যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটন এলাকার জুক্কোট্টি পার্ক থেকে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ বা ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল’ আন্দোলনকারীদের উচ্ছেদের জন্য কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত এক মাস ধরে শত শত মানুষ ওই পার্কে তাঁবু গেড়ে অবস্থান করছেন। কিন্তু পুলিশের সহায়তায় নিউ ইয়র্কের মেয়র ব্লুমবার্গ পার্কটি পরিষ্কার করার নামে আজ শুক্রবার আরো পরে তাদেরকে জোর করে উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে, উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে সেখানে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আন্দোলনের সংগঠকেরা ই-মেইল বার্তায় সমর্থকদের উচ্ছেদ ঠেকাতে সবাইকে অংশ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। শহরের সরকারি উকিল বিল ডে ব্লাসিও বলেছেন, জোর করে আন্দোলনকারীদের উচ্ছেদ করা হবে অসাংবিধানিক ও বেআইনি। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে আন্দোলন শুধু জোরদারই হবে; দুর্বল হবে না। অবশ্য, নগর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পার্ক পরিষ্কার করার পর আবার তাদের ফিরে আসার সুযোগ দেয়া হবে। কিন্তু অবস্থানকারীরা বলছেন, পারিষ্কার করার নামে একবার উচ্ছেদ করতে পারলে আর সেখানে তাদের ফিরতে দেবে না। এ জন্য তারা যে কোনো মূল্যে নগর কর্তৃপক্ষের ওই কর্মসূচি ঠেকাবেন।
‘ওয়াল স্ট্রিট দখল’ আন্দোলনের সংগঠকরা বলছেন, রাষ্ট্রের ক্ষমতাধরদের অর্থলিপ্সা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হয়েছেন। ক্ষমতাধরদের পাশাপাশি ধনিক শ্রেণী দিন দিন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে আর সাধারণ মানুষ ক্রমেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তারা আরো বলছেন, দেশে বেকার মানুষের সংখ্যা যখন প্রতিদিনই বাড়ছে তখন সরকার নতুন কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা আরো অভিযোগ করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কেন্দ্র ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ধনিক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করছে যারা দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র এক ভাগ। এই এক শতাংশ মানুষ বাকি ৯৯ ভাগ মানুষের ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত ও দুর্ভোগ চাপিয়ে দিচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থে ধনিক শ্রেণীর মানুষের ওপর কর বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর একদল বেকার তরুণ ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’বা ওয়াল স্ট্রিট দখল করো নামের এ আন্দোলন শুরু করে। তখন থেকেই লোয়ার ম্যানহাটনের জুক্কোট্টি পার্কে তাবু খাটিয়ে অবস্থান করছেন তারা। পার্কটি কোনো সরকারি সম্পত্তি নয়, বেসরকারি মালিকানাধীন। এরইমধ্যে এ আন্দোলন সমস্ত যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন তা বৃটেন, কানাডায় আছড়ে পড়ছে। আগামীকাল এ আন্দোলনের সমর্থনে সারা বিশ্বের ৭১টি দেশে ধনিক রাজনীতিবিদ ও বিত্তশালীদের শোষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হবে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরগুলোতেও সংগঠিত হচ্ছেন ওয়ালস্ট্রিট বিরোধীরা। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি পেশাজীবী ইউনিয়ন এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। এ আন্দোলন এখন যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজার চারশ’ শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অকুপাই বোস্টোন, অকুপাই সিনসিনাটি, অকুপাই হিউস্টোন, অকুপাই লস অ্যাঞ্জেলেস, অকুপাই ফিলাডেলফিয়া, অকুপাই প্রোভিডেন্স, অকুপাই সল্ট লেক এবং অকুপাই সিয়াটেলের মতো আন্দোলন গড়ে উঠেছে। চলতি সপ্তাহে কানাডার ভাঙ্কুভার ও টরেন্টোতে এ আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন হবে। আর শনিবার থেকে ‘অকুপাই লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ’ আন্দোলন শুরু হবে। অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলন বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছে। আন্দোলন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, পোল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও শ্রমিক নেতা লেস ওয়ালেসা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী। লেস ওয়ালেসা গতকাল বলেছেন, “তিনি অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক সফর করবেন অথবা আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তিনি চিঠি লিখবেন।” তিনি আরো বলেছেন, “বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট মানুষকে সচেতন করে তুলেছে যে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পরিবর্তন করা দরকার কারণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের স্বার্থ আদায় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।” ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বুধবার বলেছেন, অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সমস্যা স্পষ্ট হয়ে গেছে যা মার্কিন পুঁজিবাদের পতন অবশ্যম্ভাবি করে তুলবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন নানা সমস্যায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে গেছে কারণ এর দুর্নীতিগ্রস্ত ভিত্তি জনগণের কাছে উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট বিরোধীদের ওপর মার্কিন পুলিশের ধরপাকড় এখনো চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেল শহরের একটি পার্কে ওয়াল স্ট্রিট বিরোধী আন্দোলনকারীদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে পুলিশ অন্ততঃ ১০ জনকে আটক করেছে। গত মধ্যরাতে সিয়াটেলের ওয়েস্ট লেক পার্ক থেকে এসব ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
‘ওয়াল স্ট্রিট দখল’ আন্দোলনের সংগঠকরা বলছেন, রাষ্ট্রের ক্ষমতাধরদের অর্থলিপ্সা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হয়েছেন। ক্ষমতাধরদের পাশাপাশি ধনিক শ্রেণী দিন দিন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে আর সাধারণ মানুষ ক্রমেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তারা আরো বলছেন, দেশে বেকার মানুষের সংখ্যা যখন প্রতিদিনই বাড়ছে তখন সরকার নতুন কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা আরো অভিযোগ করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কেন্দ্র ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ধনিক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করছে যারা দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র এক ভাগ। এই এক শতাংশ মানুষ বাকি ৯৯ ভাগ মানুষের ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত ও দুর্ভোগ চাপিয়ে দিচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থে ধনিক শ্রেণীর মানুষের ওপর কর বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর একদল বেকার তরুণ ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’বা ওয়াল স্ট্রিট দখল করো নামের এ আন্দোলন শুরু করে। তখন থেকেই লোয়ার ম্যানহাটনের জুক্কোট্টি পার্কে তাবু খাটিয়ে অবস্থান করছেন তারা। পার্কটি কোনো সরকারি সম্পত্তি নয়, বেসরকারি মালিকানাধীন। এরইমধ্যে এ আন্দোলন সমস্ত যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন তা বৃটেন, কানাডায় আছড়ে পড়ছে। আগামীকাল এ আন্দোলনের সমর্থনে সারা বিশ্বের ৭১টি দেশে ধনিক রাজনীতিবিদ ও বিত্তশালীদের শোষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হবে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরগুলোতেও সংগঠিত হচ্ছেন ওয়ালস্ট্রিট বিরোধীরা। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি পেশাজীবী ইউনিয়ন এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। এ আন্দোলন এখন যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজার চারশ’ শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অকুপাই বোস্টোন, অকুপাই সিনসিনাটি, অকুপাই হিউস্টোন, অকুপাই লস অ্যাঞ্জেলেস, অকুপাই ফিলাডেলফিয়া, অকুপাই প্রোভিডেন্স, অকুপাই সল্ট লেক এবং অকুপাই সিয়াটেলের মতো আন্দোলন গড়ে উঠেছে। চলতি সপ্তাহে কানাডার ভাঙ্কুভার ও টরেন্টোতে এ আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন হবে। আর শনিবার থেকে ‘অকুপাই লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ’ আন্দোলন শুরু হবে। অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলন বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছে। আন্দোলন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, পোল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও শ্রমিক নেতা লেস ওয়ালেসা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী। লেস ওয়ালেসা গতকাল বলেছেন, “তিনি অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক সফর করবেন অথবা আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তিনি চিঠি লিখবেন।” তিনি আরো বলেছেন, “বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট মানুষকে সচেতন করে তুলেছে যে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পরিবর্তন করা দরকার কারণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের স্বার্থ আদায় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।” ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বুধবার বলেছেন, অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সমস্যা স্পষ্ট হয়ে গেছে যা মার্কিন পুঁজিবাদের পতন অবশ্যম্ভাবি করে তুলবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন নানা সমস্যায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে গেছে কারণ এর দুর্নীতিগ্রস্ত ভিত্তি জনগণের কাছে উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট বিরোধীদের ওপর মার্কিন পুলিশের ধরপাকড় এখনো চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেল শহরের একটি পার্কে ওয়াল স্ট্রিট বিরোধী আন্দোলনকারীদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে পুলিশ অন্ততঃ ১০ জনকে আটক করেছে। গত মধ্যরাতে সিয়াটেলের ওয়েস্ট লেক পার্ক থেকে এসব ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন