বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১১

ময়মনসিংহ আসলে মধুপুর রসুলপুরের বন না দেখলে ভ্রমনটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়

টারশিয়ার যুগে মারোসিনকালে ২/৩ শ কোটি বছর আগে সমগ্র গড় অঞ্চল জুড়ে ছিল প্রাচীন লোহিগত নদ বা ব্রহ্মপুত্র নদের বিস্তার। পরে ভূ -বিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে ধীরে ধীরে প্রবাহ পরিবর্তন করে ব্রহ্মপুত্র নদ। বেলে ,দো আশ আর এটেল মাটির অপূর্ব সংমিশ্রণে গড়ে ওঠে টেঙ্গর ভূমি। এই ভূমিতেই অবস্থিত মধুপুর অংশে ৪৫ হাজার ৫৭০ একরে মধুপুর বন এবং ৭ হাজার ৬শ” একরে রসুলপুর বন। ময়মনসিংহে বেড়াতে আসলে পর্যটকরা মনে করেন, এই বনে না আসলে ভ্রমনটাই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।এই বন বাংলাদেশের কেন্দ্রভূমিতে অবস্থান বিধায় বনাঞ্চলের ঘন জঙ্গলের প্রভাবে এখানে বৃষ্টিপাত বেশী হয়এবং সমগ্র দেশেই আবহাওয়ার উপর এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। বনের মাটি হলদেটে লালবর্ণের এবং বিক্ষিপ্ত লৌহ কণা মিশ্রিত বালিযুক্ত কাঁদা মটি। মাটির উপরিভাগ শুকনো মৌসুমে খুব শক্ত এবং বর্ষায় খুব নরম হয়। শীতের শেষে ঝরা পাতার আস্তরণের উপর বর্ষার জলরাশি যোগ হয়ে তা মাটির উপরিভাগে উর্বর কম্পোষ্ট এর আবরণ তৈরী হয়। বনের অভ্যন্তরে বিক্ষিপ্তভাবে লোহার আকরিক কণা মিশ্রিত এক ধরনের ক্কংর পাওয়া যায়। একে ভাওয়াল কঙ্কর বা স্থানীয় ভাষায় কাউচি বলে। কাঁচা রাস্তার উপর বিছিয়ে দিলে কর্দমাক্ত দুর হয় এবং চলাচলে খুবই সুবিধা হয়।বনভূমির গঠন দুই ধরনের – উচু বা চালা ভূমি যেখানে প্রাকৃতিক বন সৃষ্টি হয়েছে, আর নিচু বা বাইদ ভূমি যেখানে বর্ষার পানি জমে থাকে সেখানে ঘাষ বা ধান উৎপাদন হয়। কোথাও কোথাও ঘন বিশাল শাল গজারী গাছ সমৃদ্ধ বন, কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃক্ষরাজি। বনে অন্যান্য বৃক্ষরাজির মধ্যে রয়েছে হলুদ, কড়ই,ছাতিয়ান, রয়না, কদম,ডেওরা,গুতুম,আজুকি নিম, কাঞ্চন,শিমুল,কাঞ্জল,জয়না,পলাশ,সোনালু,গাব.জাম,বট,জগডুমুর,জিয়ল,জিগা,জারুল,সিঁদুরী,বন আম,আমড়া,চাপালিশ,আমলকি,হরিতকি,বহেরা,অশ্বথ,হারগাছা,গাদিলা ইত্যাদি। ঔষধি ও গুল্ম জাতীয় গাছের মধ্যে শঠী,কুচ,বাসক,স্বর্পগন্ধা,উলটকম্বল,শতমূলী ইত্যাদি।তাছাড়া আছে স্থেং আলু(লতার ডগা খায়), আমপেং,থাজা ও দুধ আলু। আছে আদুরাগ,চুটকি,গোটা,কাঠ বাদাম ইত্যাদি। এক সময় বনে বাঘ , ভাল্লুক, হাতি ময়ূর ইত্যদির বিচরন ছিল । এখন দেখা যায়,বানর,হনুমান,মায়া হরিন, মাবেৃল ক্যাট, শিয়াল,মেছো বাঘ,বাগডাস,গুইসাপ,বেজী,কাঠ বিড়ালী,বাদুর খরগোশ ইত্যাদি বন্যপ্রাণী এবং,যে সমস্ত পাখি দেখা যায় সেগুলি হচ্ছে, পানকৌড়ি, কানা বগি,সাদা বক, রাতকানা,বালিহাঁস,বাজ,চিল,শকুন,বনমোরগ,ডাহুক,জলপিড়ি,হাতিটি,চা, হরিকল, কবুতর,ঘুঘু,গোলাপি ঘুঘু,তিলি ঘুঘু,তিলি ঘুঘু, টিয়া বুলবুল,চোথ গেলো,কোকিল,ভুতুম পেচা,পেচা,কানা কুক্কা,মাছ রাঙা,কাঠ ঠোকরা,ফিঙ্গে,দোয়েশ,শালিক,ঝুটি শালিক,হারি চচা, দাঁড় কাক,হলুদ বুলবুলি,শ্যামা , টুনটুনি,চড়–ই,মধুছড়া,বাবুইইত্যদি পাখি। এছাড়াও বনের রয়েছে গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের আদিবাসী। সম্ভাবনাময় এই বনে রয়েছে ট্যুরিষ্ট কটেজ,পিকনিক স্পট,আদিবাসী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র লঘুরিয়া চিড়িয়াখানা ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ