রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১১

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দেয়া প্রস্তাবগুলোও বাস্তবায়নের দাবি বিএনপির

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বাতিলের দাবি জানিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এই ট্রাইব্যুনালের আইনি কাঠামো ও বিচার কার্যক্রমের ওপর বিএনপির কোনো আস্থা নেই। তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে ট্রাইব্যুনাল একটি আজ্ঞাবহ রাবার স্ট্যাম্প ছাড়া আর কিছুই নয়।শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ সময় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লিখিত বক্তৃতায় বলেন, “যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত মার্কিন অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ স্টিফেন র‌্যাপ এই ট্রাইব্যুনাল ও এর বিশেষ আইনগুলো পর্যালোচনার জন্য সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফর করে গেছেন।তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “এই ট্রাইব্যুনালকে ন্যায়পরায়ন এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে তার দেয়া অনেক সুপারিশই সরকার ও ট্রাইব্যুনাল উপেক্ষা করেছে। স্টিফেন র‌্যাপ ছয়টি সুপারিশ করেছিলেন। সেগুলো হলো এক. মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলতে কী বুঝায় তা সঙ্গায়িত করতে হবে। দুই. অভিযুক্তরা যেন একই পরিমাণ সময় এবং সামর্থ্যের যোগান পায় তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। তিন. চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য অভিযুক্তরা যেন একই পরিমাণ সময় ও সামর্থ্যের যোগান পায়, যেমনটি অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা পেয়ে থাকে। চার. বিচারিক কার্যক্রম যেন টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচার করা হয়। পাঁচ. বিদেশী কৌঁসুলি বা আইনজীবীদের যেন বিচার প্রক্রিয়ায় পরামর্শক হিসেবে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। ছয়. অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত বাংলাদেশী নাগরিকরা যেসব অধিকার পেয়ে থাকেন সেসব অধিকারের নিশ্চয়তা যেন এই ট্রাইব্যুনালের অভিযুক্তরাও পান।এ প্রসঙ্গে সরকারের কাছে বিএনপির প্রশ্ন- যদি এই ট্রাইব্যুনাল অভ্যন্তরীণ আদালতই হবে তবে সরকার কেনো র‌্যাপকে পরামর্শ দেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। যদি অভ্যন্তরীণ আদলতই হবে তবে রোম বিধিমালা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন কেন? ওই স্বাক্ষর করার পর তা আবার জাতীয় সংসদে ভূতসাপেক্ষ অনুমোদনই বা করলেন কেন? যদি এই ট্রাইব্যুনাল অভ্যন্তরীণ আদালতই হবে তাহলে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ আইন ফৌজদারী পেনাল কোড এবং সাক্ষ্য আইনের প্রয়োগ করছেন না কেনো? স্টিফেন র‌্যাপের সঙ্গে একমত পোষণ করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, “তার সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা ছাড়া ট্রাইব্যুনাল মোটেও ন্যায়পরায়ণ স্বাধীন এবং স্বচ্ছ হতে পারবে না।ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া বহুবার বলেছেন, আমরাও সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। সে বিচার হতে হবে দেশের প্রচলিত আইনে। এই বিচার সার্বজনীন মৌলিক অধিকার সমুন্নত রেখে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে, যাতে জনমনে কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ