বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০১১

হাজারের অনশন চলছেই, ওজন কমেছে ৫ কেজি; আলোচনা নিয়ে গুঞ্জন

ভারতের গান্ধিবাদী নেতা ও দুর্নীতিবিরোধী সমাজকর্মী আন্না হাজারে বলেছেন, লোকপাল বিল নিয়ে শুধু প্রধানমন্ত্রীর অফিসের কর্মকর্তা কিংবা রাহুল গান্ধির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে, অন্য কারো সঙ্গে নয়। সরকার আন্না হাজারের সঙ্গে আলোচনার জন্য আধ্যাত্মিক নেতা ভাইয়্যু মহারাজকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ দিতে চাইছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে। এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় আন্না হাজারে ওই মন্তব্য করেছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় টেলিযোগোযোগ মন্ত্রী কাপিল সিবালের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যম মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের খবর দিয়েছে। তবে, আন্না হাজারে ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য সরাসরি কোনো প্রস্তাব তাদের কাছে আসেনি। তারা সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, চলমান এ আন্দোলন সরকারের পতনের জন্য নয় বরং দেশে একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী লোকপাল বিল পাসের জন্য। তবে, আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে এ দাবি মানা না হলে আমরণ অনশন শুরু হবে। সাতদিনের অনশনে এরইমধ্যে আন্না হাজারের পাঁচ কেজি ওজন কমে গেছে। ভারতের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জি নিউজের ওয়েবসাইটে এ খবর দেয়া হয়েছে।
আন্না হাজারে তার অনশন কর্মসূচির সপ্তম দিনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, "সরকার যদি এ ইস্যুতে অচলাবস্থা দূর করতে চায় তাহলে সরকারি ভার্সনের লোকপাল বিল শিগগিরি প্রত্যাহার করতে হবে।" অবশ্য, জনলোকপাল বিল থেকে ভারতের বিচার বিভাগকে মুক্ত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আলাদা বিল পাস হলে একে আর লোকপাল বিলের আওতায় আনার দরকার হবে না। ভারতের জাতীয় সংসদে সম্প্রতি লোকপাল বিল আনা হয়েছে। কিন্তু, হাজারে ও তার সহযোগীরা বলছেন, এ ধরনের লোকপাল বিল পাস হলে দেশে দুর্নীতি আরো বাড়বে কারণ এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও বিচার বিভাগকে আনা হয়নি। তিনি দাবি করছেন, ভারতের দুর্নীতি বন্ধে এমন লোকপাল বিল পাস করতে হবে যার আওতায় প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও বিচার বিভাগও জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়। তার এ দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী মনহমোহন সিং আগের অবস্থান থেকে সরে এসে সুর কিছুটা নরম করে বলেছেন, হাজারের দাবি যুক্তিসঙ্গত ও মহৎ কিন্তু দেশ থেকে রাতরাতি দুর্নীতি দূর করা যাবে না। এ বিষয়ে সরকার ও হাজারের মধ্যে 'দেয়া-নেয়া'র অনেক সুযোগ রয়েছে বলে ড. সিং মন্তব্য করেছেন। এর আগে, অনশন কর্মসূচির প্রথম দিনে হাজারেকে গ্রেফতার করে সরকার এবং সাতদিনের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। সে সময় সারা ভারতে সরকারের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়। পরে আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে সরকার তাকে মুক্তি দিয়ে রামলিলা ময়দানে অনশন কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়। এ দিকে, আন্না হাজারের সমর্থনে আজও নয়াদিল্লির রামলিলা ময়দানে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে। তবে, এতে বেশি অংশ নিচ্ছে ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ। বহুদিন ধরে দেশটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে তাতে এরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষত্রিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতে প্রায় চার হাজার কোটি ডলারের টেলি দুর্নীতি, কমনওয়েলথ গেমস দুর্নীতি ও দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্নাটকে কোটি কোটি রুপির খনি দুর্নীতি হওয়ার পর আন্না হাজারে শক্তিশালী লোকপাল বিল পাসের দাবি জানান। এরপর থেকে তিনি এ ইস্যুতে সমর্থকদের নিয়ে আন্দোলন গোড়ে তোলেন। অন্যদিকে, ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি বলেছে, সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা আগামী বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে। আর বামদলগুলো বলেছে, আগামী কালই তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ