বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০১১

ম্যাচ আর মেসি নিশ্চিত

বঙ্গবন্ধু ও ফতুল্লা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সহকারী কোচ জুলিয়ান কামিনো দুটি নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। এক. ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া ম্যাচ হবে এবং ২. সে ম্যাচে খেলবেন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। এরপর আট দিন কেটে গেলেও এ দুটি বিষয়ের নিশ্চয়তা ছাড়া অন্য সবই ঝুলে আছে। সময় দ্রুত এগিয়ে আসার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের টেনশন। ম্যাচ ভেন্যু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে ইয়েস কার্ড দেওয়া হলেও অনুশীলন ভেন্যু ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সিদ্ধান্ত কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার ওপর ছেড়ে দিয়ে ২২ আগস্ট ভোরে ফিরে গেছেন কামিনো। গতকাল পর্যন্ত অনুশীলন ভেন্যুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই পায়নি বাফুফে। ম্যাচের আগে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে একাধিক সেশন অনুশীলন করা হলে মাঠ খেলার অনুপোযোগী হতে পারে_ এমন বাস্তবতার কথা চিন্তা করে বাফুফে কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত ফতুল্লাতেই অনুশীলন হতে পারে মেসিদের; কিন্তু কাগজপত্রে সবকিছু রীতিমতো অন্ধকারে। কেবল অনুশীলন ভেন্যুই নয়, অনেক কিছুই অনিশ্চিত হয়ে আছে। এর মধ্যে বাড়তি দুশ্চিন্তা যোগ হয়েছে মেসিরা কবে ঢাকায় আসছেন তার নির্ধারিত দিনক্ষণ নিয়ে। কলকাতার মিডিয়া খবর ছড়াচ্ছে, মেসিরা দু'দিন বেশি অবস্থান করে সেখানেই অনুশীলন সেরে নিতে পারেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে এমন মনোভাব প্রকাশ করে নাকি কলকাতার আয়োজকদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তাহলে বিলম্ব হবে তাদের ঢাকা আগমন। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন অবশ্য এমন খবরকে গুরুত্বই দিতে চাচ্ছেন না। 'আমাদের সঙ্গে চুক্তিই আছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ৩ সেপ্টেম্বর আসবে, পরের দু'দিন অনুশীলন করবে এবং ৬ সেপ্টেম্বর ম্যাচ খেলে ৭ সেপ্টেম্বর চলে যাবে। তাদের নির্ধারিত সময়ের পরে আসাটা তো আমরা মেনে নেব না'_ চুক্তির লাইন ধরে কথা বললেও বাফুফে সভাপতি চিন্তিত মেসিদের চূড়ান্ত সফরসূচি না পাঠানোয়। তিনি জোর দিয়ে শুধু একটি নিশ্চয়তাই দিলেন, তা হলো ম্যাচ আর মেসির। 'আমরা চুক্তির কোনো কিছু যদি ভঙ্গ করি, তাহলে আমাদের অতিরিক্ত এক মিলিয়ন ডলার দিতে হবে। মেসির ক্ষেত্রেও তেমন চুক্তি আছে। মেসি না এলে সিএমজি আমাদের ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে বাধ্য'_ বলেছেন বাফুফে সভাপতি।আর্জেন্টিনা ঢাকায় আসার মেসিদের বিচরণ কি শুধুই হোটেল আর মাঠে সীমাবদ্ধ থাকবে? নাকি তাদের কোনো ঐতিহাসিক স্থান দর্শনের ব্যবস্থাসহ আরও কর্মসূচি থাকবে? 'চাইলেই তাদের যেখানে খুশি নেওয়া যাবে না। তবে আমাদের ইচ্ছে আছে অন্তত সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে নিয়ে যাওয়া। সফরসূচি না পাওয়ায় কোনো কিছুরই নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। আমি এ বিষয়গুলো নিয়ে এখন চিন্তিত' জবাব বাফুফে সভাপতির। ভারতভিত্তিক এজেন্ট প্রতিষ্ঠান সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ (সিএমজি) ছাড়া আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিশনের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছে না বাফুফে। দু'একটি বিষয়ে সরাসরি আর্জেন্টিনায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল বাফুফে। সেখান থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সিএমজির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে।অনুশীলন ভেন্যু চূড়ান্ত না হওয়ায় বাফুফে বড় সমস্যায় পড়েছে টিকিট বিক্রি নিয়ে। একটি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি টাকায় অনুশীলনের টিকিট বিক্রির স্বত্ব কিনেছে। এখন তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। না করেনি, তবে ডিনার স্বত্বের মতো এটাও হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে বাফুফের। ৪ সেপ্টেম্বর অফিসিয়াল ডিনার হবে এবং তা বাফুফের নিজস্ব আয়োজনে। সব কিছুর নিশ্চয়তা দিতে সিএমজির এ গড়িমসি বাফুফের লোকসানের খাতাটা বড় করছে।দুই দলের খেলোয়াড়দের উপহার দেওয়া প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি বলেছেন, 'নিজের অভিজ্ঞতায় বলছি, অনেক উপহারই খেলোয়াড়রা হোটেলে ফেলে যান। তাই আমরা এমন কিছু দিতে চাই যা তারা নিয়ে যাবেন এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও কৃষ্টি দুটি দেশে পৌঁছায়। রুপার তৈরি নৌকা, নকশিকাঁথা, কার্পেটসহ হালকা দর্শনীয় কিছু উপহার তৈরি করা হচ্ছে মেসিদের জন্য।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ