রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১১

খালেদা জিয়ার বক্তব্য রাজনৈতিক: মাহবুব

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বক্তব্য রাজনৈতিক বলে বক্তব্য দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে টাকা নেওয়ার রেওয়াজ আছে, তবে খায়রুল হকই প্রথম বিচারপতি যিনি ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা নিয়েছেন। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বার সভাপতি বলেন, একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কথা বললে আদালত অবমাননা হয় কিনা, তা আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো।
খন্দকার মাহবুব বলেন, প্রধান বিচারপতিদের চিকিৎসার জন্য টাকা নিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে নিতে হবে। কিন্তু তিনি তা না করে ত্রাণ তহবিল থেকে খয়রাতি সাহায্য নিলেন। যা নিয়ম বহির্ভুত এবং নজিরবিহীন। খায়রুল হক সাত মাসের দায়িত্বকালে অনেক বক্তব্য দিয়েছেন, যা আদালতের আচরণ-বিধি (কোড অব কনডাক্ট) লঙ্ঘন।তিনি বলেন, সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক এমনই একটি সময় ত্রাণের এই টাকা গ্রহণ করলেন, যখন তার একটি রায়ে সংবিধান ছিন্নভিন্ন, পুরো জাতি দ্বিধা বিভক্ত। তাই দেশের জনগণের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে, প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কোন উদ্দেশ্যে তিনি বিতকিত এই রায় দিয়েছেন।তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতো না উল্লেখ করে মাহবুব আরো বলেন, সাংবাদিকেরা তার কাছে টাকার নেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তখন তিনি বলেছিলেন, ‘লেট মি অ্যালোন।’ টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে হয়তো স্বচ্ছতার অভাব ছিল।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে টাকা নিতে হলে প্রথমে তাকে আবেদন করতে হবে। তারপর তা আইন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে। তারপর তা সে এটা পাবে। এমন কি চিকিৎসার খরচের ভাউচার পর্যন্ত দেখাতে হবে।খন্দকার মাহবুব সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের কপি প্রকাশ না হওয়ায় তার অদক্ষতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিচারপতির ওই রায়কে সরকার পক্ষ ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছেন। অপরদিকে বিরোধী দল জাতি বিভক্তির রায় উল্লেখ করেছেন অথচ এমন একটি রায় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। যা একজন বিচারপতির অদক্ষতারই প্রমাণ।সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, এডভোকেট শহিদুল ইসলাম, এইচএম কামরুজ্জামান প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ