
প্রকৃতিতে লেগেছে শরতের ছোঁয়া। প্রচ- খরতাপে থেমে থেমে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিচ্ছে এক পসলা বৃষ্টি। প্রকৃতির এই বিচিত্র খেলায় জীবনকে আরও আনন্দময় সুন্দর ও সতেজ এবং পোশাকেও আনতে পারেন বৈচিত্র। আবার সাজগোজ করে বাইরে বেরিয়ে হঠাৎ বৃষ্টির ঝাপটায় যেন পুরোটাই ম্লান না হয় সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তাই আপনার সাজ হতে হবে সময়োপযোগী।ঋতুভেদে সাজগোজের পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তনটা নির্ভর করে নিজস্ব রুচির ও চিন্তার ওপর। ওমেন্স ওয়াল্ডের কর্ণধার কণা আলম বলেন, এখন যেহেতু বাইরে রোদ বৃষ্টির খেলা, তাই সাজের ক্ষেত্রে উপকরণটি অবশ্যই যেন পানিরোধক হয়। এ সময়ে দিনের বেলা আপনার গাঢ় সাজ যেমন গরমে মানানসই নয়, তেমনি অন্যদের চোখেও তা দৃষ্টিকটু লাগে। এই সময়ে সাজে সব মিলিয়ে স্নিগ্ধভাব থাকা চাই। হালকা মেকআপই তাই ভালো। দিনের বেলায় ফাউন্ডেশন না লাগিয়ে হালকা কোন ফেস পাউডার লাগিয়ে দেখতে পারেন। এতে ত্বক অনেক বেশি মসৃণ ও সুন্দর দেখাবে। আবার যদি আপনি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতেই চান, ম্যাটিফায়িং ফাউন্ডেশন লাগান। এতে ত্বক কম ঘামবে এবং কম তৈলাক্ত হবে। এর ওপরে প্রয়োজনে পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে মুখের যেখানে সাধারণত বেশি ঘাম হয়। এবার পোশাকের সঙ্গে মেকআপে মিল রেখে লাইট-ব্রাউন কালারের আইশ্যাডো লাগিয়ে নিলে অনেক বেশি ন্যাচারাল দেখাবে। তবে রাতের বেলায় একটু গাঢ় করেই চোখটা সাজাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মেরুন, কফি, সবুজ, নীলচে শেডগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এ সময় অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ মাশকারা এবং পেনসিল আইলাইনার ব্যবহার করুন। দিনের সাজে চোখের নিচের পাতায় আইলাইনার অথবা মাশকারা না লাগানোই ভালো। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন রঙিন কাজল। নীল, সবুজ, গোলাপি, লাল কাজলের রেখা টেনে নিতে পারেন চোখের কোণে। যারা রঙটা একটু বেশিই পছন্দ করেন, তারা পোশাকের রঙের বিপরীত রঙটিও বেছে নিতে পারেন। এটি চোখের কাজল, শ্যাডো, লিপস্টিকথ সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দিনের বেলা বস্নাশ-অন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কপালে টিপ দিতে পারেন।ত্বকের যতœ : সকালে, দিনের যে কোন সময় আর রাতে ঘুমানোর আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে। যত নরম সাবানই হোক, তাতে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদান থাকে। নিয়মিত সাবান ব্যবহারে মুখের ত্বকে বলিরেখা পড়তে পারে। মুখের ত্বকে তাই সাবান ব্যবহার না করাই ভালো। সপ্তাহে এক দিন যে কোন স্ক্রাব দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। ত্বকে যাতে তেল না জমে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। নইলে তেল আর ময়লা জমে ব্রণ হতে পারে। ত্বকের তেলতেলে ভাব কাটাতে কমপ্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। বরফ দিয়ে ম্যাসেজ করলেও উপকার পাবেন। রাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ঘুমালে অবশ্যই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। যে প্রসাধনীই ব্যবহার করবেন, খেয়াল রাখবেন, তা যেন নামি কোন কোম্পানির তৈরি হয়। চুলের যতœ : এ সময় প্রতিদিন চুল ধুতে হবে। যারা বাইরে বেশি কাজ করেন, তারা সম্ভব হলে প্রতিদিনই চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে কন্ডিশনার লাগান। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন গরম তেল ম্যাসেজ করুন। নারকেল তেলই চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো। সারা রাত লাগিয়ে রেখে পরদিন শ্যাম্পু করুন। এতে ঘুমও ভালো হবে। তলের সঙ্গে যে কোন প্রটিনসমৃদ্ধ প্যাকও লাগাতে পারেন। ডিম, আমলা, টকদই, এসব দিয়ে তৈরি প্যাক লাগাতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন। লম্বা চুল হলে পাতলা স্কার্ফ দিয়ে মুড়িয়ে ঘুমাতে পারেন। চুলের ডগা ফেটে যাওয়ার ভয় থাকবে না। দিনে চলাফেরার সময় চুল বেঁধে রাখলে কম ময়লা হবে। খুশকি থেকে বাঁচতে চুল সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। চুল ধুয়ে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন। প্রয়োজনীয় কিছু কথা এ সময়ে হঠাৎ বৃষ্টিতে পোশাক ভিজতেই পারে। তবে ভিজে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুকিয়ে নিতে হবে। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় দীর্ঘদিন তুলে রাখা কাপড়ে ফাঙ্গাশ দেখা যায়। তাই মাঝেমধ্যে পোশাক রোদে দেয়া ভালো। আলমারিতে রাখার সময় ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথলিন গুঁজে দিতে পারেন। বর্ষার দিনে কর্মজীবীরা ব্যাগে সবসময় ছোট তোয়ালে আর লিপস্টিক, চিরুনি রাখুন। চোখের কালি ঢাকতে ভ্রুর কাছে লাগান সামান্য পলহায়াইট হাইলাইটার। খুব বেশি ফ্যাকাসে লাগলে চোখে লাগান বস্ন্যাক মাশকারা। গালে দিন সামান্য বাদামি হালকা বস্ন্যাশ অন। গালটা তাহলে আর ভারি ভারি দেখাবে না। চুলটা খোলা রাখতে পারেন। এই গরমে ঢাউস ব্যাগ না নিয়ে ছোট মানানসই ব্যাগে সানগ্লাস, পেন, পার্ম ইত্যাদি দরকারি জিনিস ভরে নিতে পারেন। এ সময়ে দিনের বেলা যত নিমন্ত্রণই থাকুক না কেন, ভারি সোনার গহনা মোটেই নয় এবং অবশ্যই সুগন্ধি ব্যবহার করতে ভুলবেন না। বর্ষায় পাতলা কোটা শাড়ি এড়িয়ে চলুন। সাদা কাপড় যেমন বৃষ্টির দিনে মানানসই নয়, কালো কাপড়ও তেমনি পরা উচিত নয়। কারণ, কালো কাপড় ভিজে গেলে ছাপছাপ দাগ হতে পারে। কামিজ পরুন একটু খাটো, কাদায় ময়লা হওয়ার আশঙ্কা যাতে না থাকে। আর সালোয়ারও আঁটসাঁট হওয়া চাই। তবে পোশাক যাই পরুন না কেন ছাতাকে সঙ্গী করতে ভুলবেন না যেন। ঝমঝম কিংবা ইলশেগুঁড়ি যেমনই হোক, বৃষ্টির ছাঁট আপনার সাজ পোশাক নষ্ট করতে পারবে না একদমই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন