মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১

হারিয়ে যাচ্ছে নীলকন্ঠ পাখি

পরিবেশগত ভারসাম্যের শিকার অনেক বন্যপ্রাণী ও পাখি আমাদের অজ্ঞাতেই ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। ইতোঅনেক হারিয়েও গেছে। আবার অনেক প্রাণী আর পাখি রয়েছে যাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।আমাদের দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় এক সুন্দর পাখি নীলকন্ঠ। এদের কন্ঠ নীল না হলেও উজ্জ্বল বর্ণালী পালকের এই গায়ক পাখি তার বর্ণিল সৌন্দর্যে অতি সহজেই সবার নজর কাড়ে। গাইবান্ধার গ্রাম-গঞ্জে ইতোপূর্বে সর্বত্র নীলকন্ঠের দেখা মিললেও এখন দেখা মেলে কদাচিৎ। এরা আকারে অনেকটা বড়, প্রায়পাতি কাকের সমান। এদের লেজ প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার। পীত রঙের লম্বা ধারালো ঠোঁট। এছাড়া ঠোঁটের অগ্রভাগের পালক হালকা হলুদ, মাথায় ও পাখার উপরভাগে লেজ থেকে শরীরের পা পর্যন্ত নিচের অংশের পালকের রং উজ্জ্বল নীল। এছাড়া বুক ও পিঠের পালকে রয়েছে উজ্জ্বল লাল ও ধূসর বাদামি রঙের মিশেল। লম্বা লেজের উপরিভাগের পালক দুটো বাদামি ও খয়েরি রং এর মিশেল।নীলকন্ঠ বিচিত্র বর্ণের এক বাহারি রং এর পাখি। এদের ইংরেজি নাম Indian Roller Blue Jay এবং বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Coracias Benghalensis  এরা কৃষি-বান্ধব পাখি। কৃষির জন্য ক্ষতিকারক সব রকম পোকামাকড় এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে। গাছের কোটারে, নারকেল গাছ ও তাল গাছের মগডালে এরা খড়কুটো দিয়ে কাকের মতো আগোছালো বাসা বানায়। বসন্তকালে স্ত্রী পাখি বাসায় তিন থেকে চারটে সাদা ডিম পাড়ে। স্ত্রী ও পুরুষ দুয়ে মিলে তা দিয়ে পনেরো থেকে সতেরো দিনে বাচ্চা ফুটায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ