বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০১১

বিদ্যুৎ বিপর্যয়: সিলেট বিভাগ সাতঘণ্টা অন্ধকারে

জাতীয় গ্রীড লাইনে ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আশুগঞ্জে গ্রিড লাইন ছিঁড়ে সিলেট বিভাগের চারজেলা ও ব্রাহ্মনবাড়িয়া সাতঘন্টা ছিল অন্ধকারে। লাইন মেরামত করে রাত ৮টা থেকে পুণরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। গ্রিড লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সিলেট বিভাগের সবকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রও ওই সময় বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা ১টায় আশুগঞ্জ ও শাহজীবাজারের মধ্যখানে ১৩২ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় গ্রিড লাইন ছিঁড়ে যায়। জাতীয় গ্রীড লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় প্রথমে শাহজীবাজার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ওই কেন্দ্রে ৭০ মেগাওয়াট উৎপাদন চালু থাকলেও জাতীয় গ্রিড লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় ওই বিদ্যুৎও কোন কাজে আসেনি। বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ না থাকায় ৭০ মেগাওয়াট প্লান্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাত ৮টায় গ্রিড লাইনের ত্রুটি মেরামত করা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আবারো শুরু হয়। গত ১৫ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সিলেটে এক অনুষ্ঠানে রমজানে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। রমজানের আগেই তিনি বিদ্যুতের ত্রুটি সারিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রীর এ নির্দেশের কার্যকারিতা রমজানের শুরুতে কিছুটা লক্ষ্য করা গেলেও পরবর্তীতে লোডশেডিং জেঁকে বসে সিলেটবাসীর ওপর। গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী বিদ্যুতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে আবারো বৈঠক করেন। বৈঠকে সিলেট বিভাগের সমস্যা চিহ্নিত করে আগামী ৩ মাসের মধ্যে তা সমাধানের নির্দেশ দেন। কিন্তু এরমধ্যে মঙ্গলবার এ যাবত কালের সর্ববৃহৎ বিপর্যয় ঘটে সিলেট বিভাগে। এদিকে, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে মঙ্গলবার সিলেট নগরীসহ বিভাগের চার জেলার ৩৬ উপজেলা অন্ধকারে ডুবে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় ইফতারের সময় বিড়ম্বনা পোহাতে হয় রোজাদারদের। এছাড়া নগরীতে খাবার পানি নিয়েও ভোগান্তিতে পড়েন লোকজন। সিটি করপোরেশনের গভীর নলকূপ চালু করতে না পারায় পানি সরবরাহও ছিল বন্ধ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ