বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১১

নাসিক নির্বাচন: এক মঞ্চে ৬ প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাস

ভোটারদের মুখোমুখি বসে নারায়ণগঞ্জের ছয় মেয়র প্রার্থী প্রথমবারের মত এক মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো নির্বাচিত হলে বাস্তবায়ন করবো বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তারা বলেছেন, জনসেবা করতেই তারা জনপ্রতিনিধি হতে চান। নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মুক্ত মঞ্চে নির্বাচনী বিতর্ক অনুষ্ঠানে এ আশ্বাস দেন তারা।
প্রার্থীরা নারায়ণগঞ্জে শিশু পার্ক, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, শীতলক্ষ্যা নদীতে সেতু নির্মাণ ও নদী দূষণ রোধ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সর্বোপরি আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা হলেন- সেলিনা হায়াৎ আইভী, শামীম ওসমান, তৈমুর আলম খন্দকার, আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, শরীফ মোহাম্মদ, আতিকুল ইসলাম জীবন। সরাসরি জনগণের মুখোমুখি হয়ে নারায়ণগঞ্জের ছয় মেয়র প্রার্থীই বলেন, জনসেবা করতেই জনপ্রতিনিধি হতে চান তারা। সবাই প্রত্যাশা করছেন, জনগণ তাদের সে সুযোগ দেবে। ৬ প্রার্থী কিভাবে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়বেন ও উন্নয়ন করবেন সে ব্যাপারে তাদের নিজস্ব উদ্দেশ্য ও কর্মপন্থা তুলে ধরেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে বড় পরিসরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার হলেও তাতে প্রচারে ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করেন অধিকাংশ মেয়র প্রার্থী। বিএনপি নেতা তৈমুর সরাসরি তার আপত্তি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ৬ প্রার্থীর পরিচিতি তুলে ধরা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা সহ অন্যান্য বিষয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শণ করা হয়। শামীম ও আইভী বলেন, ইভিএম ভালো হলেও এর যথাযথ প্রচার হয়নি। একই কথা বলেন অন্য তিন প্রার্থী নান্নু মুন্সী, জীবন ও শরীফও। তবে বিতর্ক অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইভিএমের প্রচারে তাদের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। ৩০ অক্টোবরের ভোটযুদ্ধের আগে এ বাগযুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের বেশ আগ্রহ দেখা যায়। নির্বাচিত দেড়শ ভোটার অনুষ্ঠানে তাদের প্রশ্ন নিয়ে উপস্থিতও হয়েছিলেন। তবে সময়াভাবে সবাই প্রশ্ন করতে পারেননি।
কেন প্রার্থী হয়েছেন ? মঞ্চে উপস্থিত ৬ মেয়র প্রার্থীকে প্রশ্ন করা হয় তারা কেন প্রার্থী হয়েছেন কেন- এ প্রশ্নের জবাবে সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থী আতিকুল ইসলাম জীবন বলেন, ‘জনসেবার প্রত্যয় নিয়ে আমি আমার মায়ের নির্দেশে প্রার্থী হয়েছি।’ বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আমি ৪০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। নারায়ণগঞ্জে তৃণমূল মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। উন্নয়ন আর মানুষের কল্যাণের রাজনীতি করতে গিয়ে আমি বার বার নির্যাতনের শিকার ও কারাবরণ করেছি। আমি অতীতে জনসেবা করার সুযোগ পাই নাই। নারায়ণগঞ্জের মানুষের সেবা করার জন্য এবার প্রার্থী হয়েছি। জনগণের কাছে আমি পরীক্ষা দিতে চাই। শামীম ওসমান বলেন, তিনি সংসদ সদস্য থাকার সময় সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন। এবার নির্বাচিত হলেও করবেন। আমি ব্রিজ, টেলিফোন, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহে কাজ করেছি। আগামীতেও আমি মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। আইভী বিগত সময়ে পৌর মেয়র থাকাকালীন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, জবাবদিহিতা পছন্দ করি আমি। ২০০৩ সালের নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করেছি। ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী বার বার অবহেলিত। অতীতে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করলেও তারা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে কোন কাজ করেনি। তারা তাদের ওয়াদা রক্ষা করেনি। তাই জনগণের চাহিদা পূরণের জন্য আমি প্রার্থী হয়েছি। স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ মোহাম্মদ বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রায় সময়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। অনেকদিন ধরে এসব সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধান করবো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ