রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১১

বোরকা পরেই বক্সিং!!!

2০০৭ সাল থেকেই এক মুলত দুঃসাহসিক স্বপ্নের যাত্রা শুরু। আর সেই স্বপ্নের পথে পথ চলা শুরু হয়েছিল প্রতিটি স্কুল থেকে বক্সিংএ আগ্রহী মেয়েদের থেকে বাচাই করে দল গঠন করে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে। শুরুটা হয়েছিল মাত্র ২০ জন দিয়ে যাদের বয়স ছিল ১২  থেকে ২০ এর মধ্য।  বলছিলেন আফগানিস্তানের সাবেক বক্সিং চ্যাম্পিয়ন সাবের সারিফি। সারিফি এটাকে উল্লেখ করেছেন আফগান নারীদের আরেকটি বিজয় হিসেবে। কারন সাবেরি যেখানে মেয়েদেরকে যুক্তরাজ্য-২০১২ অলম্পিকের জন্য প্রশিক্ষন করাচ্ছেন সেটি হল এক সময়ের কুখ্যাত কাবুলের গাজী স্টেডিয়াম। যেখানে তালেবান সেনারা বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে এনে নারীদেরকে ব্যাভিচারের জন্য শাস্তি প্রদান করতো। এখনো নারীদের বক্সিং শেখাতে গিয়ে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন সাবেরি, পাচ্ছেন হত্যার হুমকি। তারপরেও অসম্ভব সাহসী এই মানুষটি ২৫ তরুণীকে আগামি লন্ডন-২০১২ অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুত করছেন সবটুকু উজাড় করে। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিককে টার্গেট করে ২৫ জনের মেয়েদের দল নিবিড় প্রশিক্ষন চালিয়ে যাচ্ছে কাবুলের গাজী স্টেডিয়ামে এবং সেটা তারা বোরকা পরেই করছে। এজন্য এ দলের নাম দেয়া হয়েছে "বোরকা বক্সার"। বোরকা পরেই তারা অলিম্পিকে পদকের জন্য লড়বে। প্রশিক্ষক সারিফি খুবই আশাবাদী অলম্পিকে পদক জয়ের ব্যাপারে। আর তার উদ্যমী ছাত্রী ২০ বছর ফাহিমা বলছিল "সময় এসেছে আফগানিস্তানের শক্তিমত্তার প্রমান করার  "।  বোরকা পরে খেয়ার পথে বাধা ছিল ইন্টারন্যাশনাল বক্সিং এসোসিয়েশন (আইবিএ)। কিন্তু সাহসী এই নারীদেরকে সম্মান জানিয়ে ইন্টারন্যাশনাল বক্সিং এসোসিয়েশন (আইবিএ) বলেছে তারা মুসলিম পোশাকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আফগানিস্তানের তরুণীদেরকে বোরকা পরে বক্সিং খেলার অনুমতি দিয়েছে।আমাদের সবার শুভকামনা ও দোয়া থাকলো সাবেরি এবং তার ২৫ জনের "বোরকা বক্সার" দলের জন্য যারা সত্যিকার অর্থে আফগান নারীদের প্রতিদিনের সংগ্রামেরই প্রতিনিধিত্ব করবে বিশ্বের সবার মাজে। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ