শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২

সাগরে আরো ৪-৫টি ব্লকে অনুসন্ধান হতে পারে

সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনালের রায়ের ফলে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে পাঁচটি ব্লকে অনুসন্ধান চালানো যাবে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. ইমাদুদ্দিন বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের সব ব্লক নিয়ে ভারত বা মিয়ানমারের সঙ্গে বিতর্ক রয়েছে। তবে এই রায়ের পরে আমরা আশা করছি যে, চার বা পাঁচটি ব্লক আমাদের সীমানার মধ্যে থাকবে।”
তিনি বলেন, এই এলাকা ১৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার হতে পারে। বিরোধ নিরসনের ফলে সেখানে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজও শুরু করা যাবে।
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সীমা নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দি ল অব দি সি (আইটিএলওএস) থেকে বুধবার প্রথমবারের মতো এক ঐতিহাসিক রায় পায় বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে সমুদ্র সীমা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে চলে আসা ৩৮ বছরের বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। বঙ্গোসাগরের অগভীর অঞ্চলে ১০টি ও গভীর সমুদ্রে ২০টি ব্লক রয়েছে বাংলাদেশের। ইমাদুদ্দিন বলেন, “আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সীমানা নির্দেশক রেখা বিষয়ে সমন্বিত নির্দেশনা পাইনি।
“তা পাওয়ার পর একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে কতগুলো ব্লক বিরোধের বাইরে এসেছে তা নির্ধারণ করা হবে।” প্রয়োজনীয় তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে আসার পর রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ এ বিষয়ে নিশ্চিত করে জানানো হবে। সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সালিশ নিষ্পত্তি করে জার্মানির হামবুর্গে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দি ল অব দি সির রায়ে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশকে এক লাখ ১১ হাজার ও মিয়ানমারকে এক লাখ ৭১ হাজার বর্গ কিলোমিটার দিয়ে সমুদ্রে সীমানা নির্দেশক রেখা ঠিক করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক বলেন, গভীর সমুদ্রের এসব ব্লকে গ্যাস ও তেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশে স্থলভাগে প্রতি তিনটি কূপ খননে একটিতে গ্যাস পাওয়া গেলেও ঊপকূলে এ সফলতার হার ১৬টিতে দুইটি বলে জানান তিনি। “এটা সব সময় একটা সম্ভাবনার দিক। তবে বাস্তবে এটা অর্জন হতে পারে বা নাও হতে পারে।” কনোকো-ফিলিপস পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তা বলেন, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ কনোকো-ফিলিপস তাদের ভূকম্পন জরিপ শেষ করতে পারে। “বহুজাতিক এ কোম্পানির জরিপের ফল পাওয়ার পর আমরা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেব।”
ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আংশিক বিরোধ থাকা বঙ্গোপসাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি কনোকো-ফিলিপসকে। ইমাদুদ্দিন বলেন, “১০ নম্বর ব্লক নিয়ে ভারতের এবং ১১ নম্বর ব্লক নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল এবং এ রায়ের পর মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ শেষ হবে।” ১১ নম্বর ব্লকে দুই হাজার চারশ’ ৫৪ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে বিরোধ না থাকলেও চারশ ৪৫ কিলোমিটার নিয়ে বিরোধ ছিল বলে জানান তিনি। গভীর সমুদ্রে জরিপ ও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত জুনে কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে উৎপাদন বিনিময় চুক্তি (পিএসসি) করে সরকার। গভীর সমুদ্রে ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে মোট পাঁচ হাজার একশ’ ৫৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ভূকম্পন জরিপ শুরু করেছে এ বহুজাতিক কোম্পানি। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় দুইশ ৮০ কিলোমিটার দূরের এ ব্লকগুলো পানির গভীরতা এক থেকে দেড় হাজার মিটার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ