শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১১

জমিতে চারা রোপনে ‘রাইস ট্রান্সপ্লান্টার’

যন্ত্রের সাহায্যে জমি চাষের পর এবার ধানের চারা রোপনের প্রযুক্তি চালু করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) রংপুর আঞ্চলিক অফিস। যন্ত্রটির নাম রাইস ট্রান্সপ্লান্টার। স্বল্প সময়ে ও কম খরচে অধিক জমিতে চারা রোপন করার নতুন এই প্রযুক্তি জেলার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। ব্রি রংপুরের এফএমটিডি (কৃষি যন্ত্রপাতি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ) প্রকল্পের কৃষি প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে বিশেষ পদ্ধতিতে প্লাস্টিক ট্রেতে মাত্র ১২ থেকে ১৫ দিনে চারা উৎপাদন করা যায়। চারার দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার হলে তা মেশিনে রোপনের উপযুক্ত হয়। রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত ও নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণে চারা রোপন করা যায়। ফলে চারা নষ্ট হয় না। কৃষক বাড়ির উঠানেই বীজতলা তৈরি করতে পারে, জমিতে বীজতলা তৈরির প্রয়োজন পরে না। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে একজন শ্রমিক মাত্র এক ঘন্টায় ২ বিঘা (৬৬ শতক) জমিতে চারা রোপন করতে পারে। এতে খরচ হয় মাত্র ২০০ টাকা। এরমধ্যে এক লিটার পেট্রোল ৭০ টাকা এবং একজন শ্রমিকের মজুরি ১৩০ টাকা। রংপুর সদর উপজেলার তামপাট ইউনিয়নের ধর্মদাস গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, দুই বিঘা জমিতে চারা রোপন করতে কমপক্ষে ১০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। এতে খরচ হয় ২ হাজার ৩০০ টাকা। গত মঙ্গলবার ব্রি রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার চালানো ও চারা তৈরির উপর জেলার কৃষকদের দুইদিনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে এর উদ্বোধন করেন ফার্ম মেশিনারী এন্ড পোষ্ট হারভেষ্ট টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও এফএমটিডি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রহমান। তিনি জানান, এই প্রকল্পের অধীনে শতকরা ৬০ ভাগ ভর্তুকির মাধ্যমে ব্রি উদ্ভাবিত কৃষি যন্ত্রপাতি (ব্রি- উইডার, ব্রি- ধান-গম কাটার যন্ত্র, ব্রি-ধান-গম মাড়াই যন্ত্র ও ব্রি-ধান-গম ঝাড়াই যন্ত্র) বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্রি-রংপুরের পিএসও এবং প্রধান ড. গউছ আলী, ফার্ম মেশিনারী এন্ড পোষ্ট হারভেষ্ট টেকনোলজি বিভাগের এসএসও এ কে এম সাইফুল ইসলাম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ