ফ্যাশনের অনিবার্য অনুষঙ্গ, হাই-হিল জুতো। র্যাম্প মডেল থেকে চলচ্চিত্রের নায়িকারা হয়ে পাশের বাড়ির মেয়েটির পায়েও তিন ইঞ্চি-চার ইঞ্চির পেনসিল-উচ্চতা। সৌন্দর্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে উচ্চতাকে ধরা হয় বলে জুতোর হিলের চাহিদাও ক্রমে বেড়েছে। ভারতে মধুবালার যুগেও যেমন, ক্যাটরিনার সময়েও তেমন। তবে ঢাকার নায়িকারা হাই-হিল কম পড়েন। পড়ে যান। অভ্যাস নেই। আর একারণেই হয়তো তাদের স্বাস্থ্যও ভালো! লম্বারা হিল পরেন উচ্চতায় তাক লাগাতে, আর অনুচ্চদের হিল পছন্দ সৌন্দর্যের খুঁত ঢাকতে।কিন্তু ‘সৌন্দর্যবর্ধক’ এই আপাত নিরীহ বস্তুটি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাদের বক্তব্য, সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি উঁচু হিল পরলে হাঁটুর ক্ষতি হতে পারে। হিলে সাময়িক উচ্চতা হয়তো বাড়বে, কিন্তু পরে চিরকালের জন্য খুঁড়িয়ে হাঁটতে হতে পারে।অস্থি বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, তাদের কাছে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় অল্পবয়সী রোগী আসছেন। তাদের অনেকেই আসছেন গোড়ালি বা হাঁটুতে ব্যথা নিয়ে। দেখা যাচ্ছে, সব অসুবিধার মূলে সেই জুতোর হিল। অস্বাভাবিক উঁচু হিল পরায় গোড়ালি উঁচু হয়ে থাকছে। যখন-তখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে এ দিক-সে দিক বেঁকে যাচ্ছে। ফলে হাঁটুতে অস্বাভাবিক চাপ পড়ছে। ক্ষয়ে যাচ্ছে হাঁটুর মালাইচাকির পিছনে কার্টিলেজ। অস্টিও-আর্থারাইটিস দেখা দিচ্ছে। ডাক্তাররা বলছেন, “এমন রোগীদের আমি প্রথমেই বলি, হিল পরা ছাড়বেন প্রতিশ্রুতি দিলে তবেই চিকিৎসা শুরু করব। তা ছাড়া শুধু-শুধু ওষুধ দিয়ে লাভ নেই।”‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া’র বায়োমেডিক্যাল ল্যাবরেটরির এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, একজন মানুষ গড়ে দিনে ৬০ হাজার থেকে এক লক্ষ বার পা ফেলে। তা হলে কেউ যদি ৭০ বছর বাঁচেন, তা হলে তার পা ফেলার সংখ্যা অনুমান করা যাচ্ছে। স্বভাবতই এতো বার পা ফেলার পরে তা সুস্থ রাখতে ঠিক জুতো পরার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞদের কথায়, “গোড়ালি, হাঁটু ও কোমর ঠিক রাখতে মেয়েদের জন্য পাম্প শু্য বা ব্যাকস্ট্র্যাপ দেয়া কম হিলের জুতো সবচেয়ে ভালো।”তারা আরো বলেন, “গাড়ি করে বেরিয়ে অল্পক্ষণ পার্টিতে থেকে আবার গাড়ি করে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুক্ষণ উঁচু হিল পরা যায়। কিন্তু সারাদিন ঘোরাঘুরি বা কাজের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে উভয়েরই খুব অল্প হিল বা ফ্ল্যাট জুতো পরা উচিত।”ফিজিক্যাল মেডিসিনের একজন চিকিৎসক জানান, হিল পরে হাঁটতে গিয়ে আঘাত লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বার বার এই ‘মাইক্রো ইনজুরি’ থেকে হাঁটুর ওপরে খুব চাপ পড়ে। এ রকম চলতে থাকলে ৫-১০ বছর পরে হাঁটু জানান দিতে থাকে। পেনসিল-হিলের বদলে প্ল্যাটফর্ম-হিল পরলেও পা ‘প্ল্যান্টার ফ্লেকসন’-এ থাকে। অর্থাৎ পায়ের পাতা মাটি থেকে উঠে থাকে বলে গোড়ালি ও হাঁটু দু’টোই একটু ভাঁজ হয়ে থাকে। বছরের পর বছর উঁচু হিল পরার জন্য এভাবে পায়ে ভাঁজ বা ফ্লেকসন হয়ে থাকলে তার থেকে হাড়ে ঘষা লাগে, ব্যথা হয়।
অস্থি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিল পরার ইচ্ছে হতেই পারে, তবে তার জন্য একটু সতর্ক থাকা দরকার। যেখানে অল্প হাঁটতে হবে, সেখানে উঁচু হিল পরা যেতে পারে। কিন্তু প্রতিদিনের জীবনে, হাঁটাহাঁটির ক্ষেত্রে সামান্য উঁচু বা ফ্ল্যাট জুতোই থাকুক। কারণ শারীরিক সুস্থতা না-থাকলে সৌন্দর্য অধরাই থাকবে।
অস্থি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিল পরার ইচ্ছে হতেই পারে, তবে তার জন্য একটু সতর্ক থাকা দরকার। যেখানে অল্প হাঁটতে হবে, সেখানে উঁচু হিল পরা যেতে পারে। কিন্তু প্রতিদিনের জীবনে, হাঁটাহাঁটির ক্ষেত্রে সামান্য উঁচু বা ফ্ল্যাট জুতোই থাকুক। কারণ শারীরিক সুস্থতা না-থাকলে সৌন্দর্য অধরাই থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন