মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র : শিক্ষকসহ আহত ২০

ছিনতাইকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকসহ আহত হয়েছে ২০ জন। একজন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রক্টর অফিস, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টার অফিস, টিএসসি, প্রশাসন ভবন, কৃষি অনুষদ ভবন, লাইব্রেরীসহ অন্যান্য স্থাপনায় ব্যাপক ভাংচুর করেছে। পুড়িয়ে দিয়েছে ২ টি মোটরসাইকেল। ভাংচুর করেছে ১০-১২ টি মোটরসাইকেল। এছাড়াও ভাংচুর করেছে প্রক্টরের গাড়ি ও বাড়ি। গ্রেপ্তার হয়েছে ৬ ছাত্রলীগ কর্মী। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল। অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাশ পরীক্ষা বর্জন করেছে শিক্ষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রলীগ কর্মীদের থানা থেকে ছাড়তে ছাত্রলীগ ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।জানা যায়, গত রোববার বিকেল ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় দুজনকে আটক করে নিরাপত্তা শাখা। পরে তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত নূর মোহাম্মদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল ও আরিফ ফজুলল হক হলের আবাসিক ছাত্র। এ ঘটনার জের ধরে ওইদিন রাত ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ প্রক্টর ড. আবু হাদী নূর আলী খান এর গাড়ীতে হামলা চালায়। পরবর্তীতে প্রক্টরের বাসভবন ভেবে আরেক শিক্ষকের বাসভবনে ভাংচুর করে কর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের গ্যালারীতে এক জরুরী সভার আয়োজন করা হয়। সভাশেষে বেলা ১ টার দিকে প্রক্টরের উপর হামলার প্রতিবাদ ও জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মৌন মিছিল বের করে। মিছিল চলাকালে ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড়ে অবস্থানরত ছাত্রলীগের একাংশের কর্মী-সমর্থকরা মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের লক্ষ্য করে কটুক্তিপূর্ণ কথাবার্তা বলতে থাকে। এতে শিক্ষকদের কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত চারজন শিক্ষার্থীকে জামার কলার ধরে টেনেহিছড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। পরে শিক্ষকদের দাবির মুখে প্রক্টর চার ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে হস্তান্তর করেন। গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন, কৃষি অনুষদের মাস্টার্স শিক্ষার্থী রাসেল, তপু, হাবিব এবং কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের নুর আলম।গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এসময় শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ব্যাপক বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতাহাতি শুরু হয়। অপরদিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রামদা, রড ও লাঠিসোঠা নিয়ে শিক্ষকদের তাড়া করে। শিক্ষকদের লক্ষ্য করে প্রচুর ইট-পাটকেল ছুঁড়ে কর্মীরা। ইট-পাটকেলের আঘাতে পোলট্রি সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস গুরুতর আহত হন। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। এ সময় আহত হয় আরোও কমপক্ষে ২০ জন।একইসময় ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টার অফিস, টিএসসি, প্রশাসন ভবন, কৃষি অনুষদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এ সময় ১০-১২টি মোটরসাইকেল, ছাত্রদের একটি বাস ভাংচুর করে। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা আগুনে পুড়িয়ে ফেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২টি মোটরসাইকেল। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিকেল ৫ টার দিকে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলে প্রক্টরসহ প্রশাসনের উর্ধতন সকলের পদত্যাগ দাবি  করে শিক্ষার্থীরা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ