বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই, ২০১২

ভর্তিতে অতিরিক্ত ৯ কোটি টাকা নিয়েছে ৩ স্কুল

রাজধানীর তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৯ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে এই সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত না থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ সত্ত্বেও এই অর্থ বেতনের সঙ্গে সমন্বয় বা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ভর্তি ফি বাবদ মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ৩ হাজার ৫৪ জন ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে ৫ কোটি ২৩ লাখ ৭৬ হাজার ১০০ টাকা, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২ হাজার ৬৬৭ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৪ হাজার ৯০০ টাকা এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১ হাজার ৬২৭ ছাত্রীর কাছ থেকে ৬৮ লাখ ১৭ হাজার ১০০ টাকা অতিরিক্ত ফি আদায় করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ তাদের মাসিক বেতনের সঙ্গে সমন্বয় বা ফেরত দিতে এক মাসের সময় দিয়ে নোটিস দিয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিদের্শনা অনুযায়ী বিএএফ শাহীন কলেজ ও মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভর্তিতে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ শিক্ষার্থীদের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। এছাড়া আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল সেনাসদরের অনুমতিক্রমে আগামী বছরের সেশন চার্জের সঙ্গে এই অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয় করবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মেনে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিএএফ শাহীন কলেজ ১৩১ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করা ৭৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৪৪০ জনের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ তাদের মাসিক বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। মহানগরীর সাতটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ নেয়নি বলে তদন্ত কমিটি জেনেছে। এছাড়া অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং শহীদ বীর উত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস কলেজের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হলিক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১ হাজার ৩৪ জন ছাত্রীর কাছ থেকে ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করলেও এটি সরকারের এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বিতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় হবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। ঢাকা মহানগরীর ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ মাসিক বেতনের সঙ্গে সমন্বয় বা ফেরত দেওয়ার বিষয় খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মঙ্গলবার সংসদে জানান, শিক্ষার্থী ভর্তির সময় নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ আগামী এক মাসের মধ্যে ফেরত না দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির সময় নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত অথবা বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করতে গত ৩০ জানুয়ারি নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপরেও বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ভর্তির সময় নেওয়া অতিরিক্ত এই অর্থ ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগ ছিল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ