রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১১

খুলনায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড

বর্ষা মৌসুম প্রায় শেষ। আর মাত্র ১ দিন বাকি। শনিবার ছিল ভাদ্র মাসের ২৯ তারিখ। তবুও বর্ষার যেণ শেষ নেই। অবিরাম ঝরছে এ বারি। এ সময়ে মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা ১২ দিনের বর্ষণে খুলনা নগর ও এর আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কোটি কোটি টাকার মাছ ও মৌসুমি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে রবিবার থেকে অবস্থার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, অধিকাংশ খালের মুখ বন্ধ থাকায় নগরী থেকে বৃষ্টির পানি বের হতে পারছেনা। এছাড়া স্যুয়ারেজ সিষ্টেমও কাজ না করায় পয়:নিস্কাশন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। খুলনা আবহাওয়া অফিসের একটি সূত্র জানান, চলতি মাসের প্রথম থেকে শুরু করে শনিবার পর্যন্ত ১২ দিনে সর্বোচ্চ ৪৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার এবং ৯ আগষ্ট সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে। এই সূত্রটি জানায়, গত ২ আগষ্ট ৫ মিলিমিটার, ৩ আগষ্ট ২৮ মিলিমিটার, ৪ আগষ্ট ১৩ মিলিমিটার, ৫ আগষ্ট ৪৮ মিলিমিটার, ৬ আগষ্ট ২৭ মিলিমিটার, ৭ আগষ্ট ৫৬ মিলিমিটার, ৮ আগষ্ট ৩৬ মিলিমিটার, ৯ আগষ্ট ১১৫ মিলিমিটার, ১০ আগষ্ট ২২ মিলিমিটার, ১১ আগষ্ট ৩০ মিলিমিটার, ১২ আগষ্ট ৫ মিলিমিটার এবং ১৩ আগষ্ট দুপুর  ১২টা পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া দপ্তর এ বৃষ্টিপাতকে ‘মৌসুমি’ বলে দাবি করলেও এ সময় মংলা, চট্রগ্রাম এবং কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর এবং নদী-বন্দরসমূহে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, প্রধান কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ মোঃ কামরুল হাসান শনিবার বলেন, এটি মৌসুমি বৃষ্টিপাত। যেহেতু বর্ষাকাল চলছে, সেহেতু আরও কয়েকদিন বৃষ্টি হবে। বঙ্গোবসাগরে সৃষ্ট মেঘ থেকে এ বৃষ্টির উৎপত্তি। রোববার থেকে অবস্থার উন্নতি হতে পারে। সেই সাথে সমুদ্র বন্দর ও নদী-বন্দরের সতর্কতা সংকেতও প্রত্যাহার করা হতে পারে। তবে এ সময় কালো বৈশাখী বা ঘুর্ণী ঝড়ের আশংকা নেই।
টানা বর্ষণের কারণে মহানগরীর অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর লবনচরা, রূপসা, মহিরবাড়ী খালপাড়, শিপইয়ার্ড, বয়রা ও রায়ের মহলসহ নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়া নগরীর রূপসা ঘাট, শান্তিধাম মোড়, রয়েল মোড়, মডার্ন ফার্ণিচারের মোড়, মজিদ স্মরণী ও স্যার ইকবাল রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হাটু পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে যানবাহন ও মানুষের চলাচল মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হয়। এ সময় রিকশা চলাচল করলেও ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এদিকে কেসিসি’র একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে নদীতে পানি খুব একটা বাড়েনি। কিন্তু নগর অভ্যন্তরের ২২ খালের অধিকাংশেরই মুখ বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে নবী নগর, সাহেবখালি ও গল্লামারি কসাইখানা সংলগ্ন নর্থখাল ব্যাংক খালের মুখ প্রায় বন্ধ রয়েছে। খালের মধ্যবর্তী স্থান থেকে বাঁধ অপসারণ ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হলেও মুখ পরিস্কার করা হয়নি। ফলে সেখান থেকে ঠিকমত বৃষ্টির পানি বের হতে পারছেনা। আর ধীরে ধীরে যা বের হচ্ছে, ততক্ষণে নগরী জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। অতিদ্রুত এসব খালের মুখ উন্মুক্ত করা প্রয়োজন বলে এই সূত্রটি জানিয়েছে। কেসিসি’র অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, নগরীর ১৭৯ কিলোমিটার পাকা, ৪৯ কিলোমিটার আধা পাকা এবং ২৯৭ কিলোমিটার কাঁচা ড্রেন রয়েছে। পানি নিস্কাশনের জন্য ১৯৯২-৯৩ অর্থ বছরে এডিবি’র অর্থ্যায়নে এলজিইডি ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। কিন্তু বর্তমানে কাঁচা ড্রেনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে ড্রেনেজ সিস্টেম কাজ না করায় স্যুয়ারেজ ব্যাহত হচ্ছে এবং পয়:নিস্কাশন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। তবে কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের সূত্র বলছে, নদীর তলদেশ উঁচু হওয়ায় এলজিইডি’র নির্মিত নর্দমা দিয়ে পানি নিস্কাশন হচ্ছেনা। এই সূত্রমতে, বাগমারা, বাস্তহারা কলোনী, খালিশপুর হাউজিং এলাকায় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি  হয়। কর্পোরেশনের কঞ্জারভেন্সী অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান জানান,  জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খুলনা নগরীর ৩৪টি ড্রেন পেড়িমুক্ত করা হয়। পেড়িমুক্ত করতে ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ড্রেনগুলো হচ্ছে খানজাহান আলী রোড, টুটপাড়া মেইন রোড, নবী নগর খাল, সোনাডাঙ্গা মজিদ স্মরণী, মহিরবাড়ী খালপাড়, কেশবলাল রোডের ড্রেন, কেদারনাথ রোডের ড্রেন ইত্যাদি। এ ব্যাপারে আলুতলা দশ গেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসি’র রাজস্ব কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামান বলেন, ৪টি গেট বিকল থাকায় নগরীর পানি নামা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছিল। কিন্তু সেগুলো সচল করায় এখন ১০টি গেট দিয়েই পানি বের হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় পানি পর্যাপ্ত নামছেনা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ