বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

লিবিয়ায় গণকবর থেকে ১২শ’ লাশ উদ্ধার

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে একটি গণকবরের খোঁজ পাওয়া গেছে। ওই কবর থেকে এ পর্যন্ত ১২৭০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ত্রিপোলির আবু সালিম কারাগারে গাদ্দাফি বাহিনী ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। লাশগুলো ওই হতভাগ্যদের বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে। দেশটির বর্তমান অন্তর্র্বতী সরকার রোববার একথা জানায়। আবু সালিম কারাগারে গণহত্যার এটিই প্রথম প্রত্যক্ষ প্রমাণ। দীর্ঘদিন ধরেই এই গণহত্যার ঘটনা নিয়ে লিবীয় জনগণ ভেতরে ভেতরে ফুঁসছিল। যার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে দেশটিতে গণআন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তী পর্যায়ে এটি গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এরই জেরে ন্যাটোর সহায়তায় লিবিয়ার ৪২ বছরের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে হঠানো সম্ভব হয়। ৪৫ বছর বয়সী সামি আল সাদি নামে একজন লিবীয় বলেন, ‘এই গণঅভ্যুত্থান সফল হওয়ায় আমি ভীষণ খুশি, এতে আমাদের দেশ আরও উন্নত হবে।’ সাদির দুই ভাই ওই গণহত্যাকাণ্ডের শিকার বলে ধারণা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমি এখানে দাঁড়াই তখন আমার নিহত ভাইদের কথা মনে পড়ে।’ ওই গণহত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর কাছে জানান, কারাগারের দেয়াল ঘেরা খোলা চত্বরে বন্দিদের জড়ো করার পর সরকারি বাহিনী ছাদের ওপর থেকে কালাশনিকভ (একে-৪৭) রাইফেল দিয়ে গুলি চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য আহত বন্দিদের কাছ থেকে পিস্তল দিয়েও গুলি করা হয়। আবু সালিম কারাগারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গাদ্দাফির পতনের নিবিড় যোগ রয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডে নিহতদের আইনজীবীদের মুক্তির দাবিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে প্রথম বিক্ষোভ হয়। আবু সালিম কারাগারের নিকটবর্তী একটি মরুভূমি প্রান্তরে হাড়গোড় ও কাপড়ের টুকরো চোখে পড়লে এনটিসি সদস্যরা বিষয়টি তদন্ত করে বের করেন। প্রাথমিকভাবে এক হাজার ২৭০টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। আরও মৃতদেহ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সবার পরিচয় খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন এনটিসির সদস্য ডাক্তার ওসমান আব্দুল জলিল। এ জন্য কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, গাদ্দাফির বিরুদ্ধবাদীদের ওই কারাগারে বন্দি করে নির্যাতন করা হতো।
এনটিসি সদস্যদের সঙ্গে গাদ্দাফি বাহিনীর যুদ্ধ এখনো চলছে। সির্তের প্রবেশমুখ থেকে সরে এসেছে এনটিসি যোদ্ধারা। শনিবার এনটিসির নয় সেনা নিহত হয়েছে। এনটিসি বলছে, তারা প্রতিরোধের মুখে নয়, কৌশলগত কারণে সির্ত থেকে সরে এসেছে। এদিকে ন্যাটো সির্ত শহরে গাদ্দাফির সেনাদের গাড়ি ও কিছু স্থাপনায় হামলা করেছে বলে জানিয়েছে। রোববার বনি ওয়ালিদে গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে হামলায় এনটিসির ৩০ সদস্য নিহত হয়। আলজেরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায়ও হামলার শিকার হয় এ পরিষদের যোদ্ধারা। এদিকে জার্মানি আবারও ত্রিপোলিতে তার দূতাবাস চালু করেছে। গাদ্দাফিবিরোধী বিক্ষোভের মুখে নিরাপত্তার কারণে মার্চের তিন তারিখে দূতাবাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখন আবার স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। জার্মান রাষ্ট্রদূত এরই মধ্যে ত্রিপোলিতে গিয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ