দুগ্ধভাণ্ডারখ্যাত সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলের ৫৮টি ছানা তৈরির কারখানায় প্রতিদিন প্রায় পৌনে ৯ লাখ টাকার ২৫ থেকে ২৭ হাজার লিটার নকল দুধ তৈরি হচ্ছে। ছানার পানি, ক্ষতিকর স্কিম মিল্ক পাউডার, ফরমালিন, কাটার অয়েল, সোডা, দুধের ননীসহ নানা উপকরণ মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করা হচ্ছে। বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে নকল তরল দুধ সংগ্রহ করছে। পরে আসল দুধের সঙ্গে নকল দুধ মিশিয়ে বিভিন্ন নামিদামি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের চটকদার লেবেলে ওই দুধ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী বড়াল নদীর ঘাটে গড়ে ওঠা মিল্কভিটাকে কেন্দ্র করে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে প্রায় ৪ হাজার গো-খামার গড়ে উঠেছে। এ দুগ্ধ অঞ্চলকে টার্গেট করে মিল্কভিটার পাশাপাশি প্রাণ ডেইরি, আকিজ ডেইরি, আফতাব ডেইরি, ব্রাক ডেইরি ফুড (আড়ং), আমো ফ্রেস মিল্কসহ বেশ কিছু বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান দুধ সংগ্রহ করতে এ অঞ্চলে তাদের আঞ্চলিক দুগ্ধ সংগ্রহশালা স্থাপন করে। এর ফলে তরল দুধের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে কেন্দ্র করে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার তাদের জীবিকার পথ হিসেবে দুধের ব্যবসা বেছে নেয়। গড়ে ওঠে শত শত গো-খামার। দুধের ব্যবসা করে খামারিরা লাভবান হতে থাকেন। দুধ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় ছানা উৎপাদক এবং এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে নকল দুধ তৈরি করে আসল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করছে। এতে সহযোগিতা করছে দুগ্ধ সংগ্রহশালার এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। জনস্বাস্থ্য ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে চক্রটি নকল দুধের বে-আইনি কারবার করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এ অঞ্চলের দুগ্ধ খামারিরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
পাবনা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ছোট-বড় প্রায় ৪ হাজার দুগ্ধ খামার রয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গরু পালন করে দুধ উৎপাদন করা হয়। এ অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার লিটার দুধের চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে ৩ লাখ ১২ হাজার লিটার দুধ। এর মধ্যে দেড় লাখ লিটার বাঘাবাড়ী মিল্কভিটা, ১ লাখ ৩০ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার লিটার দুধ আফতাব, আকিজ, প্রাণ, ব্র্যাকসহ বিপ্রন্ন বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান, ঘোষরা ২৮ থেকে ২৯ হাজার লিটার, প্রায় দু’শতাধিক মিষ্টির দোকান ১০ হাজার লিটার, হাট-বাজারে স্থানীয় ক্রেতারা ৮ হাজার লিটার দুধ ক্রয় করে থাকে। এ হিসেবে প্রতিদিন দুধের ঘাটতি পড়ে প্রায় ২৫ হাজার লিটার। এক শ্রেণীর অসাধু ঘোষ ও ব্যবসায়ী নকল দুধ তৈরি করে দুধের এ ঘাটতি পূরণ করে থাকে বলে জানা গেছে।সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, সুজানগর এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল¬াপাড়া, তাড়াশ, বেলকুচি ও কাজীপুর উপজেলার সরোজিদ কুমার ঘোষ, দুলাল চন্দ্র ঘোষ, বিশ্বনাথ ঘোষ, পরিমল ঘোষ, পরিতোষ ঘোষ, দুলাল ঘোষ, রবি ঘোষ, মানিক লাল ঘোষ, নবরতœ ঘোষ, মেজর ঘোষ, নব কুমার ঘোষ, রঞ্জিত কুমার ঘোষ, অধির কুমার ঘোষ, রঘু ঘোষ, পরিতোষ ঘোষসহ আরও কয়েকজন ঘোষ ও ব্যবসায়ী প্রতিদিন প্রায় ১শ’ ২৫ মণ ছানা তৈরি করে। ওই পরিমাণ ছানা তৈরিতে প্রায় ৭০০ মণ দুধের প্রয়োজন হয়। ঘোষরা ছানা তৈরির পর ছানার পানি ফেলে না দিয়ে তা মজুত করে রাখে। পরে ওই ছানার পানি দিয়ে তৈরি করা হয় নকল দুধ।বেড়ার আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের স্থানীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাক আহম্মেদ জানান, সরাসরি গো-খামারিদের কাছ থেকে কেম্পানির নিজস্ব কর্মচারী দ্বারা আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে ভেজালমুক্ত দুধ সংগ্রহ করা হয়।প্রাণ ডেইরির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শরিফ উদ্দিন তরফদার, ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস দুগ্ধ ক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মোঃ বাসার আলীসহ স্থানীয় ক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকরা নিজেদের দুধ সংগ্রহ পদ্ধতি শতভাগ ভেজালমুক্ত বলে দাবি করেছেন।পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, নকল দুধ তৈরি ও বিক্রয় সম্পর্কে তিনি শুনেছেন এবং বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। বিএসটিআইয়ের পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের পরিদর্শক মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, ভেজালবিরোধী অভিযানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের ডাকা হলে আমরা তাদের সহযোগিতা করে থাকি।চিকিৎসক ডা. আবদুুল বাছেদ খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিষাক্ত দুধ পান করলে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। ফরমালিন মেশানোর ফলে হেপাটোটকিটি বা লিভার রোগ, কিডনি রোগ, স্কিম মিল্ক পাউডারের ফলে মানবদেহে হাড়ের মধ্যকার দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে শরীরের পেছনের অংশে ব্যথা অনুভব, চর্মরোগ, হজমে সমস্যা, পেটের পীড়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
পাবনা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ছোট-বড় প্রায় ৪ হাজার দুগ্ধ খামার রয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গরু পালন করে দুধ উৎপাদন করা হয়। এ অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার লিটার দুধের চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে ৩ লাখ ১২ হাজার লিটার দুধ। এর মধ্যে দেড় লাখ লিটার বাঘাবাড়ী মিল্কভিটা, ১ লাখ ৩০ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার লিটার দুধ আফতাব, আকিজ, প্রাণ, ব্র্যাকসহ বিপ্রন্ন বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান, ঘোষরা ২৮ থেকে ২৯ হাজার লিটার, প্রায় দু’শতাধিক মিষ্টির দোকান ১০ হাজার লিটার, হাট-বাজারে স্থানীয় ক্রেতারা ৮ হাজার লিটার দুধ ক্রয় করে থাকে। এ হিসেবে প্রতিদিন দুধের ঘাটতি পড়ে প্রায় ২৫ হাজার লিটার। এক শ্রেণীর অসাধু ঘোষ ও ব্যবসায়ী নকল দুধ তৈরি করে দুধের এ ঘাটতি পূরণ করে থাকে বলে জানা গেছে।সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, সুজানগর এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল¬াপাড়া, তাড়াশ, বেলকুচি ও কাজীপুর উপজেলার সরোজিদ কুমার ঘোষ, দুলাল চন্দ্র ঘোষ, বিশ্বনাথ ঘোষ, পরিমল ঘোষ, পরিতোষ ঘোষ, দুলাল ঘোষ, রবি ঘোষ, মানিক লাল ঘোষ, নবরতœ ঘোষ, মেজর ঘোষ, নব কুমার ঘোষ, রঞ্জিত কুমার ঘোষ, অধির কুমার ঘোষ, রঘু ঘোষ, পরিতোষ ঘোষসহ আরও কয়েকজন ঘোষ ও ব্যবসায়ী প্রতিদিন প্রায় ১শ’ ২৫ মণ ছানা তৈরি করে। ওই পরিমাণ ছানা তৈরিতে প্রায় ৭০০ মণ দুধের প্রয়োজন হয়। ঘোষরা ছানা তৈরির পর ছানার পানি ফেলে না দিয়ে তা মজুত করে রাখে। পরে ওই ছানার পানি দিয়ে তৈরি করা হয় নকল দুধ।বেড়ার আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের স্থানীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাক আহম্মেদ জানান, সরাসরি গো-খামারিদের কাছ থেকে কেম্পানির নিজস্ব কর্মচারী দ্বারা আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে ভেজালমুক্ত দুধ সংগ্রহ করা হয়।প্রাণ ডেইরির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শরিফ উদ্দিন তরফদার, ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস দুগ্ধ ক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মোঃ বাসার আলীসহ স্থানীয় ক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকরা নিজেদের দুধ সংগ্রহ পদ্ধতি শতভাগ ভেজালমুক্ত বলে দাবি করেছেন।পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, নকল দুধ তৈরি ও বিক্রয় সম্পর্কে তিনি শুনেছেন এবং বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। বিএসটিআইয়ের পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের পরিদর্শক মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, ভেজালবিরোধী অভিযানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের ডাকা হলে আমরা তাদের সহযোগিতা করে থাকি।চিকিৎসক ডা. আবদুুল বাছেদ খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিষাক্ত দুধ পান করলে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। ফরমালিন মেশানোর ফলে হেপাটোটকিটি বা লিভার রোগ, কিডনি রোগ, স্কিম মিল্ক পাউডারের ফলে মানবদেহে হাড়ের মধ্যকার দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে শরীরের পেছনের অংশে ব্যথা অনুভব, চর্মরোগ, হজমে সমস্যা, পেটের পীড়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন