মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১

হাটহাজারী বিদ্যুৎ গ্রীড উপকেন্দ্রের ১৩৩ কেভি ক্যাবলে বিস্ফোরণ

বৃষ্টির কারণে রক্ষা পেল চট্টগ্রাম বিভাগের সর্ববৃৎ হাটহাজারী ১১ মাইল বিদ্যুৎ গ্রীড উপকেন্দ্রটি। কেন্দ্রের ১৩২/১৩৩ কেভি ক্যাবল ফল্ট হয়ে বিস্ফোরণ ঘটলে গতকাল ভোরে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়। অগ্নিকান্ডে পুড়ে গেছে ১৩৩ কেভি লাইনের ট্রন্সফরমারটি। এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ৭০ লক্ষ টাকা হবে বলে অনুমান করছেন। অগ্নিকান্ডের ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কিছু সময় অতিক্রম হওয়ার পর পার্শ্ববর্তী ট্রন্সফরমার থেকে সংযোগ নিয়ে ১৩৩ কেভির আওতাধীন এলাকা গুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। আগুনের লেলিহান শিখা ও বিকট শব্দ শুনে পাশ্ববর্তী এলাকার জনগণ আতংকিত হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসে।  প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, ৯ আগষ্ট মঙ্গলবার ভোর ৫টায় চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ১১ মাইল হাটহাজারী বিদ্যুৎ গ্রীড উপকেন্দ্রের ১৩২/১৩৩ কেভি ক্যাবল ফল্ট হয়ে বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিকান্ডে সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায় ১৩৩ কেভি লাইনের ট্রন্সফরমারটি। এই সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পাবর্ত্য এলাকা খাগড়াছড়ি, হাটহাজারী ও নাজিরহাটসহ ৩৩ কেভির আওত্তাধীণ এলাকা গুলোতে।সরজমিনে দেখা গেছে, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার ষ্টেশন ও বায়োজিদ ফায়ার ষ্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দীর্র্ঘ দুই ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগে দীর্ঘ ৪ ঘন্টা। পার্শ্ববর্তী ট্রন্সফরমার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা গেলেও আগুনে পুড়ে যাওয়া ট্রন্সফরমারটি কবে নাগাদ সচল করা হবে এই ব্যাপারে তেমন কোন কিছু বলতে পারছেননা গ্রীড কর্তৃপক্ষ। অগ্নিকান্ডের ব্যাপারে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক (উত্তর) দেবাশীষ দাশ এই প্রতিবেদককে জানায়, বৃষ্টির কারণে আমরা বড় ধরণের দুঘর্টনা থেকে রক্ষা পেয়েছি। কিছু সময় পরে আমরা পার্শ্ববর্তী ট্রন্সফরমার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পেরেছি। তবে ১৩২/১৩৩ কেভির ট্রন্সফরমারটি পুড়ে গেছে।  তিনি জানান, যে ট্রন্সফরমারটি পুড়ে গেছে তা প্রায় ১১/১২ বছর আগে ক্রয় করা হয়েছে। তখন এটির মূল্য ছিল ৭০ লক্ষ টাকা। এই রির্পোট লেখা পর্যন্ত পাওয়ার গ্রীড কোম্পানীর উর্ধতন আর কোন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে আসেননি। তবে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার এন সি রায় ও কোম্পানীর আরেক কর্মকর্তা এস পি পি জি চৌধুরী আলমগীর এর নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলে কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ