বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০১১

ব্রিটেনে দাঙ্গা মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ: ক্যামেরন

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলছেন, দেশজুড়ে অরাজক পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য পুলিশকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের জল কামান ব্যবহার করতে দেয়া হবে বলে তিনি জানান। পর পর চাররাত ধরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর লন্ডনের পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলেও মঙ্গলবার রাতে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, সলফোর্ড, লিভারপুল এবং নটিংহ্যাম শহরে।সংকট মোকাবেলার জন্য জরুরী সরকারি কমিটি গঠণ করা হয়েছে। এ কমিটির সাথে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামরেন। বৈঠক শেষে ক্যামেরন বলেন, রাস্তাঘাটে আইনশৃংখলা পুনপ্রতিষ্ঠা করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তার সবই করবে। সব ধরনের পদক্ষেপের কথাই এখন বিবেচনা করা হচ্ছে।তিনি বলেন, পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে লাঠি ব্যবহার করতে। আর দাঙ্গাবাজদের হঠিয়ে দিতে তারা যাতে প্রয়োজনে জল কামান ব্যবহার করতে পারে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এর আগে চতুর্থ রাতে দাঙ্গা প্রতিরোধে লন্ডনের রাস্তায় ১৬ হাজার পুলিশ নামানো হয়।নজীরবিহীন এই পদক্ষেপের পরও লুটপাট আর সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য লন্ডনের বহু এলাকায় দোকানপাট তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সবার নজর যখন লন্ডনের দিকে, তখন দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে ইংল্যান্ডের অন্যান্য শহরে। আর এসব লুটপাটে অংশ নেয় অল্প বয়সী তরুণরা। ডেভিড ক্যামেরন মনে করেন সামাজিক ব্যবস্থা এটা পর্যায়ে ভেঙ্গে পড়ার জন্য এমনটা ঘটছে। তনি বলেন ‘যখন দেখি ১২/১৩ বছরের ছেলেমেয়েরা হাসতে হাসতে লুঠপাট চালাচ্ছে, কিংবা কাউকে সাহায্য করার ভান করে তার সবকিছু লুটে নিচ্ছে, তখন বুঝতে হবে সমাজের কোথাও কোন বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে।‘
ব্রিটেনে দাঙ্গায় নিহত তিন তরুণ
তিনি ভাংচুর ও দাঙ্গায় জড়িতদের দ্রুত বিচার করারও ঘোষণা দেন। এদিকে দাঙ্গার সময় বার্মিংহামে গাড়ির ধাক্কায় এশীয় বংশোদ্ভুত তিনজন নিহত হয়েছে। তাদের বন্ধু বান্ধবরা বলছেন যে নিহত ওই ব্যক্তিরা লুটপাটকারীদের হাত থেকে স্থানীয় দোকানপাট ও বাড়িঘর বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।উত্তর লন্ডনের টটেনহ্যাম এলাকায় পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ এক তরুনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও পরে সহিংস দাঙ্গার শুরু হয়। এই সহিংসতা পরে রাজাধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। গত চারদিনে কয়েকশ লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে, ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে টানা চতুর্থ রাতের দাঙ্গার পর লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন পুলিশ বাহিনীতে বাজেট কাটছাট এবং পুলিশের সদস্য সংখ্যা হ্রাসের ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন। সরকার বলছে, ঘাটতি মোকাবেলার অংশ হিসেবেই এই বাজেট কাটছাটের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোন পরিকল্পনা নেই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ