মানুষকে সুস্থ, সুন্দর দীর্ঘ জীবন দিতে গবেষণার অন্ত নেই৷ বয়স বাড়লেও মানুষ যেন স্মৃতি বিভ্রাটের কবলে না পড়ে অর্থাৎ আলৎসহাইমারের শিকার না হয় সেজন্য এবার বিজ্ঞানীরা বের করলেন এই রোগে ধরার ২০ বছর আগেই তা চিহ্নিত করার উপায়৷ সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফলাফল জানাতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বললেন, স্মৃতিশক্তি বিলোপ কিংবা চিন্তাশক্তি লোপ পেতে শুরু করার প্রায় ২০ বছর আগেই এই রোগ তথা আলৎসহাইমারের সম্ভাব্যতা চিহ্নিত করা যাবে৷ প্যারিসে আলৎসহাইমার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা উপস্থাপন করেন এই গবেষণার প্রতিবেদন৷ এতে বলা হয়েছে, এই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করার বেশ কিছু বছর আগেই মস্তিষ্ক রসায়নের নিরূপণযোগ্য কিছু পরিবর্তন ঘটতে থাকে৷ এসব পরিবর্তনের দিকে নজর রেখে সম্ভাব্য আলৎসহাইমার রোগীকে এর হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য ও পরিবর্তন চিহ্নিত করে সম্ভাব্য রোগীদের রক্ষার পাশাপাশি ইতিমধ্যে এর শিকার ব্যক্তিদের আরোগ্য লাভের ব্যাপারেও ইঙ্গিত দিয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞান৷ সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রায় সব ধরণের আলৎসহাইমার রোগের জন্য দায়ী মস্তিষ্কে বিশেষ দু’টি আমিষ জাতীয় রসের পরীক্ষা করেন৷ একটি হলো, স্পাইনাল রসে অ্যামাইলয়েড বেটা৪২ নামক আমিষের ঘাটতি পরীক্ষা৷ কারণ স্পাইনাল রসে এর ঘাটতির অর্থই হচ্ছে মস্তিষ্কের অন্য কিছু অংশে এই একই আমিষের ক্ষতিকর প্রবৃদ্ধি৷ যা স্নায়ুকোষ ধ্বংস করে এবং পরিণামে স্মৃতিশক্তির মারাত্মক ক্ষতি হয়৷ আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, স্নায়ুতন্তুর জটে ‘টাও’ নামের একটি উপাদান বৃদ্ধি যা স্নায়ুকোষের মৃত্যুর জন্য দায়ী৷ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং ঐ গবেষণার প্রধান গবেষক ব়্যান্ড্যাল বেটম্যান বলেন, ‘‘বাহ্যিকভাবে দৃশ্যমান লক্ষণ প্রকাশিত হওয়ার আগেই আমরা চিকিৎসা শুরুর মাধ্যমে এই রোগের সাথে সংশ্লিষ্ট মস্তিষ্কের কোষগুলোর ক্ষতি ঠেকাতে চাই৷” এই গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ করে এমন সম্ভাব্য রোগীদের উপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে যারা তাদের পিতা-মাতা উভয় কিংবা যে কোন একজনের কাছ থেকে জিনগতভাবে এই রোগের ঝুঁকি বহন করছিল৷ তবে বংশগতভাবে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও বিপুল সংখ্যক মানুষ জিনগত সংমিশ্রণ এবং পরিবেশগত কারণেও এই রোগে ভুগতে পারে৷ সারাবিশ্বে বর্তমানে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত৷ তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এই সংখ্যা তিনগুণ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ নতুন এই গবেষণায় আলৎসহাইমারের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের কোষে বেশ কিছু পরীক্ষা চালিয়ে এর ফল পর্যবেক্ষণ করা হয়৷ একই ধরণের বোধ মূল্যায়ন, পজিট্রন নির্গমন টমোগ্রাফি (পিইটি), চৌম্বকীয় অনুরণন প্রতিচ্ছবি তথা এমআরআই এবং মস্তিষ্কে প্রবহমান রস ও রক্তে গোপন লক্ষণ প্রকাশসূচক চিহ্নের অনুসন্ধানমূলক পরীক্ষা চালানো হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির সহোদরদের ক্ষেত্রেও৷ এসব পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের মধ্যে তখনও আলৎসহাইমারের কোন লক্ষণ দেখা যায়নি৷ কিন্তু যারা আলৎসহাইমারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তাদের মস্তিষ্ক রসে উল্লিখিত দু’টি বিশেষ আমিষেরই ক্ষতিকর প্রক্রিয়ায় হ্রাস-বৃদ্ধির প্রমাণ মিলেছে৷ যা তাদের ঝুঁকিমুক্ত ভাইদের ক্ষেত্রে ঘটেনি৷ তবে ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে ততোদিনে আলৎসহাইমারের অন্তত একটি লক্ষণ প্রকাশিত হয়েছিল৷ এ ধরণের রোগীর সংখ্যা কম হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার ১১টি গবেষণা কেন্দ্রের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়৷ এসব গবেষণা কেন্দ্র মূলত ডোমিন্যান্টলি ইনহেরিটেড আলৎসহাইমার নেটওয়ার্ক তথা ডিআইএএন এর আওতায় কাজ করে যাচ্ছে৷ এই গবেষণা কর্মে অংশগ্রহণকারী ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবীর উপর পরীক্ষার ফল প্যারিসে অনুষ্ঠিত ঐ বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়৷ সেখানে আরো জানানো হয়েছে যে, শীঘ্রই আরো ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে এই গবেষণার কাজে সম্পৃক্ত করা হবে৷ যাহোক, এই পরীক্ষার ফলে দেখা যাচ্ছে পিতা-মাতার ক্ষেত্রে ঠিক যে বয়সে আলৎসহাইমার রোগের লক্ষণ ধরা পড়েছিল তার চেয়ে ১০ থেকে ২০ বছর আগেই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে সন্তানদের ঝুঁকির বিষয়টি৷ ফলে তাদের বিশেষ চিকিৎসার আওতায় এনে এর হাত থেকে বাঁচানোর আশা দেখছেন বিজ্ঞানীরা৷ আলৎসহাইমার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান চিকিৎসা ও বিজ্ঞান বিষয়ক কর্মকর্তা উইলিয়াম থিজও আশা প্রকাশ করেন যে, এই পরীক্ষার ফল থেকে আলৎসহাইমার রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে৷
রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০১১
কলেজ-মাদ্রাসার টাইমস্কেল বন্ধ অবৈধ : হাইকোর্ট
কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষকদের টাইম স্কেল বন্ধ করে দেওয়া কেন অবৈধ ও বেআইনি নয় তা জানেত চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আদালত একই সঙ্গে পুনরায় টাইম স্কেল কেন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আজ রবিবার টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন কলেজের ৩১ জন প্রভাষকের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ বি এম নূরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার সানু।
সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১১
ভারতে বাংলাদেশি ৬১ টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ
বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী মোট ৬১ টি পণ্যে ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের অনুমতি পেয়েছে। আজ রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ খবর নিশ্চিত করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ওমর ফারুক দেওয়ান সাংবাদিকদের জানান, ভারতের বাজারে বাংলাদেশি ১৫টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন সে দেশের সরকার গত ৯ নভেম্বর জারি করেছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরে ৪৬টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায় বাংলাদেশ।
সাবেক কূটনীতিক সুপ্রদীপ চাকমা ও মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক মিনস্টার সুপ্রদীপ চাকমা ও একই দূতাবাসের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আজ রবিবার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন। দুদকের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ওই দুই কর্মকর্তা দূতাবাসের সুপ্ত অ্যাকাউন্ট থেকে ১৭ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার (১২ লাখ ৩০৬ টাকা), কল্যাণ তহবিলের পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার (তিন লাখ ১৮ হাজার ৯২৫ টাকা), নগদ তিন হাজার ৭৬৪ দশমিক ৩৯ তার্কিশ লিরাসহ (দুই লাখ পাঁচ হাজার ২৩৫ টাকা) মোট ১৭ লাখ ২৪ হাজার ৪৭৬ টাকা আত্মসাত্ করেছেন। দূতাবাসের ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক রমনা থানায় মামলা করেছে। রমনা থাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদ বলেছেন, মামলা দুটি নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য: ২০০৫ সালে সুপ্রদীপ চাকমা তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনস্টার পদ থেকে অব্যাহতি নেন। ২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন।
উল্লেখ্য: ২০০৫ সালে সুপ্রদীপ চাকমা তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনস্টার পদ থেকে অব্যাহতি নেন। ২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন।
মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০১১
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ঈদুল আজহা উদযাপন ॥ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা
সারাদেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদুল আজহা উদাযাপিত হচ্ছে।সিলেটে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক শাহী ঈদগায়। বন্দর বাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আব্দুল করিমের ইমামতিতে এখানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ ও বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীসহ সর্বস্তরের অগণিত মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী বিশ্বনাথ উপজেলার জানাইয়া ঈদগায় নামাজ আদায় করেন।এছাড়াও হযরত শাহজালাল(র) ও হযরত শাহপরান(র)-এর দরগা, কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ, শাহ মদনী ঈদগা, কালেক্টরেট ময়দান, পুলিশ লাইন মাঠ ও সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানসহ বিভিন্ন ঈদগা, মসজিদ ও খোলা মাঠে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়।প্রতিবছরের মতো এবারো সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে মহিলাদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
সিলেটে ১২ তকবিরের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়
সিলেটে ১২ তকবিরের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা হয়েছে।মহানগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে এডুকেশন সেন্টার, সিলেট আয়োজিত ঈদের জামাতে প্রথম রাকাতে ৭ তকবির ও দ্বিতীয় রাকাতে ৫ তকবির দিয়ে নামাজ আদায় করা হয় বলে জামাতে অংশগ্রহণকারী একজন মুসল্লি জানিয়েছেন।
এই জামাতে মহিলাদের জন্যেও নামাজ আদায়ের আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়।
সোমবার, ৭ নভেম্বর, ২০১১
ইরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী পালিত
ইরানে আজ মার্কিন দূতাবাস দখলের ৩২তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে এরইমধ্যে রাজধানী তেহরানসহ সারা দেশে লাখ লাখ মানুষের মিছিল ও সমাবেশ শেষ হয়েছে। এসব সমাবেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় চলমান ইসলামী জাগরণ এবং বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি ঘোষণাও করা হয়।মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলে অংশ নেয়া জনতা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করে। এসব ব্যানারে সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদ বিরোধী নানা শ্লোগান লেখা ছিল। দিবসটি উপলক্ষে রেডিও-টেলিভিশন থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হচ্ছে। ইরানের ইসলামী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের যেসব দলিল-প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলোও প্রদর্শন করা হচ্ছে।১৯৭৯ সালের এ দিনে বিপ্লবী ছাত্ররা তেহরানের মার্কিন দূতাবাস দখল করে নেয়। ইরানের ইসলামী সরকারকে উৎখাতের জন্য ওই দূতাবাস থেকে নানামুখী ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল বলে নিশ্চিত হওয়ার পর ছাত্ররা সেখানে হামলা চালায় এবং কূটনীতিকের ছদ্মবেশী ৫২ মার্কিন গুপ্তচরকে আটক করে।
মাঠের খেলোয়াড় কারাগারে
ক্রিকেট ইতিহাসে একেবারে নতুন এবং অপ্রত্যাশিত। কোনো ক্রিকেটারকে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারে জেলের ঘানি টানতে হবে, তা ছিল খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। শেষ পর্যন্ত সে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত শাস্তিরই মুখোমুখি হলেন পাকিস্তানি তিন ক্রিকেটার সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ এবং মোহাম্মদ আমের। লন্ডনের রাজকীয় আদালত সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের বিচারক জেরেমি কুক গতকাল তিন পাকিস্তানির সঙ্গে লন্ডনভিত্তিক পাকিস্তানি স্পোর্টস এজেন্ড এবং জুয়াড়ি মাজহার মাজিদেরও শাস্তি নির্ধারণ করেন। ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করার দায়ে সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক ২৭ বছর বয়সী সালমান বাটকে আড়াই বছরের (৩০ মাস), ২৮ বছর বয়সী পেসার মোহাম্মদ আসিফকে এক বছরের এবং ১৯ বছর বয়সী তরুণ পেসার মোহাম্মদ আমেরকে ৬ মাসের জেল দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৩৬ বছর বয়সী জুয়াড়ি মাজহার মাজিদকে দেওয়া হয়েছে ২ বছর ৮ মাসের জেল। আদালত থেকেই চারজনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে জেলে।সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে ৪ অক্টোবর থেকে চলা ১৪ দিনের শুনানি, ২ দিনের রিভিউ এবং জুরিদের সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চার দিন এ ২০ দিন শেষে তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটার ও মাজহার মাজিদের বিপক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ১২ সদস্যের জুরি বোর্ড তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। সে আলোকেই এর দু’দিন পর বিচারক জেরেমি কুক চারজনের বিপক্ষে বিভিন্ন মেয়াদে জেলের শাস্তির ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি জানিয়ে দেন, ‘উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণ ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তিতে যা উঠে এসেছে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ জন্য একটি শাস্তিকেই আমরা যথেষ্ট বলে মনে করেছি। সে আলোকেই শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।’ একই সঙ্গে বিচারক যোগ করেন, জেলে থাকা অবস্থায় দোষীদের আচরণ যদি সন্তোষজনক হয় তাহলে শাস্তি অর্ধেক কমে আসতে পারে। ঘোষিত রায়ের বিপক্ষে আপিল করার সুযোগ থাকছে তিন ক্রিকেটার ও জুয়াড়ি মাজহার মাজিদের সামনে।
মামলা না করায় ইসিও দোষী : আনোয়ার
নারায়ণঞ্জে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা না করে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) সংবিধান লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “এ জন্য একদিন উভয়কেই জবাবদিহি করতে হবে।”৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ২৮ অক্টোবর সকাল থেকে নির্বাচনী এলাকায় চার কোম্পানি সেনা মোতায়েনের নির্দেশনা দেয়। কিন্তু তা না হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে কমিশন ও সরকার।প্রধান বিরোধী দল বিএনপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার ভোটের ৭ ঘণ্টা আগে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এটিএম শামসুল হুদা ওইদিন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, কমিশনের নিদের্শনা মানার ব্যাপারে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকার তা করেনি।অবশ্য প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, সেনা মোতায়েন না হওয়ায় “সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটেনি।”প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে এম কে আনোয়ার বলেন, “তার (প্রধানমন্ত্রী) এই বক্তব্য সঠিক নয়। তার দলের সিনিয়র অনেক নেতাও বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনী চাওয়ার পর সেনা মোতায়েন করা সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক। সংবিধান বিশেষজ্ঞরাও একই কথা বলেছেন।”সংবিধানের ধারা তুলে করে সাবেক এই আমলা বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা না করে সরকার সংবিধানের ১২০ ও ১২৬ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে। একইভাবে সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা না করে নির্বাচন কমিশনও সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। এজন্য উভয়কেই একদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।”
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে এম কে আনোয়ার বলেন, “নারায়ণগঞ্জে একদলীয় নির্বাচন হয়েছে। আপনাদের পায়ের তলায় মাটি নেই- তা স্পষ্ট হয়েছে।”বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে সরকারের ‘আজ্ঞাবহ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই কমিশন স্বাধীন হলে কমিশনাররা পদত্যাগ করতেন, অথবা হাইকোর্টে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতেন।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে এম কে আনোয়ার বলেন, “নারায়ণগঞ্জে একদলীয় নির্বাচন হয়েছে। আপনাদের পায়ের তলায় মাটি নেই- তা স্পষ্ট হয়েছে।”বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে সরকারের ‘আজ্ঞাবহ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই কমিশন স্বাধীন হলে কমিশনাররা পদত্যাগ করতেন, অথবা হাইকোর্টে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতেন।
পুতিন বউ পেটালত
নানা কারণেই সংবাদ হয়ে ওঠেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভাদিমির পুতিন। কিন্তু এবারের খবরটি ভিন্ন রকম। তার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগ তুলেছে জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডি।বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র দ্য ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।প্রতিবেদনে জানানো হয়, পুতিন নিজে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি’র গোয়েন্দা হিসেবে তৎকালীন পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে কর্মরত থাকার সময় স্ত্রী লুদমিলাকে পেটাতেন। এছাড়া বিয়েবহির্ভূত অনেক সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ড্রেসডেনে গোয়েন্দা হিসেবে কর্মরত ছিলেন পুতিন।তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডি’র কিছু গোপন নথি স¤প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এতে পুতিনের বৈবাহিক জীবনের অতীত তথ্যসমূহ বেরিয়ে আসে।বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় দোভাষী হিসেবে কাজ করা এক জার্মান গোয়েন্দাকে লুদমিলা নিজেই বৈবাহিক জীবনের এসব কথা জানান বলে দাবি করা হয়েছে এসব নথিতে।
নরসিংদীতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা হচ্ছে: ওবায়দুল
নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেন খুন হবার পর সরকারের তৎপরতাকে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের। লোকমানের হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ হিসেবে উল্লেখ করে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‘‘নরসিংদীর ঘটনায় এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’ তিনি বলেন, “যে বা যারা হত্যাকারী হোক না কেন তাদের শাস্তি পেতেই হবে।” দ্রুত তদন্তের দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে মুখোশপড়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নরসিংদীর মেয়র লোকমান হোসেন। জনপ্রিয় এই মেয়র নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে মুখোশপড়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নরসিংদীর মেয়র লোকমান হোসেন। জনপ্রিয় এই মেয়র নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি প্রধানমন্ত্রীই ক্ষুন্ন করেছেন : মোশারফ
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্য প্রত্যাখান করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করার ‘স্পষ্ট’ ব্যাখ্যা দাবি করে দলটি। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের জবাব দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জে সেনা না দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘনের পর খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন করেছেন। আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। এর মাধ্যমে দেশের সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, সেনা মোতায়েন না হওয়ায় সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটেনি।
সায়েদাবাদে বাসের সিডিউল নেই
ঢাকা চট্টগ্রাম রুটের গাড়ি কখন গন্তব্যে পৌঁছায় তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যানজটে আটকে আছে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া এবং ঢাকামুখী সব গাড়ি। দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছানোর কারণে এখানে বাসের সিডিউল বলে কিছু থাকছে না। শুক্রবার সকাল ও দুপুরে এসব অভিযোগ করেন ওই রুটের যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকরা।ঈদের আর মাত্র দুইদিন বাঁকি, সরকারি ছুটি চলছে। তাই শুক্রবার ভোররাতেই বদলে গেছে সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ডের চিরচেনা রূপ। ঘরমুখো মানুষের প্রচণ্ড ভিড়ে এই এলাকা লোকে লোকারণ্য। কখন বাড়ি ফিরতে পারবে তার নিশ্চয়তা কেউই দিতে পারছেন না। অগ্রিম টিকেট কেটেও সময়মত পাওয়া যাচ্ছে না গাড়ি।বিলাসবহুল বাসের অগ্রিম টিকেট নিয়েও যাত্রীরা সময়মত গাড়ি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাধারণ গাড়িগুলোর যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে গাড়ির স্বল্পতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন রুটের লোকাল বাসগুলো এখন দূরপাল্লার যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে।ঢাকা-কুমিল্লা রুটের তিশা বাসসার্ভিসের সুপারভাইজার হাবিবুর রশিদ বলেন, “রাস্তায় খুব বেশি যানজট। তাই তাদের গাড়ি সময়মত ঢাকা পৌঁছাতে পারছেনা। তাছাড়া ওই রুটের যাত্রীদের চাপ এতই বেশি যে গাড়ি সায়েদবাদে আসার আগেই যাত্রাবাড়ী বা আশপাশের এলাকাতেই যাত্রীরা উঠে পড়ে। তাই নামমাত্র সায়েদাবাদ এসে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যেতে হচ্ছে।”
বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১১
আফ্রিদি ওয়ানডে দলে ফিরেছেন
পাকিস্তান দলে ফিরেছেন সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজের জন্য তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। জাকা আশরাফ পিসিবি প্রধান পদে ইজাজ বাটের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর স্বরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন আফ্রিদি। বুধবার আশরাফ আফ্রিদির সঙ্গে আলোচনা করেন এবং দলে ফেরেন আফ্রিদি। জিম্বাবুয়ে সফরে বিশ্রামে থাকা ওয়াহাব রিয়াজ বাদ পড়েছেন ১৬ সদস্যের ওয়ানডে দল থেকে। তবে ফিরেছেন উমর গুল। পেস আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন তিনি। সেখানে তার সঙ্গী জুনায়েদ খান, আজিজ চিমা ও সোহেল তানভির। উইকেটরক্ষক আদনান আকমলের পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন নয়টি ওয়ানডে খেলা সরফরাজ আহমেদ। দল: মিসবাহ-উল-হক (অধিনায়ক), শহিদ আফ্রিদি, আব্দুল রাজ্জাক, উমর গুল, জুনায়েদ খান, আজিজ চিমা, সোহেল তানভির, সরফরাজ আহমেদ (উইকেটরক্ষক), শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ হাফিজ, ইমরান ফারহাত, ইউনুস খান, উমর আকমল, সাঈদ আজমল, আব্দুর রেহমান ও আসাদ শফিক।উল্লেখ্য: দল দুটি ৫টি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলবে। ১১ নভেম্বর থেকে ওয়ানডে শুরু হবে। এর আগে ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হবে তৃতীয় ও শেষ টেস্ট।
২৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ গুণতে হবে মতিনকে
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যোগাযোগ ও নৌপরিবহন উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্বিতীয় যুগ্ম-জেলা জজ মো. মোহসিনুল হক এ নির্দেশ দেন।মামলার অপর বিবাদী হলেন, তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব একে মোতাহার হোসেন। চট্টগ্রামের বার্থ অপারেটর প্রতিষ্ঠান এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহাদাত হোসেন সেলিমের দায়ের করা একটি ক্ষতিপূরণ মামলায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়।২০০৯-এর ১ সেপ্টেম্বর ২৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে শাহাদাত হোসেন সেলিম বাদী হয়ে এমএ মতিন ও মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।রায়ে আদালত বিবাদী দুজনকে ২৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন, এ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে তা নিলামে বিক্রির মাধ্যমে আদালত আদায় করতে পারবে। এছাড়া ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদী দুজনকে দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা যাবে বলেও নির্দেশ দেন।রায় প্রদান কালে বিচারক অভিমত প্রকাশ করেন যে, বিবাদীদ্বয় বাদীর দরপত্র বেআইনীভাবে বাতিল করেছেন। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর) ২০০৮ এ ৩৩ বিধিতে যেভাবে একটি দরপত্র বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে তা অনুসরণ করা হয়নি।টেকনিক্যাল কমিটি ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ তিনবার বাদীর পক্ষে সুপারিশ করা সত্ত্বেও বিবাদীদ্বয় নিজেরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। এতে একদিকে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে বাদী প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।বিচারক আরও অভিমত প্রকাশ করেন যে, পিপিআর এর ৬৬(৫) বিধি অনুযায়ী ন্যূনতম ৪২ দিন সময় দিয়ে নতুন দরপত্র আহবান করতে হবে। এক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে ৩৯ দিনের মাথায় নতুন দরপত্র আহবান করা হয়েছে। যা বিধি সম্মত হয়নি।
বাদী তার মামলায় অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০০৮ সালে বন্দরের অভ্যন্তরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করলে বাদীর প্রতিষ্ঠানসহ ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক বাদীর প্রতিষ্ঠান এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত বিবেচিত হয়। বাদীর প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ায় মূল্যায়ন কমিটি তাকে কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশও করে।বাদীকে কোনো প্রকার কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং পিপিআর এর ধারা অনুসরণ না করে দরপত্র বাতিল করা হয়। বাদীর দাবি দরপত্র বাতিলে বিবাদীদের বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল। এর মাধ্যমে বিবাদীরা বাদীর ২৫ কোটি টাকা ক্ষতি করেছেন।উল্লেখ্য, বহুল আলোচিত এই টেন্ডার কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্ত করে প্রধানমন্ত্রী এবং নৌ-মন্ত্রী ও সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। প্রতিবেদনে জেনারেল মতিন ও শেখ মোতাহারসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছিল।
বাদী তার মামলায় অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০০৮ সালে বন্দরের অভ্যন্তরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করলে বাদীর প্রতিষ্ঠানসহ ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক বাদীর প্রতিষ্ঠান এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত বিবেচিত হয়। বাদীর প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ায় মূল্যায়ন কমিটি তাকে কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশও করে।বাদীকে কোনো প্রকার কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং পিপিআর এর ধারা অনুসরণ না করে দরপত্র বাতিল করা হয়। বাদীর দাবি দরপত্র বাতিলে বিবাদীদের বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল। এর মাধ্যমে বিবাদীরা বাদীর ২৫ কোটি টাকা ক্ষতি করেছেন।উল্লেখ্য, বহুল আলোচিত এই টেন্ডার কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্ত করে প্রধানমন্ত্রী এবং নৌ-মন্ত্রী ও সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। প্রতিবেদনে জেনারেল মতিন ও শেখ মোতাহারসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাসী : খামেনেয়ি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাসী। অথচ, এই দেশটিই ইরানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের সন্ত্রাসের অভিযোগ আনছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি হুঁশিয়ার করে দেন। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সরকারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমাদের কাছে অন্ততঃ একশ’ প্রমাণ রয়েছে যা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ইরানি ছাত্রদের এক বিশাল সমাবেশে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি আজ এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কথিত মানবাধিকারের ধ্বজাধারীদের বিরুদ্ধে ইরান তাদের সন্ত্রাসের প্রমাণ তুলে ধরবে এবং এতে তাদেরকে লজ্জিত হতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বলদর্পী শক্তিগুলো এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের নানামুখী ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় ইরান সবসময়ই সফল হয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামী গণতন্ত্র নামে ইরান বিশ্বব্যাপী নতুন যে রাজনৈতিক দর্শন ছড়িয়ে দিয়েছে তাতে চিন্তিত হয়ে পড়েছে শত্রুরা। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি রাষ্ট্রদূত হত্যা পরিকল্পনার মতো হাস্যকর এবং অসম্ভব অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু, বিশ্বের সব চিন্তাশীল মানুষ মার্কিন ওই হাস্যকর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ছাড়া, দেশটিতে বর্তমানে পুজিঁবাদবিরোধী ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ নামে যে আন্দোলন চলছে তাতেও মার্কিন সরকারের জন্য বিপদ বার্তা ধ্বনিত হচ্ছে। এ থেকে রক্ষা পেতে এবং জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলছে।
মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০১১
দীর্ঘমেয়াদী ব্যথায় নিউরোস্টিমিউলেশন
জার্মানিতে প্রতি আট জনে একজন ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথায় ভোগেন৷ অনেককেই যন্ত্রণালাঘব করতে ওষুধের সাহায্যে দিনটা পার করতে হয়, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম নয়৷ অথচ নতুন এক ধরনের প্রযুক্তি সাহায্য করতে পারে এই সব রোগীকে৷ ৫০ বছর বয়স্ক উটের স্লিপ্ড ডিস্ক বা মেরুদণ্ডের হাড়ের ডিস্কে সমস্যা দেখা দেয় বছর দশেক আগে৷ সফল একটা অপারেশনও হয়৷ দু বছর ভালই কাটে উটের৷ কিন্তু তারপর আবার তাঁর স্লিপ্ড ডিস্ক হয়৷ দ্বিতীয় অপারেশনের পর সংক্রমণ দেখা দেয়, যা থেকে শুরু হয় ব্যথা৷ উটের ভাষায়, অবস্থাটা ছিল আশাহীন৷ প্রচণ্ড যন্ত্রণায় আমি নড়াচড়া করতে পারতাম না৷ জীবনের কোন কিছুতে অংশ গ্রহণ করতে পারতাম না৷ কড়া ডোজের মর্ফিন নিয়ে দিন কাটাতে হত৷ জীবনটা ছিল হতাশায় ভরা৷উটের মত আরো অনেক ব্যথার রোগীরই এই রকম অবস্থা হয়৷ নিয়মিত কড়া যন্ত্রণালাঘব ওষুধ’এর সাহায্যে জীবন কাটাতে হয় তাঁদের৷ এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও মারাত্মক৷ উটে জানান, এই ওষুধের ফলে আমার ডিপ্রেশন দেখা দেয়৷ আমি নিজেকে মানুষের কাছ থেকে সরিয়ে নেই৷ আট বছর ধরে, বলা যায় আমি গৃহবন্দিই ছিলাম৷ আমার স্বামীও আমার এই দুর্ভাগ্যের সঙ্গী হন৷মর্ফিনমুক্ত জীবন নয় মাস ধরে উটের আর মর্ফিন নিতে হয় না৷ আধুনিক এক নিউরোস্টিমিউলেটর ওষুধের বিকল্প হিসাবে কাজ করছে৷ এক ধরনের ব্যথানিরোধক পেসমেকার৷ পাশাপাশি রাখা আটটি ক্ষুদ্র ধাতু বা ইলেকট্রড৷ একটি সরু কাঠির মত দেখতে এই ইলেকট্রড মেরুদণ্ড বরাবর বসানো হয়, যেখান থেকে ইলেকট্রিক পাল্স পাঠানো হয়৷ ইলেকট্রড থেকে একটি তার নিতম্ব পর্যন্ত যায়৷ সেখানে থাকে একটি ব্যাটারি, যা আয়তনে একটি রবারের দ্বিগুণ৷ কোলন ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের নিউরোসার্জারির ডাক্তার টর্সটেন রিথমান উটের শরীরে এই যন্ত্রটি প্রতিস্থাপন করেন৷ তাঁর ভাষায়, এই নিউরোস্টিমিউলেশন অনেকটা মস্তিষ্ককে ফাঁকি দিয়ে কাজ করে৷ আমরা অস্থির মজ্জায় ইলেকট্রড বসিয়ে মস্তিষ্কে পাঠানো ব্যথার অনুভূতিকে অনেকটা বন্ধ করে দেই৷ ফলে রোগী যন্ত্রণার বদলে একটা শিহরণ অনুভব করে৷অন্যান্য অসুখেও কাজে লাগে এই পেসমেকার
শুধু স্লিপ্ড ডিস্ক হলেই নয়, অন্যান্য অনেক ক্রনিক অসুখ বিসুখ ও আঘাত জনিত ব্যথায়ও সাহায্য করে এই নিউরোস্টিমিউলেশন৷ যেমন হৃদযন্ত্রের রক্তচলাচলে সমস্যা দেখা গেলে প্রয়োগ করা যেতে পারে নিউরোস্টিমিউলেশন৷ ডা. রিথমানের ভাষায়, ব্যথা না থাকায় রোগীরা সক্রিয় জীবনে অংশ গ্রহণ করতে পারেন৷ এর ফলে হার্টেও রক্ত চলাচল ভাল হয়৷রিথমান আরো জানান, আমাদের কাছে এমন সব রোগীও আসেন, যারা কোনো যুদ্ধ বিগ্রহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হারিয়েছেন৷ গাড়ি বা মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরাও লাভবান হন আমাদের চিকিত্সায়৷সাধারণত ব্যথার পেসমেকার প্রতিস্থাপন দ্রুত ও সহজেই করা সম্ভব৷ কয়েক দিন পরই রোগী হাসপাতাল ছাড়তে পারেন৷ উটের কাছে পেসমেকার লাগানোটা ছিল যন্ত্রণাময় এক জীবনের পর খুব সামান্য ব্যাপার৷ এরপর তাঁর জীবনটা যেন আমূল বদলে গেছে৷ উটে জানান, এটাই আমার কাছে এখন ব্যথার ওষুধ৷ রোগ থেকে মুক্ত হইনি আমি৷ আগের মত আমার অসুখটা এখনও আছে৷ পেসমেকার আমার ওষুধের বিকল্প এখন৷যন্ত্রণার অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায় না উটের পেসমেকার সবসময় চলে তবে ব্যথা কম বেশি হলে তিনি যন্ত্রটাও বাড়াতে কমাতে পারেন৷ উটে বলেন, গতকাল আমার সাঙ্ঘাতিক ব্যথা উঠেছিল৷ এরকম হলে আগে আমি যন্ত্রণায় চিত্কার করতাম৷ এখন আমি পেসমেকারের যন্ত্রটা বাড়িয়ে দেই৷ খিঁচুনিটা থাকে৷ কিন্তু ব্যথার অনুভূতিটা মস্তিষ্কে পৌঁছায় না৷ পায়ের খিঁচুনি লক্ষ্য করতে পারি, কিন্তু কোনো যন্ত্রণা অনুভূত হয়না৷ আমার কাছে এটা খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার৷ ইলেকট্রিক পাল্স নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উটের কাছে একটি রিমোট কন্ট্রোল থাকে৷ এই যন্ত্রটি আবার একটি অ্যান্টেনার সঙ্গে যুক্ত থাকে, যেটি অনেকটা ক্রিমের কৌটার মত দেখতে৷ অ্যান্টেনাটি পেসমেকারের কাছে নিতম্বের ওপরে ধরে রাখেন তিনি৷ উটের ভাষায়, কয়েকদিন পরপর ব্যাটারি চার্জ করি৷ এজন্য একটি চার্জারও আছে৷ অ্যান্টেনার মাধ্যমেই ব্যাটারি চার্জ করা যায়৷ পাশাপাশি ঘরকন্নার টুকিটাকি কাজ, রান্না বান্না বা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করাও চলে৷ শুধু উটেরই যন্ত্রণাময় আটটি বছর কাটেনি৷ তাঁর স্বামীকেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে৷ স্ত্রীকে সহায়তা করতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তাঁকে৷ উটে হেসে জানান, আমার স্বামী বলেন, ‘দুষ্টামি করলে তোমার রিমোট কন্ট্রোলটা কেড়ে নেব৷ কী নিষ্ঠুর তাই না?
শুধু স্লিপ্ড ডিস্ক হলেই নয়, অন্যান্য অনেক ক্রনিক অসুখ বিসুখ ও আঘাত জনিত ব্যথায়ও সাহায্য করে এই নিউরোস্টিমিউলেশন৷ যেমন হৃদযন্ত্রের রক্তচলাচলে সমস্যা দেখা গেলে প্রয়োগ করা যেতে পারে নিউরোস্টিমিউলেশন৷ ডা. রিথমানের ভাষায়, ব্যথা না থাকায় রোগীরা সক্রিয় জীবনে অংশ গ্রহণ করতে পারেন৷ এর ফলে হার্টেও রক্ত চলাচল ভাল হয়৷রিথমান আরো জানান, আমাদের কাছে এমন সব রোগীও আসেন, যারা কোনো যুদ্ধ বিগ্রহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হারিয়েছেন৷ গাড়ি বা মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরাও লাভবান হন আমাদের চিকিত্সায়৷সাধারণত ব্যথার পেসমেকার প্রতিস্থাপন দ্রুত ও সহজেই করা সম্ভব৷ কয়েক দিন পরই রোগী হাসপাতাল ছাড়তে পারেন৷ উটের কাছে পেসমেকার লাগানোটা ছিল যন্ত্রণাময় এক জীবনের পর খুব সামান্য ব্যাপার৷ এরপর তাঁর জীবনটা যেন আমূল বদলে গেছে৷ উটে জানান, এটাই আমার কাছে এখন ব্যথার ওষুধ৷ রোগ থেকে মুক্ত হইনি আমি৷ আগের মত আমার অসুখটা এখনও আছে৷ পেসমেকার আমার ওষুধের বিকল্প এখন৷যন্ত্রণার অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায় না উটের পেসমেকার সবসময় চলে তবে ব্যথা কম বেশি হলে তিনি যন্ত্রটাও বাড়াতে কমাতে পারেন৷ উটে বলেন, গতকাল আমার সাঙ্ঘাতিক ব্যথা উঠেছিল৷ এরকম হলে আগে আমি যন্ত্রণায় চিত্কার করতাম৷ এখন আমি পেসমেকারের যন্ত্রটা বাড়িয়ে দেই৷ খিঁচুনিটা থাকে৷ কিন্তু ব্যথার অনুভূতিটা মস্তিষ্কে পৌঁছায় না৷ পায়ের খিঁচুনি লক্ষ্য করতে পারি, কিন্তু কোনো যন্ত্রণা অনুভূত হয়না৷ আমার কাছে এটা খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার৷ ইলেকট্রিক পাল্স নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উটের কাছে একটি রিমোট কন্ট্রোল থাকে৷ এই যন্ত্রটি আবার একটি অ্যান্টেনার সঙ্গে যুক্ত থাকে, যেটি অনেকটা ক্রিমের কৌটার মত দেখতে৷ অ্যান্টেনাটি পেসমেকারের কাছে নিতম্বের ওপরে ধরে রাখেন তিনি৷ উটের ভাষায়, কয়েকদিন পরপর ব্যাটারি চার্জ করি৷ এজন্য একটি চার্জারও আছে৷ অ্যান্টেনার মাধ্যমেই ব্যাটারি চার্জ করা যায়৷ পাশাপাশি ঘরকন্নার টুকিটাকি কাজ, রান্না বান্না বা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করাও চলে৷ শুধু উটেরই যন্ত্রণাময় আটটি বছর কাটেনি৷ তাঁর স্বামীকেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে৷ স্ত্রীকে সহায়তা করতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তাঁকে৷ উটে হেসে জানান, আমার স্বামী বলেন, ‘দুষ্টামি করলে তোমার রিমোট কন্ট্রোলটা কেড়ে নেব৷ কী নিষ্ঠুর তাই না?
ঈদুল আযহা : ত্যাগ কুরবানির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মাওলানা মনির হোসেন হেলালী
ঈদ শব্দটি আরবি। এর অর্থ বারবার ফিরে আসা, ঘুরে ফিরে আসা, জামায়েত হওয়া, খুশি, আনন্দ, অভ্যাস ইত্যাদি। এমন দিনকে ঈদ বলা হয় যে দিন মানুষ একত্র হয় ও দিনটি বারবার ফিরে আসে। এটা আরবি শব্দ “আদা-ইয়াউদু” থেকে উৎপন্ন হয়েছে। আবার অনেকে বলেন এটা আরবি শব্দ “আদত” বা অভ্যাস থেকে উৎপন্ন। কেননা মানুষ ঈদ উদযাপনে অভ্যস্ত। সে যাই হোক, যেহেতু এ দিনটি বারবার ফিরে আসে এবং মুসলমানরা এ দিনে তাদের প্রভুর নির্দেশ পালন করে আনন্দ পায় তাই এর নামকরণ করা হয়েছে ঈদ। এ শব্দ দ্বারা এ দিবসের নাম রাখার তাৎপর্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ দিবসে তার বান্দাদেরকে নিয়ামাত ও অনুগ্রহ দ্বারা বারবার ধন্য করেন ও তাঁর ইহসানের দৃষ্টি বারবার দান করেন। যেমন রমযানে পানাহার নিষিদ্ধ করার পর আবার পানাহারের আদেশ প্রদান করেন। সদকায়ে ফিতর, হজ-যিয়ারত, কুরবানির গোশত ইত্যাদি নিয়ামাত তিনি বারবার ফিরিয়ে দেন। আর এ সকল নিয়ামাত ফিরে পেয়ে ভোগ করার জন্য অভ্যাসগতভাবেই মানুষ আনন্দ-ফুর্তি করে থাকে। ঈদ এর একাধিক অর্থ থাকলেও আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ ঈদ বলতে খুশিই বুঝে থাকে। এ খুশির ঈদ আমাদের মাঝে আসে প্রতি বছর দু’বার। একটিকে আমরা বলি ঈদুল ফিতর বা রোযার ঈদ, আর অন্যটিকে বলে থাকি ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ। ঈদুল ফিতর মাহে রমযানে পূর্ণ একমাস সিয়াম সাধনা পালনের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন ও ক্ষুধাতুরের কষ্ট অনুভব করার সাথে সম্পৃক্ত। আর ঈদুল আযহা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় পবিত্র হজ্জ পালন ও মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম এবং স্বীয় পুত্র ইসমাঈল আলাইহিমাস সালাম এর ত্যাগ ও কঠিন ঈমানী পরীক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের কথা। যে সমাজে এখনো আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করা হয়, হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে পথে-ঘাটে জীবন যাপন করছে, দিনে তিন বেলা তিন মুঠো ভাত ঝুটে না যাদের, রাত্রি বেলায় আশ্রয় পায় না যারা তাদের মতো অসহায়দের মুখে হাসি না ফুটিয়ে কীভাবে সম্ভব ঈদের সত্যিকার আনন্দ উপভোগ করা! ঈদ অর্থ খুশি বা আনন্দ। কিন্তু এ আনন্দ কার জন্যে? যে শয়তানকে খুশি করতে পেরেছে তার জন্যে, নাকি যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পেরেছে তার জন্যে? নিঃসন্ধেহে যে আল্লাহকে খুশি করতে পেরেছে ঈদ কেবল তার জন্যেই। যে সমাজে সত্য বলা বা সত্যের উপর অবস্থান করার কারণে ভাল মানুষগলো নির্যাতনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়, প্রভাব খাটিয়ে চলে যুলুমবাজরা, সেখানে ঈদের আনন্দ খুঁজে পাওয়া কীভাবে সম্ভব। যারা আজ অসহায়-মাযলুম তাদের কি মনে চায় না ঈদের আনন্দ করতে? তা হলে পারছে না কেন? এ বাস্তব সত্যটুকুন উপলব্ধি করতে না পারলে সত্যিকার অর্থে ঈদ এর আনন্দ অনুভব করা যাবে না। কেউ আনন্দ পায় পরকে ঠকিয়ে, কেউ পায় পরকে দিয়েÑ তবে দুজনের মর্যাদা কিন্তু এক নয়। নমরুদ-ফেরাউন আনন্দ পেয়েছে অন্যের উপর যুলম-নির্যাতন করেÑ তাদের ঠিকানা হয়েছে জাহান্নামে। দুনিয়াতেও হয়েছে তারা অপমানিত। আর মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম ও পুত্র ইসমাঈদ আলাইহিমাস সালাম আনন্দ পেয়েছেন মহান রবের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে আগুনে ঝাপ দিয়ে, ছুরির নিচে গর্দান পেতে দিয়ে। আগুনের কুন্ডুলিতে ঝাপ দিয়েও ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ভুলেননি তাঁর রবকে। তাঁর এ ত্যাগ কবুল করেছেন আল্লাহ তায়ালা। ফলে তিনি হয়েছেন মুসলিম জাতির পিতা। যুগ যুগ ধরে এ ইতিহাস লেখা থাকবে সোনালি আক্ষরে। এ সব স্মরণ করতে থাকবে মুসলিম জাতি। ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমাস সালাম এর আত্মত্যাগই আজ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে ঈদুল আযহা উদযাপন আর পশু কুরবানি করতে। ইসলামে ঈদের প্রচলন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলিম উম্মাহর প্রতি রহমত হিসেবে যেসব নিয়ামাত দান করেছেন তার মধ্যে ঈদ অন্যতম। হাদীসে এসেছে- ‘রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনাতে আগমন করলেন তখন মদিনাবাসীদের দুটো দিবস ছিল যে দিবসে তারা খেলাধুলা করত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন এ দু’ দিনের কি তাৎপর্য আছে? মদিনাবাসীগণ উত্তর দিলেন, আমরা মূর্খতার যুগে এ দু’ দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন রাসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ দু’ দিনের পরিবর্তে তোমাদের এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দুটো দিন দিয়েছেন। তা হল ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।’ (আবু দাউদ- ১১৩৪, হাদীসটি সহীহ) যে দুটো দিন ছিল শুধু খেলা-ধুলা, আমোদ-ফুর্তির জন্য আল্লাহ তায়ালা তা পরিবর্তন করে এমন দুটো দিন দান করলেন যে দিনে আল্লাহর শুকরিয়া, জিকির, তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সাথে সাথে শালীন আমোদ-ফুর্তি, সাজ-সজ্জা, খাওয়া-দাওয়া করা হবে। এতে একদিকে আল্লাহর নির্দেশ মান্য করে তাঁর খাটি গোলাম হওয়ার যেমন সুযোগ রয়েছে তেমনি রয়েছে আনন্দ ফুর্তিও। ঈদের তাৎপর্য ইতিপূর্বে আলোচিত আনাস রাদি আল্লাহ বর্ণিত হাদীস থেকে ঈদের ফজিলত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। তা হল আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উম্মতে মোহাম্মদীকে সম্মানিত করে তাদের এ দুটো ঈদ দান করেছেন। আর এ দুটো দিন বিশ্বে যত উৎসবের দিন ও শ্রেষ্ঠ দিন রয়েছে তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। ইসলামের এ দুটো উৎসবের দিন শুধু শুধু আনন্দ-ফুর্তির দিন নয়। বরং এ দিন দুটোকে আনন্দ-উৎসব-এর সাথে সাথে জগৎসমূহের প্রতিপালকের ইবাদাত-বন্দেগি দ্বারা রঙিন করা হবে। যিনি জীবন দান করেছেন, সুন্দর আকৃতি, সুস্থ শরীর, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পরিবার-পরিজন দান করেছেন। যার জন্য জীবন ও মরণ তাকে এ আনন্দের দিনে ভুলে থাকা হবে আর সব কিছু ঠিকঠাক মত চলবে এটা কীভাবে মেনে নেয়া যায়? তাই ইসলাম আনন্দ-উৎসবের এ দিনটাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইবাদাত-বন্দেগি, তাঁর প্রতি শুকরিয়া-কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দ্বারা সুসজ্জিত করেছে। আর উক্ত হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, ঈদুল ফিতরের চেয়ে ঈদুল আযহা আরো শ্রেষ্ঠ। হাদীসে ঈদুল আযহার কথাই আগে বলা হয়েছে।
মুমিনের ঈদ ঈদ যেমন বারবার ফিরে আসে তেমনি মুমিনের জীবনে ত্যাগ কুরবানির পরীক্ষাও বারবার ফিরে আসে। ত্যাগ কুরবানির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই মুমিনের ঈদ। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুনিয়াটা মুমিনের জন্য জেলখানা। জেলখানায় যেমন কয়েদির কোন স্বাধীনতা নেই তেমনি দুনিয়ার জীবনেও মুমিনের নিজস্ব কোন স্বাধীনতা নেই। মুমিন স্বাধীনতা ভোগ করবে পরকালে। তাই দুনিয়ার পরাধিনতার মধ্যেই রয়েছে মুমিনের সুখ। মুমিন নিজের নফসকে প্রভুর নির্দেশের গোলাম বানিয়ে নেয়, নিজে কখনো নফসের গোলাম হয় না। ইতিহাস সাক্ষি, পৃথিবীর সকল মহৎ ব্যক্তিই ত্যাগ কুরবানিকে নিজেদের পাওনা ও পরিতৃপ্তির বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছিলেন। আল্লাহর খুশিতে তাঁরা ছিলেন খুশি, আল্লাহর অখুশিতে তাঁরা ছিলেন অখুশি। আল্লাহকে খুশি করতে গিয়ে দুনিয়ায় হাজার যুলুম, নির্যাতনকে তাঁরা হাসি মুখে গ্রহণ করে নিয়েছেন তবুও মাথা নত করেননি বাতিলের সামনে। সুমাইয়া, আম্মার ইবনে ইয়াসার, বেলাল, খাব্বাব রাদি আল্লাহু তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। খাদিজা, আয়েশা, আবূবকর, উমার, উসমান, আলী, আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির ঈদ করতে গিয়ে। ইসলামের খিদমাতে ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ী, মালেক, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম বুখারী ও মুসলিম ছিলেন পাগল পারা। সায়্যেদ কুতুব, ইমাম গাজালি, শাহজালাল, শাহপরান, শাহ মাখদুমও তাঁদেরই পথের অনুসারী।
তাদের পথ ধরে আজও যারা কালিমার পতাকা উড্ডীন করার প্রচেষ্টায় জীবন বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন, জীবন-যৌবন সব কিছু দেয়ার পরেও প্রতিহিংসার জালে আটকা পড়ে ঈদ করছেন কারাগারে, তারাও রয়েছেন মুমিনদের তালিকায়। এভাবে যুগ যুগ ধরে যারাই আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করে আনন্দ পেতে চাইবে তাদের সবাইকে ত্যাগ ও কুরবানির পরীক্ষা দিতে হবে। আর এ ধরনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দই তাদের ঈদ।ইবরাহীম আ. ঈদ করেছেন পুত্রকে জবাই করে আত্মত্যাগের মহান নায়ক ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ঈদ করেছেন প্রাণের প্রিয় একমাত্র পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করার মাধ্যমে। তাঁর কাছে পুত্রের সম্পর্ক বড় ছিল না, ছিল প্রভুর নির্দেশ পালন করাটাই বড়। তাই তিনি কুন্ঠাবোধ করেননি পিতা হয়ে পুত্রের গলায় ছুরি চালাতে। পুত্রও ছিল আল্লাহর প্রেমের মহান আশিক। ফলে পিতার সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করেনি সে। বিলিয়ে দিয়েছে নিজের জীবনটাকে আল্লাহর পথে অকুন্ঠচিত্তে। তাঁদের এ মহান ত্যাগ শুধু ইতিহাসের পাতায়ই লেখা হয়নি, লেখা হয়েছে অপরিবর্তনীয় মহাগ্রন্থ আলকুরআনেও। জীবন্ত কুরআন আজো তা সাক্ষ্য দিচ্ছে। দাম্পত্য জীবনের শুরুতে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর কোন সন্তানাদি ছিল না। তিনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে বলেছেন, ‘হে আমার রব, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন’। (সূরা-৩৭. আস্সফ্ফাত : ১০০)। আল্লাহ তায়ালা তাঁর দোয়া কবুর করেন। দোয়ার জবাবে বলেন, ‘অতঃপর তাকে আমি পরম ধৈর্যশীল একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলাম’। (সূরা-৩৭. আস্সফ্ফাত : ১০১) ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর বয়স যখন প্রায় ৮০ বছর তখন পুত্র হিসেবে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম জন্ম গ্রহণ করে। এর পর ইসমাঈল আলাইহিস সালাম যখন চলাচল করার মতো অবস্থায় পৌঁছলো তখন শুরু হলো এক কঠিন পরীক্ষা। আল্লাহ তাকে কুরবানি করার জন্য পিতাকে স্বপ্নে নির্দেশ দিলেন। পিতা তাঁর রবের নির্দেশ পালনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলো। এ ব্যাপারে ছেলের সাথেও পরামর্শ করল। আল্লাহর নির্দেশ পালনে ছেলেও রাজি হলো। উভয়ের সিদ্ধান্তের কথা আল্লাহ তায়ালা আলকুরআনে প্রকাশ করেছেন। কুরআন বলছে, ‘অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন সে বলল, ‘হে প্রিয় বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত’; সে বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন’। (সূরা-৩৭. আস্সফ্ফাত : ১০২) এরপর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম নিজ সন্তানকে কুরবানি করে আল্লাহর সন্তুষ্টির ঈদ উদযাপন করেন। যেমন কুরআনে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তাঁরা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে (ইসমাঈলকে ) কাত করে শুইয়ে দিল। তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললাম, ‘হে ইবরাহীম, ‘তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি’। ‘নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা’। আর আমি এক মহান জবেহের (একটি জান্নাতী দুম্বার) বিনিময়ে তাঁকে মুক্ত করলাম। আর তাঁর জন্য আমি পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি। ইবরাহীমের প্রতি সালাম। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয় সে আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা-৩৭. আস্সফ্ফাত : ১০৩-১১১) তাঁরা ঈদ করেছেন ঈদের দাবির আলোকে। আর আমরা ঈদ করি আমাদের নফসের খায়েসে। যে ঈদ ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে করেছিল ধন্য, সে ঈদ কি আমরা আজো উদযাপন করতে পেরেছি?বর্তমান সমাজে আমাদের ঈদের চিত্র বর্তমানে ঈদকে আমরা খুশির বিষয় হিসেবে গ্রহণ করি ঠিকই কিন্তু ঈদের মাপকাঠি কী হবে তা আমরা হিসেব করে দেখি না অনেকেই। আমাদের সন্তানেরা আজ আনন্দ বলতে কেবল নিজেদের ইচ্ছেমতো চলা ফেরা, কাজ-কর্ম, বেহায়পনা, উল্টা-পাল্টা আচার-আচরণ করে লাফ ফাল দিয়ে দিন কাটানোকেই মনে করে। তারা পারেনি ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও শিশু ইসমাঈলের মতো আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করতে, পারি না আমরা বড়রাও।
মূলত ঈদ হল মুসলিমদের শান-শওকত প্রদর্শন, আত্মার পরিশুদ্ধি, তাদের ঐক্য সংহতি ও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উৎসব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বহু মুসলিম এ দিনটাকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে জানে না। তারা এ দিনে বিভিন্ন অনৈসলামিক কাজ-কর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। কোনটি গ্রহণীয় আর কোনটি বর্জনীয় ঈদের আনন্দ করতে গিয়ে তারা তার হিতাহিত জ্ঞান রাখে না। আজ মুসলিম সমাজে কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কাজ বা আচরণ করার মতো ব্যাধি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা পোশাক-পরিচ্ছদে, চাল-চলনে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অন্ধ অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে তারা যেমন সাংস্কৃতিক দৈন্যতার পরিচয় দিচ্ছে অপর দিকে নিজেদের তাহজিব-তামাদ্দুনের প্রতি অনীহা দেখাচ্ছে। এ ধরনের আচরণ ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ। হদীসে এসেছে- সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদি আল্লাহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে। (আবু দাউদ- ৪০৩১, হাদীসটি সহীহ ) এ হাদীসের ব্যাখ্যায় শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহমাতুল্লাহি আলাই বলেন, হাদীসের বাহ্যিক অর্থ হল যে কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য রাখবে সে কাফের হয়ে যাবে। যদি এ বাহ্যিক অর্থ (কুফরির হুকুম) আমরা নাও ধরি তবুও কমপক্ষে এ কাজটি হারাম তো হবেই। (ইকতেজাউ সিরাতিল মুস্তাকীম : ইমাম ইবনে তাইমিয়া। ১ম খন্ড, পৃ-২৪১) শুধু কি তা-ই! পুরুষ-মহিলা একে অন্যের বেশ ধারণ, বেগানা মহিলা পুরুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, গান-বাদ্য শোনা ইত্যাদি কোন অপকর্মই বর্তমানে আমাদের ঈদের আনন্দ থেকে বাদ পড়ে না। আমরা ভুলেগেছি আমাদের ঈমান আকীদা ও গন্তব্যের কথা। আজরাঈলের থাবা থেকে যেহেতু আমরা কেউই রক্ষা পাবো না, সেহেতু আজ সংশোধনের নিয়তে আমাদের ভাবা দরকারÑ আমাদের ঈদ কি পারবে আমাদেরকে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে?
ঈদের দিনের আমল যা অতীত হয়ে গেছে তা বাদ দিয়ে আজ থেকে আবার আমাদের নতুন করে শপথ নিয়ে আমলী জীবন যাপন শুরু করা দরকা। আমাদের এবারের ঈদ যেন না হয় আগের মতো ময়লা আবর্জনার আচরণে ভরপুর। যদি আমরা এবারের ঈদ থেকে ভাল কাজ করা শুরু করতে পারি তাহলে জীবনের মোড় এখনো ঘুরিয়ে দেয়া সম্ভব। তাই ঈদের দিন প্রত্যেকের কর্তব্য হবে ঈদের সলাতে আগ্রহ সহকারে অংশ গ্রহণ করা, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং ঈদের প্রচলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা, সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে ঈদ গাহে যাওয়া, কুরবানির পশু জবাই করে তা দিয়ে আহার করা।
মনে রাখতে হবে ঈদের দিনটা আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সৎ-কাজ করার দিন। এ দিনটা যেন গান-বাজনা, মদ্য-পান, অশালীন বিনোদন প্রভৃতি পাপাচারের দিনে পরিণত না করা হয়। কেননা অনেক সময় এ সকল কাজ-কর্ম নেক আমল বরবাদ হওয়ার কারণে পরিণত হয়। খেয়াল রাখতে হবে, এ ঈদে আমাদের আমল থেকে যেন বাদ না যায় সলাত আদায় করা, গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন, সুগন্ধি ব্যবহার, তাকবীর দেয়া, গরীব-দুখীর খবর নেয়া, তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করা, সবার সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা, আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ খবর নেয়া ও তাদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, হাদিয়া দেয়া, সামর্থ থাকলে কুরবানি দেয়া, যারা কুরবানি দিতে পারেনি তাদের জন্য গোস্ত পাঠান ইত্যাদি।আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ঈদুল আযহা
নিখুঁতভাবে তাকালে আমরা দেখতে পাবো যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আমরা নিজের জন্য বা কারো না কারো জন্য কুরবানি দিয়ে যাচ্ছি। জীবনের বেশির ভাগকেই হয়তো নিজের জন্য দিচ্ছি মনে করে কুরবানি করছি। কিন্তু তাতে নিজের জন্য খুব কম অংশই থাকে, কেননা মৃত্যুর পরপরই যাবতীয় জিনিসগুলো অন্যের হয়ে যায়। তাই নিজের জন্য যা কিছু সঞ্চয় করা হয়, সেসবেরও খুব সামান্যই নিজের হয়ে থাকে। এর বাইরে মাতা-পিতা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন, আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশী সকলের জন্যই নানা অংশে ত্যাগ ও কুরবানি আমাদেরকে করতেই হয়। সমাজবদ্ধ যাপনে যা জীবনের মূলধারার সাথেই সম্পৃক্ত হয়ে আছে। এ সব ত্যাগ ও কুরবানির একটা বিনিময় তো মানুষ হিসেবে সবাই পৃথিবীতে প্রাপ্ত হয়, কিন্তু মুসলমানগণ এসবের দু’টো পুরস্কার পাবে। একটি পৃথিবীতে যা পাওয়ার তা, অন্যটি পাবে মুসলমান তার প্রভু আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের নিয়তে যদি কোন ত্যাগ ও কুরবানি করে থাকে, তবে আখেরাতে সেসবের পরিপূর্ণ প্রতিদান। অবস্য মুসলমান হয়েও যদি নিয়ত বা সংকল্পে শুধুমাত্র দুনিয়ার পাওনাকে নির্দিষ্ট করে দেয়, তবে মুসলমান হওয়া সত্বেও আখেরাতে তার জন্য আর কিছু বাকি থাকবে না। সর্বোপরি এসব ত্যাগ ও কুরবানির মূখ্য উদ্দেশ্য হয় নিজ থেকে নিয়ে দুনিয়ার কেউ না কেউ।
আবার দুনিয়াবি কাজের জন্য ত্যাগ ও কুরবানির বাইরেও এমন কিছু ত্যাগ ও কুরবানি আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে চেয়েছেন, যেসবের মূখ্য দিকটাই হয় আল্লাহ তায়ালা, অর্থাৎ শুধু মাত্র তাঁর জন্যই। যেমন ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলোসহ এজাতীয় অন্যান্য ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল ইবাদাত। নামায আদায় না করলে বাহ্যিকভাবে দুনিয়ার কারো তেমন কোন ক্ষতি হবে না, কিন্তু আদায় করলে ব্যক্তি নিজেসহ তার আশপাশের সমাজ তা দ্বারা উপকৃত হবে ইত্যাদি। তন্মধ্যে বর্তমানে আমরা পার করছি একটি মৌলিক ইবাদাত হজ্জ ও তার পাশাপাশি কুরবানির মৌসুম অর্থাৎ কুরবানির ঈদ। এ কুরবানির প্রারম্ভ ইতিহাস আমাদের সবারই কম-বেশি জানা রয়েছে। আল্লাহর আদেশে মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর আপন সন্তান ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কুরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। মূলতঃ ইবরাহীম আলাইহিস সালামের জন্য এ ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তিনি এবং তার প্রাণপ্রিয় পুত্র দুজনেই কুরবানি দিতে ও হতে ছিলেন সন্তুষ্ট চিত্তে প্রস্তুত। তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি তাঁদের এহেন আন্তরিক ও কার্যকর আনুগত্য ও আত্মসমর্পপনের বাস্তবায়ন দেখে বালক ইসমাঈলের স্থলে জান্নাত হতে ফিরিস্তার মাধ্যমে একটা দুম্বা শুইয়ে দেন; এভাবেই ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমুস সালাম আত্মত্যাগের এক কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রতিবছর কুরবানির মৌসুম এলেই যতটা না রক্তের স্রোতধারা প্রবাহিত হয় কুরবানির ঈদের দিনে, এর চেয়ে বহু বহুগুণ বেশি রক্তের সাগর ভাঙ্গে ধর্ম শব্দের এলার্জিতে আক্রান্ত নাস্তিক-মুরতাদদের হৃদয়ে। সারা বছর অসংখ্য প্রাণী টুকরো টুকরো করে কেটে আগুনে চড়িয়ে-পুড়িয়ে খেতে তাদের কোন ব্যাথা লাগে না, কেবল বুকটা ভেঙ্গে যায় শুধুমাত্র মুসলমানগণ যখন তাদের পরম প্রিয় আল্লাহর জন্য ঈদুল আযহার দিনে কুরবানির পশুর গলায় ছুরি বসায়। তাদের পশুপ্রেম তাদেরকে তখন পশুত্বে পরিণত করে। তাদের হাম্বা রব আর চিৎকারে তখন পশুরাও যেন হেসে উঠে। কী অর্বাচিনের মতো তাদের এহেন আচরণ, তারা তখন পশু জবাইয়ের সময়কার ঘটনাগুলোকে যেন পশুর রক্তে নয়; তাদের নিজেদেরই প্রতিহিংসা সমৃদ্ধ বুকের রক্তে নানাভাবে রঞ্জিত করে করে অপপ্রচারের আর্তনাদে মেতে উঠে। তারা তখন এ কুরবানিতে ত্যাগ খুঁজে পায় না, পায় কেবলি কপটতা, হৃদয়ের প্রশস্ততা খুঁজে পায় না, পায় কেবলি সংকীর্ণতা। তারা তাদের সংকীর্ণ বিবেক দিয়ে মানুষের উপর মানুষের যুলম, অত্যাচার, প্রভুত্ব, খামখেয়ালিপনা, নির্যাতনের চরম সীমা নির্ণয় করতে পারে না, পারে শুধু প্রতিহিংসার আগুনে জলতে। মানুষ যখন মানুষের রক্ত দিয়ে গোসল করে তখন তাদের অন্ধ বিবেক দিশা খুঁজে পায় না, পায় না সমাধানের কোন হাতিয়ার। তখন বদির হয়ে বসে থাকাটাই নিজেদের কাজ মনে করে। এতে সহজেই বুঝা যায়, শয়তান তাদেরকে ষোলআনায়ই গ্রাস করে ফেলেছে। তারা মূলত জ্ঞান পাপি ও জীবিত অন্ধ। যখন অন্যায়ভাবে বনি আদমের রক্ত ঝরে, তখন উল্লাস করে ইবলীস, কেননা সে ফিৎনা সৃষ্টিতে সফল হয়েছে। আর যখন আল্লাহর কোন বান্দা তাঁর জন্য কুরবানি করে রক্ত ঝরায় তখন ইবলীসের আর্তনাদ শুরু হয়ে যায়; বছর বছর কুরবানির মৌসুমে আমরা যেন মানুষরূপী ইবলীসের আর্তনাদ শুনতে পাই। যেমনটি বলেছেন আল্লাহ তায়ালাÑ “মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস” Ñঅর্থাৎ (কুমন্ত্রণা দানকারী এ শয়তান) জিন ও মানুষের মধ্য থেকে। (সূরা আন্নাস : ০৬) কথায় কথায় আমরা বলে থাকিÑ ত্যাগেই শান্তি, ত্যাগেই মুক্তি। বাস্তবিকও তাই। দুনিয়ার কোন স্বার্থ ছাড়া অর্থ দানকারী ব্যক্তিই কেবল উপলব্ধি করতে পারেন যে, অর্থদানে হৃদয়ে কতদটা প্রশান্তি নেমে আসে। তেমনি একটি গৃহপালিত পশুকে অতিযতেœ লালন-পালন করে বড় করে একদিন আল্লাহর জন্য তার গলায় ছুরি চালানোর মধ্যে কতটা আতিœক পরিশুদ্ধি নিহিত তা কেবল নিষ্ঠাবানদের পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব। অন্যথা, ব্যক্তি সেই একই পশুটিকে কিন্তু চিরদিন ধরে রাখতে পারবে না, কখনো না কখনো সে তাকে জবাই করে খাবেই। হতে পারে তা কোন অনুষ্ঠানের ভোজে কিংবা বিক্রয় করা অর্থ খরচ করে। সেসব ক্ষেত্রে কিন্তু উল্লেখিত আত্মিক পরিশুদ্ধি হয় না বা ধর্মবিদ্ধেষীদের চিৎকার-মৎকারও শোনা যায় না। তাই সকলের উচিত তাদের নিজ নিজ ইবাদাতগুলোকে নিষ্ঠার সাথে পালন করা, অপরের অধিকারের প্রতি যতœবান হওয়া এবং জিন শয়তান ও মানুষ শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহ তায়ালার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ত্যাগের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তা আমাদের মাঝে প্রস্ফুটিত করা। তবেই সত্যিকারের আনন্দ ধরা দিবে এসে আমাদের কাছে আর আমরা পারবো প্রাণ ভরে ঈদের আনন্দ উদযাপন ও উপভোগ করতে। তখন আর রাস্তার দুপাশে থালা নিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে থাকবে না, সবাই যাবে ঈদের মাঠে; একে অপরের সাথে দেখা হলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মিষ্টি হেসে বলে উঠবেÑ ঈদ মুবারক ঈদ!
মুমিনের ঈদ ঈদ যেমন বারবার ফিরে আসে তেমনি মুমিনের জীবনে ত্যাগ কুরবানির পরীক্ষাও বারবার ফিরে আসে। ত্যাগ কুরবানির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই মুমিনের ঈদ। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুনিয়াটা মুমিনের জন্য জেলখানা। জেলখানায় যেমন কয়েদির কোন স্বাধীনতা নেই তেমনি দুনিয়ার জীবনেও মুমিনের নিজস্ব কোন স্বাধীনতা নেই। মুমিন স্বাধীনতা ভোগ করবে পরকালে। তাই দুনিয়ার পরাধিনতার মধ্যেই রয়েছে মুমিনের সুখ। মুমিন নিজের নফসকে প্রভুর নির্দেশের গোলাম বানিয়ে নেয়, নিজে কখনো নফসের গোলাম হয় না। ইতিহাস সাক্ষি, পৃথিবীর সকল মহৎ ব্যক্তিই ত্যাগ কুরবানিকে নিজেদের পাওনা ও পরিতৃপ্তির বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছিলেন। আল্লাহর খুশিতে তাঁরা ছিলেন খুশি, আল্লাহর অখুশিতে তাঁরা ছিলেন অখুশি। আল্লাহকে খুশি করতে গিয়ে দুনিয়ায় হাজার যুলুম, নির্যাতনকে তাঁরা হাসি মুখে গ্রহণ করে নিয়েছেন তবুও মাথা নত করেননি বাতিলের সামনে। সুমাইয়া, আম্মার ইবনে ইয়াসার, বেলাল, খাব্বাব রাদি আল্লাহু তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। খাদিজা, আয়েশা, আবূবকর, উমার, উসমান, আলী, আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির ঈদ করতে গিয়ে। ইসলামের খিদমাতে ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ী, মালেক, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম বুখারী ও মুসলিম ছিলেন পাগল পারা। সায়্যেদ কুতুব, ইমাম গাজালি, শাহজালাল, শাহপরান, শাহ মাখদুমও তাঁদেরই পথের অনুসারী।
তাদের পথ ধরে আজও যারা কালিমার পতাকা উড্ডীন করার প্রচেষ্টায় জীবন বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন, জীবন-যৌবন সব কিছু দেয়ার পরেও প্রতিহিংসার জালে আটকা পড়ে ঈদ করছেন কারাগারে, তারাও রয়েছেন মুমিনদের তালিকায়। এভাবে যুগ যুগ ধরে যারাই আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করে আনন্দ পেতে চাইবে তাদের সবাইকে ত্যাগ ও কুরবানির পরীক্ষা দিতে হবে। আর এ ধরনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দই তাদের ঈদ।ইবরাহীম আ. ঈদ করেছেন পুত্রকে জবাই করে আত্মত্যাগের মহান নায়ক ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ঈদ করেছেন প্রাণের প্রিয় একমাত্র পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করার মাধ্যমে। তাঁর কাছে পুত্রের সম্পর্ক বড় ছিল না, ছিল প্রভুর নির্দেশ পালন করাটাই বড়। তাই তিনি কুন্ঠাবোধ করেননি পিতা হয়ে পুত্রের গলায় ছুরি চালাতে। পুত্রও ছিল আল্লাহর প্রেমের মহান আশিক। ফলে পিতার সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করেনি সে। বিলিয়ে দিয়েছে নিজের জীবনটাকে আল্লাহর পথে অকুন্ঠচিত্তে। তাঁদের এ মহান ত্যাগ শুধু ইতিহাসের পাতায়ই লেখা হয়নি, লেখা হয়েছে অপরিবর্তনীয় মহাগ্রন্থ আলকুরআনেও। জীবন্ত কুরআন আজো তা সাক্ষ্য দিচ্ছে। দাম্পত্য জীবনের শুরুতে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর কোন সন্তানাদি ছিল না। তিনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে বলেছেন, ‘হে আমার রব, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন’। (সূরা-৩৭. আস্সফ্ফাত : ১০০)। আল্লাহ তায়ালা তাঁর দোয়া কবুর করেন। দোয়ার জবাবে বলেন, ‘অতঃপর তাকে আমি পরম ধৈর্যশীল একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলাম’। (সূরা-৩৭. আস্সফ্ফাত : ১০১) ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর বয়স যখন প্রায় ৮০ বছর তখন পুত্র হিসেবে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম জন্ম গ্রহণ করে। এর পর ইসমাঈল আলাইহিস সালাম যখন চলাচল করার মতো অবস্থায় পৌঁছলো তখন শুরু হলো এক কঠিন পরীক্ষা। আল্লাহ তাকে কুরবানি করার জন্য পিতাকে স্বপ্নে নির্দেশ দিলেন। পিতা তাঁর রবের নির্দেশ পালনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলো। এ ব্যাপারে ছেলের সাথেও পরামর্শ করল। আল্লাহর নির্দেশ পালনে ছেলেও রাজি হলো। উভয়ের সিদ্ধান্তের কথা আল্লাহ তায়ালা আলকুরআনে প্রকাশ করেছেন। কুরআন বলছে, ‘অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন সে বলল, ‘হে প্রিয় বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত’; সে বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন’। (সূরা-৩৭. আস্সফ্ফাত : ১০২) এরপর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম নিজ সন্তানকে কুরবানি করে আল্লাহর সন্তুষ্টির ঈদ উদযাপন করেন। যেমন কুরআনে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তাঁরা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে (ইসমাঈলকে ) কাত করে শুইয়ে দিল। তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললাম, ‘হে ইবরাহীম, ‘তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি’। ‘নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা’। আর আমি এক মহান জবেহের (একটি জান্নাতী দুম্বার) বিনিময়ে তাঁকে মুক্ত করলাম। আর তাঁর জন্য আমি পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি। ইবরাহীমের প্রতি সালাম। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয় সে আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা-৩৭. আস্সফ্ফাত : ১০৩-১১১) তাঁরা ঈদ করেছেন ঈদের দাবির আলোকে। আর আমরা ঈদ করি আমাদের নফসের খায়েসে। যে ঈদ ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে করেছিল ধন্য, সে ঈদ কি আমরা আজো উদযাপন করতে পেরেছি?বর্তমান সমাজে আমাদের ঈদের চিত্র বর্তমানে ঈদকে আমরা খুশির বিষয় হিসেবে গ্রহণ করি ঠিকই কিন্তু ঈদের মাপকাঠি কী হবে তা আমরা হিসেব করে দেখি না অনেকেই। আমাদের সন্তানেরা আজ আনন্দ বলতে কেবল নিজেদের ইচ্ছেমতো চলা ফেরা, কাজ-কর্ম, বেহায়পনা, উল্টা-পাল্টা আচার-আচরণ করে লাফ ফাল দিয়ে দিন কাটানোকেই মনে করে। তারা পারেনি ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও শিশু ইসমাঈলের মতো আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করতে, পারি না আমরা বড়রাও।
মূলত ঈদ হল মুসলিমদের শান-শওকত প্রদর্শন, আত্মার পরিশুদ্ধি, তাদের ঐক্য সংহতি ও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উৎসব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বহু মুসলিম এ দিনটাকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে জানে না। তারা এ দিনে বিভিন্ন অনৈসলামিক কাজ-কর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। কোনটি গ্রহণীয় আর কোনটি বর্জনীয় ঈদের আনন্দ করতে গিয়ে তারা তার হিতাহিত জ্ঞান রাখে না। আজ মুসলিম সমাজে কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কাজ বা আচরণ করার মতো ব্যাধি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা পোশাক-পরিচ্ছদে, চাল-চলনে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অন্ধ অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে তারা যেমন সাংস্কৃতিক দৈন্যতার পরিচয় দিচ্ছে অপর দিকে নিজেদের তাহজিব-তামাদ্দুনের প্রতি অনীহা দেখাচ্ছে। এ ধরনের আচরণ ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ। হদীসে এসেছে- সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদি আল্লাহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে। (আবু দাউদ- ৪০৩১, হাদীসটি সহীহ ) এ হাদীসের ব্যাখ্যায় শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহমাতুল্লাহি আলাই বলেন, হাদীসের বাহ্যিক অর্থ হল যে কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য রাখবে সে কাফের হয়ে যাবে। যদি এ বাহ্যিক অর্থ (কুফরির হুকুম) আমরা নাও ধরি তবুও কমপক্ষে এ কাজটি হারাম তো হবেই। (ইকতেজাউ সিরাতিল মুস্তাকীম : ইমাম ইবনে তাইমিয়া। ১ম খন্ড, পৃ-২৪১) শুধু কি তা-ই! পুরুষ-মহিলা একে অন্যের বেশ ধারণ, বেগানা মহিলা পুরুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, গান-বাদ্য শোনা ইত্যাদি কোন অপকর্মই বর্তমানে আমাদের ঈদের আনন্দ থেকে বাদ পড়ে না। আমরা ভুলেগেছি আমাদের ঈমান আকীদা ও গন্তব্যের কথা। আজরাঈলের থাবা থেকে যেহেতু আমরা কেউই রক্ষা পাবো না, সেহেতু আজ সংশোধনের নিয়তে আমাদের ভাবা দরকারÑ আমাদের ঈদ কি পারবে আমাদেরকে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে?
ঈদের দিনের আমল যা অতীত হয়ে গেছে তা বাদ দিয়ে আজ থেকে আবার আমাদের নতুন করে শপথ নিয়ে আমলী জীবন যাপন শুরু করা দরকা। আমাদের এবারের ঈদ যেন না হয় আগের মতো ময়লা আবর্জনার আচরণে ভরপুর। যদি আমরা এবারের ঈদ থেকে ভাল কাজ করা শুরু করতে পারি তাহলে জীবনের মোড় এখনো ঘুরিয়ে দেয়া সম্ভব। তাই ঈদের দিন প্রত্যেকের কর্তব্য হবে ঈদের সলাতে আগ্রহ সহকারে অংশ গ্রহণ করা, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং ঈদের প্রচলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা, সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে ঈদ গাহে যাওয়া, কুরবানির পশু জবাই করে তা দিয়ে আহার করা।
মনে রাখতে হবে ঈদের দিনটা আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সৎ-কাজ করার দিন। এ দিনটা যেন গান-বাজনা, মদ্য-পান, অশালীন বিনোদন প্রভৃতি পাপাচারের দিনে পরিণত না করা হয়। কেননা অনেক সময় এ সকল কাজ-কর্ম নেক আমল বরবাদ হওয়ার কারণে পরিণত হয়। খেয়াল রাখতে হবে, এ ঈদে আমাদের আমল থেকে যেন বাদ না যায় সলাত আদায় করা, গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন, সুগন্ধি ব্যবহার, তাকবীর দেয়া, গরীব-দুখীর খবর নেয়া, তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করা, সবার সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা, আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ খবর নেয়া ও তাদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, হাদিয়া দেয়া, সামর্থ থাকলে কুরবানি দেয়া, যারা কুরবানি দিতে পারেনি তাদের জন্য গোস্ত পাঠান ইত্যাদি।আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ঈদুল আযহা
নিখুঁতভাবে তাকালে আমরা দেখতে পাবো যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আমরা নিজের জন্য বা কারো না কারো জন্য কুরবানি দিয়ে যাচ্ছি। জীবনের বেশির ভাগকেই হয়তো নিজের জন্য দিচ্ছি মনে করে কুরবানি করছি। কিন্তু তাতে নিজের জন্য খুব কম অংশই থাকে, কেননা মৃত্যুর পরপরই যাবতীয় জিনিসগুলো অন্যের হয়ে যায়। তাই নিজের জন্য যা কিছু সঞ্চয় করা হয়, সেসবেরও খুব সামান্যই নিজের হয়ে থাকে। এর বাইরে মাতা-পিতা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন, আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশী সকলের জন্যই নানা অংশে ত্যাগ ও কুরবানি আমাদেরকে করতেই হয়। সমাজবদ্ধ যাপনে যা জীবনের মূলধারার সাথেই সম্পৃক্ত হয়ে আছে। এ সব ত্যাগ ও কুরবানির একটা বিনিময় তো মানুষ হিসেবে সবাই পৃথিবীতে প্রাপ্ত হয়, কিন্তু মুসলমানগণ এসবের দু’টো পুরস্কার পাবে। একটি পৃথিবীতে যা পাওয়ার তা, অন্যটি পাবে মুসলমান তার প্রভু আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের নিয়তে যদি কোন ত্যাগ ও কুরবানি করে থাকে, তবে আখেরাতে সেসবের পরিপূর্ণ প্রতিদান। অবস্য মুসলমান হয়েও যদি নিয়ত বা সংকল্পে শুধুমাত্র দুনিয়ার পাওনাকে নির্দিষ্ট করে দেয়, তবে মুসলমান হওয়া সত্বেও আখেরাতে তার জন্য আর কিছু বাকি থাকবে না। সর্বোপরি এসব ত্যাগ ও কুরবানির মূখ্য উদ্দেশ্য হয় নিজ থেকে নিয়ে দুনিয়ার কেউ না কেউ।
আবার দুনিয়াবি কাজের জন্য ত্যাগ ও কুরবানির বাইরেও এমন কিছু ত্যাগ ও কুরবানি আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে চেয়েছেন, যেসবের মূখ্য দিকটাই হয় আল্লাহ তায়ালা, অর্থাৎ শুধু মাত্র তাঁর জন্যই। যেমন ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলোসহ এজাতীয় অন্যান্য ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল ইবাদাত। নামায আদায় না করলে বাহ্যিকভাবে দুনিয়ার কারো তেমন কোন ক্ষতি হবে না, কিন্তু আদায় করলে ব্যক্তি নিজেসহ তার আশপাশের সমাজ তা দ্বারা উপকৃত হবে ইত্যাদি। তন্মধ্যে বর্তমানে আমরা পার করছি একটি মৌলিক ইবাদাত হজ্জ ও তার পাশাপাশি কুরবানির মৌসুম অর্থাৎ কুরবানির ঈদ। এ কুরবানির প্রারম্ভ ইতিহাস আমাদের সবারই কম-বেশি জানা রয়েছে। আল্লাহর আদেশে মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর আপন সন্তান ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কুরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। মূলতঃ ইবরাহীম আলাইহিস সালামের জন্য এ ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তিনি এবং তার প্রাণপ্রিয় পুত্র দুজনেই কুরবানি দিতে ও হতে ছিলেন সন্তুষ্ট চিত্তে প্রস্তুত। তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি তাঁদের এহেন আন্তরিক ও কার্যকর আনুগত্য ও আত্মসমর্পপনের বাস্তবায়ন দেখে বালক ইসমাঈলের স্থলে জান্নাত হতে ফিরিস্তার মাধ্যমে একটা দুম্বা শুইয়ে দেন; এভাবেই ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমুস সালাম আত্মত্যাগের এক কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রতিবছর কুরবানির মৌসুম এলেই যতটা না রক্তের স্রোতধারা প্রবাহিত হয় কুরবানির ঈদের দিনে, এর চেয়ে বহু বহুগুণ বেশি রক্তের সাগর ভাঙ্গে ধর্ম শব্দের এলার্জিতে আক্রান্ত নাস্তিক-মুরতাদদের হৃদয়ে। সারা বছর অসংখ্য প্রাণী টুকরো টুকরো করে কেটে আগুনে চড়িয়ে-পুড়িয়ে খেতে তাদের কোন ব্যাথা লাগে না, কেবল বুকটা ভেঙ্গে যায় শুধুমাত্র মুসলমানগণ যখন তাদের পরম প্রিয় আল্লাহর জন্য ঈদুল আযহার দিনে কুরবানির পশুর গলায় ছুরি বসায়। তাদের পশুপ্রেম তাদেরকে তখন পশুত্বে পরিণত করে। তাদের হাম্বা রব আর চিৎকারে তখন পশুরাও যেন হেসে উঠে। কী অর্বাচিনের মতো তাদের এহেন আচরণ, তারা তখন পশু জবাইয়ের সময়কার ঘটনাগুলোকে যেন পশুর রক্তে নয়; তাদের নিজেদেরই প্রতিহিংসা সমৃদ্ধ বুকের রক্তে নানাভাবে রঞ্জিত করে করে অপপ্রচারের আর্তনাদে মেতে উঠে। তারা তখন এ কুরবানিতে ত্যাগ খুঁজে পায় না, পায় কেবলি কপটতা, হৃদয়ের প্রশস্ততা খুঁজে পায় না, পায় কেবলি সংকীর্ণতা। তারা তাদের সংকীর্ণ বিবেক দিয়ে মানুষের উপর মানুষের যুলম, অত্যাচার, প্রভুত্ব, খামখেয়ালিপনা, নির্যাতনের চরম সীমা নির্ণয় করতে পারে না, পারে শুধু প্রতিহিংসার আগুনে জলতে। মানুষ যখন মানুষের রক্ত দিয়ে গোসল করে তখন তাদের অন্ধ বিবেক দিশা খুঁজে পায় না, পায় না সমাধানের কোন হাতিয়ার। তখন বদির হয়ে বসে থাকাটাই নিজেদের কাজ মনে করে। এতে সহজেই বুঝা যায়, শয়তান তাদেরকে ষোলআনায়ই গ্রাস করে ফেলেছে। তারা মূলত জ্ঞান পাপি ও জীবিত অন্ধ। যখন অন্যায়ভাবে বনি আদমের রক্ত ঝরে, তখন উল্লাস করে ইবলীস, কেননা সে ফিৎনা সৃষ্টিতে সফল হয়েছে। আর যখন আল্লাহর কোন বান্দা তাঁর জন্য কুরবানি করে রক্ত ঝরায় তখন ইবলীসের আর্তনাদ শুরু হয়ে যায়; বছর বছর কুরবানির মৌসুমে আমরা যেন মানুষরূপী ইবলীসের আর্তনাদ শুনতে পাই। যেমনটি বলেছেন আল্লাহ তায়ালাÑ “মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস” Ñঅর্থাৎ (কুমন্ত্রণা দানকারী এ শয়তান) জিন ও মানুষের মধ্য থেকে। (সূরা আন্নাস : ০৬) কথায় কথায় আমরা বলে থাকিÑ ত্যাগেই শান্তি, ত্যাগেই মুক্তি। বাস্তবিকও তাই। দুনিয়ার কোন স্বার্থ ছাড়া অর্থ দানকারী ব্যক্তিই কেবল উপলব্ধি করতে পারেন যে, অর্থদানে হৃদয়ে কতদটা প্রশান্তি নেমে আসে। তেমনি একটি গৃহপালিত পশুকে অতিযতেœ লালন-পালন করে বড় করে একদিন আল্লাহর জন্য তার গলায় ছুরি চালানোর মধ্যে কতটা আতিœক পরিশুদ্ধি নিহিত তা কেবল নিষ্ঠাবানদের পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব। অন্যথা, ব্যক্তি সেই একই পশুটিকে কিন্তু চিরদিন ধরে রাখতে পারবে না, কখনো না কখনো সে তাকে জবাই করে খাবেই। হতে পারে তা কোন অনুষ্ঠানের ভোজে কিংবা বিক্রয় করা অর্থ খরচ করে। সেসব ক্ষেত্রে কিন্তু উল্লেখিত আত্মিক পরিশুদ্ধি হয় না বা ধর্মবিদ্ধেষীদের চিৎকার-মৎকারও শোনা যায় না। তাই সকলের উচিত তাদের নিজ নিজ ইবাদাতগুলোকে নিষ্ঠার সাথে পালন করা, অপরের অধিকারের প্রতি যতœবান হওয়া এবং জিন শয়তান ও মানুষ শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহ তায়ালার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ত্যাগের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তা আমাদের মাঝে প্রস্ফুটিত করা। তবেই সত্যিকারের আনন্দ ধরা দিবে এসে আমাদের কাছে আর আমরা পারবো প্রাণ ভরে ঈদের আনন্দ উদযাপন ও উপভোগ করতে। তখন আর রাস্তার দুপাশে থালা নিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে থাকবে না, সবাই যাবে ঈদের মাঠে; একে অপরের সাথে দেখা হলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মিষ্টি হেসে বলে উঠবেÑ ঈদ মুবারক ঈদ!
বাংলাদেশ ১৬৩/৩, টার্গেট ৫০৮
ঢাকা টেস্টে ৫০৮ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬৪ রান। তামিম ইকবাল ৮২ এবং মুশফিকুর রহমান ৩১ রানে ব্যাট অপরাজিত রয়েছেন। ইমরুল কায়েস ৯ কে ক্যাচে করেন এডওয়ার্ডস এর পরে শাহরিয়ার নাফিস ১৮ রানে সামির বলে কন্ট এন্ড বোল্ড ও রাকিবুল হাসান ১৭ রানে সামুয়েলসের বলে আউট হন। এর আগে সফরকারীরা ৫ উইকেটে ৩৮৩ রান করে ৫০৭ রান এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেন। ড্যারেন ব্রাভো ১৯৫, কির্ক এডওয়ার্ডস ৮৬ ও শিবনারায়ণ চন্দরপল ৫৯ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সোহরাওয়ার্দি শুভ ৩টি এবং সাকিব আল হাসান ১টি উইকেট লাভ করেন। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৩৫৫ রানের জবাবে গতকাল ২৩১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন সাকিব আল হাসান। তাছাড়া, নাঈম ইসলাম ৪৫, নাসির হোসাইন ৪২ ও ইমরুল কায়েস ২৯ রান করেন। সফরকারীদের পক্ষে ফিদেল এডওয়ার্ডস ৫টি ও দেবেন্দ্র বিশু ৩টি উইকেট নেন। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ৩৫৫ রান করে অলআউট হন সফরকারীরা। সেঞ্চুরি করেন কির্ক এডওয়ার্ডস (১২১)। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। নাসির হোসাইন নেন ৩ উইকেট। শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এ ম্যাচ শুরু হয়। ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশ দলে খেলছেন তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, শাহরিয়ার নাফিস, রকিবুল হাসান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, নাঈম ইসলাম, নাসির হোসাইন, রুবেল হোসেন, শাহাদাত হোসাইন ও সোহরাওয়ার্দি শুভ। সফরকারী দলে খেলছেন কির্ক এডওয়ার্ডস, ক্রেইগ ব্রাথওয়াইট, ড্যারেন ব্রাভো, কিরণ পাওয়েল, মারলন স্যামুয়েলস, শিবনারায়ণ চন্দরপল, ড্যারেন সামি, কার্লটন বাফ, ফিদেল এডওয়ার্ডস, দেবেন্দ্র বিশু ও কেমার রোচ। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট ড্র হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে পাঁচদিনের ম্যাচে খেলা হয়েছিল তিন দিন।
সাধারণ মানুষের চাওয়া উপলব্ধি করতে আ. লীগ ব্যর্থ হয়েছে: সুরঞ্জিত
সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাধারণ মানুষের চাওয়া উপলব্ধি করতে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগকে এ নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তৃণমূলের চিন্তাভাবনা বুঝে প্রার্থীকে সমর্থন বা মনোনয়ন দিতে হবে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, যা নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গত রোববার অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান। আইভীর প্রতি গণরায়কে ‘গণজাগরণ’ আখ্যা দিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, এই গণজাগরণের মূল দর্শনটি ছিলো বিকল্প হিসাবে চারদলীয় জোট, মহাজোট কিংবা যুদ্ধাপরাধীরা নয়; তাদের আদর্শ ছিলো সৎ, নিষ্ঠাবান আর জনগণের কাছে সত্যিকারের অঙ্গীকারাবদ্ধ প্রার্থী। আইভীর বিজয় ৪০ বছরের রাজনীতির সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনবে উল্লেখ করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, বিএনপির পলায়নপর রাজনীতির পরাজয় হয়েছে। এ ধরনের বয়কটের পলায়নপর রাজনীতির পরাজয় ভবিষ্যতেও হবে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিল কী নিল না, জনগণের তাতে কিছু যায়-আসে না। জনগণ বিপুলভাবে ভোট দিয়েছে। বিএনপির রাজনীতি যে কতটা ভ্রান্ত তা এর মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়েছে। ফেইসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের সাইট আগামীতে নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব রাখবে বলে মনে করেন সুরঞ্জিত। তিনি বলেন, টেকনোলজির এ যুগে ব্লাডি সিভিলিয়ানদের রাজনীতি নিঃশেষ হয়েছে। এই নতুন প্রজন্ম মিছিল-মিটিংয়ে যাবে না, কিন্তু তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত তারা ঠিকই প্রতিফলিত করবে।জেল হত্যা দিবসকে সামনে রেখে তিনি আপিল বিভাগ থেকে নির্দেশনা নিয়ে এ মামলার বিচার নতুনভাবে শুরু করার আহ্বান জানান।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
ব্রন যৌবনের অবাঞ্ছিত এক সমস্যা। সুন্দর মুখশ্রীর ওপর জাপটে বসে থাকে এক দৃষ্টিকটু যন্ত্রনা। ১৩ বছর থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত প্রায় ৯০%এর এ রোগ...
-
স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর শেরপুর শ্রীবরদীতে এক স্বামী তাদের দাম্পত্য জীবনে মিলনের ভিডিও দৃশ্য বাজারে ছেড়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচন...
-
বর্তমানে গণতন্ত্র নয়, গোঁজামিলতন্ত্র দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন মহাজেটের অন্যতম শরিক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। ...
-
বিশ্ববিখ্যাত এয়ারক্রাফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং আর লকহিড মার্টিন মিলে তৈরি করছে কনকর্ডের নতুন মডেল এক্স-৫৪। দুই প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়া...
-
রোজার ঈদকে সামনে রেখেএবার নারীদের কেনাকাটায় পছন্দের তালিকায় রয়েছে জামদানী শাড়ী। ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা কারনে নিঘুর্ম রাত কাটাচ্ছে নারায়...
-
বুলডোজারের আঘাতে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো গুলশানের ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক। অভিজাত এলাকা গুলশানে শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মিত একমাত্র অ্যামিউজমেন...
-
রাজধানীর তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৯ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে এই সংক্রান্ত তদন্ত কমি...
-
পাকিস্তানের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমাদ সুজা পাশা গতকাল বুধবার য...
-
আবারো বিয়ে করলেন জনপ্রিয় গায়িকা ও সরকারদলীয় এমপি মমতাজ। দীর্ঘদিন তারই হাসপাতালের ডাক্তার চঞ্চলের সঙ্গে প্রেমের পর তাদের বিয়ে হয়। পাত্রের পু...
-
‘ধুম ৩’ ছবিতে আমির খানের বিপরীতে অভিনয়ের জন্য মুখিয়ে আছেন বলিউডের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব অভিনেত্রীই। বছরের সবচেয়ে প্রত্যাশিত এই চরিত্রটি...
