রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১১

মমতার নতুন বিস্ময়: তিস্তায় তো জলই নেই, চুক্তি হবে কি!

ঢাকা-দিল্লি হাই ড্রামা ঘটে যাওয়ার পরেও ঘোর কাটছে না। গতকাল আবার এক অবাক করা খবর পাওয়া গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তিস্তায় তো জলই নেই। চুক্তি হবে কি! ঢাকার চিন্তিত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সে আবার কেমন কথা। পানিই যদি না থাকবে তাহলে তো দিল্লির বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের আন্দোলন অবধারিত। আর তখন মমতা পাশে পাবেন শেখ হাসিনাকেও। সুতরাং এ যেন রাতভর সোনাভানের পুঁথি পড়ে ভোরের আলোয় জিজ্ঞাসা, সোনভান ব্যাটা ছেলে না মেয়ের মতো একটা অতীব হাস্যস্পদ প্রশ্ন। পানি না থাকলে পানিচুক্তি কি। বাংলাদেশকে ২৫ শতাংশ কি দেয়া হবে। এভাবে প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং জানিয়েছিলেন যে, মমতা ব্যানার্জির সম্মতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশকে তিস্তা চুক্তির কথা জানানো হয়েছিল। মমতা-কাণ্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই যেখানে বিস্ময় প্রকাশ করেন, সেখানে আর অন্যদের বলার তেমন কিছু থাকে না। তবে মমতা ব্যানার্জি ড. মনমোহনের বক্তব্য খণ্ডন করেননি এখনও। কিন্তু অনেকেই বলছেন, অঘটন যা ঘটার তো ঘটে গেছে। এখন যে দু’তরফেই বলা হলো, ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে তিস্তা চুক্তি হবে। তবে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকার থেকে বলা হচ্ছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে হবে। এমনকি যৌথ ইশতেহারেও বলা আছে, উভয়পক্ষই সমতা ভিত্তিক চুক্তি সইয়ে একমত হয়েছে। এখন কোটি টাকা দামের প্রশ্ন হলো, পানি না থাকলে কিসের ভাগাভাগি হবে। ড. মনমোহন নির্দিষ্ট করে বলেন, তার সঙ্গে এক মাস ধরে মমতার কথা হয়েছে। তাহলে কি কথা হয়েছে। এখন মমতা যে পানি না থাকার ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য’ প্রকাশ করেছেন সেটা কি বাংলাদেশের অমঙ্গল চিন্তায়? এর উত্তর যদি না হয়ে থাকে তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়াচ্ছে। কাবেরির পানি নিয়ে কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর যুদ্ধের কথা সারা দুনিয়া জানে কিন্তু পানি নিয়ে সিকিমের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষোভ মানুষ জানে না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ