রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস বিশ্বে ছড়িয়েছে বিমানযাত্রীদের মাধ্যমে

সোয়াইন ফ্লুর এইচ১এন১ ভাইরাস মূলত বিমানযাত্রীদের মাধ্যমেই সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডার গবেষকরা। এদিকে লিথুয়ানিয়া, মোনাকো এবং ইরাকেও প্রথমবারের মতো সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস ধরা পড়েছে। এর আগে ভারত-নেপালেও এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সূত্র : ডিডাব্লিউ নিউজ, বিবিসি, এএফপিকানাডার টরোন্টো শহরের সেন্ট মাইকেলস হাসপাতালের গবেষকরা তাদের সদ্য প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানিয়েছেন, সোয়াইন ফ্লুর ভাইরাস প্রথম এবং সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আমেরিকা আর কানাডায় মার্চ আর এপ্রিল মাসে। গবেষকরা তাদের গবেষণায় দেখেছেন, এ দুটি দেশে বিমানযাত্রীদের ৮০ শতাংশই যাত্রা করেছিল ২০০৯ সালের মার্চ-এপ্রিলে। কানাডিয়ান গবেষকদের রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে। কানাডার টরোন্টোর সেন্ট মাইকেলস হাসপাতালের ড. কামরাম খান ও তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের গবেষণা কাজের জন্য তারা আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার তথ্য ব্যবহার করেছেন। বলা হচ্ছে, এ গবেষণার ফল থেকে বিশ্বে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে জোরালো এক সতর্ক সঙ্কেত ব্যবস্থা পাওয়া যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, কয়েক দশকের মধ্যে সোয়াইন ফ্লু হচ্ছে এমন একটি ভয়াবহ ভাইরাস, যা খুব দ্রুত এক দেশ থেকে আরেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটি একটি পর্যায়ে ছয় মাত্রার সতর্কতা জারি করে এবং বিশ্বে এটিকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা করে। প্রসঙ্গত, কোনো রোগ অন্তত বিশ্বের দুটি বৃহৎ অঞ্চলের (মহাদেশের) মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তাকে মহামারী (এপিডেমিক) বলা হয়। সবশেষ ১৯৬৮ সালে ছড়িয়ে পড়া হংকং ফ্লু (ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাস-এইচ৩এন২) মহামারীতে বিশ্বে ১০ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। ড. খান বলছেন, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৯ সালের এপ্রিলে ২.৩৫ মিলিয়ন বিমানযাত্রী মেক্সিকো থেকে বিশ্বের ১৬৪ দেশের ১০ হাজার ১৮টি শহরে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাত্রী আসে আমেরিকার লস এঞ্জেলেস শহরে। ২০০৯ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলে ২২ লাখ ১৪ হাজার ৯৪ জন যাত্রী মেক্সিকো থেকে লস এঞ্জেলেসে আসে। আর নিউইয়র্কে গেছে ১২ লাখ ৬ হাজার ৩৪৫ জন। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, আমেরিকায় প্রতিবছর ৭৬ মিলিয়ন লোক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। আর আমেরিকা এবং কানাডাতেই বিশ্বের সব বিমানের ছয় ভাগের এক ভাগ ওঠানামা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ পর্যন্ত প্রায় ৭১ হাজার লোকের এইচ১এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে। এ ভাইরাসে এরই মধ্যে মারা গেছে ৩১১ জন। আর শুধু আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা সম্ভবত এক মিলিয়নের বেশি বলে সেখানকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। ড. কামরান খান বলছেন, তাদের গবেষণা থেকে এ ধারণাই পাওয়া যায়Ñ পৃথিবীর যেসব দেশে বিমানে চলাচল করা মানুষের সংখ্যা বেশি সেই দেশে এ ভাইরাস বেশি ছড়িয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ