শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১২

ভারত সমুদ্রসীমার দ্বিপাক্ষিক সমাধানে আগ্রহী

ঢাকায় ভারতের নতুন হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেছেন, ভারত দ্বিপাক্ষিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সমাধানে আগ্রহী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাতের পর শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন হাই কমিশনার। জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিরসনের তিন দিন পর দীপু মনির সঙ্গে পঙ্কজের এ সাক্ষাৎ প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। প্রতিবেশী দুই দেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ কি দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধান হতে পারে- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে হাই কমিশনার বলেন, এটা সম্ভব। চলতি মাসেই হাই কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়া পঙ্কজের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, ভারতের সঙ্গে সমাধান দ্বিপাক্ষিকভাবে হতে পারে কি না। জবাবে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমরা করব।”
“পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি বলেছি, এটা [আইএলটিওএস’র রায়] একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।” “এ ক্ষেত্রে আমরা ভারত বাংলাদেশকে একসঙ্গে নিয়ে দ্বিপাক্ষিকভাবে এগুতে চাই।” ৫৪ বছর বয়সী পঙ্কজ হাই কমিশনার হিসাবে গত ৯ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পেয়ে ঢাকা পৌঁছান গত ৭ মার্চ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এটি তার প্রথম সাক্ষাৎ। বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত হেগের স্থায়ী সালিশ আদালতে যায় ২০০৯ সালে। আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ২০১৪ সালের মধ্যে। মিয়ানমারের সঙ্গেও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ ছিল যা বুধবার জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অব দ্য সী’র (আইএলটিওএস) এক রায়ে দীর্ঘ ৩৮ বছর পর মীমাংসা হয়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ টেরিটরিয়াল ওয়াটার ও মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট করলে ভারত ও মিয়ানমার বাংলাদেশের ঘোষিত বেইজলাইন বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তিস্তার পানিবণ্টন গত সেপ্টেম্বরে ‘ঝুলে যাওয়া’ তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পঙ্কজ শরণ বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “আজকের সাক্ষাৎটি ছিল প্রথম সাক্ষাৎ। আমরা সব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি।” বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সম্পর্ক চায় জানিয়ে ভারতের হাই কমিশনার বলেন, “আরো অনেক কিছু যে করা সম্ভব তা আমরা বুঝতে পেরেছি।” ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের গত সেপ্টেম্বরের ঢাকা সফরে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল; তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তা আটকে যায়। অবশ্য গত মাসে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে নয়া দিল্লিতে ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, তিস্তার পানি বণ্টনে অন্তবর্তী একটি চুক্তির উদ্যোগ নেবে ভারত সরকার। স্থলসীমা চুক্তি ভারত ১৯৭৪ সালের স্থলসীমা চুক্তি অনুসমর্থন করবে কি না জানতে চাইলে দেশটির হাই কমিশনার সরাসরি জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তিনি বলেন, “আমি [কোনো বিষয়ে] বিস্তারিত প্রশ্নোত্তরে যাব না।” স্বাধীনতা লাভের তিন বছর পর (১৯৭৪ সালে) স্থলাসীমা নিয়ে ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি করে বাংলাদেশ যা ওই বছরই বাংলাদেশ অনুসমর্থন করে। তবে ভারত এখন পর্যন্ত অনুসমর্থন না করায় চুক্তিটি কার্যকর হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুসমর্থনের পর তা কার্যকর হওয়ার কথা। অবশ্য গত ফেব্রুয়ারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের নয়া দিল্লি সফরে এ চুক্তি অনুসমর্থনের বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফর শেষে দেশে ফিরে গত ৫ মার্চ সাংবাদিকদের এ কথা জানান সাহারা। ১৯৮২ সালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়া পঙ্কজ শরণের দেশের বাইরের প্রথম কর্মস্থল ছিল বাংলাদেশই। ঊনিশশ আশির দশকের শেষভাগে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ