মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০১১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালো দিবস আজ

আজ ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালো দিবস। ২০০৭ সালের ২০ থেকে ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ওপর সংঘটিত অমানবিক, বেদনার্ত ও নিন্দনীয় ঘটনার স্মরণে দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের কালো ব্যাজ ধারণ, সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস স্থগিত রাখা এবং সকাল ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা।ওই সময়টিতে দেশে সেনাশাসিত তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন ছিল। ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের মধ্যে ফুটবল খেলা চলছিল। খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও সেনা সদস্যদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।সেনাসদস্যদের নির্যাতনের খড়্গ নেমে আসে ছাত্রদের ওপর। প্রতিবাদ করতে গেলে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকেও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে সেনাসদস্যরা। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই বিক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে ক্যাম্পাস জুড়ে।২১ আগস্ট আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র থেকে সেনাক্যাম্প সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়  সেনাবাহিনী। ২২ আগস্ট এ আন্দোলন গোটা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। রাজশাহীতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন রিকশাচালক আনোয়ার। এই দিন সন্ধ্যা থেকে সেনাসমর্থিত সরকার কারফিউ জারি করে এবং দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীয় শহরের কলেজগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।২৩ আগস্ট রাতে আটক করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ও অধ্যাপক হারুন অর রশিদকে। তাদের চোখ বেধে নিয়ে যাওয়া হয় অজানা স্থানে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো দুই শিক্ষকসহ সাত ছাত্রনেতা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক ও পাঁচজন ছাত্রনেতাকে গ্রেফতার করা হয়। ছাত্র -শিক্ষক জনতার সম্মিলিত আন্দোলনে সেনা-পুলিশ বাহিনীর পিটুনিতে আহত হয় শত শত গণতন্ত্রকামী জনতা।সারাদেশে ৮২ হাজার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু ছাত্র-শিক্ষকের কাছে হার মানে সেনা সমর্থিত সরকার। বাধ্য হয়ে মুক্তি দেয় গ্রেফতারকৃত ছাত্র-শিক্ষকদের। মুক্তি পায় গণতন্ত্র।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ ও তত্ত্বাবধায়ক প্রধান ফখরুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তের ব্যবস্থা নেয়। কয়েক দফা তাদের ডাকার পরও তদন্ত কমিটির সামনে আসেননি ফখরুদ্দিন ও মইন। সবশেষ তারা কমিটির সঙ্গে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন। আজ কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবার কথা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ