বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১১

৭ই অক্টোবর ইত্যাদির সম্প্রচার

সভ্যতা, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। আর এই বৈচিত্র্যের সঙ্গে দেশের সব মানুষকে পরিচিত করাতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে ‘ইত্যাদি’র মূল অনুষ্ঠান ধারণ করা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ‘ইত্যাদি’র ৭ই অক্টোবর প্রচারিতব্য পর্ব ধারণ করা হয়েছে প্রাচীন ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের নগরী পুণ্যভূমি সিলেটে। শেকড়-সন্ধানী ‘ইত্যাদি’ ধারণের জন্য এবার বেছে নেয়া হয় সিলেট সদরের ঐতিহাসিক লাক্কাতুড়া গলফ ক্লাব মাঠকে। চারপাশে চা বাগান বেষ্টিত এই মাঠের দিনের সৌন্দর্য সবাই উপভোগ করলেও ‘ইত্যাদি’র আলোকসজ্জায় রাতের চা বাগান যে কত সুন্দর দেখায় তা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখেছেন। সিলেটে ‘ইত্যাদি’ ধারণ উপলক্ষে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ছিল এক উৎসবের আমেজ। প্রতিবারের মতো এবারের ‘ইত্যাদি’তেও রয়েছে বেশ কিছু মানবিক ও শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। ময়মনসিংহের পাড়াইল গ্রামের উদ্যমী মানুষ নজরুল ইসলাম খান লেবুর ওপর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন রয়েছে এবারের পর্বে। যিনি ব্যক্তি উদ্যোগে এলাকার জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত করেছেন নিজের গ্রাম পাড়াইলকে। গড়ে তুলেছেন স্থানীয়ভাবে ডিফেন্স পার্টি। এছাড়া মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার রমেশ রামগৌড়ের ওপর রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী প্রতিবেদন। যিনি সাত রং চা উদ্ভাবন করে ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশে সাড়া ফেলে দিলেও ‘ইত্যাদি’তে শুনিয়েছেন নতুন কথা। রয়েছে অন্ধ শিল্পী ফজলুর রহমানের ওপর একটি মানবিক প্রতিবেদন। যিনি ভিক্ষা না করে স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় গান গেয়ে মানুষের মন জয় করে সংসার চালান। মনিপুরী নৃত্যের রয়েছে আলাদা বৈচিত্র্য। সিলেট অঞ্চলে বসবাসরত মণিপুরী সমপ্রদায়ের এই নাচ সিলেটেরও ঐতিহ্য। আর তাই এবারের পর্বে রয়েছে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি মণিপুরী নৃত্য। এবারের ‘ইত্যাদি’তে মূল গান রয়েছে একটি। যেহেতু এবারের ‘ইত্যাদি’ সিলেটে ধারণ করা হয়েছে তাই সিলেটের মরমী সাধক হাছন রাজা, রাধারমন দত্ত ও শাহ আবদুল করিমের লেখা তিনটি গানের অংশবিশেষ গেয়ে শোনাবেন সিলেটের তিন কৃতী শিল্পী সুবীর নন্দী, সেলিম চৌধুরী ও শুভ্রদেব। এছাড়া রয়েছে ‘ইত্যাদি’র নতুন মুখ অর্জুনের একটি গান। মামা ভাগ্নে পর্বে এবার মওসুমী ব্যবসায়ী ভাগ্নে শিশুদের নিয়ে নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা করেছে। আর নানী-নাতিকে এবার দেখা যাবে ঘরের ড্রইংরুমে তাদের চিরাচরিত আলাপে ব্যস্ত। এবার ‘ইত্যাদি’র দর্শক বাছাই করা হয়েছে সিলেট জেলাকে ঘিরে করা বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে এবং দর্শক পর্বে পুরস্কার দেয়া হয়েছে সিলেট জেলার ঐতিহ্য ও বিখ্যাত স্থানগুলোকে নিয়ে করা একটি গানের ওপর প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে। গেয়েছেন সিলেটের দু’জন নিবেদিতপ্রাণ লোকসংগীত শিল্পী আকরামুল ইসলাম ও হিমাংশু বিশ্বাস। এছাড়াও এবারের ‘ইত্যাদি’তে বিভিন্ন সামাজিক অসঙ্গতি ও সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন নাট্যাংশ। এবারের ‘ইত্যাদি’তে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন কেএস ফিরোজ, মহিউদ্দিন বাহার, ফখরুল হাসান বৈরাগী, নাজমুল হুদা বাচ্চু, সোলায়মান খোকা, আবদুল কাদের, আফজাল শরীফ, ফারুক আহমেদ, সুভাশিষ ভৌমিক, কামাল বায়েজিদ, আমিন আজাদ, শবনম পারভীন, জিল্লুর রহমান, রফিকউল্যাহ সেলিম, কাজী আসাদ, মামুনুল হক টুটু, অলিউল হক রুমী, বিলু বড়ুয়া, নিপু, বিনয় ভদ্র, রতন খান, জ্যোতির্ময়, লাভলী ইয়াসমিন, মতিউর রহমান, রবিন, নজরুল, ফরিদসহ আরও অনেকে। পরিচালকের সহকারী হিসেবে ছিলেন যথারীতি রানা ও মামুন। সব বয়স এবং সব শ্রেণী পেশার মানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র আগামী পর্ব প্রচার হবে ৭ই অক্টোবর, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। ইত্যাদি’র রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। ‘ইত্যাদি’র স্পন্সর কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ