মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১১

ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০

রোববারের ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভারত, নেপাল ও তিব্বতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০-এ দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। তবে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনো না পাওয়া যাওয়ায় নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিকিম রাজ্যে সবেচেয়ে বেশি ২৫ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া, ভারতের বিহার রাজ্যে মারা গেছে ১১ জন এবং সাতজন নিহত হয়েছে নেপালে। চীনা সরকারি বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বতে মারা গেছে সাতজন। ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধ্বসের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হওয়ায় এখনো হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। এ ছাড়া,বহু এলাকা দুর্গম হওয়ায় সেসব জায়গায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি।গতকাল বাংলাদেশ, নেপাল, তিব্বত ও ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ ছাড়া ভূকম্পন হয় ভুটানেও। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশের সিকিম ও নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায়। এ স্থানটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের নিকটবর্তী। ভূগর্ভের ২০ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূকম্পনের উত্পত্তিস্থল। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে ঘর-বাড়ি ধ্বসে। প্রবল মৌসুমী বৃষ্টিতে ভূমিকম্পের আগেই এসব এলাকার ঘর-বাড়ি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল।যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ প্রতিষ্ঠান ইউএসজিএস এবং বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশের সিকিম ও নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায়। জায়গাটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কাছাকাছি। ইউএসজিএস-এর মতে, ভূকম্পন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে ভারতের সিকিমের গ্যাংটক ও পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি শহরে। ঢাকায় ভূমিকম্পের তীব্রতা চার মাত্রার ছিল বলে মনে করছে সংস্থাটি। তবে, ঢাকার আবহাওয়াবিদরা বলছেন, রিখটার স্কেলে তারা সর্বোচ্চ ৬.৮ মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে অনেক দালান ও বহুতল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দার্জিলিং ও কালিম্পঙের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সিকিমের কিছু অংশে টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া ভূমিকম্পের পর পশ্চিমবঙ্গে ফোন লাইনে ব্যাপক জ্যাম তৈরি হয়। ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাঁচটি বিমান এবং সেনাবাহিনীর একটি টিম উদ্ধার তৎপরতা চালাতে সেখানে গেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ