন্দ-অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা যে এ দুটি জাতীয় উত্সব পালন কর, এর মৌলিকত্ব ও বিশেষত্ব কী? তারা বলল, আমরা অন্ধকার যুগে এ দুটি উত্সব পালন করতাম এবং তা আজও করছি। একথা শুনে রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহপাক তোমাদের এ দুটি উত্সবের পরিবর্তে এর চেয়ে অধিক উত্তম দুটি দিন ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর দান করেছেন। সুতরাং আগের উত্সব বন্ধ করে এ দুটি দিনের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানগুলো পালন করা শুরু কর।’ নিছক আনন্দ-উত্সব ও খেল-তামাশা এবং বাহারী দামি পোশাক-পরিচ্ছদের প্রদর্শনীর নাম ঈদ নয়। এতে ইসলামি তাহজিব-তামাদ্দুনের পরিবর্তে অনৈসলামিক কার্যকলাপের প্রসার ঘটে, যা পবিত্র ইসলামে কল্পনাও করা যায় না। ইসলামের আনন্দ-উত্সব হবে আল্লাহর নির্দেশ, নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী। এর বাইরে কোনো কিছুকে ইসলামের আওতাভুক্ত করা যায় না। এজন্যই রাসুলুল্লাহ (সা.) জাহেলি যুগের বাহারী খেল-তামাশার আনন্দ-উত্সবকে বাতিল ঘোষণা করেছেন, আল্লাহর দেয়া বিধানকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন।আমরা ঈদ উত্সবকে পরিণত করেছি বিলাসের উত্সবে। এদিনে কে কত দামি পোশাক পরে, কে কত পোলাও, কোর্মা, রোস্ট, রেজালা, বিরিয়ানি, জর্দা ও ফিরনি ইত্যাদি অধিক পরিমাণে রান্না করতে পারে—এসবের প্রতিযোগিতা চলে। কিন্তু ইসলামের আদর্শ কি এটা? মুসলমানদের ঈদের আনন্দ হলো, স্বার্থ ত্যাগের মাধ্যমে অভাবী, নিরন্নকে সাহায্য করার প্রাপ্ত আনন্দ। পরিতাপের বিষয়, আমাদের ঈদ-উত্সব এখন বিকৃত রূপ ধারণ করেছে। ত্যাগের উত্সব পরিণত হয়েছে ভোগের উত্সবে।ঈদের দিনগুলোতে আমরা সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে পারি। তারা দিনে নিজের ভালো, পরিচ্ছন্ন জামা-কাপড় পরিধান করতেন। অনেক বেশি দান করতেন। এমনকি সাধ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিতেন। দীর্ঘ সময় মসজিদে কাটাতেন। অন্যান্য ইবাদতও বেশি করতেন। তাতেই অনেক বেশি আনন্দিত হতেন। পক্ষান্তরে আমাদের ঈদ-উত্সবে ত্যাগটা গৌণ, আর ভোগ ও ভোজনটাই মুখ্য। আমরা নাচ, গান, আড্ডা ও টেলিভিশন দেখে সময় নষ্ট করে দেই। মসজিদেও বেশিক্ষণ থাকতে চাই না। দামি ও বাহারী পোশাকের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হই এই দিনে। আবার কেউ কেউ ফিতরা দিতেও ইতস্তত বোধ করি। অথচ হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ফিতরা, জাকাত রোজাদারকে বেহুদা, অবাঞ্ছনীয় ও নির্লজ্জতামূলক কথাবার্তা বা কাজকর্মের মলিনতা থেকে পবিত্র করার এবং গরিব-মিসকিনদের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে অবশ্যই আদায়যোগ্য। যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগেই তা আদায় করবে তা ওয়াজিব ফিতরা হিসেবে আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পর তা আদায় করবে, তা সাধারণ দানরূপে গণ্য হবে। (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)প্রিয়নবী (সা.) ঈদের দিন সকালে পরিবার-পরিজন ও পাড়া-পড়শিদের সচেতন করে তুলতেন তাদের করণীয় কর্তব্য সম্পর্কে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) প্রত্যেক ঈদেই তার মেয়ে ও স্ত্রীদেরকে ফিতরা, দান-সাদকা আদায়ের নির্দেশ দিতেন। (মুসনাদে আহমদ) সদকায়ে ফিতর আদায়ের ফলে একজন দীন-দরিদ্র লোকও ঈদের আনন্দে সামান্য হলেও শরিক হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে আজ যেভাবে ঈদ উত্সব পালন করা হয় তা কি প্রকৃত ঈদের আনন্দের আবেদনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? এর উত্তর খুঁজলে নেতিবাচক জবাবই বেরিয়ে আসবে।
রোজার সংযম, আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ এবং ঈদের উদ্দেশ্য ও স্বরূপ থেকে আমরা আজ বহুদূরে অবস্থান নিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে ঈদের আনন্দ-উত্সব হচ্ছে, ইসলামী জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির পরিপূর্ণ অভিব্যক্তি এবং সর্বজনীন আবেদনময়, যা উত্কট পঙ্কিলতার সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহপাক খুশি হন তখন, যখন তার দেয়া নেয়ামতের শোকর আদায়ের গুণ বান্দার মাঝে প্রকাশ পায়। ঈদের পুণ্যময় আনন্দের মাঝে নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশনার বাস্তবায়ন যত বেশি হবে ততই ঈদ-উত্সব সফল ও সার্থক হবে।

প্রধান প্রধান ঈদ জামাত

রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের বিশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মাওলানা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জাতীয় ঈদগাহে ইমামতি করবেন।বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি জামাতঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল সাতটায়, এরপর আটটায়, নয়টায়, ১০টায় এবং বেলা ১১টায় সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠ ও মসজিদে এক বা একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বনানীর পাক দরবার শরিফ, মসজিদে গাউছুল আজম বড়পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) কমপ্লেক্স, আরামবাগের দেওয়ানবাগ শরিফসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদের একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।সাতটা ৩০ মিনিটঃ পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার মিয়া সাহেব বাড়ি জামে মসজিদ, হাজারীবাগ পার্ক মাঠ।সাতটা ৪৫ মিনিটঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাত অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে। আবহাওয়া অনুকূল না থাকলে ওই জামাত আটটায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। এ ছাড়া ওই সময়ে জামাত হবে খিলক্ষেত কুর্মিটোলা হাইস্কুল ঈদগাহ ময়দানে।সকাল আটটাঃ আর কে মিশন রোডসংলগ্ন ব্রাদার্স ইউনিয়ন মাঠ, স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা, শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি সরকারি বিদ্যালয় মাঠ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ, মগবাজার বিটিসিএল (সাবেক টিঅ্যান্ডটি কলোনি) জামে মসজিদ, মিরপুর সেকশন-১২ ডি-ব্লক ঈদগাহ, মেহেদীবাগ জামে মসজিদ, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, চকবাজার শাহী জামে মসজিদ, কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের মসজিদ আল মাহফেরাহ মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, মিরপুর ১১ নম্বর মসজিদ বায়তুল ফালাহ, ইব্রাহিমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, শান্তিবাগের হাজি আবদুল কাদির জামে মসজিদ, মিরপুর সেকশন-১১ এভিনিউ-৫ পল্লবী বায়তুল আজম জামে মসজিদ, নয়াপল্টন জামে মসজিদ, সায়েদাবাদ পাক দরবার শরিফ বড় জামে মসজিদ, দেওয়ানবাগ শরিফ।আটটা ১৫ মিনিটঃ শ্যামলীর এসওএস শিশুপল্লী জামে মসজিদ, গেন্ডারিয়া ধূপখোলা ইস্ট এন্ড ক্লাব মাঠ।আটটা ৩০ মিনিট: গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদ, ধানমন্ডি ঈদগাহ জামে মসজিদ, বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ মসজিদসংলগ্ন ঈদগাহ, কলাবাগান বশিরউদ্দিন জামে মসজিদ, বারিধারা বায়তুল আতিক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ফার্মগেটের বায়তুশ শরফ মসজিদ, লালবাগ শাহী মসজিদ, নীলক্ষেত মরিয়ম বিবি শাহী মসজিদ, খিলক্ষেত কুর্মিটোলা হাইস্কুল ঈদগাহ ময়দান, লক্ষ্মীবাজারের নূরানী জামে মসজিদ, হাজারীবাগ পার্ক মাঠ, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, লালবাগের বড় ভাট মসজিদ, উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটি মসজিদ, সায়েদাবাদ পাক দরবার শরিফ বড় জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর মসজিদ-এ তৈয়্যেবিয়া, খিলগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে।
আটটা ৪৫ মিনিটঃ দক্ষিণ মুহসেন্দী বড় জামে মসজিদ, লালমাটিয়া ব্লক-জি মসজিদ-এ বায়তুল হারাম।
নয়টা: পুরান ঢাকার আরমানিটোলা মাঠ, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, চকবাজার শাহী জামে মসজিদ, উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের মসজিদ আল মাহফেরাহ মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, মিরপুর ১১ নম্বর মসজিদ বায়তুল ফালাহ, মিরপুর সেকশন-১১ এভিনিউ-৫ পল্লবী বায়তুল আজম জামে মসজিদ, সায়েদাবাদ পাক দরবার শরিফ বড় জামে মসজিদ, মাতুয়াইল দরবারে মোজাদ্দেদীয়া, দেওয়ানবাগ শরিফ।সাড়ে নয়টাঃ লালবাগের বড় ভাট মসজিদ ও মোহাম্মদপুর মসজিদ-এ তৈয়্যেবিয়া।১০টাঃ নীলক্ষেত মরিয়ম বিবি শাহী মসজিদ, মাতুয়াইল দরবারে মোজাদ্দেদীয়া, দেওয়ানবাগ শরিফ।১১টাঃ আজিমপুর ছোট দায়রা শরিফের দায়েমিয়া শাহী জামে মসজিদ।সাড়ে ১১টাঃ আজিমপুর ছোট দায়রা শরিফের দায়েমিয়া শাহী জামে মসজিদ।

মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০১১

আন্নার সমর্থনে দিগম্বর হলেন মারাঠি অভিনেত্রী

ভারতের দুর্নীতিবিরোধী সমাজকর্মী আন্না হাজারেকে সমর্থন জানাতে দিগম্বর হলেন মারাঠি অভিনেত্রী যোগিতা দানদেকার। শুক্রবার তিনি তার নগ্নদেহে ভারতের পতাকা এঁকে লিখেন ‘আমি আন্নাকে সমর্থন করি’।যোগিতা সাংবাদিকদের বলেন, “আমি গত দশ বছর থেকে আন্নাকে সমর্থন করে আসছি।” তিনি আরো জানান, পার্লামেন্টে লোকপাল বিল পাসের পর তিনি বিবস্ত্র হয়ে ম্যারাথন দৌড় দেবেন।জানা গেছে, ভারতীয়রা তাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে যে যেভাবে পারছেন, আন্নাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। যারা রামলীলা ময়দানে যেতে পারছেন না, তারা বেছে নিচ্ছেন ভিন্ন পন্থা। বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এ ক্ষেত্রে আরো এক ধাপ এগিয়ে আছেন। যোগিতা ছাড়াও বলিউড অভিনেতা শ্রেয়াস তালপাড় ও সেলিনা জেটলি মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে আন্না হাজারের সমর্থনে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। অভিনেত্রী বিদ্যা বালানও লাকমি ফ্যাশন উইকের অনুষ্ঠানে আন্নার সমর্থনে গান্ধী টুপি পরেন।  এছাড়াও তার সমর্থনে মুম্বাইয়ের দাহি হানদি উত্সবে গান্ধী টুপি পরে অংশ নেন বলিউড তারকা নেহা দুপিয়া, জন আব্রাহাম, রোহিত রায় ও উদিতা গোস্বামী।

মোশাররফের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

শনিবার আদালত পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফের যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও সব ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শনিবার রাওয়ালপিন্ডির একটি আদালত এ রায় দেয়।
পাবলিক প্রসিকিউটর চৌধুরী আজহার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন। আদালত  আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতুবি করা হয়েছে। 
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে রাওয়ালপিন্ডির এক জনসভায় বক্তৃতা দেয়ার পর অজ্ঞাত হামলাকারীদের হামলায় নিহত হন বেনজির ভুট্টো। নিহত হওয়ার মাত্র দুই মাস আগে নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আসেন দুইবারের প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো। ২০০৮ সালে তারই স্বামী আসিফ আলী জারদারি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়।
বেনজির ভুট্টোর যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মোশাররফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।ডন নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তানে মোশাররফের কী পরিমাণ সম্পদ আছে তা নির্ধারণ করা যায়নি। তবে তিনি দুটি আবাসিক ফ্ল্যাটের মালিক। এছাড়া ইসলামাবাদে তার একটি ফার্ম হাউজ ও বেলুচিস্তানে জমি রয়েছে। ওই জমিতে উন্নয়ন কাজ চলছে।

আইরিনের আঘাতে নিহত ৭

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার পর দেশটির সবচেয়ে জনবহুল শহর নিউ ইয়র্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আইরিন। নর্থ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়ায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাত জনের। ৫৮০ মাইল ব্যাপ্তির এই ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থল (চোখ) কেপ লুকআউটের কাছ দিয়ে নর্থ ক্যারোলাইনা উপকূল অতিক্রম করে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার (বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টা) দিকে। প্রথম আঘাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ঝড়ো বাতাস ও প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় বন্যা পরিস্থিতির। নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার অন্তত ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, স্থলভাবে চলে আসায় আইরিনের ভয়াবহতার মাত্রা দ্বিতীয় ক্যাটাগরি থেকে প্রথম ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে। তারপরও এই ঘর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইছে। আইরিন 'বড় ও বিপজ্জনক' ঝড় হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করে দেওয়ার পর নিউ ইয়র্ক, নরফোক ও ভার্জিনিয়াসহ বড় শহরগুলোর ২০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। নিউ ইয়র্কের নিচু এলাকা থেকে সরে যেত বলা হয়েছে ৩ লাখেরও বেশি মানুষকে। ব্র"কলিন, কুইনস ও ম্যানহ্যাটনের অনেক অধিবাসীকেও সরে যেতে হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ বলেছেন, আইরিনের আঘাতে প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ইতোমধ্যে নিউ ইয়র্কের সাবওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। এর আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ঘূর্ণিঝড় আইরিনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ 'নজিরবিহীন' হতে পারে। অবকাশ সংক্ষিপ্ত করে শনিবার ওয়াশিংটনে ফিরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। আইরিন আঘাত হানার আগেই রাজধানী ওয়াশিংটনসহ পূর্ব উপকূলের সাতটি রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এ বছর একের পর একে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিল করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে। বন্যা, টর্নেডো আর তাপদাহে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এরই মধ্যে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আইরিনের আঘতে এর পরিমাণ আরো কয়েকশ কোটি ডলার বাড়বে বলেই ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চান গাদ্দাফি

ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চান গাদ্দাফি। রবিবার গাদ্দাফির একজন মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন তিনি একটি বার্তা সংস্থাকে জানান, ক্ষমতা হস্তান্তরের আলোচনা করবেন গাদ্দাফি পুত্র সাদি আল গাদ্দাফি।এদিকে বিদ্রোহী যোদ্ধারা মনে করছে গাদ্দাফি এখনো ত্রিপোলিতেই লুকিয়ে আছেন। তারা মোটামুটি দেশের সকল অংশের দখল নিয়ে ফেলেছে।বিবিসি সাংবাদিক জন লেইন বলেছেন, গাদ্দাফির বর্তমান প্রস্তাব প্রতারণার আরেকটি চাল হতে পারে।বিদ্রোহীদের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা খুব শিগগিরই ত্রিপোলিতে পানি সরবরাহ শুরু করবে। গাদ্দাফি বাহিনী পানির মধ্যে বিষ মেশাতে পারে বলে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।তিনি আরো বলেন, ত্রিপোলিতে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের আলামত পাওয়া গেছে। প্রায় ৫০টি পুড়ে যাওয়া মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর বেস ক্যাম্পের পাশের একটি গুদাম থেকে।দেশটির এমন বিপর্যস্ত অবস্থায় গাদ্দাফির প্রস্তাব বিদ্রোহীরা কিভাবে নেবে সেটি দেখবার জন্য অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।

দাবি পূরণ: অনশন ভাঙলেন বিজয়ী হাজারে

ভারতের পার্লামেন্ট দুর্নীতি বিরোধী আইনে (লোকপাল বিল) তিনটি প্রস্তাব যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ২৯০ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন আনা হাজারে।
এনডিটিভি জানায়, নয়া দিল্লির রামলীলা ময়দানে রবিবার সকাল ১০টায় হাজারো জনতার উপস্থিতিতে অনশন ভাঙেন 'পদ্ম বিভূষণ' খেতাবধারী এই সমাজ কর্মী।লোকপাল বিলে সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনাসহ তিনটি ধারা অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সেখানেই গত ১২ দিন ধরে অনশন চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এই অনশনে তার সাড়ে সাত কেজি ওজন কমেছে।
এর আগে শনিবার পার্লামেন্টে লোকপাল বিলে আনা হাজারের তিনটি দাবি অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। এক পর্যায়ে ভোটাভুটি এড়িয়ে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভা র্বসম্মতভাবে ওই প্রস্তাব গ্রহণ করে।শর্তগুলো হলো- এক. সিটিজেন চার্টার বা নাগরিক সনদ। দুই. উপযুক্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অধস্তন আমলাতন্ত্রকে লোকপালের অধীনে আনা। তিন. প্রত্যেক রাজ্যে ন্যায়পাল নিয়োগ।লোকসভায় গৃহীত প্রস্তাবের কপি ও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের একটি চিঠি নিয়ে ইউনিয়ন মন্ত্রী বিলাশরাও ডেশমুখ শনিবার আন্না হাজারের সঙ্গে সাক্ষাত করতে রামলীলা ময়দানে যাওয়ার কথা। এর আগে অনশন ভাঙতে তিনটি শর্ত দেন গান্ধীবাদী সমাজকর্মী আন্না হাজারে। এ তিনটি শর্ত যদি সরকার মেনে নেয়, তাহলেই তিনি অনশন ভাঙবেন বলে জানান। তিনি বলেন, শর্ত তিনটি মানলেই অনশন ভাঙব, তবে আন্দোলন চলবে।

শিবশংকর মেনন ঢাকায়

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেনন ঢাকা পৌঁছেছেন।রবিবার বেলা ১১টার দিকে তাকে বহনকারী বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে ভারতীয় হাই কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে শিবশংকরের এ সফর। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে ঢাকা আসছেন। তার স্ত্রী গুরশরণ কাউর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, মেঘালয়ের মুকুল সাংমা, ত্রিপুরার মানিক সরকার, আসামের তরুণ গগৈ ও মিজোরামের লাল থানাওয়ালা এই সফরে তার সঙ্গে থাকছেন।
মনমোহনের এই সফরে সীমানা বিরোধ, তিস্তার পানি বণ্টনসহ ট্রানজিট বাস্তবায়নে কয়েকটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়গুলোর অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন শিবশংকর মেনন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই উপদেষ্টা মসিউর রহমান ও গওহর রিজভী এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেননই মূলত মনমোহনের সফর এবং দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি দেখভাল করছেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা গত ১৫ আগস্ট দিল্লি সফর করেন। ওই সফরে সে দেশের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী শনিবার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফর একটি 'স্মরণীয়' ঘটনা হয়ে থাকবে বলেই আশা করছেন তিনি। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়া দিল্লি সফরকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য একটি 'বাঁক' অভিহিত করে উপদেষ্টা বলেন, যারা ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তির বিরোধিতা করছে, তারা 'ভুল' তথ্য প্রচার করছেন। তিনি বলেন, "ট্রানজিটের জন্য নতুন করে কোনো চুক্তি করার প্রয়োজন নেই, কারণ ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিতেই এ বিষয়টি রয়েছে। এখন আমাদের ট্রানজিট রুটসহ অন্যান্য খুঁটিনাটি বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।" অবকাঠামোগত প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়ে গেলেই ট্রানজিট সুবিধা বিনিময় শুরু হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান।
গত বছর শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে দুই প্রধানমন্ত্রী যে যৌথ ঘোষণা দিয়েছিলেন, মনমোহনের এবারের সফরে তার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে জানিয়ে গওহর বলেন, "আমরা এখানেই থেমে থাকব না। এই সহযোগিতাকে আরো এগিয়ে নেব আমরা।" এই সফরে যেসব চুক্তি বা সমঝোতা হবে- তার কোনোটিই 'লুকানো' হবে না বলেও উল্লেখ করেন গওহর।

পাকিস্তানে আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নিহত

আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আতিয়াহ আব্দেল আল-রহমান সম্প্রতি পাকিস্তানে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর আল-রহমান নতুন 'অপারেশন চিফ' হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন। শনিবার মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, গত ২২ অগাস্ট পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল ওয়াজিরিস্তানে নিহত হন লিবীয় নাগরিক আল-রহমান। তবে কীভাবে তিনি নিহত হয়েছিলেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু কর্মকর্তারা না জানালেও বিবিসি জানিয়েছে, ২২ অগাস্ট ওয়াজিরিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলা হয়েছিলো। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, আল কায়দায় আইমান আল জাওয়াহিরির পরই আল রহমানের স্থান। তিনি 'অপারেশন চিফ' হিসেবে জঙ্গি সংগঠনটির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

লিবীয়রা গাদ্দাফি যুগের অবসান উদযাপন শুরু: পরাজয় মেনে নিতে গাদ্দাফিকে বিশ্ব নেতাদের আহ্বান

বিদ্রোহীরা ত্রিপোলির দখল নেয়ায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ অভিন্দন জানিয়েছেন এবং মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে পরাজয় মেনে নিতে বলেছেন। এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত লিবীয়রা গাদ্দাফি যুগের অবসান উদযাপন শুরু করেছে।রাজধানী ত্রিপোলিতে বিদ্রোহীদের প্রবেশ এবং অধিকাংশ এলাকা তাদের দখলে যাওয়ায় মনে করা হচ্ছে গত ছয়মাসের বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনের অবসান হচ্ছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, লিবীয়রা এখন তাদের আকাক্সার দ্বারপ্রান্তে। তিনি বিদ্রোহীদের সতর্ক করে বলেন, সামনে আরো অনেক চ্যালেঞ্জ অপো করছে। তিনি ভবিষ্যত লিবিয়ার একজন বন্ধু ও অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার করেন।জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরবলীগ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রধানদের নিয়ে লিবিয়া বিষয়ে একটি সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দেন। তিনি গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণভাবে মতা হস্তান্তরের পথ তৈরির আহ্বান জানান। বান কি মুন বলেন, ‘মুহূর্তটি আশাব্যঞ্জক। কিন্তু সামনে অনেক ঝুঁকি রয়েছে।’লিবিয়ার বিদ্রোহীদের প্রথম স্বীকৃতিদানকারী ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানোয় গাদ্দাফির দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করেন। তার অফিস সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি বিদ্রোহীদের ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) প্রধানমন্ত্রীকে বুধবার তার সঙ্গে সাাতের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ফ্রান্স বলেছে, লিবিয়া পরিস্থিতি সমন্বয়ের লক্ষে আন্তর্জাতিক ‘কণ্টাক্ট গ্র“প’এর সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব নেবে তারা।মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর জানিয়েছে, লিবিয়া বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে কণ্টাক্ট গ্র“পের কূটনীতিকরা বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন।স্পেন লিবিয়ায় সর্বশেষ অগ্রগতি বিষয়ে জাতিসংঘের একটি নতুন প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে লিবিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনি গাদ্দাফির প্রতি প্রতিরোধ না গড়ার আহবান জানিয়েছেন।জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল গাদ্দাফি যুগের অবসান শুরু হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে মতা উত্তরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে খুব দ্রুত তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ লিবীয়রা দীর্ঘদিন দুর্ভোগ সহ্য করেছে।এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গাদ্দাফিকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া আরবলীগ লিবিয়ার বিদ্রোহীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। মিশর লিবিয়ার নতুন প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ তিউনিশিয়া লিবীয় বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়ে একে ঐতিহাসিক পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছে।মরক্কো আনুষ্ঠানিকভাবে সোমবার বিদ্রোহীদের স্বীকৃতি দিয়ে বলেছে, তারাই লিবীয় জনগণের বৈধ প্রতিনিধি।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গাদ্দাফির প্রতি বিনাশর্তে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার লিবীয় জনগণকে তাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক পথ তৈরির আহ্বান জানান।লিবিয়া সরকারের অবকাঠামো দুর্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ন্যাটো দেশ পুনর্গঠনে একটি সুযোগ দিতে গাদ্দাফির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।তবে বিশ্বে ভেনিজুয়েলাই একমাত্র দেশ যেটি এখনও এককভাবেই গাদ্দাফির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে যাচ্ছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ বোমা ফেলে ত্রিপোলিকে ধ্বংসের জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করেন।চীন তার পরিমিত প্রতিক্রিয়ায় লিবিয়ায় নতুন যে সরকার আসবে তাকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছে।এদিকে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত লিবীয়রা তাদের দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসের সামনে জড়ো হয়ে গাদ্দাফি যুগের অবসানকে স্বাগত জানাচেছ। তারা পতাকা উড়িয়ে শ্লোগান দিয়ে বিদ্রোহীদের অভিনন্দন জানাচ্ছে। (এএফপি)

বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১১

অ্যাপলের চ্যালেঞ্জ

কিছুদিনের মধ্যেই স্বল্পমূল্যের আইফোন বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে অ্যাপল। নোকিয়া এবং মাইক্রোসফটকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চীনের মতো বিকাশমান বাজারে অ্যাপল অভিষেক ঘটাতে যাচ্ছে আইফোন ৪-এর একটি নতুন সংস্করণ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্বল্পমূল্যের আইফোনের নতুন সংস্করণ বাজারজাত করতে অ্যাপল ইতিমধ্যেই চীনের মোবাইল অপারেটর এবং হ্যান্ডসেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছে। ফলপ্রসূ আলোচনায় সপ্তাহখানেকের মধ্যে এটি বাজারে ছাড়া হতে পারে বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।মোবাইল ফোন বাজারের প্রিমিয়াম বাড়াতে অ্যাপল একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েই এগুচ্ছে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।অবশ্য সস্তায় আইফোন বাজারজাত করে অ্যাপলের বাজার বিস্মৃতির পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন চীনের কোনো কোনো বাজার পর্যবেক্ষক।দেশটির বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিসিএস ইনসাইট কর্মকর্তা  বেন উড’র মতে, অ্যাপল তাদের আইফোনের নতুন কোনো সংস্করণ বাজারজাত করার আগে এমন ঘোষণা দিয়ে থাকে। তাই এটা একটি স্রেফ বাণিজ্যিক প্রচারণা বৈ আকর্ষণ করার মতো কিছু নয়। কেননা তারা শুধু পুরানো সংস্করণের পণ্যেরই মূল্য হ্রাস করে থাকে। আর নতুন পণ্যের দাম থাকে যথারীতি চড়া।আ্যপল‘র অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের মডেলের আইফোনে ৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ সুবিধা থাকলেও নতুন আইফোন ৪-এ ১৬জিবি কিংবা ৩২ জিবি মেমরি থাকবে বলে জানা গেছে।

ফেসবুকে ‘প্রাইভেসি সেটিংসে’ বদল

প্রাইভেসি সেটিংসে বড় বদল আসছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকে। 
প্রায় ৭৫০ কোটি ব্যবহারকারী আছে এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটটির। আর তাদের সুবিধার জন্য বিশাল পরিবর্তন আসতে চলেছে ফেসবুকের ‘প্রাইভেসি সেটিংসে’। সংস্থার ইতিহাসেও এটা অন্যতম বড় পরিবর্তন। পরিবর্তন আসছে ‘প্রোফাইল’, ‘স্টেটাস’,’আপডেটস’, ‘লোকেশনস’ এবং ‘ট্যাগসে’র সেটিংসে'। প্রত্যেক ব্যবহারকারীকেই সংস্থার তরফে বিস্তারিত ভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এই পরিবর্তনের বিষয়। ফেসবুক ব্যবহারের সময় প্রতিটি পদক্ষেপেই সেই পরিবর্তনের সম্পর্কে জানতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। এই পরিবর্তনের ফলে ব্যবহারকারীরা জানতে পারবেন কার সঙ্গে তার ছবিগুলি শেয়ার করা হচ্ছে, ‘স্টেটাস আপডেট’ কাদের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে, থাকার জায়গা বা ‘লোকেশন’ কার সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে।ফেসবুকের প্রোডাক্ট ম্যানেজার কেট ও’নেইল এই পরিবর্তনগুলির সম্বন্ধে জানিয়েছেন। ‘প্রোফাইল পেজের’ ডানদিকে থাকবে ‘প্রোফাইল কন্ট্রোল অপশন’। ঠিক এভাবেই প্রতিটি সেকশন পেজের ডানদিকে থাকবে পরিবর্তন করার ‘অপশন’। কোনও ব্যবহারী যখন তার ‘প্রোফাইল পেজে’ পরিবর্তন করতে করতে যাবেন,’প্রোফাইল পেজে’র ডান দিকে ‘অপশন’ পেয়ে যাবেন। ‘প্রোফাইল পেজে’ আর একটি বিষয়ও যোগ করা হবে। ’ভিউ প্রোফাইল অ্যাজ’ ‘অপশন’ চলে আসবে ‘প্রোফাইল পেজে’। আগে এই অপশনটি ‘প্রাইভেসি সেটিংসের’ ভিতরে পাওয়া যেত। এখন পাওয়া যাবে ‘প্রোফাইল পেজের’ ডানদিকের কোণে।  আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসছে ‘ট্যাগে’। ব্যবহারকারীরা সব সময়ই জানতে চান কে তাকে ‘ট্যাগ’ করেছে। এখন থেকে ব্যবহারকারীর ইচ্ছে হলেই তবে তার ছবি, ‘লোকেশন’ এবং বিভিন্ন‘পোস্ট’ অন্যের প্রোফাইলে ‘ট্যাগ’করা যাবে। কয়েকদিনের মধ্যেই এইসব হরেক পরিবর্তন দেখতে পাবে ফেসবুকের ব্যবহারকারীরা, জানিয়েছেন কেট ও’নেইল। সূত্র: ওয়েবসাইট।

ঈদ ৩১ আগস্ট !

চলতি রমজান মাসের দিনের সংখ্যা হবে ২৯টি। কারণ আগামী ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ছয়টা ১৯ মিনিটে বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা যাবে। অর্থাৎ আগামী ৩১ আগস্ট সারাদেশে মুসলিম ধর্মের অন্যতম উৎসব ঈদ-উল-ফিতর পালন করা হবে। মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করা সংস্থা বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির নিরীক্ষায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির দাবি, আগামী ২৯ আগস্ট সোমবার সকাল নয়টা চার মিনিটে বর্তমান চাঁদের অমাবস্যা কলা পূর্ণ হবে এবং নতুন চাঁদের জন্ম হবে। সেদিন সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় দিগন্ত রেখা হতে দুই ডিগ্রি নিচে ২৭৩ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করবে। দেশের আকাশে চার মিনিট অবস্থান শেষে ছয়টা ১৬ মিনিটে অস্ত যাবে। এ সময় নতুন ওঠা চাঁদের কোনো অংশ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না। তবে পরদিন ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা ১৯ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় দিগন্ত রেখা হতে আট ডিগ্রি ওপরে ২৬৩ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করবে। প্রায় ৩৯ মিনিট দেশের আকাশে অবস্থান করে সন্ধ্যা ছয়টা ৫৮ মিনিটে ২৬৭ দ্রাঘিমাংশে অস্ত যাবে ঈদ-উল-ফিতরের চাঁদ। এ সময় চাঁদের বয়স হবে ৩৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। সবচেয়ে ভালভাবে দেখা যাবে সন্ধ্যা ছয়টা ৩৬ মিনিটে। বাংলাদেশের আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে চাঁদের শতকরা তিন ভাগ আলোকিত দেখা যাবে।ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী, নতুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আরবি মাসের দিন গণনা শুরু হয় এবং শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদ-উল-ফিতর পালন করা হয়।

পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের অপেক্ষায় লিবিয়ার বিদ্রোহীরা


গাদ্দাফি ধরা না পরা পর্যন্ত বিজয় এসেছে বলতে রাজি নন লিবিয়ার জাতীয় অন্তর্বতীকালীন পরিষদের নেতারা। তাই ৯০ ভাগ লিবিয়ার দখলকারী নেতাদের এখন অপেক্ষা শুধু গাদ্দাফিকে গ্রেফতারের। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শুক্রবারের মধ্যেই গাদ্দাফিকে যে কোনোভাবে ধরে পূর্ণ লিবিয়া দখল করে ফেলবেন।  এদিকে গাদ্দাফি মুখপাত্র ইব্রাহিম বলেছেন, তাদের হাতে এখনো যে পরিমাণ ক্ষমতা রয়েছে তা ব্যবহার করে শুধু আজ বা কাল নয় মাসের পর মাস অথবা বছরের পর বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে গাদ্দাফিপন্থিরা।এদিকে, এখন পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে চাইছে জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ। তাই আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছে এ মাসের শেষ নাগাদ ২৫০ কোটি ডলার সাহায্য চেয়েছে। রমজান শেষ হওয়ার আগেই সাহায্য পাওয়ার আশাও প্রকাশ করে পরিষদ। এ সাহায্য দিয়ে লিবীয়দের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং আহতদের চিকিত্সা করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জব্দ হওয়া সম্পদ উদ্ধারের পরিকল্পনা নিয়েছে। লিবিয়ার প্রায় ১৬ হাজার কোটি থেকে ১৭ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি জব্দ হয়েছে। এ ছাড়া তারা নতুন তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।এনটিসি প্রধান মাহমুদ জিব্রাইল বলেন, যত দ্রুত সম্ভব তেলক্ষেত্রগুলোতে আবার কাজ শুরুর পদক্ষেপ নেয়া হবে। মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের কাছ থেকে রাজধানী ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ নিতে এ পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক প্রাণহানির দাবি করেছে লিবিয়ার বিদ্রোহীরা।বিদ্রোহীদের বরাত দিয়ে আজ বুধবার আল আরাবিয়া টেলিভিশনে এ খবর প্রচার করা হয়। এ ছাড়া উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধে কমপক্ষে দুই হাজার ব্যক্তি আহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে বিদ্রোহীরা।


সফরসূচি চূড়ান্ত: হাসিনা-মনমোহন বৈঠক ৬ সেপ্টেম্বর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত সফর সূচি অনুসারে বাংলাদেশ-ভারত প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে দুই প্রধানমন্ত্রী ৩০ মিনিট নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।সফর সূচি অনুসারে, ড. মনমোহন সিং স্বস্ত্রীক আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও লালগালিচা সংবর্ধনা জানাবেন। এসময় আরো উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ মন্ত্রিসভার সদস্যসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্যরা।বিমানবন্দর থেকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভার স্মৃতিসৌধে যাবেন। সেখানে তিনি পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনের পাশাপাশি দর্শনার্থী খাতায় স্বাক্ষর ও বৃক্ষরোপণ করবেন। সাভার থেকে তিনি হোটেল সোনারগাঁওয়ে যাবেন ও মধ্যাহ্নভোজ করবেন। ঢাকায় অবস্থানকালে এ হোটেলেই অবস্থান করবেন তিনি। বিকেল ৪টায় ড. মনমোহনের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। এরপর বিকাল ৫টায় মনমোহন সিং যাবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। সেখানে দুই প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবেন। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। রাতে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী তার সম্মানে শেখ হাসিনার দেয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন।পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় মনমোহন সিং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। সেখান থেকে তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রদর্শন করবেন। দুপুরে সোনারগাও হোটেলে তার সম্মানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের দেয়া এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে দুপুর ২টায় বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দুপুর আড়াইটায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার সঙ্গে সোনারগাও হোটেলের স্যুটে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেদিনই বিকাল সাড়ে ৫টায় তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সফরকালে ভারতের প্রধামন্ত্রীর সহধর্মীনি গুরশারান কাউর সেগুনবাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত গুরু দুয়ারা নানক শাহী পরিদর্শন করবেন।মনমোহনের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন তার স্ত্রী গুরশারান কাউর, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম ও পানিসম্পদমন্ত্রী পবন কুমার বনশাল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওয়াল, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার সহ বেশ কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। তার সঙ্গে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রায় ৬০ সদস্যের  প্রতিনিধিদলও থাকবেন।ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি, ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় এবং ভারত হয়ে ভুটান ও নেপালে বাংলাদেশের পরিবহণ চলাচল বিষয়ে চুক্তি, ট্রানজিট প্রটোকল, ৬.৫ কিলোমিটার অচিহ্নিত সীমানা নির্ধারণ ও সীমান্ত সমস্যা সমাধানে প্যাকেজসহ আটটি চুক্তি ও ৬টি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরের লক্ষ্যে কাজ করছে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালনে সমঝোতা স্বাক্ষর ২০১২ সালে

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের অধীন (বিমসটেক) দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় সঞ্চালন (গ্রিড) লাইন স্থাপনে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর ২০১২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে করা হবে।বুধবার হোটেল রূপসী বাংলায় অনুষ্ঠিত বিমসটেকের জ্বালানি খাতবিষয়ক টার্স্কফোর্সের দুই দিনব্যাপী তৃতীয় সভার শেষ দিন এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, থাইল্যাণ্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটান।সভা শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) চেয়ারম্যান এ এস এম আলমগীর কবীর বলেন, “দুই দিনব্যাপী সভায় খসড়া এমওইউ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বিমসটেকের সব সদস্য রাষ্ট্র নীতিগতভাবে এতে সমর্থন জানিয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ মতামত দেবে এবং জানুয়ারিতে টাস্কফোর্সের চতুর্থ সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।”আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে যে কোনো সময়ে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এমওইউ স্বাক্ষর হবে বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, “টার্স্কফোর্সের চতুর্থ সভায় প্রধান এজেন্ডা হবে মাস্টার প্লান তৈরি করা।”
ইতোমধ্যে ভারত ও মায়ানমার থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ক্রয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেনন, “এ স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশই উপকৃত হবে।” ‘২০০৬ সালের মার্চে থাইল্যাণ্ডের প্রথম এবং একই বছরের অক্টোবরে ভুটানের থিম্পুতে টানাকফোর্সের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তা পর্যায়ে ১৭ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।

আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচ সম্প্রচার করবে ইএসপিএন

আগামি ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ফিফা প্রদর্শনী ম্যাচ নিয়ে বাফুফে কর্মকর্তারা নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কিভাবে এ ম্যাচটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা যায়।বাফুফে সভাপতির নিরলস চেষ্টায় অবশেষে খেলাটি সম্প্রচারে এগিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল ইএসপিএন।একদিন আগেও যেখানে বাফুফের সভাপতির মুখে ছিল হতাশার সুর। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন “বিদেশি কোনো টেলিভিশন চ্যানেল থেকে আমরা এখনো সাড়া পাইনি। আদৌ সাড়া পাবো কিনা, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”অথচ একদিন না যেতেই ২৪ আগস্ট বুধবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানান, ইএসপিএন-এর সাথে কথা হয়েছে এবং তারা খেলাটি সম্প্রচারে রাজি হয়েছে। এখনো পর্যন্ত লিখিত চুক্তি হয়নি।এক প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন জানান, বেনিফিট কি পাবো জানি না, ইএসপিএন খেলা দেখাচ্ছে এটা নিশ্চিত। এর ফলে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপাগল দর্শক ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করতে পারবে।উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার মধ্যকার খেলাটি স্থানীয়ভাবে সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

দেশ চালাচ্ছেন আদালত: মির্জা আলমগীর

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “বিচারপতি খায়রুল হক আদালতকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন যে, এখন সংবিধান সংশোধন থেকে সব কিছু আদালতই করে দিচ্ছে।  সুতরাং সরকারের কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। দেশ এখন আদালত চালাচ্ছেন।”বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।সৎ ও বস্ত্তনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানের স্বেচ্ছায় কারাবরণের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে স্বাধীনতা ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।মির্জা আলমগীর বলেন, “আওয়ামী লীগের চরিত্রই হচ্ছে ফ্যাসিবাদী চরিত্র। তারা কখনো ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। জন্ম থেকেই তারা বিরোধী দলকে নির্মূলে কাজ করেছে। ’৭২-’৭৫ সালে দেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের মানুষ মনে করেছিল, তিনি তাদের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তিনি তা পারেননি। তার সময়ে দেশে দুর্ভিক্ষ লাখো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানেও দেশে একই অবস্থা বিরাজ করছে। দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। কর্মসংস্থান শূন্যের কোঠায়।”তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধন করে নতুন রূপে বাকশাল কায়েম করেছে। মানুষের কথা বলার মতো মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। কয়েকটি অনুচ্ছেদ এমন করা হয়েছে যে, আর কোনো দিন পরিবর্তন করা যাবে না। এটা মৌলিক গণতন্ত্রের পরিপন্থি। দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী রাজনীতিবিদেরাও এই সংশোধনীর ব্যাপারে বলেছেন, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার ’৭২-’৭৫ সালে সব সংবাদপত্র বন্ধ করে মাত্র চারটি সংবাদপত্র চালু রেখেছিল। বর্তমানেও তারা আমার দেশ সম্পাদককে জেল খাটিয়েছে। শীর্ষ কাগজ বন্ধ করে দিয়ে সম্পাদককে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব বিষয়ে সাংবাদিকরা এক হতে পারছেন না। এখন সব সাংবাদিকদের এক হওয়া প্রয়োজন।”মির্জা আলমগীর বলেন, “এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে রুখে দিতে না পারলে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আহবান করেছেন। তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক সরকার গঠন করতে হবে।”বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, “আগে আমরা বলতাম, দেশে গণবিস্ফোরণ হবে। এখন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাই সংসদে দাড়িয়ে বলছেন, গণবিস্ফোরণ হবে। তার মানে, সরকারি দল ও বিরোধী দল একটি বিষয়ে এখন একমত তা হলো, দেশে গণবিস্ফোরণ হবে।” সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, মহাসচিব শওকত মাহমুদ, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কবি আবদুল হাই সিকদার ও সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান।

গাদ্দাফির মাথার দাম ১০ লাখ পাউন্ড

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে জীবিত কিংবা মৃত ধরিয়ে দিতে এক মিলিয়ন(১০ লাখ) পাউন্ড পুরম্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।লিবিয়ার বিদ্রোহীদের জাতীয় অন্তবর্তী কাউন্সিল (ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল এনটিসি) বুধবার এ ঘেষোণা দিয়েছে।ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, এনটিসির নেতারা আশা করছেন, এ অর্থের ঘোষণা গাদ্দাফির সঙ্গে থাকা আত্মীয়স্বজন ও অনুগত নেতাদের প্রলুব্ধ করবে।বিদ্রোহীরা আরো বলেছে, গাদ্দাফির অনুসারীদের কেউ তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে কিংবা হত্যা করলে তাকে সাধারণ ক্ষমা করা হবে।গাদ্দাফি তার ত্রিপোলির সুরক্ষিত প্রাসাদ বাব আল-আজিজিয়া থেকে পালানোর পর বিদ্রোহীরা এ ঘোষণা দিল।ধারণা হরা হচ্ছে, গাদ্দাফি বাব আল-আজিজিয়ার ভেতরে টানেল দিয়ে পালিয়ে গেছেন।

বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০১১

সংসদে শুধু ব্যর্থতার কথা কেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের দুই একটি ব্যর্থতার জন্য শত্রুর হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার অর্থ হয় না। মন্ত্রণালয়গুলোর দু’একটি ব্যর্থতার পাশাপাশি সফলতাও কম নয়। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই সংসদে শুধু ব্যর্থতা, ব্যর্থতার কথা শুনছি। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে জাসদের সাংসদ হাসানুল হক ইনুর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে দুপুর দুইটায় স্পিকার আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েকদিনে সংসদের কার্যবিবরণীতেও দেখলাম শুধু ব্যর্থ, ব্যর্থ-এসব কথা। কিন্তু এ দুই-একটি ব্যর্থতার বাইরে যে অনেক সফলতাও আছে সেকথা বলতে কেন যেন কার্পণ্য অনেকেরই। সরকারের সাফল্য বিচারে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বানও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ৪০ বছর পর চাইলেই আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া যাবে না। সময় ও যুগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে কাজ করে যাচ্ছে। কিছু ব্যর্থতা নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু ব্যর্থ, ব্যর্থ বলে সব শেষ করে দিলে যেটুকু অর্জন আছে তাও থাকবে না।

যোগাযোগমন্ত্রী পদত্যাগ না হলে শহীদ মিনারে ঈদ

আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন পদত্যাগ না করলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঈদ পালনের ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী জনতা। আজ বুধবার বেলা ১১টায় এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘কোনো সভ্য দেশে এভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মরতে পারে না। প্রতিদিন মানুষ মরবে আর আমরা নিশ্চুপ হয়ে থাকব, তা হতে পারে না। এ দুর্ঘটনার ব্যর্থতার দায় অবশ্যই যোগাযোগমন্ত্রীর। তাই আমরা তাঁকে পদচ্যুত করার দাবি জানাচ্ছি। ৩০ আগস্টের মধ্যে এ দাবি মানা না হলে আমরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঈদ পালন করব।’
কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারে এ ঘোষণার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত রাখেন নারীনেত্রী শহীদ আক্তার, চলচ্চিত্রকার মানজারে হাসিন মুরাদ, মুক্তিযোদ্ধা তারিক আলী, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাব আল-আজিজিয়া বিপ্লবীদের নিয়ন্ত্রণে : গাদ্দাফির খোঁজ নেই

লিবিয়ার বিপ্লবী যোদ্ধারা দেশটির স্বৈরশাসক কর্নেল গাদ্দাফির বাসভবন- বাব আল আজিজিয়া দখল করে নিয়েছে। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, বিপ্লবী যোদ্ধারা বাব আল আজিজিয়ার সামনে গাদ্দাফির ভাস্কর্য থেকে তার মস্তক বিচ্ছিন্ন করে মাটিতে ফেলে পদদলিত করছে। এ ছাড়া বিপ্লবী যোদ্ধারা কর্নেল গাদ্দাফির ব্যবহৃত বন্দুকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে চলে যাচ্ছে বলেও টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে। তবে বাসভবনের ভেতর গাদ্দাফি বা তার পরিবারের অন্য কোন সদস্যকে পাওয়া যায়নি। এমনকি গাদ্দাফির ছেলে সাইফুল ইসলামকেও এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার বিপ্লবীরা সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতারের খবর দেয়ার পর ওই দিন রাতেই সাইফুল মুক্ত অবস্থায় আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি জনতার উদ্দেশ্যে বিজয়সূচক ভি চিহ্ন প্রদর্শন করেন এবং এ সময় তাকে বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়। ত্রিপোলিতে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন এবং তার পিতা পরাজিত হবেন না বলে দাবি করেন।
ত্রিপোলি থেকে একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে লিবিয়ায় কর্নেল গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে, তবে গাদ্দাফি ও তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয় উৎসব শুরু করতে চাচ্ছেন না বিপ্লবীরা। বাব আল আজিজিয়ায় স্বৈরশাসক গাদ্দাফিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে ওই বাসভবনে অনেকগুলো ভূগর্ভস্থ টানেল রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব টানেল দিয়ে ত্রিপোলির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাওয়া যায় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এ ছাড়া ত্রিপোলিতে এমন কিছু নিরাপদ বাড়ি রয়েছে যে সব বাড়িতে গাদ্দাফির পরিবারের সদস্যরা আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারেন।গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল থেকে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত শত শত বিপ্লবী যোদ্ধা বাব আল আজিজিয়ায় চূড়ান্ত অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টার তুমুল সংঘর্ষের পর তারা ওই বাসভবনের একটি গেট দিয়ে এর ভেতরে প্রবেশ করে এবং মুহূর্তের মধ্যে এর দখল নিয়ে নেয়। বাব আল আজিজিয়ার ভেতরে অবস্থিত যে তাঁবুর মধ্যে গাদ্দাফি বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাত করতেন, তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া ছোট যে উন্মুক্ত গাড়িতে করে গাদ্দাফিকে বহুবার তার বাসভবনের ভেতরে চলাচল করতে দেখা গেছে, সেটিতে করে বিপ্লবীরা বাসভবনটির আঙ্গিনায় উল্লাস প্রকাশ করতে করতে ঘোরাঘুরি করেছেন। এ সময় মুহুর্মুহু ফাঁকা গুলির শব্দে বাব আল আজিজিয়া কেঁপে ওঠে। গাদ্দাফির অনুগত শত শত সেনা তার বাসভবন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বলে শোনা গেলেও বিপ্লবীরা এর ভেতর ঢুকে পড়ার পর কাউকে দেখা যায়নি। একজন বিপ্লবী যোদ্ধা বলেছেন, তারা গাদ্দাফির শয়নকক্ষসহ বাব আল আজিজিয়ার প্রতিটি অংশ তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোথাও কাউকে পাননি।এদিকে লিবিয়ার বেশির ভাগ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ শহর বিপ্লবীদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও গাদ্দাফির নিজ শহর সিরতে’র পরিস্থিতি এখনও গোলমেলে রয়েছে। গাদ্দাফির অনুগত সেনারা ওই শহরে আশ্রয় নিয়েছে বলে খবর পেয়ে বিপ্লবী যোদ্ধাদের অতিরিক্ত কিছু ইউনিট গতরাতে ওই শহরের দিকে রওনা হয়ে গেছে। এ ছাড়া কাতারে অবস্থানরত বিপ্লবীদের অন্যতম নেতা মাহমুদ জিব্রিল সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, লিবিয়ার বেশ কিছু জায়গায় এখনও জরুরী সাহায্য প্রয়োজন। তিনি এক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চলীয় সেবহা শহরের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, গাদ্দাফির গোত্রের বহু সদস্য ওই শহরে বসবাস করে এবং তার সশস্ত্র। মাহমুদ জিব্রিল বিপ্লবীদের জাতীয় অন্তর্র্বতী পরিষদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিপ্লবী যোদ্ধারা বলেছেন, তারা রাজধানী ত্রিপোলির বেশির ভাগ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন। তবে কোথাও কোথাও গাদ্দাফির সমর্থক অস্ত্রধারীরা সামান্য প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিপ্লবী যোদ্ধার ত্রিপোলির বেশির ভাগ এলাকার রাস্তায় চেক পয়েন্ট বসিয়েছে। সুত্র রেডিও তেহরান

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকারের অঙ্গিকার বাস্তবায়নে অ্যামনেস্টির আহ্বান

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে বাংলাদেশ সরকারকে তার অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। আজ লন্ডনে প্রকাশিত এই মানবাধিকার সংঠনটির নতুন প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বেগের বিষয়ে ও এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে এবং দায়ীদের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে বাংলাদেশের দাতাগোষ্ঠীকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানায় সংঠনটি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ন করে চারটি সুপারিশ করেছে। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে, যা ২০০৪ সাল থেকে সংঘটিত সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং অজ্ঞাত বন্দির অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ও যথাযথ তদন্ত করবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। পদমর্যাদা বিবেচনা না করে নিরপেক্ষভাবে দায়ীদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রকৃত সত্য প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ সরকার দিয়েছে, তা রক্ষায় সরকারকে অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ইতিমধ্যে কয়েকশ’ বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, দুর্ঘটনাবশত অথবা আত্মরক্ষায় এসব হত্যার ঘটনা ঘটছে। অথচ বাস্তবতা হলো, অনেক লোককেই আটকের পর হত্যা করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পুলিশ ও র‌্যাবের জন্য অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, চীন, চেকরিপাবলিক, ইতালি, পোল্যান্ড, রাশিয়া, স্লোভাকিয়া, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশ অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে।
বাংলাদেশে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে ওইসব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অ্যামনেস্টি বলছে, ‘যেসব দেশ জেনে-শুনে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সিকিউরিটি ফোর্সদের অস্ত্র সরবরাহ করে, সেসব দেশকেও এসব হত্যাকাণ্ডের কিছুটা দায়ভার নিতে হবে।’অ্যামনেস্টির হিসাবে, ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠনের পর এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৭০০ মানুষকে ‘বিনা বিচারে’ হত্যা করা হয়। এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব তন্তন্ত হয়েছে তা-ও গোপন রাখা হয়েছে।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচারবহির্ভূত হত্যকাণ্ড বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ২০১১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ২০০ মানুষ র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলে ওই প্রতিশ্রুতি ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়।এছাড়া র্যািবের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর হাতেও বর্তমান সরকারের আমলে কমপক্ষে ৩০ জন ‘বিনা বিচারে’ নিহত হয়। তবে এসব হত্যাকাণ্ডকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চালিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি পুলিশ ও র‌্যাব হেফাজতে নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে।

১০০ ডলারে টাচপ্যাড!

গত কয়েক দিন ধরে বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনে এইচপি আছে আলোচনার শীর্ষে। পিসির বাজার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে এইচপি। এমন খবরে ভক্তরা হতাশ।অন্যদিকে চলছে এইচপি পণ্য দ্রুত বিক্রির হিড়িক। সংবাদমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বেস্টবাই সাইটে ২১ আগস্ট থেকে ১৬ জিবি টাচপ্যাড ১০০ এবং ৩২ জিবির টাচপ্যাড ১৫০ ডলার অফার করা হচ্ছে। এ বিকিকিনির জন্য শুধু অনলাইন শর্ত প্রযোজ্য।লস অ্যাঞ্জেলসের টাচপ্যাডের বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক জানান, ২১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেস্ট বাই সাইটসহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে নতুন এবং আকর্ষণীয় অফারে টাচপ্যাড বিক্রি শুরু হয়েছে।তবে এ স্টক বিপুল চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। আর কেন্দ্রে এ পণ্যের সহজলভ্যতার ওপর নির্ভর করছে এর প্রাপ্যতা। এইচপি পিসির বাজার থেকে সরে যাওয়ায় স্টক মার্কেটে এসব পণ্য হট সেল (দ্রুত বিক্রি) দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও এ অফারে অনলাইনে এবং বিপণন কেন্দ্রগুলোতে যে পরিমাণ সাড়া পড়েছে তাতে দ্রুতই টাচপ্যাডের স্টক ফুরিয়ে যাবে বলে বাজার বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করেছেন।অন্যদিকে অ্যামাজন ডটকম (Amazon.com) সাইটে ১৬ জিবি টাচপ্যাডের দাম ১০০ ডলার এবং ৩২ জিবি টাচপ্যাডের দাম ১৪৯.৯৯ ডলার অফার করা হচ্ছে। এ অফার শুধু অনলাইন বিকিকিনির জন্য প্রযোজ্য।উল্লেখ্য, বেস্টবাই ডটকম (BestBuy.com) সাইটেও টাচপ্যাডের এ মূল্যছাড় উপভোগ করা যাবে। এরই মধ্যে এ ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে এইচপির শেয়ারমূল্য ২০ ভাগ কমে গেছে।এ অফারে এইচপির নিজস্ব টাচপ্যাড, কানাডার বেস্টবাই এবং সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিপণি কেন্দ্রগুলোর সাইটে এ পণ্য কেনা যাবে। তবে এ সুযোগ থাকছে সীমিত এবং স্টক থাকা সাপেক্ষে।

২ মার্কিন গুপ্তচরকে ৮ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে ইরান

ইরানের একটি আদালত অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ ও গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই মার্কিন নাগরিককে আট বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে। তেহরানের প্রধান সরকারী কৌঁশুলি আব্বাস জাফারি দৌলতাবাদি এ খবর দিয়ে বলেছেন, তেহরানের বিপ্লবী আদালত শেইন মিশেল বুয়ের ও জোশুয়া ফেলিক্স ফ্যাটালকে ওই কারাদণ্ড দিয়েছে। তবে দণ্ডপ্রাপ্তরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আগামী ২০ দিনের মধ্যে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারবে। তিনি আরো জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত দুই মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে আটক হওয়া মার্কিন তরুণী সারাহ এমিলি শোর্ডের দণ্ড পরে ঘোষণা করা হবে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মানবিক কারণে শোর্ডকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। গত ৩১ জুলাই তেহরানের বিপ্লবী আদালতে শোর্ডের অনুপস্থিতিতে তিন মার্কিন নাগরিকের বিচারের চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আজ এ রায় ঘোষিত হলো।
ইরাকের কুর্দিস্তানের পাহাড়ি এলাকা দিয়ে ইরানের ভেতরে অবৈধভাবে ঢুকে পড়ার দায়ে ২০০৯ সালে তাদেরকে আটক করে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। পরবর্তীতে তদন্তে প্রমাণিত হয়, আটক ব্যক্তিরা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হয়ে কাজ করতো এবং গুপ্তচরবৃত্তির জন্য অবৈধভাবে ইরানে প্রবেশ করেছিল।

ব্যর্থ খেলোয়াড়দের তুলে নিন : প্রধানমন্ত্রীকে ড. কামাল

সরকারের ব্যর্থ মন্ত্রীদের পরিবর্তন করার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, খেলার মাঠে কোনো খেলোয়াড় না পারলে তাকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নিয়ে অন্য খেলোয়াড়কে নামানো হয়। এটাই খেলার নিয়ম। খেলোয়াড় পরিবর্তন না করলে খেলায় হার নিশ্চিত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এই কাজটি করতে হবে ক্যাপ্টেনকে।”মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে প্রেস কনফারেন্সে ড. কামাল এসব কথা বলেন।সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মহাসড়কের বেহালদশার জন্য যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও নৌ-পরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খানকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন মহল থেকে, এমনকি সংসদের সরকারি দলের এমপিরা তার পদত্যাগের দাবি তোলেন। এমন পরিস্থিতেই এমন মন্তব্য করলেন ড. কামাল।তিনি বলেন, “দেশের সার্বিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে হলে সরকারের ব্যর্থ মন্ত্রীদের বাদ দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। এ কাজটি সরকারপ্রধানকে অবশ্যই করা উচিত।”তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি একইসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানান ড. কামাল। তিনি বলেন, “সম্প্রতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যস্থা বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখা জরুরি।” এ কারণে এ সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানান তিনি।একইসঙ্গে পঞ্চদশ সংশোধনীতে ৭২-এর সংবিধানের সঙ্গে যেসব অসামঞ্জস্য ধারা রয়েছে, সেগুলো বাতিলেরও দাবি জানান গণফোরামের সভাপতি।

সরকার বিদ্রোহীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে : সাইফ

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ‘আটক’ ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গতকাল সোমবার রাতে ত্রিপোলিতে বিদেশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন। এ সময় সাইফ বলেন, সরকার বিদ্রোহীদের ‘মেরুদণ্ড ভেঙে’ দিয়েছে।
সাইফের আটকের খবর লিবিয়ার বিদ্রোহী ও হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক প্রচার এবং বিদেশি গণমাধ্যমের সামনে তাঁর উপস্থিতির বিষয়টিতে বিদ্রোহীদের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
বিদ্রোহীরা সাইফকে আটকের দাবি করার একদিন পর গতকাল তিনি সরকারি গাড়িতে করে ত্রিপোলিতে বিদেশি সাংবাদিক অবস্থানকারী হোটেল পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, সরকার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় লাভ করছে। এরপর তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে গাদ্দাফির বাসভবন বাব আল-আজিজিয়া পরিদর্শনে নিয়ে যান।
সাইফ বলেন, ‘আমরা বিদ্রোহীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছি। এটা ছিল একটা কৌশল। আমরা তাদেরকে একটা কঠিন সময়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছি। এ জন্য আমরা এখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে।’ সাইফ জানান, ত্রিপোলি গাদ্দাফি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গাদ্দাফি নিরাপদে আছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফ বলেন, ‘অবশ্যই তিনি নিরাপদে আছেন।’ ত্রিপোলি থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানান, সাইফকে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, সাইফ তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন এবং ভি চিহ্ন প্রদর্শন করছেন। গাদ্দাফি সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহীম দাবি করেন, সরকার ত্রিপোলির কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে বিদ্রোহীদের দাবি, তারাই ত্রিপোলির ৮০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এ অবস্থায় কার দাবির সত্যতা কতটুকু, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো দ্বিধায় পড়েছে। লিবিয়ার নেতা কোথায় আছেন তা এখনো অস্পষ্ট। তবে কূটনৈতিক সূত্র পশ্চিমা একটি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে, গাদ্দাফি তাঁর বাসভবনে থাকতে পারেন। সংবাদমাধ্যমগুলোতে বাব আল-আজিজিয়ার আশপাশে গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
৩৯ বছর বয়সী সাইফকে গাদ্দাফির উত্তরসূরি মনে করা হয়।

ন্যাটো বাহিনীর সমর্থন নিয়ে বিদ্রোহীরা গাদ্দাফির দুর্গে

ন্যাটো বাহিনীর সমর্থন নিয়ে মুয়াম্মার গাদ্দাফির দুর্গ বাব আল আজিজিয়ার ভেতরে ঢুকে পড়েছে লিবীয় বিদ্রোহীরা। রাজধানী ত্রিপোলির বেশির ভাগ অংশও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে বিদ্রোহী বাহিনীর সদস্যরা ভারি অস্ত্র নিয়ে পিকআপ ও ট্রাকে করে বাব আল আজিজিয়া কম্পউন্ডে ঢুকে পড়ে। টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কম্পাউন্ডের ওপর দিয়ে কালো ধোঁয়া উড়ছে। কম্পাউন্ডের ভেতরে বিদ্রোহীরা শূন্যে গুলি ছুড়ে উল্লাস প্রকাশ করছে বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের প্রতিবেদক।সোমবারই ত্রিপোলির ৮০ ভাগেরও বেশি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বিদ্রোহীরা। পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, লিবিয়ার ৪১ বছরের শাসক গাদ্দাফির পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ত্রিপোলির পথে পথে বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র বিদ্রোহীদের অবস্থান থাকলেও বিদ্রোহী কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ তাদের ওপর রয়েছে কি না, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।এদিকে বিদ্রোহীরা এক দিন আগে গাদ্দাফির তিন ছেলেকে বন্দি করার দাবি করলেও মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে গাদ্দাফি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিদেশি সাংবাদিকদের দেখা দেন সাইফ আল ইসলাম, যাকে গাদ্দাফির উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হয়। গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে সাইফ বলছেন, বিদ্রোহীরা ফাঁদে পড়েছে।বাব আল আজিজিয়া গাদ্দাফি ও তার অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দাবি করে মঙ্গলবার সকালে সাইফ দাবি করেন, তার বাবা দুর্গেই রয়েছেন।এর পরই বিদ্রোহীরা বাব আল আজিজিয়ার পথে অভিযান জোরদার করে। ন্যাটো বাহিনী বিমান থেকে গোলবর্ষণ করে বিদ্রোহীদের সহায়তা দেয়। তবে এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি ন্যাটোর কোনো কর্মকর্তা।
পশ্চিমা দেশগুলো সোমবার থেকেই ৬৯ বছর বয়সি গাদ্দাফিকে হার স্বীকার করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিদ্রোহী কাউন্সিলকে স্বীকৃতিও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ। তবে এতে গাদ্দাফির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।এর আগে রোববার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের ‘গ্রিন স্কয়ার’সহ ত্রিপোলির অনেক এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় বিদ্রোহীরা। দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে ত্রিপোলিতে প্রবেশের সময় হালকা প্রতিরোধের মুখে পড়ে বিদ্রোহী যোদ্ধারা। এক পর্যায়ে তারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেরও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।‘গ্রিন স্কয়ার’ও তার আগের নাম ‘শহীদ চত্বর’ ফিরে পায়। সেখানে সমবেত জনতা গাদ্দাফির প্রতিকৃতি পদদলিত করে। তারা লিবীয় সরকারের সবুজ পতাকা নামিয়ে বিদ্রোহীদের করা পতাকা ওড়ায়।

হাজারের অনশন চলছেই, ওজন কমেছে ৫ কেজি; আলোচনা নিয়ে গুঞ্জন

ভারতের গান্ধিবাদী নেতা ও দুর্নীতিবিরোধী সমাজকর্মী আন্না হাজারে বলেছেন, লোকপাল বিল নিয়ে শুধু প্রধানমন্ত্রীর অফিসের কর্মকর্তা কিংবা রাহুল গান্ধির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে, অন্য কারো সঙ্গে নয়। সরকার আন্না হাজারের সঙ্গে আলোচনার জন্য আধ্যাত্মিক নেতা ভাইয়্যু মহারাজকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ দিতে চাইছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে। এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় আন্না হাজারে ওই মন্তব্য করেছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় টেলিযোগোযোগ মন্ত্রী কাপিল সিবালের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যম মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের খবর দিয়েছে। তবে, আন্না হাজারে ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য সরাসরি কোনো প্রস্তাব তাদের কাছে আসেনি। তারা সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, চলমান এ আন্দোলন সরকারের পতনের জন্য নয় বরং দেশে একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী লোকপাল বিল পাসের জন্য। তবে, আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে এ দাবি মানা না হলে আমরণ অনশন শুরু হবে। সাতদিনের অনশনে এরইমধ্যে আন্না হাজারের পাঁচ কেজি ওজন কমে গেছে। ভারতের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জি নিউজের ওয়েবসাইটে এ খবর দেয়া হয়েছে।
আন্না হাজারে তার অনশন কর্মসূচির সপ্তম দিনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, "সরকার যদি এ ইস্যুতে অচলাবস্থা দূর করতে চায় তাহলে সরকারি ভার্সনের লোকপাল বিল শিগগিরি প্রত্যাহার করতে হবে।" অবশ্য, জনলোকপাল বিল থেকে ভারতের বিচার বিভাগকে মুক্ত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আলাদা বিল পাস হলে একে আর লোকপাল বিলের আওতায় আনার দরকার হবে না। ভারতের জাতীয় সংসদে সম্প্রতি লোকপাল বিল আনা হয়েছে। কিন্তু, হাজারে ও তার সহযোগীরা বলছেন, এ ধরনের লোকপাল বিল পাস হলে দেশে দুর্নীতি আরো বাড়বে কারণ এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও বিচার বিভাগকে আনা হয়নি। তিনি দাবি করছেন, ভারতের দুর্নীতি বন্ধে এমন লোকপাল বিল পাস করতে হবে যার আওতায় প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও বিচার বিভাগও জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়। তার এ দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী মনহমোহন সিং আগের অবস্থান থেকে সরে এসে সুর কিছুটা নরম করে বলেছেন, হাজারের দাবি যুক্তিসঙ্গত ও মহৎ কিন্তু দেশ থেকে রাতরাতি দুর্নীতি দূর করা যাবে না। এ বিষয়ে সরকার ও হাজারের মধ্যে 'দেয়া-নেয়া'র অনেক সুযোগ রয়েছে বলে ড. সিং মন্তব্য করেছেন। এর আগে, অনশন কর্মসূচির প্রথম দিনে হাজারেকে গ্রেফতার করে সরকার এবং সাতদিনের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। সে সময় সারা ভারতে সরকারের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়। পরে আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে সরকার তাকে মুক্তি দিয়ে রামলিলা ময়দানে অনশন কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়। এ দিকে, আন্না হাজারের সমর্থনে আজও নয়াদিল্লির রামলিলা ময়দানে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে। তবে, এতে বেশি অংশ নিচ্ছে ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ। বহুদিন ধরে দেশটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে তাতে এরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষত্রিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতে প্রায় চার হাজার কোটি ডলারের টেলি দুর্নীতি, কমনওয়েলথ গেমস দুর্নীতি ও দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্নাটকে কোটি কোটি রুপির খনি দুর্নীতি হওয়ার পর আন্না হাজারে শক্তিশালী লোকপাল বিল পাসের দাবি জানান। এরপর থেকে তিনি এ ইস্যুতে সমর্থকদের নিয়ে আন্দোলন গোড়ে তোলেন। অন্যদিকে, ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি বলেছে, সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা আগামী বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে। আর বামদলগুলো বলেছে, আগামী কালই তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে।

ইরাকে কয়েক লাখ শ্রমিক পাঠাবে বাংলাদেশ

দেশ পুনর্গঠনের কাজে ইরাক সরকার বাংলাদেশের কাছে জনশক্তি আমদানীর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে জনশক্তি নেয়ার আগে সমঝোতা করতে চান তারা। প্রবাসিকল্যান মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গত তিন দিন ধরে এ নিয়ে দর কষাকষি চলছে। এটিএন নিউজএদিকে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদ এখনো নিরাপদ নয়। শহরের বাসিন্দা আর বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক গাড়ি বোমা হামলার। এ বছরের প্রথম ৬ মাসে গাড়ি বোমা হামলা হয়েছে একশ’র কাছাকাছি। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২ শ’। ইরাক থেকে এটিএন নিউজের প্রতিনিধি জানান, সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি কুটনীতিকরাও সামনে-পেছনে সশস্ত্র পুলিশের গাড়িবহর নিয়ে চলাফেরা করেন। এরমধ্যে শুক্রবার বাগদাদে আসেন উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে এতে আছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এমএ করিম। তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যস্থ ইরাকের রাজধানী বাগদাদ। রোববার বাগদাদে এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। এতে ইরাকের পক্ষ থেকে উপস্থিত থাকেন উপ-প্রধানমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রী ও আবাসন মন্ত্রীর। এ সময় ইরাক পুনঃনির্মানে কয়েক লাখ অদক্ষ ও দক্ষ শ্রমিক নেয়া হবে। তবে শ্রমক পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি গাইডলাইন অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন ইরাকের মন্ত্রীরা। এজন্য দুইদেশের মধ্যে শিগগিরি সাক্ষর হতে যাচ্ছে একটি সমঝোতা স্মারক।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যই প্রমাণ করে রায় পূর্বনির্ধারিত: ফখরুল

আদালতে বিচারাধীন ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যেই প্রমান করে ‘রায় নির্ধারিত হয়ে আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল বলেন, বিচারাধীন মামলা বিষযে আগেভাগেই মন্তব্য করার নজির পৃথিবীর সভ্য কোন দেশে নেই। অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- সরকারের মদদ ছাড়া এত বড় ঘটনা ঘটতে পারে না। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আবারও বিচারের আগেই রায় দিয়ে দিলেন। প্রমাণ করলেন প্রধানমন্ত্রীই বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন। মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ-আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, কয়েকদিন ধরে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপিকে সরাসরি দায়ী করে বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী সরকারের নির্বাহী বিভাগের প্রধান। একটি চলমান মামলা তার এহেন বক্তব্য বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করবে এটা স্বাভাবিক। এটা আদালত অবমাননা কিনা তা বিচারকগণ দেখবেন। তবে প্রমাণিত হয়ে গেলো তারেক রহমানসহ অন্য নেতাদের জড়ানো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আর একটি দৃষ্টান্ত।

লড়াইয়ের প্রত্যয় গাদ্দাফির পুত্র সাইফের

লিবিয়ার বিদ্রোহীরা গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলামকে বন্দি করেছে বলে দাবি করলেও মঙ্গলবার ভোররাতে সাইফ ত্রিপোলিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সামনে লড়াইয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। অনুগত সশস্ত্র বাহিনীসহ গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে সাইফ বিদ্রোহীদের পরাজিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ত্রিপোলির রিঙোস হোটেল যে এলাকায় রয়েছে সেই এলাকাটি এখনও গাদ্দাফি বাহিনীর দখলে রয়েছে। এ হোটেলটিতে বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের গাদ্দাফি বাহিনী আটক করে রেখেছে বলে জানিয়েছিলেন আল জাজিরার ত্রিপোলি সংবাদদাতা। ওই হোটেলেই উপস্থিত হন গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম। তিনি সরকারি একটি গাড়িতে করে হোটেলটিতে আসেন। এ সময় তিনি বিদ্রোহীদের হাতে তার আটকের খবর অস্বীকার করেন। সাইফ জানান, ত্রিপোলি গাদ্দাফি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গাদ্দাফি নিরাপদে আছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফ বলেন, ‘অবশ্যই তিনি নিরাপদে আছেন।’ ত্রিপোলি থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানান, সাইফকে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, সাইফ তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন এবং ভি চিহ্ন প্রদর্শন করছেন। গাদ্দাফি সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহীম দাবি করেন, সরকার ত্রিপোলির কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে বিদ্রোহীদের দাবি, তারাই ত্রিপোলির ৮০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এ অবস্থায় কার দাবির সত্যতা কতটুকু, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো দ্বিধায় পড়েছে। লিবিয়ার নেতা কোথায় আছেন তা এখনো অস্পষ্ট। তবে কূটনৈতিক সূত্র পশ্চিমা একটি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে, গাদ্দাফি তাঁর বাসভবনে থাকতে পারেন। সংবাদমাধ্যমগুলোতে বাব আল-আজিজিয়ার আশপাশে গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। লিবিয়ায় ৩৯ বছর বয়সী সাইফকে গাদ্দাফির উত্তরসূরি মনে করা হয়।

মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০১১

মহাশূন্যে রাশিয়ার হোটেল

যে রাশিয়া পৃথিবীর বাইরে প্রথম কোন মানুষ পাঠিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল তারাই এবার চমৎকার এক ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, এবার তারা মহাশূন্যে বানাবে বিশাল এক হোটেল। এর নাম দেয়া হয়েছে দ্য কমার্শিয়াল স্পেস স্টেশন। মহাকাশ ভ্রমণ করতে মুখিয়ে আছে এমন পর্যটকদের জন্যই এ ব্যবস্থা। ওই হোটেলটি পর্যটকদের নিয়ে পৃথিবী থেকে ২১৭ মাইল ওপর দিয়ে পৃথিবীকে পরিভ্রমণ করবে। আর তাতে রোমাঞ্চিত হবেন পর্যটক। এজন্য তারা যে নভোযান আকৃতির হোটেল বানানোর পরিকল্পনা করেছে তাতে এক সঙ্গে যেতে পারবেন ৭ জন পর্যটক। এতে আছে চারটি কেবিন। আছে বিশাল ২১৭ মাইল ওপর থেকে পৃথিবীকে দেখতে কেমন দেখায় তা অবলোকনের জন্য বিশাল জানালা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে আরও বলা হয়েছে, মহাকাশে এ হোটেল তৈরির পরিকল্পনা করেছে রাশিয়ান কোম্পানি অরবিটাল টেকনোলজিস। এটি চালু হবে ২০১৬ সাল নাগাদ। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (আইএসএস) নভোচারিরা যেভাবে সয়ুজ নভোযানে করে যেতে পারেন সেভাবেই মহাকাশ ভ্রমণবিলাসীরাও এই হোটেলে পৌঁছাবেন। অরবিটাল টোকনোলজিসের কর্মকর্তা সের্গেই কস্টেনকো জানিয়েছেন, মহাশূন্যেই বানানো এ হোটেলে থাকার ব্যবস্থা হবে খুবই আরামদায়ক। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে যেসব সুবিধা রয়েছে তার চেয়েও বেশি সুবিধা থাকবে ‘দ্য কমার্শিয়াল স্পেস স্টেশন’ নামের এ হোটেলটিতে। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন যে কক্ষপথে আবর্তন করে সে কক্ষপথেই চালু হবে এটি। হোটেলে খাবার অর্ডার দেয়ার বা খাবার পরিবেশন করার জন্য আলাদা কোন বেয়ারা থাকছে না। তবে, পছন্দের খাবার ঠিকই খেতে পাবেন অতিথিরা। এ জন্য পৃথিবী থেকে সেরা রাঁধুনীদের দিয়ে রান্না করিয়ে নিজের স্যুটে ভরে নিতে হবে তা। তবে, একটি বিষয়ে আগেভাগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তা হচ্ছে মোটেও এলকোহল পান করা যাবে না এ হোটেলে। এ হোটেলে একটু ঢুঁ মারতে চাইলেও বড়ো অঙ্কের অর্থ খরচ হবে। পাঁচদিন কাটাতে খরচ পড়বে সাড়ে ৩ লাখ পাউন্ডের মতো।

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান হয়েছেঃ বাশার

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বলেছেন, তার সরকার পতনের মতো কোনো বিপদজনক অবস্থায় নেই। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। কিন্তু সহিংসতা দমনে সেনাবাহিনীর কঠোর হওয়া উচিত বলেই মনে করি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদ্বিগ্ন হবার মতো তেমন কিছুই ঘটেনি এখানে। তিনি আরো বলেন, বহুদলীয় রাজনৈতিক প্রথা চালুর পদক্ষেপ নেয়া হবে। এবং ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি ইউরোপের সদস্য দেশগুলো আসাদকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ আহ্বানের পরিপ্রক্ষিতে ওই টিভি সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের ও ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন করা হচ্ছে। এখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।এর আগে জাতিসংঘের একটি দল সিরিয়া সফর করে জানায়, সিরিয়ায় মানবাধিকার বিনষ্ট হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের দমন করতে গিয়ে ক্রমাগত হত্যা করেছে। শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় প্রায় ৪০ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে দাবি করে জাতিসংঘ।

সবুজ সংকেতই পেল ঢাকা, মেসিরা খেলবেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে

দুপুর সোয়া ২টায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে সোজা মাঠে চলে গেলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সহকারী কোচ জুলিয়ান কামিনো। সঙ্গে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য আলবার্তো পারনাস, কলকাতা ও ঢাকার ম্যাচের প্রধান এজেন্ট প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইলেভেনের কর্মকর্তা রডরিগো এবং ভারতভিত্তিক এজেন্ট সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের দুই কর্মকর্তা ধরম দত্ত পাণ্ডে ও ভাস্বর গোস্বামী। মাঝমাঠে গিয়ে কামিনো হাত দিলেন ঘাসে, পরখ করে দেখলেন মাটির অবস্থা। মাঝবৃত্ত থেকে হেঁটে পশ্চিম সীমানায় যেতে যেতে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন মাঠের আরও কয়েক স্থান। মিনিট দশেক পরই তারা মাঠ থেকে চলে গেলেন ড্রেসিংরুমে। সেখানে দেখলেন কী কী সুযোগ-সুবিধা তৈরি হচ্ছে মেসিদের জন্য। ড্রেসিংরুমের কাজ চলছে এখনও। তাই সুযোগ-সুবিধার সব কিছু দেখা সম্ভব হয়নি তাদের। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক আবদুর রহমান ডিজাইন দেখিয়ে তাদের বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন আরও কী কী কাজ করবেন তারা। ড্রেসিংরুম যেভাবে তৈরি হচ্ছে, তা দেখে মোটামুটি সন্তুষ্টই মনে হলো তাদের। তবে বাথরুম আর টয়লেট আরও আধুনিক করার তাগিদ দিলেন তারা। দুটি ড্রেসিংরুমে চারটি শাওয়ার স্থাপনের কথা শুনে মেসিদের সহকারী কোচ কামিনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। ওয়ার্ল্ড ইলেভেনের কর্মকর্তা রডরিগো জানিয়ে দিলেন, দুই ড্রেসিংরুমে কম হলেও ১০টি শাওয়ার থাকতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার সিঁড়ি দুটিকে ঢেকে টানেলের মতো করে দিতে বলেন। মাঠ আর ড্রেসিংরুম ছাড়া স্টেডিয়ামের আর কোনো খোঁজই নিলেন না তারা। তারপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় অনুশীলনের জন্য ভেন্যু ফতুল্লা স্টেডিয়াম দেখাতে।
ফতুল্লা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে মিডিয়াকে রডরিগো জানান, অনুশীলন ভেন্যুর বিষয়ে তারা কিছু বলবেন না। সাবেলা গিয়ে রিপোর্ট জমা দেবেন। কোচই জানাবেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে ম্যাচ ভেন্যু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন তারা। 'আরেকটু সমান করাসহ মাঠে হালকা কিছু কাজ সারতে হবে। যেখানে যেখানে ঘাস কিছুটা কম, সেখানে নতুন ঘাস লাগাতে হবে। এ ছাড়া সবই ঠিক আছে। ড্রেসিংরুম যেভাবে করা হচ্ছে তাতে চলবে। কেবল বাথরুম ও টয়লেটের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দিলেই হবে'_ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ নিয়ে এমন মূল্যায়ন রডরিগোর। অনুশীলন ভেন্যুর বিষয়টি পরে জানাবেন বললেও তিনটি বিষয় নিশ্চিত করেছেন তারা। এক. বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ৬ সেপ্টেম্বর ম্যাচ হচ্ছে; দুই. মেসি আসছেনই এবং তিন. আর্জেন্টিনার পুরো দলটিই আসছে। এর আগে তারা হোটেল দেখে আর নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।পরিদর্শন দলের ম্যাচ ভেন্যুর সবুজ সংকেতের পর বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেন, 'এখন তো আর কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়। মানুষের মনে কিঞ্চিৎ যে শঙ্কা ছিল, তাও কেটে গেল। মেসিরা আসছেন এবং ম্যাচ হচ্ছে_ এর চেয়ে ভালো খবর আর কী আছে? ৬ সেপ্টেম্বরের ম্যাচের পর বিশ্বের অন্যতম আন্তর্জাতিক ফুটবল ভেন্যুর তালিকায় ঢুকে যাবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের নাম। দেশ বলুন আর ক্লাব, এরপর বিশ্বের বড় বড় দল আনতে এতটা কাঠখড় পোড়াতে হবে না। যখন তারা শুনবেন এ মাঠে মেসিরা খেলে গেছেন, তখন ভেন্যু নিয়ে বাড়তি কিছু জানতেই চাইবে না কোনো দল।'

ইংলিশরা হোয়াইটওয়াশ করেই ছাড়ল ভারতকে

লর্ডস, ২২ আগস্ট : নিজেদের মাটিতে ভারতকে শেষ পর্যন্ত হোয়াইটওয়াশ করেই ছাড়লো ইংলিশরা। আগের তিন টেস্টের পুনরাবৃত্তিই ঘটলো লর্ডস টেস্টেও। চার টেস্ট সিরিজের শেষ টেস্টে মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারতকে আবারো ইনিংস ও আট রানে বিধ্বস্ত করলো ইংল্যান্ড। ফলে ৪-০তে লজ্জাজনক ‘হোয়াইটওয়াশ’ হলো সফরকারী ভারত।স্ট্রাউস বাহিনী ভারতকে ৪-০তে হোয়াইটওয়াশ করে এন পাওয়ার টেস্ট সিরিজের ট্রফি জয়ের পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষস্থানটিও ছিনিয়ে নেয় ভারতের কাছ থেকে।প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের করা ৫৯১ রানের জবাবে সফরকারী ভারতের ইনিংস ৩০০ রানে গুটিয়ে গেলে ফলোঅনে পড়ে ভারত। ২৯১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা ভারত ২৮৩ রানের বেশি এগুতে না পারায় আবারো লজ্জাজনক ইনিংস পরাজয় জুটে তাদের কপালে।ভারতের মাস্টার ব্লাস্টার ব্যাটসম্যান শচিন টেন্ডুলকার ও অমিত মিশ্রা চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৪৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েও ইনিংস পরাজয় এড়াতে পারেননি। শচিন ৯১ রান করে ব্রেসনানের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পা দিলে মাত্র ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন শচিন।দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে অমিত মিশ্রার ব্যাট থেকে। সোয়ানের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১৪১ বল মোকাবেলায় ১০টি চারের সাহায্যে ৮৪ রান করেন মিশ্রা।
টেন্ডুলকার এদিন টেস্ট ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ৬১তম ফিফটির দেখা পান। মিশ্রাও তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করেন।ইংলিশ বোলার গ্রায়েম সোয়ান ভারতের প্রথম ইনিংস তিনটি উইকেট নিজের ঝুলিতে নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আরো ভয়ঙ্কর মূর্তি ধারণ করেন ছয় ফুট উচ্চতার ইংল্যান্ডের এই ডানহাতি অফব্রেক বোলার।সোয়ান দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের ছয়জন ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। দ্বিতীয় ইনিংসে সোয়ানের বোলিং বিশ্লেষণ ৩৮-৬-১০৬-৬।সোয়ান ছাড়াও ব্রড দুটি এবং অ্যান্ডারসন ও ব্রেসনান একটি করে উইকেট নেন।ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান ইয়ান বেল। ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রড এবং ভারতের রাহুল দ্রাবিড় যৌথভাবে সিরিজ সেরার পুরস্কার পান।আগামি ৩১ আগস্ট ম্যানচেস্টারে সফরের একমাত্র টুয়েন্টি-২০ ম্যাচে মুখোমুখি হবে এ দুই দল। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে খেলাটি।
 
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস : ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস : ৫৯১/৬ (ডিক্লেয়ার) (স্ট্রাউস ৪০, কুক ৩৪, ইয়ান বেল ২৩৫, পিটারসেন ১৭৫, বোপারা ৪৪ অপ:, প্রিয়র ১৮ অপ:, অতিরিক্ত ৩১; শ্রীশান্থ ৩/১২৩, রায়না ২/৫৮)।
ভারত প্রথম ইনিংস : ৩০০/১০ (রাহুল দ্রাবিড় ১৪৬ অপ:, শচিন ২৩, মিশ্রা ৪৩, আরপি সিং ২৫, অতিরিক্ত ২৫; ব্রেসনান ৩/৫৪, সোয়ান ৩/১০২, অ্যান্ডাসন ২/৪৯, ব্রড ২/৫১)
ভারত দ্বিতীয় ইনিংস : ২৮৩/১০ (শেবাগ ৩৩, দ্রাবিড় ১৩, লক্ষন ২৪, শচিন ৯১, মিশ্রা ৮৪, অতিরিক্ত ১৯; সোয়ান ৬/১০৬, ব্রড ২/৪৪)।
 
ফল : ইংল্যান্ড ইনিংস ও আট রানে জয়ী।
সিরিজ : ইংল্যান্ড ৪-০তে সিরিজ জয়।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ইয়ান বেল (ইংল্যান্ড)
ম্যান অব দ্য সিরিজ (যৌথভাবে) : স্টুয়ার্ট ব্রড (ইংল্যান্ড) এবং রাহুল দ্রাবিড় (ভারত)

সেলিনার সত্যিকারের বন্ধু সুইফট

বৃটিশ গায়িকা এবং অভিনেত্রী সেলিনা গোমেজ সত্যিকারের বন্ধু বলতে একজনকেই বোঝেন। তিনি হলেন আরেক টিনেজ ক্রেজ টেইলর সুইফট।
সেলিনা গোমেজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু টেইলর সুইফট। সুখে-দুঃখে সবসময়ই টেইলরকে পাশে পান সেলিনা। টেইলর-সেলিনার এই বন্ধুত্ব শুধু প্রশংসনীয়ই নয়, ঈর্ষণীয়ও বটে।টেইলর সুইফটের ব্যাপারে সেলিনা বলেন, “আমার যত সমস্যা সব কিছুর সমাধান থাকে তার কাছে। আমার যত ব্যাথা, একমাত্র সে-ই পারে দূর করতে। টেইলরের যে দিকটা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে তা হলো, সে জীবনটাকে খুব সহজভাবে দেখে। সবকিছু বিশ্বাস করে। ভালোবাসা, রূপকথা, জীবনসঙ্গী, রাজপুত্র, প্রিন্স চার্মিং...। তার জন্যই এখন আমিও এই সবে বিশ্বাস করি।”টেইলরের সুখে-দুঃখেও ১৯ বছর বয়সী সেলিনা তার পাশে থাকার চেষ্টা করেন সবসময়। একজন ভালো বন্ধু হিসেবে যেমনটা টেইলর থাকেন তার পাশে।টেইলরের সঙ্গে তার প্রেমিক জো জোনসের সম্পর্ক যখন ভেঙে যায় সেসময় সেলিনার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তখন বিমর্ষ টেইলরের পাশে একমাত্র তিনিই ছিলেন। আর এজন্য এখনো ২১ বছর বয়সী এই পপ তারকা তার বন্ধু সেলিনার কাছে কৃতজ্ঞ।সে সময়ের কথা মনে করে সেলিনা বলেন, “জোনসের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর টেইলর যখন খারাপ একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল তখন আমি তাকে মানসিকভাবে শক্ত করার জন্য কিছু গান শোনার পরামর্শ দিই। পরে সে জানায় ওই গানগুলো শুনে আসলেই সে ভালো বোধ করেছিল।”

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ