সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১১

চুল থেকে হীরা, ঝিনাইদহে রমরমা বাজার


মাথা থেকে কেটে ফেলার পর চুলের আর কি মূল্যই বা থাকতে পারে? সর্বোচ্চ পরচুলা তৈরির কাজে লাগবেকিন্তু বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই চুলের রয়েছে যথেষ্ট কদরকারণ এই চুলকে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে তৈরি হচ্ছে মহামূল্যবান হীরা হীরার এই কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করণে কর্মসংস্থান হয়েছে যশোর, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের শ নারীরঝিনাইদহ শহরে গড়ে উঠেছে চুলের বিশাল বাজার ও প্রক্রিয়াকরণ কারখানাপ্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চুল বেচাকেনা হচ্ছে সেখানেরীতিমতো ক্রয় অফিস খুলে তা কিনে নিচ্ছেন বিদেশিরাদক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৫টির বেশি জেলার চুল বিকিকিনি হচ্ছে এখানেচুল থেকে হীরা তৈরির ব্যাপারটি খুব বেশি জানাজানি না হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা তা কিনছেন নামমাত্র মূল্যেবিদেশি ক্রেতাদের ভাষ্য, কেনা চুল দিয়ে ফ্যাক্টরিতে বটিচুল, পরচুলা ও অন্যান্য সৌখিন জিনিস তৈরি করে থাকেন তারাতবে ইন্টারনেট সূত্র ও বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি ঘেঁটে পাওয়া যায় অবাক করার মতো তথ্য তবে অবাক বলাও কেমন যুক্তিযুক্ত নয়এটা অনেক আগে থেকেই বিশ্বে হয়ে আসছে মানুষের চুলে থাকা কার্বণ মৌল থেকে ল্যাবরেটরিতে বানানো হচ্ছে মহামূল্যবান হীরাএতে প্রয়োজন হয় ব্যক্তির দশমিক ৫ থেকে ২ গ্রাম পর্যন্ত চুলআবার দেহভস্ম দিয়েও এ কাজ করা হচ্ছেদেহভস্ম হলে প্রয়োজন হয় ১০০ গ্রামচুল বা দেহভস্ম থেকে মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে সেখান থেকে কার্বন কণাকে বের করে নেয়া হয়পৃথিবীর অভ্যন্তরে যে প্রাকৃতিক হীরা পাওয়া যায়, সেই একই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় ল্যাবরেটরিতেমেশিনের ভিতরে কার্বন কণা দিয়ে সেখানে সৃষ্টি করা হয় অতি উচ্চ চাপ ও তাপএর সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে চুল ও দেহভস্ম থেকে সংগৃহীত কার্বন পরিণত হচ্ছে হীরায়তবে যে প্রক্রিয়ায় এ হীরা তৈরি করা হয়, তার বিস্তারিত বিবরণ ব্যবসার স্বার্থেই প্রকাশে অনীহা উৎপাদকদেরতবে এটুকু নিশ্চিত, এ উপায়ে উৎপাদিত হীরা হয় অনন্যএকজন ব্যক্তির চুল থেকে যে হীরা তৈরি হয়, তা অন্য ব্যক্তির চুলের হীরার সঙ্গে মেলে নাউৎপাদিত হীরা একজন মানুষের ডিএনএ বহন করেফলে মৃত স্বজনের স্মৃতি দরদসহ বহন করার মাধ্যম হিসেবেও কাজে লাগে এই হীরাএ পদ্ধতিতে হীরা তৈরির জন্য পশ্চিমা বিশ্বে অনেক কোম্পানি গড়ে উঠেছেতারা এ ব্যবসা করে উপার্জন করছে কোটি কোটি ডলার

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ