মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১১

আবার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে নামছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো

দেশের পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে আবার পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগে আসছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। ইতিমধ্যে অল্প অল্প করে বিনিয়োগ শুরু করেছে বেশ কিছু ব্যাংক। তবে আগামী বছরের মধ্য জানুয়ারির পর থেকে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিরা। ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, ২০০৯ সালে বাণিজিক ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে। যার প্রভাবে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে মূল্য সূচকে বড় ধরনের উত্থান ঘটে। ওই সময় দেশের অন্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগের তেমন সুযোগ না থাকায় ব্যাংকগুলো অতিমাত্রায় শেয়ারবাজার মূখী হয়েছিলো বলে জানায় তারা। এরপর বিনিয়োগে বেশ কিছু ক্ষেত্র সৃষ্টি হওয়া ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী বিনিয়োগ আইনী সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রত্যাহারে বাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে পতনের ধারায় পতিত হয় শেয়ারবাজার। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বেশ কিছু সমস্যার কারণে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সুযোগ আবারও কমে আসছে বলে মনে করছে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা। ফলে ব্যাংকগুলো আবার তাদের অর্থ বিনিয়োগের জন্য শেয়ারবাজার মূখী হবে বলে জানান তারা। তাছাড়া সম্প্রতি শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কিছু ছাড় দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে। একাধিক ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বর মাস ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব ক্লোজিং এর সময়। এ সময় ব্যাংকগুলো সাধারণত বিনিয়োগ না করে বিনিয়োগ উঠিয়ে নেই। ক্লোজিং শেষে আবার বিনিয়োগে ফিরে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত জানুয়ারির শেষের দিক থেকে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে সংক্রিয় হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে দেশের বিনিয়োগ অবস্থা বেশ নাজুক। যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। যার ফলে ব্যাংকগুলো অর্থ বিনিয়োগের জন্য শেয়ারবাজারকে বেছে নেবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ব্যাংকের কাজ হলো একজনের কাছ থেকে অর্থ এনে অন্য জনের কাছে ঋণের বিনিময়ে বিনিয়োগ করা। ব্যাংক অন্যের কাছ থেকে ধার করে নেয়া টাকা নিশ্চয় বসিয়ে রাখবে না। তাছাড়া ডিসেম্বরের ক্লোজিং শেষে ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তারল্য জমা হয়। এ তারল্য জানুয়ারি থেকেই শেয়ারবাজারে প্রবেশ করবে বলে তিনি ধারণা করছেন। বেসরকারি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেন, শেয়ারবাজারে বর্তমানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের যে মূল্য তাতে অধিকাংশ ব্যাংকই চায় বিনিয়োগে আসতে। তবে ডিসেম্বর মাস ক্লোজিং এর সময় হওয়ায় ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও বিনিয়োগ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট বলে কিছু নেই। মূলত ২০১০ সালে বিনিয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্র সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংকগুলো অনেকটা শেয়ারবাজার বিমুখ ছিলো। তবে ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আবারও কমে আসছে যা ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজার মূখী করতে বাধ্য করবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ