মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১

সাতক্ষীরায় স্মরণকালের ভয়াবহ প্লাবন : দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি

গত চারদিনের একটানা বর্ষণ ও কপোতাক্ষ, বেতনা, প্রাণসায়ের, ইছামতিসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর উপচেপড়া পানিতে সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলার  কমপক্ষে ১৫০ গ্রামের ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উজানের পানির চাপে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বানের পানিতে ভেসে গেছে অসংখ্য চিংড়ি ঘের, পুকুরসহ রোপা আমন ধান। প্লাবিত হয়েছে তালা, কলারোয়, দেবহাটা উপজেলা সদর।এদিকে, পানির তোড়ে আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর বামনডাঙ্গা বেড়িবাধে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে, যে কোন মুহূর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙে ১১টি ইউনিয়নে প্লাবন দেখা দিতে পারে।সাতক্ষীরার তালা ও কলারোয়া উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদের উজানের পানি লোকালয়ে ঢুকছে। গত এক সপ্তাহ যাবত তালা কলারোয়া উপজেলার সকল অফিস পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কৃষি, সমবায়, শিক্ষা, ইউনিয়ন পরিষদ অফিসের মধ্যে এখন হাটু পানি। সরকারি অফিসের সকল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে জলবদ্ধতার কারনে। বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত থেমে থেমে, কখনো একটানা বৃষ্টির কারনে নতুন করে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিবর্ষণ ও কপোতাক্ষের উপচেপড়া পানিতে তালা উপজেলার জালালপুর, তালা সদর, মাগুরা, তেতুলিয়া, সর্বলিয়া, কুমিরা, খেশরা, খলিলনগর, খলিষখালি, নগরঘাটা, ধানদিয়া ইউনিয়নের অধিকা এলাকা এখন পানিতে তলিয়ে রয়েছে।এদিকে, বেতনা নদীর পানি উপছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাগুরা, রাজনগর, খেজুরডাঙ্গী, দেবনগর, শিবনগরে কোমর অবধি পানিতে বসবাস করতে হচ্ছে জনসাধারণের। পানিতে ভাসছে ঝাউডাঙ্গা, বল্লি, ধুলিহর, বহ্মরাজপুর ইউনিয়ন।এদিকে ভোমরা স্থলবন্দরে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কাস্টমস অফিস পানিতে ভাসছে।সাতক্ষীরা পৌরসভার কাটিয়া মাঠপাড়া, সরকারপাড়া, বাটকেখালী, পলাশপোল, মেহেদীবাগ, মধুমাল্লারডাঙ্গী, নতুন জেলখানা, বিডিআর ক্যাম্প হাটু অবধি পানিতে নিমজ্জিত। কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া, জয়নগর, জালালাবাদ ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। দেবহাটার উপজেলার কুলিয়া, নওয়াপাড়া, পারুলিয়া ইউনিয়ন গত দুইদিন ধরে পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে।সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় ১৪৪০ হেক্টর রোপা আমন ধান, ৩০০ হেকটর আমন বীজতলা, ১০৫০ হেক্টর আউশ ধান, ৪২৫ হেক্টর হলুদ, ৫৭৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে।জেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, একটানা বৃষ্টিতে জেলার পাঁচ হাজারেরও অধিক পুকুর ও মাছের ঘের ভেসে গেছে।এদিকে, সাতক্ষীরা জেলাকে দুর্গত জেলা ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যানরা তাদের স্ব স্ব উপজেলাসহ সাতক্ষীরা জেলাকে দুর্গত জেলা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ