রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০১১

এবার কি দুর্নীতি-রাক্ষস মারা পড়বে

২০০৫ সালে ভারতে এক জরিপ চালিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, দেশটির জনগণের ৪৫ শতাংশকে কোনো না কোনো সেবা পেতে কখনো না কখনো ঘুষ দিতে হয়েছে (সূত্র : উইকিপিডিয়া)। গত ১৭ আগস্ট আন্না হাজারেকে গ্রেপ্তার করার পর বিক্ষোভ শুরু হলে বিবিসি টেলিভিশন সে খবর প্রচার করার পাশাপাশি দেশটির দুর্নীতি পরিস্থিতি জানতে কিছু সাক্ষাৎকার নেয়ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শরৎকালটা খুবই উপভোগ্য। তখন গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপ সরে যেতে থাকে। গরম ও শুষ্ক লু হাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তার জায়গা নেয় মৃদুমন্দ বাতাস। মাঝেমধ্যে সামান্য বৃষ্টিও হয়। সেখানকার লোকজন এই সময়টায় উৎসব-আনন্দে মেতে ওঠে। চমৎকার আবহাওয়ার ওই কয়েকটা দিনের পরই তো এসে পড়বে কনকনে শীত। তখন কুয়াশা আর ঠাণ্ডার উৎপাত প্রবল হয়।১৯৭৩ সালে দিল্লিতে এক শরৎ বিকেলে আমার স্ত্রী ও আমি তিন সন্তানকে নিয়ে হাঁটছি এক জনসমাগমের দিকে। ছোট মেয়ে স্ত্রীর কোলে। ছেলে আর বড় মেয়ের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছি। বাহন ছেড়ে হেঁটে রাস্তা পার হয়ে অল্প কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পরই যা দেখতে এসেছি তার চূড়াটা চোখে পড়ল। সবাই ওটার দিকে তাকিয়ে আছে। মাঝেমধ্যে নিজেদের মধ্যে হাসিঠাট্টা করছে। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে এসেছি বলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকেই জায়গা করে দিলেন, কিন্তু এত ভিড় ছিল যে খুব বেশি দূর যেতে পারিনি। প্রায় তিনতলা সমান উঁচু রাক্ষস-মূর্তিটির বুক পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি এ রকম জায়গায় পেঁৗছানোর পর থামতে হলো। সামনে জমাট ভিড়। একটু ভয়ও করছিল যে এই জনতা যদি হঠাৎ করে ছোটাছুটি শুরু করে তাহলে শিশুদের নিয়ে খুবই বিপদে পড়তে হবে। বেলা পড়ছে আর ভিড় বাড়ছে। সবাই অপেক্ষায় সূর্য কখন অস্ত যাবে। যেই মাত্র সূর্যের আলো ডুবে যাবে তখনই দানব-মূর্তিটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। খড়, কাগজ, কঞ্চি আর সোলা দিয়ে তৈরি বিশাল মূর্তিটি সব দুষ্কর্মের প্রতীক রাবণের।আমাদের বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ সে দেশটির পূর্বাঞ্চলের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য শারদীয় দুর্গাপূজা যেমন সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব, তেমনি উত্তর ভারতে সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে ‘দসেরা’। এ দিনটিতে রাবণকে বধ করেছিলেন রাম। দিনটি রাম-রাবণ যুদ্ধের দশম দিন। ভারত সরকার দিনটিতে রাষ্ট্রীয় ছুটি পালন করে। দাক্ষিণাত্যের অনেক দ্রাবিড় আবার এতে আপত্তি করে। তাদের অভিমত হলো, রাম-রাবণ যুদ্ধ হলো আসলে আর্য-অনার্য সংঘাতের রূপক। আর্যরা আগ্রাসী। তারা শান্তিকামী ও নিরীহ অনার্যদের সমরাস্ত্রবলে পদানত করেছে, কিন্তু সেটাকে ন্যায়সংগত করতে গিয়ে সীতা-হরণ ও রাম-রাবণ যুদ্ধের কল্পকাহিনী ফেঁদেছে, যাতে তারা মহান ও পবিত্র রাম চরিত্রকে দেখিয়েছে আর্যদের প্রতিভূ হিসেবে, আর নষ্টভ্রষ্ট নারী লোলুপ রাক্ষস রাজা রাবণকে দেখিয়েছে অনার্যদের প্রতীক হিসেবে। তবে ভারতের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ করুণানিধির ডিএমকে দল এই প্রতবাদী অবস্থান নিলেও ভারত সরকার দসেরার দিন জাতীয় ছুটিই দেয় এবং উত্তর ভারতজুড়ে দসেরা পালন করা হয় খুব আনন্দ-ফুর্তি ও ধুমধামের সঙ্গে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দসেরার দিন রাক্ষস রাজা রাবণের একটা বিশাল খড়ের মূর্তিকে আগুনে পোড়ানো সেখানে সে দিনটির উৎসবের শীর্ষ মুহূর্ত হিসেবে ধরা হয়। যাতে লোকজন রাক্ষস তথা ভয়ংকর অনিষ্টকারীর গায়ের আগুন দূর থেকে ও দেখতে পায় সে জন্য দিল্লির এই ময়দানে রাবণ-মূর্তি বানানো হয় খুব লম্বাটে করে, আর তাতে আগুন ধরানো হয় সন্ধ্যাবেলা। আগুনটা নিচ থেকে উপরের দিকে উঠতে থাকে, আর মূর্তিটির গায়ে বসানো পটকাগুলো ফাটতে থাকে। সেই সঙ্গে আগত আনন্দমুখর জনতা উল্লাসে তালি দিতে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ