মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০১১

শিবশংকর মেনন ঢাকায়

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেনন ঢাকা পৌঁছেছেন।রবিবার বেলা ১১টার দিকে তাকে বহনকারী বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে ভারতীয় হাই কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে শিবশংকরের এ সফর। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে ঢাকা আসছেন। তার স্ত্রী গুরশরণ কাউর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, মেঘালয়ের মুকুল সাংমা, ত্রিপুরার মানিক সরকার, আসামের তরুণ গগৈ ও মিজোরামের লাল থানাওয়ালা এই সফরে তার সঙ্গে থাকছেন।
মনমোহনের এই সফরে সীমানা বিরোধ, তিস্তার পানি বণ্টনসহ ট্রানজিট বাস্তবায়নে কয়েকটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়গুলোর অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন শিবশংকর মেনন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই উপদেষ্টা মসিউর রহমান ও গওহর রিজভী এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেননই মূলত মনমোহনের সফর এবং দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি দেখভাল করছেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা গত ১৫ আগস্ট দিল্লি সফর করেন। ওই সফরে সে দেশের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী শনিবার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফর একটি 'স্মরণীয়' ঘটনা হয়ে থাকবে বলেই আশা করছেন তিনি। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়া দিল্লি সফরকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য একটি 'বাঁক' অভিহিত করে উপদেষ্টা বলেন, যারা ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তির বিরোধিতা করছে, তারা 'ভুল' তথ্য প্রচার করছেন। তিনি বলেন, "ট্রানজিটের জন্য নতুন করে কোনো চুক্তি করার প্রয়োজন নেই, কারণ ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিতেই এ বিষয়টি রয়েছে। এখন আমাদের ট্রানজিট রুটসহ অন্যান্য খুঁটিনাটি বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।" অবকাঠামোগত প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়ে গেলেই ট্রানজিট সুবিধা বিনিময় শুরু হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান।
গত বছর শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে দুই প্রধানমন্ত্রী যে যৌথ ঘোষণা দিয়েছিলেন, মনমোহনের এবারের সফরে তার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে জানিয়ে গওহর বলেন, "আমরা এখানেই থেমে থাকব না। এই সহযোগিতাকে আরো এগিয়ে নেব আমরা।" এই সফরে যেসব চুক্তি বা সমঝোতা হবে- তার কোনোটিই 'লুকানো' হবে না বলেও উল্লেখ করেন গওহর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ