স্ট্রোক রোগটির নাম শুনলে যদিও হার্ট এটাক এর কথা মনে আসে, স্ট্রোক
আসলে মস্তিস্কের রোগ। মস্তিস্কের কোনো স্থানের রক্ত নালী বন্ধ হয়ে গেলে বা
ব্লক হলে ঐ স্থানের রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে মস্তিস্কের ঐ বিশেষ
এলাকা কাজ করতে পারেনা। এটিই স্ট্রোক রোগ। মস্তিস্কের ঐ বিশেষ এলাকাটি
শরীরের যে যে অংশকে নিয়ন্ত্রন করতো স্ট্রোক হলে সে সকল অংশের বিভিন্ন অংগ
বিকল হয়ে পরে। মস্তিস্কের এক দিক নস্ট হলে শরীরের উল্টো দিক বিকল হয়ে পরে।
অর্থাৎ মস্তিস্কের বাম দিকে ক্ষতি হলে শরীরের ডান দিক অচল অথবা অবশ হয়ে
যায়।স্ট্রোক হবার পর এরকম শরীরের এক দিক অচল হবার নাম হেমিপ্লেজিয়া আর অবশ
হলে বলে হেমিপেরেসিস । স্ট্রোক হলেই যে শরীরের কোনো পাশ চিরতরে অচল হয়ে
যাবে তা কিন্ত নয়। কিছু ধরনের স্ট্রোক হলে সাময়িক কিছু অসুবিধার পরে মানুষ
আবার পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে যায়।হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্ত চাপ, ধুমপান করা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস,
রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, অতিরিক্ত এলকোহল সেবন ইত্যাদি স্ট্রোকের ঝুকি
বহুগুনে বাড়িয়ে থাকে। আগেই বলা হয়েছে যে স্ট্রোক হয় মস্তিস্কের রক্ত নালী
বন্ধ হবার কারণে তাই বোঝাই যায় যে যে কারণে রক্তনালী বন্ধ হয় সেই সেই কারণে
স্ট্রোক হয়, যেমন ধমণীতে চর্বি বা ক্যালসিয়াম জমা, টিউমার হওয়া, ধমণীর
প্রদাহ জনিত রোগ ইত্যাদি। এছাড়াও হার্ট বা অন্য ধমণী থেকে জমাট রক্ত ছুটে
গিয়ে বা মাথায় আঘাত পাবার কারনেও স্ট্রোক হতে পারে।স্ট্রোক হলে মাথা ব্যাথা, বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া তো হয়ই সেই সাথে
কোনো একপাশের হাত-পা অবশ পা অচল হয়ে যাওয়া, বোধহীন হয়ে যাওয়া, বাকরুদ্ধ
হওয়া, কথা জড়িয়ে আসা, জ্ঞান হারানো ইত্যাদি উপসর্গ গুলোও দেখা দেয়। বড়
ধরনের স্ট্রোক হলে চার হাত-পা ই অবশ বা অচল হয়ে যেতে পারে।স্ট্রোক এর রোগীকে মস্তিস্কের সিটি স্ক্যান পরীক্ষাটি করতেই হয়, এটি
দ্বারা ঠিক কোথায় ক্ষতি হয়েছে বোঝা যায়, মস্তিস্কের এঞ্জিওগ্রাম করেও এটা
বোঝা লাগতে পারে। অনেক সময় কারন বের করতে ইকোকার্ডিওগ্রাম ও করা লাগে, সেই
সাথে যেসকল রোগ স্ট্রোক এর ঝুকি বাড়ায় রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করে সে সকল
রোগের উপস্থিতি ও অবস্থাও জেনে নিতে হয়।স্ট্রোক রোগীর চিকিৎসা অবশ্যই একজন নিউরোলজিস্ট বা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের
তত্ত্বাবধানে করানো উচিত। এই রোগের সুনির্দিস্ট এমন কোনো চিকিৎসা নেই যাতে
রোগী সাথে সাথে চিরতরে ভালো হয়ে যাবে। ধৈর্য্য ধরে রোগীর সেবা করতে হবে,
সঠিক পুষ্টি ও তরল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, ঝুকি আছে এমন রোগ গুলো
নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর পর সবচেয়ে বেশী যেটা প্রয়োজন তা হলো ফিজিওথেরাপি ।
তবে স্ট্রোক এর অবস্থা বুঝে এর সাথে আরো অন্য চিকিৎসাও যোগ করতে হতে পারে
যা অবশ্যই একজন নিউরোলজিস্ট বিবেচনা করবেন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
ব্রন যৌবনের অবাঞ্ছিত এক সমস্যা। সুন্দর মুখশ্রীর ওপর জাপটে বসে থাকে এক দৃষ্টিকটু যন্ত্রনা। ১৩ বছর থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত প্রায় ৯০%এর এ রোগ...
-
স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর শেরপুর শ্রীবরদীতে এক স্বামী তাদের দাম্পত্য জীবনে মিলনের ভিডিও দৃশ্য বাজারে ছেড়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচন...
-
বর্তমানে গণতন্ত্র নয়, গোঁজামিলতন্ত্র দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন মহাজেটের অন্যতম শরিক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। ...
-
বিশ্ববিখ্যাত এয়ারক্রাফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং আর লকহিড মার্টিন মিলে তৈরি করছে কনকর্ডের নতুন মডেল এক্স-৫৪। দুই প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়া...
-
রোজার ঈদকে সামনে রেখেএবার নারীদের কেনাকাটায় পছন্দের তালিকায় রয়েছে জামদানী শাড়ী। ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা কারনে নিঘুর্ম রাত কাটাচ্ছে নারায়...
-
বুলডোজারের আঘাতে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো গুলশানের ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক। অভিজাত এলাকা গুলশানে শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মিত একমাত্র অ্যামিউজমেন...
-
রাজধানীর তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৯ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে এই সংক্রান্ত তদন্ত কমি...
-
পাকিস্তানের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমাদ সুজা পাশা গতকাল বুধবার য...
-
আবারো বিয়ে করলেন জনপ্রিয় গায়িকা ও সরকারদলীয় এমপি মমতাজ। দীর্ঘদিন তারই হাসপাতালের ডাক্তার চঞ্চলের সঙ্গে প্রেমের পর তাদের বিয়ে হয়। পাত্রের পু...
-
‘ধুম ৩’ ছবিতে আমির খানের বিপরীতে অভিনয়ের জন্য মুখিয়ে আছেন বলিউডের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব অভিনেত্রীই। বছরের সবচেয়ে প্রত্যাশিত এই চরিত্রটি...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন