শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১১

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রাতভর গুলির শব্দে প্রকম্পিত আতঙ্কে হল ছাড়ছে শিক্ষার্থীরা

গভীর রাতে দফায় দফায় গুলি ও বোমা বিষ্ফোরণের শব্দে গত বৃহস্পতিবার প্রকম্পিত হয়ে উঠে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। রাত ১টার পর থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে গুলি ও বোমা বিষ্ফোরণের শব্দে র্নিঘুম রাত কেটেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। দুই শতাধিক পুলিশের নিরাপত্ত্বার চাদরে ঢাকা ক্যাম্পাসে থেমে থেমে গুলির শব্দে শিক্ষার্থীদের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বড় ধরণের সংঘর্ষের আশংকায় হল খোলার দ্বিতীয় দিনেই ক্যাম্পাস ছাড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সূত্র মতে, গত ১৪ আগস্ট ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও দুটি আবাসিক হল লুটপাটের ঘটনায় আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ বন্ধের পর গত বুধবার শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়া হয়। নিরাপত্ত্বার স্বার্থে আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর পরও গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের দক্ষিণ ব্লকের তৃতীয় তলার পূর্ব পাশ থেকে হঠাৎ গুলির শব্দে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয়ে উঠে। এর পর দফায় দফায় ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান হল ও লালনশাহ হল থেকে থেমে থেমে গুলি ও বোমার শব্দে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয়। আবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি ও বোমা বিষ্ফোরণে সংবাদ পাওয়া গেছে। এছাড়া বুধবার রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট মাঠে দুটি বোমা বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে র্নিঘুম রাত কাটিয়েছে। আবাসিক হল গুলোতে এসময় পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তাদেরকে পরস্পরের মুখ দেখা দেখি করা ছাড়া কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এদিকে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতয়েন রাখা হলেও রাতভর গুলি ও বোমা বিষ্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষকরা। হল গেটে পুলিশ পাহারা ভিতরে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল ছেড়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের বিভিন্ন ছাত্রাবাসে আশ্রয় নিচ্ছে। অনেকে দীর্ঘ দিন পর ক্যাম্পাসে এসে আবারো বাড়ী ফিরে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইবি থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা গুলির ও বোমা বিষ্ফোরনের শব্দ শুনেছেন স্বীকার করে বলেন-বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি না দিলে আবাসিক হলে আমাদের কিছু করার থাকে না। প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট মোহাম্মদ সেলিম বলেন-‘আবাসিক অনেক শিক্ষার্থী গভীর রাতে আমাকে ফোন করে গুলি ও বোমা বিষ্ফোরণের কথা বলেছে। পরবর্তীতে ইবি থানার ওসি মিজানুর রহমানও গুলির শব্দ শুনেছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। আমি এব্যাপারে প্রক্টর ও প্রো-ভিসিকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছি। এব্যাপারে প্রক্টর মাহবুবুল আরফিনের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।এদিকে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মাঝে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে ক্যাম্পাসে বহিরাগত অনুপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ বেড়েই চলেছে। স্থানীয় চিহ্নিত অনেক সন্ত্রাসীকেই ক্যাম্পাসে চলাচল করতে দেখা গেছে। এমনকি পুলিশের কাছে এসব তথ্য থাকার পরও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। মেইন গেটে বহিরাগতদের প্রবেশে বাধা না দিলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখা ও ছাত্রত্ব প্রমান করতে নানাভাবে হয়রানী করা হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে। যদিও প্রক্টর মাহবুবুল আরফিন বিষয়টি অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার চোখে বহিরাগত পড়েনি।’ ক্যাম্পাসে এক সঙ্গে তিন জনের বেশি চলাচল করা নিষেধ করা হলেও গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদেরকে মহড়া দিতে দেখা গেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ