বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০১১

ন্যাটো বাহিনীর সমর্থন নিয়ে বিদ্রোহীরা গাদ্দাফির দুর্গে

ন্যাটো বাহিনীর সমর্থন নিয়ে মুয়াম্মার গাদ্দাফির দুর্গ বাব আল আজিজিয়ার ভেতরে ঢুকে পড়েছে লিবীয় বিদ্রোহীরা। রাজধানী ত্রিপোলির বেশির ভাগ অংশও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে বিদ্রোহী বাহিনীর সদস্যরা ভারি অস্ত্র নিয়ে পিকআপ ও ট্রাকে করে বাব আল আজিজিয়া কম্পউন্ডে ঢুকে পড়ে। টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কম্পাউন্ডের ওপর দিয়ে কালো ধোঁয়া উড়ছে। কম্পাউন্ডের ভেতরে বিদ্রোহীরা শূন্যে গুলি ছুড়ে উল্লাস প্রকাশ করছে বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের প্রতিবেদক।সোমবারই ত্রিপোলির ৮০ ভাগেরও বেশি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বিদ্রোহীরা। পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, লিবিয়ার ৪১ বছরের শাসক গাদ্দাফির পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ত্রিপোলির পথে পথে বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র বিদ্রোহীদের অবস্থান থাকলেও বিদ্রোহী কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ তাদের ওপর রয়েছে কি না, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।এদিকে বিদ্রোহীরা এক দিন আগে গাদ্দাফির তিন ছেলেকে বন্দি করার দাবি করলেও মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে গাদ্দাফি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিদেশি সাংবাদিকদের দেখা দেন সাইফ আল ইসলাম, যাকে গাদ্দাফির উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হয়। গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে সাইফ বলছেন, বিদ্রোহীরা ফাঁদে পড়েছে।বাব আল আজিজিয়া গাদ্দাফি ও তার অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দাবি করে মঙ্গলবার সকালে সাইফ দাবি করেন, তার বাবা দুর্গেই রয়েছেন।এর পরই বিদ্রোহীরা বাব আল আজিজিয়ার পথে অভিযান জোরদার করে। ন্যাটো বাহিনী বিমান থেকে গোলবর্ষণ করে বিদ্রোহীদের সহায়তা দেয়। তবে এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি ন্যাটোর কোনো কর্মকর্তা।
পশ্চিমা দেশগুলো সোমবার থেকেই ৬৯ বছর বয়সি গাদ্দাফিকে হার স্বীকার করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিদ্রোহী কাউন্সিলকে স্বীকৃতিও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ। তবে এতে গাদ্দাফির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।এর আগে রোববার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের ‘গ্রিন স্কয়ার’সহ ত্রিপোলির অনেক এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় বিদ্রোহীরা। দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে ত্রিপোলিতে প্রবেশের সময় হালকা প্রতিরোধের মুখে পড়ে বিদ্রোহী যোদ্ধারা। এক পর্যায়ে তারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেরও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।‘গ্রিন স্কয়ার’ও তার আগের নাম ‘শহীদ চত্বর’ ফিরে পায়। সেখানে সমবেত জনতা গাদ্দাফির প্রতিকৃতি পদদলিত করে। তারা লিবীয় সরকারের সবুজ পতাকা নামিয়ে বিদ্রোহীদের করা পতাকা ওড়ায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ