বুধবার, ২১ মার্চ, ২০১২

এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। এই অর্জনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদ অধিবেশন শেষে সপরিবারে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা উপভোগ করেন তিনি। মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯ ওভার ৫ বলে অলআউট হওয়ার আগে ২৩২ রান করে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি নামে। ৩০ মিনিটের বৃষ্টির কারণে ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট পরে খেলা শুরু হয়। তিন বার পিচ পরিদর্শন করে রাত ৮টায় খেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন দুই অস্ট্রেলীয় আম্পায়ার পল রাইফেল ও স্টিভ ডেভিস। ডাকওয়ার্থ/লুইস পদ্ধতিতে ৪০ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১২ রান। তবে বাংলাদেশের সামনে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ২৩তম জন্মদিন উদযাপন করা তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের অর্ধশতকের সুবাদে ১৭ বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম আর ৩০ ওয়ানডেতে তৃতীয় জয়। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিকদের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ৮ রানে নুয়ান কুলাসেকারার বলে বোল্ড হয়ে যান নাজিমউদ্দিন (৬)। এরপর জহুরুল ইসলাম (২) ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের (১) বিদায়ে চাপ বেড়ে যায় আরো। ৪০ রানে ৩ উইকেট হারানো স্বাগতিকরা খেলায় ফেরে চতুর্থ উইকেটে সাকিবের সঙ্গে তামিমের ৭৬ রানের জুটির সৌজন্যে। সচিত্র সেনানায়েকের বলে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে লাহিরু থিরিমান্নের হাতে ধরা পড়েন তামিম। ৫৭ বলে খেলা তামিমের ৫৯ রানের ইনিংসে ৯টি চার। এরপর নাসির হোসেনের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১৯ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন সাকিবও (৫৬)। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত সাকিবের ৪৬ বলের ইনিংসটি ৭টি চারে সাজানো। সাকিবের বিদায়ের পর জয় নিয়ে শঙ্কায় পড়ে গেলেও ষষ্ঠ উইকেটে সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্ল¬াহর সঙ্গে নাসিরের ৭৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটির সুবাদে শেষ পর্যন্ত সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
৬১ বলে খেলা নাসিরের অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংসে ৩টি চার। অন্যপ্রান্তে তখন ৩২ রানে অপরাজিত মাহমুদুল্ল¬াহ। নাসিরের ব্যাট থেকে জয় নিশ্চিত করা চার আসার সঙ্গে-সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাঠের ২৫ হাজার দর্শকও তখন উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা। শ্রীলঙ্কার পক্ষে নুয়ান কুলাসেকারা ও সেনানায়েকে দুটি করে উইকেট নেন। এর আগে নাজমুল হোসেনের তোপে শ্রীলঙ্কার শুরুটাও ভালো হয়নি। দলীয় ৩২ রানের মধ্যে শ্রীলঙ্কার তিন প্রধান ব্যাটিং স্তম্ভ মাহেলা জয়াবর্ধনে (৫), কুমার সাঙ্গাকারা (৬) ও তিলকরতেœ দিলশানকে ফিরিয়ে দেন নাজমুল। এই ডানহাতি পেসারের প্রথম স্পেলটি (৬-১-২২-৩) ছিলো দুর্দান্ত। অথচ আগের দুই ম্যাচে প্রথম একাদশেই সুযোগ পাননি নাজমুল। ভারতের বিপক্ষে কাঁধে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়া শফিউল ইসলামের জায়গায় মঙ্গলবার সুযোগ পান তিনি। উইকেট না পেলেও প্রথম স্পেলে নিখুঁত লাইন-লেন্থে বল করে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের বলতে গেলে রানই করতে দেননি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশের সেরা পেসারের প্রথম স্পেলেই (৬-১-১৩-০) তা প্রতিফলিত । চতুর্থ উইকেটে লাহিরু থিরিমান্নের সঙ্গে ৮৮ ও উপুল থারাঙ্গার সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে লড়াইয়ে ফেরান চামারা কাপুগেদারা। দলীয় ১৬৯ রানে আব্দুর রাজ্জাকের বলে এক্সট্রা কাভারে সাকিবের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে কাপুগেদারার ব্যাট থেকে আসে ৬২ রান। ৯২ বলের ইনিংসে ৪টি চার। কাপুগেদারার বিদায়ের পর ফারভিজ মাহারুফ (৩) ও নুয়ান কুলাসেকারা (১) দ্রুত আউট হয়ে গেলে চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। তবে তখনো থারাঙ্গা ছিলেন বলে তাদের বড় সংগ্রহ গড়ার আশা টিকেছিলো। কিন্তু দু শ পেরোনোর পর বিদায় নেন থারাঙ্গাও (৪৮)। ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নাজমুল বাংলাদেশের সফলতম বোলার। প্রতিপক্ষকে আড়াই শ’র কমে বেঁধে রাখতে রাজ্জাক (২/৪৪) ও সাকিবের (২/৫৬) অবদানও কম নয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ৪৯.৫ ওভারে ২৩২ (জয়াবর্ধনে ৫, দিলশান ১৯, সাঙ্গাকারা ৬, কাপুগেদারা ৬২, থিরিমান্নে ৪৮, থারাঙ্গা ৪৮, মাহারুফ ৩, কুলাসেকারা ১, সেনায়েকে ১৯*, মালিঙ্গা ১০, লাকমল ০; নাজমুল ৩/৩২, রাজ্জাক ২/৪৪, সাকিব ২/৫৬, মাশরাফি ১/৩০)
বাংলাদেশ: ৩৭.১ ওভারে ২১২/৫ (তামিম ৫৯, নাজিম ৬, জহুরুল ২, মুশফিক ১, সাকিব ৫৬, নাসির ৩৬*, মাহমুদুল্ল¬াহ ৩২*; কুলাসেকারা ২/৩০, সেনানায়েকে ২/৩৮, লাকমল ১/৪৪)
ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ