মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০১১

লিবীয়রা গাদ্দাফি যুগের অবসান উদযাপন শুরু: পরাজয় মেনে নিতে গাদ্দাফিকে বিশ্ব নেতাদের আহ্বান

বিদ্রোহীরা ত্রিপোলির দখল নেয়ায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ অভিন্দন জানিয়েছেন এবং মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে পরাজয় মেনে নিতে বলেছেন। এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত লিবীয়রা গাদ্দাফি যুগের অবসান উদযাপন শুরু করেছে।রাজধানী ত্রিপোলিতে বিদ্রোহীদের প্রবেশ এবং অধিকাংশ এলাকা তাদের দখলে যাওয়ায় মনে করা হচ্ছে গত ছয়মাসের বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনের অবসান হচ্ছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, লিবীয়রা এখন তাদের আকাক্সার দ্বারপ্রান্তে। তিনি বিদ্রোহীদের সতর্ক করে বলেন, সামনে আরো অনেক চ্যালেঞ্জ অপো করছে। তিনি ভবিষ্যত লিবিয়ার একজন বন্ধু ও অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার করেন।জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরবলীগ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রধানদের নিয়ে লিবিয়া বিষয়ে একটি সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দেন। তিনি গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণভাবে মতা হস্তান্তরের পথ তৈরির আহ্বান জানান। বান কি মুন বলেন, ‘মুহূর্তটি আশাব্যঞ্জক। কিন্তু সামনে অনেক ঝুঁকি রয়েছে।’লিবিয়ার বিদ্রোহীদের প্রথম স্বীকৃতিদানকারী ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানোয় গাদ্দাফির দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করেন। তার অফিস সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি বিদ্রোহীদের ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) প্রধানমন্ত্রীকে বুধবার তার সঙ্গে সাাতের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ফ্রান্স বলেছে, লিবিয়া পরিস্থিতি সমন্বয়ের লক্ষে আন্তর্জাতিক ‘কণ্টাক্ট গ্র“প’এর সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব নেবে তারা।মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর জানিয়েছে, লিবিয়া বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে কণ্টাক্ট গ্র“পের কূটনীতিকরা বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন।স্পেন লিবিয়ায় সর্বশেষ অগ্রগতি বিষয়ে জাতিসংঘের একটি নতুন প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে লিবিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনি গাদ্দাফির প্রতি প্রতিরোধ না গড়ার আহবান জানিয়েছেন।জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল গাদ্দাফি যুগের অবসান শুরু হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে মতা উত্তরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে খুব দ্রুত তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ লিবীয়রা দীর্ঘদিন দুর্ভোগ সহ্য করেছে।এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গাদ্দাফিকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া আরবলীগ লিবিয়ার বিদ্রোহীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। মিশর লিবিয়ার নতুন প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ তিউনিশিয়া লিবীয় বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়ে একে ঐতিহাসিক পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছে।মরক্কো আনুষ্ঠানিকভাবে সোমবার বিদ্রোহীদের স্বীকৃতি দিয়ে বলেছে, তারাই লিবীয় জনগণের বৈধ প্রতিনিধি।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গাদ্দাফির প্রতি বিনাশর্তে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার লিবীয় জনগণকে তাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক পথ তৈরির আহ্বান জানান।লিবিয়া সরকারের অবকাঠামো দুর্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ন্যাটো দেশ পুনর্গঠনে একটি সুযোগ দিতে গাদ্দাফির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।তবে বিশ্বে ভেনিজুয়েলাই একমাত্র দেশ যেটি এখনও এককভাবেই গাদ্দাফির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে যাচ্ছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ বোমা ফেলে ত্রিপোলিকে ধ্বংসের জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করেন।চীন তার পরিমিত প্রতিক্রিয়ায় লিবিয়ায় নতুন যে সরকার আসবে তাকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছে।এদিকে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত লিবীয়রা তাদের দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসের সামনে জড়ো হয়ে গাদ্দাফি যুগের অবসানকে স্বাগত জানাচেছ। তারা পতাকা উড়িয়ে শ্লোগান দিয়ে বিদ্রোহীদের অভিনন্দন জানাচ্ছে। (এএফপি)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ