সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১১

ঢাকায় পাঁচ দিন প্রতিবাদ জানাবে বিএনপি

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) ভাগের প্রতিবাদে হরতাল পালনের পর রাজধানীসহ সারাদেশে পাঁচ দিনের প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৮ থেকে ১২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরের সব থানায় প্রতিবাদ সমাবেশ করবে দলটি। এছাড়া পাঁচ দিনের কর্মসূচির শেষ দিনে সারাদেশেও বিক্ষোভ-সমাবেশ করবে বিএনপি। সোমবার বিকালে এক প্রতিবাদ সমাবেশে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিপুল জনসংখ্যার ঢাকা মহানগরীতে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ডিসিসিকে ভাগ করা হয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর এ যুক্তিকে ‘খোঁড়া’ অভিহিত করে তিনি বলেন, “আমি বলব, তাহলে ঢাকার মতো প্রধানমন্ত্রীর পদকেও দুই ভাগ করুন। দেশের জনসংখ্যা বেড়ে গেছে। সেইজন্য বলছি- প্রধানমন্ত্রীর এরকম যুক্তি অর্থহীন।” ডিসিসির সাবেক মেয়র ও বিএনপির মহানগর কমিটির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার ওপর রোববারের ‘হামলার’ প্রতিবাদে আয়োজিত এ সমাবেশে ডিসিসি ভাগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ডিসেম্বর মাসে আরো বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। ডিসিসিকে উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুই ভাগ করতে একটি বিল সংসদে পাস হয় গত ২৯ নভেম্বর। গত ১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর বিলটি আইনে পরিণত হয়। বিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই অংশে রোববার সরকারের দুইজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়াকে ‘অসাংবিধানিক’ অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “নির্বাচনী বৈতরণী অতিক্রম করতে সরকার ঢাকাকে দুই ভাগ করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবির পর তারা ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন না দিয়ে এই বিভক্তির পরিকল্পনা করেছে।” ডিসিসি ভাগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোববার রাজধানীতে বিএনপির হরতালের সময় দুপুরে পুরান ঢাকায় আদালতপাড়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর খোকাকে ভ্যানে করে বাসায় পৌঁছে দেয় পুলিশ। এরপর খোকা রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে ভর্তির কারণ হিসেবে বিএনপি নেতারা তখন ‘ছাত্রলীগকর্মীদের ছোড়া ইটে’ খোকার আঘাত পাওয়ার কথা বলেন। পরে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, “তাকে [খোকাকে] পুলিশ হেফাজতে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ছুরিকাঘাত করে।”

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ