সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

আজ নাইন-ইলেভেনের দশম বার্ষিকী

যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ১০ বছর পূর্তি আজ। ২০০১ সালের এই দিনে দেশটির কয়েকটি স্থাপনায় সিরিজ আত্মঘাতী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এই একটি দিন মার্কিন নীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে, সেইসঙ্গে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিরও।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশক্তি হিসেবে নিজের এক নম্বর স্থানটি পাকা করে নেয়া যুক্তরাষ্ট্র স্বার্থ রক্ষায় স্নায়ু যুদ্ধের সময় থেকেই প্রিএম্পটিভ মেজারস বা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই পদক্ষেপ নেয়ায় বিশ্বাসী। আর সেখানে নাইন-ইলেভেনের হামলায় গুড়িয়ে যায় বিশ্ব পুঁজিবাদের প্রতীক টুইন টাওয়ার, আংশিক বিধ্বস্ত হয় পেন্টাগন।সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বসে বুশ প্রশাসন। তার উপর ভিত্তি করে মুসলিম আনেক রাষ্টের উপর সামরিক অভিযান পরিচালনা করে বুশ প্রশাসন। জঙ্গি দমনের নামে প্রথমে আফগানিস্তান ও পরে ইরাকে আগ্রাসন এবং পাকিস্তানে অভিযান চালানোর অভিযোগে বুশসের ক্ষমতা দিন দিন কমতে থাকে। ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে বারাক ওবামার কাছে। তবুও মার্কিন নীতির তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি ।নাইন ইলেভেন-পরবর্তী ১০ বছরে পৃথিবীতে জঙ্গিবাদ আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চালানো যুদ্ধে সামরিক অর্থনীতি লাভবান হলেও লোকসান গুণেছে মানবতা। প্রান হারিয়েছে সাধারন মানুষ । নষ্ট হয়েছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট সেই সাথে সম্পদ ।এই দিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, আল-কায়েদা তিনজন হামলাকারি পাঠিয়েছে, যাদের মধ্যে দু’জন মার্কিন নাগরিক হতে পারে৷ তাদের লক্ষ্য হলো, ওয়াশিংটন কিংবা নিউ ইয়র্কে -বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো৷ এবং তা সম্ভব না হলে, যতটা সম্ভব ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো৷ গত সপ্তাহের মাঝামাঝি নাকি এ খবর মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায়৷ সিআইএ’র এক অতীতে আস্থাজনক ইনফর্মার বিদেশে গুপ্তচর বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় যে, আল-কায়েদার নতুন নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি স্বয়ং এই আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছে৷নিউ ইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ তার অফিসে গেছেন৷ নগরবাসীদের প্রতি তার বক্তব্য: সতর্ক থাকুন, কিন্তু নিজেদের কাজকর্ম ঠিকই করে যান৷ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও রবিবার নিউ ইয়র্কে গিয়ে নাইন-ইলেভেনের স্মারক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার পরিকল্পনা বজায় রাখছেন৷ বলা যেতে পারে, নাইন-ইলেভেনের বার্ষিকী সন্ত্রাসবাদীদের জন্য যে একটি লোভনীয় সুযোগ হতে পারে, মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সেটা নতুন করে বলার কোনো প্রয়োজন নেই৷ বিশেষ করে যখন ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর প্রতিশোধও তার একটি উদ্দেশ্য হতে পারে ৷তাই নিউ – ইয়ক শহরে কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ