রাজধানী লন্ডন শান্ত হলেও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে ব্রিটেনের অন্যান্য এলাকায়। মঙ্গলবার লন্ডনে কোন লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি; কিন্তু মানচেস্টার, বার্মিংহ্যাম, সেলফোড, উলভার হ্যামটন ও ওয়েস্ট ব্রমটন এলাকায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাতভর মানচেস্টার ও বার্মিংহ্যামে হামলাকারীরা তান্ডব চালায়।এ পর্যন্ত সমগ্র দেশ থেকে ১১৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। লুটপাটের অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছে ১৭৬ জনের বিরুদ্ধে। ৫টি পুলিশ ডগ সহ ১১১ পুলিশ কর্মকর্তা হামলাকারীদের আক্রমণে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের বার্মিংহ্যাম সিটি সেন্টারে ৩ এশিয়ান তরুণ নিহত হয়েছে। তারা লুটপাটের সাথে জড়িত ছিল কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ বলছে, সকলেই গাড়ির ধাক্কায় মারা যায়। এনিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে। নিহতরা হলো পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত তারেক জাহান, ইউসুফ ও হারুণ।রাজধানী লন্ডনের নিরাপত্তায় ছিল ১৬ হাজার পুলিশ। আজও তা বহাল থাকবে। তাৎক্ষণিক ঢালাওভাবে হামলাকারীদের গ্রেফতার না করে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযানে নেমেছে।বুধবার লন্ডন সময় সকাল ১১টা ২০মিনিটে জরুরি কুবরা কমিটির সাথে মিটিং শেষ করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ড্যাভিড ক্যামরুন বলেছেন, এই দাঙ্গার পিছনে কে বা কারা ইন্দন যোগাচ্ছে তা বের করা হবে। হামলাকারীরা অভিন্ন হলেও নতুন নতুন এলাকায় সমানভাবে হামলা করছে। খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অবশ্যই ব্রিটেনকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার ডাকা হয়েছে পার্লামেন্ট মিটিং। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পার্লামেন্ট ও কুবরা কমিটির মিটিং শেষ করে আবারও তিনি মিডিয়ার সামনে হাজির হবেন।মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরুন ক্ষতিগ্রস্ত ক্রয়ডন, উপপ্রধান মন্ত্রী নিকক্ল্যাগ বার্মিংহ্যাম ও বিরোধী দলীয় নেতা এড মিলাবান টুটেনহ্যাম এলাকা পরিদর্শন করেছেন।লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন ঝাড়ু হাতে ব্যান্ডালিজমের আবর্জনা পরিষ্কার করতে রাস্তায় নেমেছেন। তাৎক্ষণিকঅনেকেই পদত্যাগ দাবি করেছেন তার। কেউ কেউ মেয়রকে লক্ষ্য করে গালমন্দও করেছেন। এদিকে মেয়র লন্ডনে পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্যে আবার দাবি তুলেছেন।মঙ্গলবার দুপুর থেকে মেট্রোপলিটান পুলিশের পক্ষ হতে লন্ডনের অভিভাবকদের সতর্ক করে মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে। এ কারণেই বিকেল থেকে রাজধানী লন্ডনের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন