সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

রমজানের পর চিনি নিয়ে কারসাজি

রমজানের পর চিনি নিয়ে ফের কারসাজি শুরু হয়েছে। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন বাড়তি দাম। যাদের কাছে চিনির মজুদ ছিল, তারাও বাড়তি দামের আশায় দোকান থেকে সরিয়ে ফেলেছেন চিনি। খুচরা থেকে শুরু করে অনেক পাইকারি ও খোদ ডিলারের কাছেও চিনি নেই। কিছু কিছু দোকানে ঈদের আগের মজুদ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭২ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামীকাল সোমবার চিনির দাম পুনর্র্নিধারণ হবেথ বাণিজ্য সচিবের এমন ঘোষণার পর থেকেই অস্থির চিনির বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির মূল্য বাড়ছে।গতকাল শনিবার রাজধানীর চিনির পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকেই মিলগেট থেকে চিনি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কারওয়ান বাজারের মিঠু ট্রেডার্সের মালিক আজাহারুল বলেন, ৮০ টন চিনির জন্য বুধবার টাকা জমা দিয়েছেন। কোম্পানি চিনি দিচ্ছে না। দেশবন্ধু ও এস আলম সুগার মিল থেকে বলা হয়েছে, সোমবার সরকার নতুন দাম ঘোষণা করবে। নতুন দামের হিসাবে বাড়তি টাকা জমা দেওয়ার পরই চিনি দেওয়া হবে। গতকাল রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি বাজার মৌলভীবাজারে ৫০ কেজির চিনির বস্তা বিক্রি হয় ৩ হাজার ২৫০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা দরে।সকালের দিকে এ দামে বিক্রি হলেও দুপুরের পর আর চিনি পাওয়া যায়নি। মৌলভীবাজারের ফ্রেশ চিনির ডিলার হাজী আশফাকুর রহমান বলেন, মিলগেট থেকে চিনির সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় বাজারে চিনির সংকট দেখা দিয়েছে। তবে ঈদের পর চিনির চাহিদা কম থাকায় পরিস্থিতি এখনও জটিল হয়নি।কারওয়ান বাজারের পাইকারি চিনি ব্যবসায়ী সোনালি টেড্রার্সের ম্যানেজার আবুল কাশেম বলেন, মূল্যবৃদ্ধির খবরে বাজারে চিনির কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। ঈদের পর শ্রমিক সংকট, এমন অজুহাতে মিলগেট থেকেও তাদের চিনি দেওয়া হচ্ছে না। রাজধানীর রজনীগন্ধা মার্কেটে আল মদিনা ট্রেডার্স থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা দরে চিনি কিনেছেন মিরপুর ১০ নম্বরের ব্যবসায়ী হারিছ উদ্দিন। তিনি জানান, এক কেজি চিনির ক্রয়মূল্যই পড়েছে ৬৬ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে পরিবহন খরচ। বাধ্য হয়ে তিনি ৭০ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি করছেন। গতকাল পাড়া-মহল্লার দোকানেও ৭০ থেকে ৭২ টাকায় চিনি বিক্রি হয়। সুপার শপগুলোতেও ৭০ টাকার নিচে চিনি মেলেনি। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেও চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকায়।এদিকে টিসিবি, সমবায় বাজার, চিনি ও খাদ্যশিল্প প্রতিষ্ঠান চিনির বাজার স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৮০টি ট্রাকের মাধ্যমে চিনি বিক্রির উদ্যোগ নিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ন্যায্যমূল্যে চিনির পাশাপাশি ভোজ্যতেল দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে চিনির মূল্য পূর্ননির্ধারন করা হবে এমন কথা সচিব বলার পর থেকে চিনির বাজারে কারসাজি দেখা যায় ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ