মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বড়ই কষ্টে সংসার চালায় বাদশা (৪২)। কক্সবাজার জেলার মগনামায় ছিল নিজ বাড়ি। নদীভাঙ্গনে ভিটে-মাটি, ঘর-বাড়ি সর্বস্ব হারিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ছুটে এসেছিলেন সাতকানিয়ায়। ছদাহা ইউনিয়নের হরিণতোয়া গ্রামের পূর্ব প্রান্তে আরেক মগনামা পাড়ায় সামান্য পরিমাণ সরকারি পরিত্যাক্ত পাহাড় পরিষ্কার করে ছোট্ট একটি কুড়েঘর তৈরী করে বসবাস করছেন কয়েক বছর ধরে।মানুষের কৃষি জমিতে মজুরি খাটা, মাছ ধরা, পাহাড়ে লাকড়ি সংগ্রহের মাধ্যমে দিন চলে চরম কষ্টে। এ বছর নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন তিনি। উপজেলার পুরানগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পেঁপেঁ বিপ্লব দেখে নিজেও মনোযোগি হয়েছেন পেঁপেঁ চাষে। বেশ কিছু টাকা কর্জ করে নিজের কুড়েঘরের পাশে আনুমানিক বত্রিশ শতক পাহাড়ী উর্বর জমিতে লাগিয়েছেন ৩২০টি উন্নত জাতের পেঁপেঁ চারা। প্রতিটি চারা কিনেছেন পঁচিশ টাকায়। দুমাস আগে লাগানো চারা এখন বেশ তাগড়া হয়ে ওঠেছে। নিয়মিত সার-গোবর-কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। বাড়ন্ত গাছে ফুল এসেছে। আর কমাস পর পুষ্টিভরা পেঁপেঁ তিনি ছিঁড়তে পারবেন বলে আশা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুবছরব্যাপী প্রতি দশদিন অন্তর তিনি পেঁপেঁ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তবে পাহাড়ী জমিতে শুকনো মৌসুমে পানি নিয়ে তিনি সমস্যায় পড়বেন বলে আশংকা করছেন। তাছাড়া বন্যপ্রাণী এবং চোর-ডাকাতের ভয়ও বাসা বেঁধে আছে তার মনে। তবু নেতিবাচক শংকা বাদ দিয়ে আশাতীত ফলন পেয়ে লাভের মুখ দেখার ব্যাপারে বেশ আশাবাদি বলে এ প্রতিবেদককে জানালেন ভূমিহীন বাদশা।হরিণতোয়া সমাজ উন্নয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ ইউনুছ, নুরুল ইসলাম ও মোজাম্মেল জানান, হরিণতোয়ার পাহাড় ও সমতলের জমি পেঁপেঁসহ বিভিন্ন সব্জিচাষের উপযোগী। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানে আধুনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন সব্জি ও ফলমূলের বাগান করে দরিদ্র কৃষকেরা সহজেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরানগড় ইউনিয়নের বৈতরণী এলাকার জনৈক ইস্কান্দার ৩০ শতক জমিতে লাগানো ৩১৬ টি পেঁপেঁ গাছ হতে দুবছরে প্রায় ছয় লাখ টাকার পেঁপেঁ বিক্রি করেছেন। দুবছরে তার খরচ গেছে প্রায় ১ লাখ টাকা। প্রায় সমান সংখ্যক জমিতে পেঁপেঁ চাষ করে অভাব ঘুচাতে চায় হরিণতোয়া মগনামা পাড়ায় বসতিগড়া বাস্তুহারা বাদশা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ